ভাষা নির্বাচন / Select Language
  • 🇧🇩
    বাংলা মূল ভাষা (Original)
  • 🇺🇸
    English English
মোহাম্মদ তুহিন • প্রকাশিত: ১৬ আগষ্ট ২০২৬, ০৬:১৬ পিএম • অনলাইন সংস্করণ

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ : হরমুজ অবরোধ ও মার্কিন রণতরীতে সংকট

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ : হরমুজ অবরোধ ও মার্কিন রণতরীতে সংকট

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সংঘাত এক নজিরবিহীন ও চূড়ান্ত সামরিক-অর্থনৈতিক অচলাবস্থার দিকে ধাবিত হচ্ছে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার যুদ্ধবিরতি আলোচনা সম্পূর্ণ ভেস্তে যাওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক অবিশ্বাস্য ও চরম বিতর্কিত ঘোষণা দিয়ে জানিয়েছেন, তিনি খুব শীঘ্রই কৌশলগত ‘হরমুজ প্রণালী’-কে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব ভূখণ্ড বা ইউএস টেরিটরি হিসেবে ঘোষণা করতে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে ইরানকে আলোচনায় নতিস্বীকারে বাধ্য করতে বিশ্ব ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক বিচ্ছিন্নতা ও অবরোধের হুমকি দিয়েছে হোয়াইট হাউস। তবে ওয়াশিংটনের এই আগ্রাসী কূটনৈতিক বাগাড়ম্বরের বিপরীতে মাঠপর্যায়ের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। একদিকে হরমুজ প্রণালীতে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ডের (IRGC) সামরিক নিয়ন্ত্রণ অব্যাহত রয়েছে, অন্যদিকে পারস্য উপসাগরে টানা প্রায় সাত মাস মোতায়েন থাকা মার্কিন নৌবাহিনীর প্রধান পারমাণবিক রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের ভেতরে চরম অবসাদ, খাদ্য ও পানির সংকট এবং নাবিকদের আত্মহত্যার চেষ্টার মতো ঘটনায় খোদ ক্যাপিটল হিলে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। ফলে আঞ্চলিক এই সংঘাত এখন কেবল সীমান্ত লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা ছড়িয়ে পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, লেবানন ও ফিলিস্তিনের যুদ্ধক্ষেত্র এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতির জটিল সমীকরণে।

হরমুজ প্রণালী নিয়ে সংঘাত ও দুই পক্ষের অনড় অবস্থান

ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যের কড়া জবাব দিয়ে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদী স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, হরমুজ প্রণালী ঐতিহাসিকভাবে ইরানের অংশ এবং তা সবসময় ইরানের নিয়ন্ত্রণেই থাকবে। তেহরানের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের সামরিক আগ্রাসন ও অবৈধ দাবি প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত এই জলপথ কোনো অবস্থাতেই পুরোপুরি উন্মুক্ত করা হবে না। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, অতীতে হওয়া ইসলামাবাদ সমঝোতা কোনো সাময়িক ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি ছিল না, বরং তা ছিল সার্বিক যুদ্ধ সমাপ্তির একটি কাঠামো। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র সেই চুক্তি লঙ্ঘন করে পুনরায় সামরিক হামলা শুরু করায় কোনো ধরনের যুদ্ধবিরতি আর মাঠে কার্যকর নেই। বর্তমানে কাতার বা পাকিস্তানের মতো আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীদের কিছু যোগাযোগ থাকলেও ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক বা কাঠামোগত আলোচনা চলছে না। তবে হরমুজ প্রণালীর ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রতিবেশী ওমানের সঙ্গে তেহরানের আলোচনা একটি ইতিবাচক ও চূড়ান্ত পরিণতির দিকে এগোচ্ছে।

এদিকে সাগরে সামরিক অচলাবস্থার মাঝেই সামুদ্রিক নজরদারি সংস্থা ট্যাংকার ট্র্যাকার্স জানিয়েছে, গত জুলাই মাসের পর এই প্রথমবারের মতো খার্গ দ্বীপ থেকে একটি ইরানি সুপারট্যাংকারে তেল বোঝাই করতে দেখা গেছে। অন্যদিকে ব্রিটিশ সামরিক নজরদারি সংস্থা ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস বা ইউকেএমটিও জানিয়েছে, শুক্রবার সন্ধ্যায় হরমুজ প্রণালীতে চলাচলরত একটি আন্তর্জাতিক বাল্ক ক্যারিয়ার জাহাজে অজ্ঞাত ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। যদিও জাহাজের নাবিকদের প্রাণহানি ঘটেনি, তবে জাহাজের অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে, যা প্রমাণ করে হরমুজ প্রণালী এখনো আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য একটি চরম মৃত্যুফাঁদ।

মার্কিন রণতরী আব্রাহাম লিংকনে মানবিক বিপর্যয় ও অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বিস্ফোরণ

হোয়াইট হাউস যখন অনির্দিষ্টকালের জন্য হরমুজ প্রণালী ও ইরানি বন্দর অবরুদ্ধ রাখার ঘোষণা দিচ্ছে, তখন খোদ মার্কিন সামরিক বাহিনীর ভেতর থেকেই নেমে এসেছে চরম বিপর্যয়। হরমুজ অঞ্চলে নৌ-অবরোধ কার্যকরে নেতৃত্ব দেওয়া মার্কিন নৌবাহিনীর পতাকাবাহী বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের পরিস্থিতি অত্যন্ত শোচনীয় আকার ধারণ করেছে। ক্যালিফোর্নিয়ার সান দিয়েগো থেকে পাঁচ হাজারের বেশি নাবিক ও মেরিন সেনা নিয়ে রওনা হওয়া এই পারমাণবিক রণতরীটি দীর্ঘ প্রায় সাত মাস ধরে কোনো বন্দরে না ভিড়ে একটানা সাগরে অবস্থান করছে, যা মার্কিন নৌবাহিনীর ইতিহাসে এক নজিরবিহীন দীর্ঘস্থায়ী মোতায়েন।

মার্কিন সামরিক বিষয়ক নির্ভরযোগ্য প্রকাশনা নেভি টাইমস এবং স্টারস অ্যান্ড স্ট্রাইপস-এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, চরম ক্লান্তি ও দীর্ঘমেয়াদি ট্রমার কারণে জাহাজের কর্মীদের মানসিক স্বাস্থ্যের চরম বিপর্যয় ঘটেছে। একজন মার্কিন নাবিকের স্ত্রী অ্যানাবেল লোমা প্রকাশ্যে জানিয়েছেন, তাঁর স্বামী তীব্র মানসিক অবসাদে জাহাজ থেকে সাগরে ঝাঁপ দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। এছাড়া জাহাজে বিশুদ্ধ পানীয় জলের তীব্র সংকট, দূষিত পানির ব্যবহার, মৌলিক রসদ সরবরাহ বন্ধ হওয়া এবং পরিবারের পাঠানো চিঠি ও পার্সেল আটকে থাকার মতো ঘটনা ঘটেছে।

এই খবর প্রকাশের পর মার্কিন কংগ্রেসে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। মার্কিন সেনেটের ডেমোক্র্যাটিক দলনেতা চাক শুমার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে অবিলম্বে বরখাস্ত করার দাবি জানিয়েছেন। তিনি মন্তব্য করেছেন যে, প্রতিরক্ষামন্ত্রীর চরম অযোগ্যতার মাশুল দিতে হচ্ছে সাগরে থাকা সেনাদের। সেনেটর রিচার্ড ব্লুমেন্থাল এবং ক্যালিফোর্নিয়ার প্রতিনিধি মাইক লেভিন মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের কাছে জবাবদিহি চেয়ে চিঠি দিয়েছেন এবং রণতরীর এই বিপর্যয়কর পরিস্থিতির জন্য সরাসরি উচ্চপর্যায়ের ব্যর্থতাকে দায়ী করেছেন। যদিও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম এসব খবরকে ‘অতিরঞ্জিত ও অসত্য’ বলে উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছে, কিন্তু নৌবাহিনীর ভেতরের অসন্তোষ ধামাচাপা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

অবরোধের কার্যকারিতা ও মধ্যপ্রাচ্যের বিস্তৃত যুদ্ধক্ষেত্রের চিত্র

মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট দাবি করেছেন, ওয়াশিংটন ইরানের ওপর এমন অর্থনৈতিক বিচ্ছিন্নতা চাপিয়ে দেবে যা আধুনিক বিশ্বে আর কখনো দেখা যায়নি। এপ্রিল মাস থেকে কার্যকর হওয়া অবরোধের কারণে ইরান ইতোমধ্যে অন্তত ৬ বিলিয়ন ডলারের তেল রাজস্ব হারিয়েছে এবং দেশটির অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি উচ্চ মূল্যস্ফীতির কবলে পড়েছে। কিন্তু সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, আমেরিকা দীর্ঘমেয়াদে এই নৌ-অবরোধ টেনে নিতে পারবে না। দ্য কিলোওয়েন গ্রুপের চেয়ারম্যান ও সাবেক মার্কিন নৌ-কর্মকর্তা হারলান উলম্যান স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, আব্রাহাম লিংকনের মতো আধুনিক পারমাণবিক রণতরীগুলো অত্যন্ত সংবেদনশীল প্রযুক্তিতে পরিচালিত, যার নিয়মিত মেরামত ও টেকনিক্যাল ওভারহোলিং কেবল ডকইয়ার্ড বা বন্দরেই সম্ভব। রাজনৈতিক স্বার্থে এগুলোকে মাসের পর মাস উত্তাল সাগরে ফেলে রাখলে তা যুদ্ধজাহাজটির সামরিক সক্ষমতাকে চিরতরে অকেজো করে দিতে পারে।

একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য ফ্রন্টেও রক্তক্ষয়ী সংঘাত তীব্র রূপ নিয়েছে। দক্ষিণ লেবাননের আনসার শহরে ইসরায়েলি বিমান বাহিনী একটি আবাসিক ভবনে ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়ে অন্তত সাতজন বেসামরিক নাগরিককে হত্যা করেছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেকে আটকা পড়েছেন এবং উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া বিনত জবেইলসহ সীমান্তবর্তী একাধিক গ্রামে ইসরায়েলি বাহিনী ব্যাপক বোমাবর্ষণ চালিয়ে পুরো জনপদ মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিচ্ছে।

অন্যদিকে অধিকৃত ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরেও চরম সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। রামাল্লার আল-মুগাইর গ্রামে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সশস্ত্র হামলা প্রতিরোধ করতে গেলে সাধারণ ফিলিস্তিনিদের ওপর টিয়ার গ্যাস ও তাজা গুলি ছুড়েছে দখলদার সেনারা। কুসরা গ্রামে উগ্র বসতি স্থাপনকারীরা ফিলিস্তিনি পরিবারগুলোর বাড়িঘর অবরুদ্ধ করে তাদের পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল একে সরাসরি রাষ্ট্র-সমর্থিত 'জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি' বলে নিন্দা জানিয়েছে।

সংঘাতের সামগ্রিক ভূ-রাজনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ

বর্তমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র মুখোমুখি অবস্থানটি কেবল জলপথের নিয়ন্ত্রণ বা কয়েকটি সামরিক ঘাটির লড়াই নয়, বরং এটি শক্তির সীমাবদ্ধতা ও বৈশ্বিক জ্বালানি আধিপত্যের এক চরম মনস্তাত্ত্বিক পরীক্ষা।

প্রথমত, ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক হরমুজ প্রণালীকে ‘যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড’ ঘোষণার হুমকি আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন ও ভূ-রাজনীতির মৌলিক নীতিমালার সম্পূর্ণ পরিপন্থী। এই ধরনের বক্তব্য মূলত কোনো বাস্তবসম্মত সামরিক সমাধান নয়, বরং ঘরোয়া রাজনীতি ও মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে মার্কিন জনমতকে প্রভাবিত করার একটি মরিয়া রাজনৈতিক কৌশল। সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত ও হোয়াইট হাউসের সাবেক উপদেষ্টা মার্ক গিন্সবার্গের মতে, ট্রাম্প কোনো সুদূরপ্রসারী জাতীয় নিরাপত্তা পরিকল্পনা ছাড়া কেবলমাত্র ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি রক্ষার জন্য সংঘাতকে উসকে দিচ্ছেন। ওয়াশিংটন ও তেহরানের এই সংঘাতকে তিনি একটি ‘অর্থনৈতিক জেদের লড়াই’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন, যেখানে রাজনৈতিকভাবে চাপমুক্ত ইরান নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকবে এবং শেষ পর্যন্ত অভ্যন্তরীণ সেনা অসন্তোষ ও মিত্রদের চাপের মুখে যুক্তরাষ্ট্রকেই পিছু হটতে হতে পারে।

দ্বিতীয়ত, মার্কিন সামরিক ব্যবস্থার অতিরিক্ত সম্প্রসারণ ও লজিস্টিক ঘাটতি এখন প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। একটি পরাশক্তি কেবল তখনই দীর্ঘস্থায়ী নৌ-অবরোধ বজায় রাখতে পারে, যখন তাদের নৌঘাঁটি, সেনা মনোবল এবং পর্যায়ক্রমিক জাহাজ রোটেশন ব্যবস্থা নিখুঁত থাকে। কিন্তু হরমুজের মতো চরম যুদ্ধাবস্থায় মার্কিন রণতরীর নাবিকদের মানসিক পতন প্রমাণ করে যে, ভৌগোলিক দূরত্ব অতিক্রম করে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন আধিপত্য টিকিয়ে রাখা দিন দিন অসম্ভব হয়ে উঠছে। ইরান এই দুর্বলতা খুব ভালোভাবেই জানে এবং তারা প্রচলিত সম্মুখ সমরে না জড়িয়ে অপ্রচলিত ‘অপ্রতিসম যুদ্ধ’ বা অ্যাসাইমেট্রিক্যাল ওয়ারফেয়ার চালিয়ে যাচ্ছে।

তৃতীয়ত, উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি অর্থনীতি সম্পূর্ণ নতুন সমীকরণে প্রবেশ করেছে। ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ রাখার পাশাপাশি বিকল্প পথে তেল বিক্রির পথ খুঁজছে, যার প্রমাণ খার্গ দ্বীপে সুপারট্যাংকারের পুনরায় সক্রিয় হওয়া। একই সাথে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজে অজ্ঞাত ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্রের হামলা এই বার্তা স্পষ্ট করে যে, মার্কিন রণতরী বা নৌ-প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রণালীটিকে শতভাগ নিরাপদ করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের এই অনিশ্চয়তা দিনশেষে পশ্চিমা অর্থনীতিকেই মূল্যস্ফীতি ও অস্থিরতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।