এখন সময় সংবাদ বিশ্লেষণ

প্রকাশিত: ২৭ আগষ্ট ২০২৬ , ০৫:০৫ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

অ্যাসাইলাম আবেদনকারীদের ওপর ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন খড়্গ

বাতিল হতে পারে দুই লাখ ভিজিট ভিসা, উদ্বেগে বাংলাদেশিরাও

যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে ব্যবসা বা ভ্রমণ ভিসায় প্রবেশ করে পরে রাজনৈতিক আশ্রয় বা অ্যাসাইলামের আবেদন করেছেন, এমন বিদেশিদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। পরিকল্পনাটি কার্যকর হলে সর্বোচ্চ দুই লাখ বিদেশির বি-ওয়ান ও বি-টু ভিসা বাতিল হতে পারে। মার্কিন ইতিহাসে একযোগে এত বিপুলসংখ্যক ভিসা বাতিলের ঘটনা এটিই হবে সবচেয়ে বড়।

তবে এখন পর্যন্ত দুই লাখ ভিসা বাতিলের চূড়ান্ত সরকারি ঘোষণা দেওয়া হয়নি। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের হাতে আসা মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের অভ্যন্তরীণ নথি এবং দুই মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে প্রথম এ তথ্য প্রকাশিত হয়। রয়টার্সও পররাষ্ট্র দপ্তরের কাছ থেকে পরিকল্পনাটির মূল বিষয় নিশ্চিত করেছে। পররাষ্ট্র দপ্তর অবশ্য ঠিক কতজনের ভিসা বাতিল হবে, সে সংখ্যা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি। 

কারা পড়তে পারেন নতুন নীতির আওতায়

প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় মূলত ২০১৬ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে ইস্যু করা বি-ওয়ান ও বি-টু ভিসাধারীদের লক্ষ্য করা হচ্ছে, যারা যুক্তরাষ্ট্রে এসে পরে অ্যাসাইলামের আবেদন করেছেন বা বর্তমানে অ্যাসাইলাম চাইছেন। বি-ওয়ান সাধারণত ব্যবসায়িক সফরের জন্য এবং বি-টু পর্যটন, আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে সাক্ষাৎ বা চিকিৎসার মতো সাময়িক সফরের জন্য দেওয়া হয়।

পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট জানিয়েছেন, ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বা ডিএইচএস-এর সঙ্গে সমন্বয় করে এমন ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হচ্ছে, যারা স্বল্পমেয়াদি ভিজিটর হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে এসে পরে স্থায়ীভাবে থাকার উদ্দেশ্যে অ্যাসাইলামের আবেদন করেছেন। তবে তিনি বলেছেন, কতজনের ভিসা বাতিল হবে সেই সংখ্যা পরিবর্তনশীল এবং প্রক্রিয়াটি পর্যায়ক্রমে পরিচালিত হবে।

ভিসা বাতিল হলেই কি ডিপোর্টেশন?

ভিসা বাতিল হওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে সঙ্গে সঙ্গে বহিষ্কৃত হওয়া একই বিষয় নয়। এপি' কে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত ভিসা প্রত্যাহার স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাৎক্ষণিক ডিপোর্টেশনের কারণ হবে না। যাদের অ্যাসাইলাম আবেদন বিচারাধীন রয়েছে, তাদের অবস্থান আলাদাভাবে বিবেচিত হবে। 

আরেকটি বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের জন্য পাসপোর্টে থাকা বি-ওয়ান ও বি-টু ভিসা এবং যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর ব্যক্তির immigration status এক জিনিস নয়। স্টেট ডিপার্টমেন্টের নিজস্ব নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে কত দিন থাকার অনুমতি দেওয়া হয়েছে তা মূলত CBP'র admission এবং I-94 রেকর্ড এর সঙ্গে সম্পর্কিত। 

অন্যদিকে USCIS এর আইনি সিদ্ধান্তে স্পষ্ট করা হয়েছে, শুধু অ্যাসাইলামের আবেদন পেন্ডিং থাকলেই বি-ওয়ান/বিস্ট্যাটাস স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাড়ে না এবং পেন্ডিং এলাইলাম আবেদন নিজে নতুন

আইনসম্মত অভিবাসন মর্যাদা সৃষ্টি করে না। ফলে একই নীতির প্রভাব দুই ব্যক্তির ক্ষেত্রে ভিন্ন হতে পারে।

বাংলাদেশিদের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ

পরিকল্পনায় বাংলাদেশকে আলাদাভাবে টার্গেট করার কোনো তথ্য এখন পর্যন্ত প্রকাশিত হয়নি। অর্থাৎ এটি বাংলাদেশিদের বিরুদ্ধে পৃথক কোনো ব্যবস্থা নয়। বরং সংশ্লিষ্ট শর্ত পূরণকারী সব দেশের নাগরিকের ক্ষেত্রেই নীতিটি প্রযোজ্য হওয়ার কথা।

তবে বাংলাদেশ থেকে বি-ওয়ান/বি-টু ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে এসে পরবর্তী সময়ে অ্যাসাইলাম আবেদন করেছেন এমন ব্যক্তিরা এই নীতির সম্ভাব্য আওতায় পড়তে পারেন। বিশেষ করে নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বসবাসকারী বাংলাদেশি অ্যাসাইলাম আবেদনকারীদের জন্য বিষয়টি তাই গুরুত্বপূর্ণ।

কতজন বাংলাদেশি এতে আক্রান্ত হতে পারেন, সে বিষয়ে নির্ভরযোগ্য সরকারি সংখ্যা এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাংলাদেশিদের নির্দিষ্ট সংখ্যা উল্লেখ করে কোনো দাবি করা হলে তা সরকারি তথ্য ছাড়া গ্রহণ করা ঠিক হবে না।

আইনি লড়াইয়ের সম্ভাবনা

এপি-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এত ব্যাপকভাবে ভিসা প্রত্যাহারের উদ্যোগ কার্যকর হলে তা আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। 

ট্রাম্প প্রশাসনের বক্তব্য হচ্ছে, সাময়িক সফরের উদ্দেশ্যে ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর স্থায়ীভাবে থাকার জন্য অ্যাসাইলাম ব্যবস্থাকে ব্যবহার করা হলে সেটি ভিজিট ভিসার মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। অন্যদিকে অভিবাসন অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো ট্রাম্প প্রশাসনের বিস্তৃত অভিবাসন বিরোধী কঠোর পদক্ষেপের বিভিন্ন পদক্ষেপে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ক্ষুণ্ন হওয়ার অভিযোগ করে আসছে। 

এখন কী করবেন অ্যাসাইলাম আবেদনকারীরা

বাংলাদেশি কোনো আবেদনকারীর বি-ওয়ান/বি-টু ভিসা আছে এবং অ্যাসাইলাম মামপেন্ডিং থাকলে আতঙ্কিত হয়ে কোনো সিদ্ধান্ত না নেওয়াই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ভিসা, আই-৯৪ (I-94) আইনসম্মত অবস্থা, আশ্রয় আবেদন প্রক্রিয়াধীন, কর্মসংস্থানের অনুমোদন এবং রিমোবাল কার্যক্রম একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কিত হলেও আইনের দৃষ্টিতে এক বিষয় নয়।

বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে ভ্রমণ, অ্যাসাইলাম আবেদন প্রত্যাহার, ঠিকানা পরিবর্তন, নতুন ইমিগ্রেশন সুবিধা (benefit) এর আবেদন বা সরকারি কোনো নোটিশের জবাব দেওয়ার আগে নিজের মামলার কাগজপত্র নিয়ে যোগ্য ইমিগ্রেশন এটোর্নির পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ২৬ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত এটি একটি প্রস্তুতাধীন ব্যাপক নীতিগত পদক্ষেপ। সর্বোচ্চ দুই লাখ মানুষের কথা বলা হলেও সংখ্যাটি এখনো স্টেট ডিপার্টমেন্টের আনুষ্ঠানিক চূড়ান্ত সংখ্যা নয়। প্রশাসন আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বিস্তারিত ঘোষণা দিতে পারে এবং পরিকল্পনাটি পরিবর্তিত হওয়া বা আদালতে চ্যালেঞ্জ হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।