প্রকাশিত: ২৮ জুন ২০২৬ , ০৪:৩৭ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান অশান্তি ও সংঘাতের প্রেক্ষাপটে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ইসলামের ছায়াতলে আসার আহ্বান জানিয়েছেন মুসলিম উম্মাহ অব নর্থ আমেরিকা (মুনা)-এর প্রেসিডেন্ট ইমাম দেলোয়ার হোসাইন। তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী যুদ্ধ, সহিংসতা ও পারিবারিক অস্থিরতা দিন দিন বাড়ছে। মানবকল্যাণ ও প্রকৃত শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য ইসলামের শিক্ষা ও অনুশাসনের বিকল্প নেই। এ লক্ষ্যেই মুনা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
শনিবার নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে বাইতুল মামুর প্রাঙ্গণে মুনা সোশ্যাল সার্ভিসের উদ্যোগে আয়োজিত দিনব্যাপী কমিউনিটি ফেস্টের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মুনা সোশ্যাল সার্ভিসের সভাপতি শাফায়েত উল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন মুনার সেক্রেটারি আরমান চৌধুরী, অ্যাসিস্ট্যান্ট এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর আব্দুল্লাহ আল আরিফ, নিউইয়র্কের কংগ্রেশনাল প্রার্থী ক্লেয়ার বেলডেজ, কাউন্সিল মেম্বার সানডি নার্জি, ডেমোক্রেটিক অ্যাসেম্বলি প্রার্থী ডেভিড অর্কিন, নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের ডেপুটি কমিশনার এলডেন ফস্টার, ডেপুটি ইন্সপেক্টর ডিয়ন হিন্স, মেয়র কার্যালয়ের কর্মকর্তাসহ মুসলিম লিয়াজোঁ প্রতিনিধিরা।
ইমাম দেলোয়ার হোসাইন বলেন, “আজ পৃথিবীর প্রতিটি সমাজে অস্থিরতা বিরাজ করছে। দেশে দেশে যুদ্ধ, সংঘাত ও নিরীহ মানুষের ওপর হামলা অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে বিভিন্ন স্থানে মুসলমানরা নানা ধরনের নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। মানুষ আজ শান্তি চায়। আর সেই শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য ইসলামের আদর্শ অনুসরণ করতে হবে।”
তিনি বলেন, ইসলামী অনুশাসন থেকে দূরে সরে যাওয়ার কারণে পারিবারিক বন্ধন দুর্বল হয়ে পড়ছে এবং পরিবারগুলো ভেঙে যাচ্ছে। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে শান্তি ফিরিয়ে আনতে ইসলামের মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
মুনাকে একটি পরিবার হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমাদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সমাজসেবামূলক কাজে এগিয়ে আসতে হবে। আমরা উন্নত জীবনের আশায় আমেরিকায় এসেছি, কিন্তু আমাদের সৃষ্টিকর্তার প্রতি দায়িত্ব কখনো ভুলে গেলে চলবে না। প্রত্যেক মানুষকেই তার কর্মের হিসাব দিতে হবে। যদি আমরা কেবল দুনিয়ার মোহে আটকে যাই, তবে দুনিয়া ও আখিরাত উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের যুবসমাজকে রক্ষা করতে হবে এবং ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে নিয়ে আসতে হবে। অন্যথায় পরিবার ও সমাজ উভয়ই সংকটের মুখে পড়বে। এ লক্ষ্যেই মুনা ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে এবং এই কাজে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।”
সকাল ১১টায় ব্রুকলিনের পাইন ও ক্রিসেন্ট স্ট্রিট এলাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে কমিউনিটি ফেস্টের কার্যক্রম শুরু হয়। দিনব্যাপী আয়োজনে শিশু-কিশোরদের জন্য বিভিন্ন রাইডের ব্যবস্থা করা হয়। আগত অতিথিদের জন্য তরমুজ, লিচুসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফল, শরবত ও জুস পরিবেশন করা হয়। পাশাপাশি বিকেল পর্যন্ত ইসলামী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ধরনের ইসলামী বইয়ের স্টল স্থাপন করা হয়, যেখান থেকে দর্শনার্থীরা বিনামূল্যে বই সংগ্রহ করেন। দুপুর ২টা থেকে খাবার পরিবেশন শুরু হয়। প্রায় আড়াই থেকে তিন হাজার মানুষের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করা হলেও পুরো আয়োজন ছিল অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও মনোরম।
স্থানীয় মুসলিম কমিউনিটির বিপুল অংশগ্রহণে কমিউনিটি ফেস্টটি উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়।