ভাষা নির্বাচন / Select Language
  • 🇧🇩
    বাংলা মূল ভাষা (Original)
  • 🇺🇸
    English English
এখন সময় ডেস্ক • প্রকাশিত: ২৮ জুন ২০২৬, ১১:৩৮ পিএম • অনলাইন সংস্করণ

ইসরায়েল-লেবানন চুক্তি ঘিরে উত্তেজনা, ‘সার্বভৌমত্বের আত্মসমর্পণ’ বলছে হিজবুল্লাহ

ইসরায়েল-লেবানন  চুক্তি ঘিরে উত্তেজনা, ‘সার্বভৌমত্বের আত্মসমর্পণ’ বলছে হিজবুল্লাহ

ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় পাঁচ দফা আলোচনার পর একটি ত্রিপক্ষীয় কাঠামোগত (ফ্রেমওয়ার্ক) চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। শুক্রবার (২৬ জুন) ওয়াশিংটনে এ সমঝোতা হয়। তবে চুক্তিটি প্রকাশের পরই তীব্র বিরোধিতা করেছে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। সংগঠনটি একে ‘মারাত্মক ভুল’ আখ্যা দিয়ে চুক্তিকে ‘বাতিল ও অকার্যকর’ ঘোষণা করেছে।

অন্যদিকে, লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন চুক্তি বাস্তবায়নে সরকারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। শনিবার (২৭ জুন) রাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে তিনি বলেন, লেবানন সরকার চুক্তির সব শর্ত বাস্তবায়নে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রও চুক্তি লঙ্ঘন প্রতিরোধ এবং বাস্তবায়ন তদারকিতে সক্রিয় থাকবে বলে উভয় পক্ষের আলোচনায় গুরুত্ব পায়।

এদিকে, দক্ষিণ লেবাননের তথাকথিত ‘নিরাপত্তা অঞ্চল’-এ দীর্ঘমেয়াদি সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখতে ইসরায়েলি বাহিনীকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শনিবার ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ এক বিবৃতিতে জানান, প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে যৌথ সিদ্ধান্তে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীকে (আইডিএফ) ওই এলাকায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

চুক্তির কঠোর সমালোচনা করে হিজবুল্লাহর মহাসচিব নাইম কাসেম বলেন, এটি লেবাননের সার্বভৌমত্বের সঙ্গে আপসের শামিল। তার দাবি, লেবাননের ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলি সেনা সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের নিশ্চয়তা ছাড়াই ইসরায়েলকে রাজনৈতিক সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এর ফলে দক্ষিণ লেবাননের কিছু অংশে ইসরায়েলের দখলদারিত্ব কার্যত বৈধতা পেতে পারে এবং তা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

কাসেম আরও অভিযোগ করেন, চুক্তিতে লেবাননজুড়ে হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণের বিষয়টি ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে, যা তার ভাষায় ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক’ এবং ‘সব লাল রেখা অতিক্রম করেছে’।

তিনি আরও দাবি করেন, নতুন এই কাঠামোগত চুক্তি পূর্ববর্তী যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারকের (MoU) তুলনায় দুর্বল। তার মতে, আগের সমঝোতায় লেবাননসহ সংশ্লিষ্ট সব ফ্রন্টে অবিলম্বে ও স্থায়ী যুদ্ধবিরতি, লেবাননের ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বের নিশ্চয়তা এবং ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে আলোচনা চালানোর প্রতিশ্রুতি ছিল।

এদিকে, লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত ৪ হাজার ২৩০ জন নিহত এবং ১২ হাজার ১৭৯ জন আহত হয়েছেন।