প্রকাশিত: ২৮ জুন ২০২৬ , ১০:০৫ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর রামপুরার বনশ্রী এলাকায় সংঘটিত হত্যা ও হত্যাচেষ্টার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান হাবিবসহ তিন পুলিশ কর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই মামলায় একজন পুলিশ সদস্যকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং আরেকজনকে ২০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রোববার বিচারপতি মো. গোলাম মোর্তজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য ছিলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অপর দুই আসামি হলেন খিলগাঁও জোনের সাবেক অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (এডিসি) রাশেদুল ইসলাম এবং রামপুরা থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মশিউর রহমান। এছাড়া রামপুরা থানার সাবেক উপপরিদর্শক (এসআই) তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়াকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) চঞ্চল চন্দ্র সরকারকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
পাঁচ আসামির মধ্যে কেবল চঞ্চল চন্দ্র সরকার আদালতে উপস্থিত ছিলেন। বাকি চারজন পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন ট্রাইব্যুনাল।
সকাল ১১টা ৪৮ মিনিটে রায় পাঠ শুরু হয়। প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিমের আবেদনের পর আদালতের অনুমতিক্রমে রায় ঘোষণার কার্যক্রম বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। রায় ঘোষণার সময় চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলামসহ রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের আইনজীবীরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলির মুখে প্রাণ বাঁচাতে রামপুরার বনশ্রী-মেরাদিয়া সড়কের একটি নির্মাণাধীন ভবনে আশ্রয় নেন আমির হোসেন। একপর্যায়ে ভবনের কার্নিশের রড ধরে ঝুলে থাকলেও তাকে লক্ষ্য করে এক পুলিশ সদস্য ছয় রাউন্ড গুলি ছোড়েন। গুরুতর আহত হলেও তিনি প্রাণে বেঁচে যান।
একই দিনে বনশ্রী এলাকায় পুলিশের গুলিতে নিহত হন মো. নাদিম হোসেন। এছাড়া সাত বছর বয়সী বাসিত খান মুসাকে লক্ষ্য করে ছোড়া গুলি তার দাদি মায়া ইসলামের শরীরে বিদ্ধ হলে ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন।
এই ঘটনায় আসামিদের বিরুদ্ধে তিনটি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়। অভিযোগগুলো হলো, নাদিম হোসেনকে গুলি করে হত্যা, আমির হোসেনকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করে গুরুতর আহত করা এবং বাসিত খান মুসাকে লক্ষ্য করে ছোড়া গুলিতে মায়া ইসলামের মৃত্যু ঘটানো।
মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন ২০২৫ সালের ৩১ জুলাই চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ৭ আগস্ট আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। গত ১৮ সেপ্টেম্বর পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়। মামলায় মোট ১১ জন সাক্ষ্য দেন। উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে গত ১৫ জুন আদালত রায়ের জন্য দিন ধার্য করেছিলেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় এটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া পঞ্চম রায়।