এখন সময় ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২ জুলাই ২০২৬ , ০১:৫১ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

হরমুজ প্রণালি বন্ধ ঘোষণা করল ইরান

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌবাহিনী কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ‘হস্তক্ষেপ’ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত কোনো জাহাজকে এ জলপথ ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে বাহিনীটি।

রোববার ভোরে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, এর আগে তারা সতর্ক করেছিল যে বিদেশি হস্তক্ষেপ কিংবা হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নির্ধারিত রুট পরিবর্তনের চেষ্টা হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিবৃতিতে দাবি করা হয়, কয়েক ঘণ্টা আগে বিদেশিদের প্ররোচনায় কয়েকটি জাহাজ অনুমোদিত নৌপথ এড়িয়ে চলার চেষ্টা করে। বারবার সতর্ক করার পরও তারা নির্ধারিত রুটে ফিরে না আসায় সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার অভিযোগে একটি জাহাজকে সতর্কতামূলক গুলি চালিয়ে থামানো হয়।

এর পরপরই আইআরজিসি ঘোষণা দেয়, বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচল করতে পারবে না। একই সঙ্গে জানানো হয়, এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপ অব্যাহত থাকলে এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।

আইআরজিসি আরও সতর্ক করে বলেছে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল বা তাদের মিত্ররা নতুন কোনো সামরিক পদক্ষেপ নিলে ইরান কঠোর জবাব দেবে। এ অঞ্চলে প্রতিপক্ষের সামরিক ঘাঁটিগুলোও সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং তাদের সহযোগী দেশগুলোর বিরুদ্ধে আঞ্চলিক উত্তেজনা উসকে দেওয়ার অভিযোগ এনে সম্ভাব্য যেকোনো পরিণতির দায় তাদের ওপর বর্তাবে বলে দাবি করা হয়।

আইআরজিসির ভাষ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকেই হরমুজ প্রণালিতে শত্রুপক্ষ ও তাদের মিত্রদের জন্য বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। পরে মে মাসে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণে নতুন ব্যবস্থা চালু করে তেহরান। ওই ব্যবস্থার আওতায় ইরানের নির্ধারিত তদারকি অঞ্চলের বাইরে চলাচল না করা এবং ইরানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় রেখে চলাচলের নির্দেশ দেওয়া হয়।

এ ছাড়া জুনে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা প্রশমনে একটি সমঝোতায় পৌঁছালেও ওয়াশিংটন এখনো হরমুজ প্রণালিতে সামরিক উপস্থিতি বজায় রেখেছে বলে দাবি করেছে আইআরজিসি।