ভাষা নির্বাচন / Select Language
  • 🇧🇩
    বাংলা মূল ভাষা (Original)
  • 🇺🇸
    English English
ঢাকা অফিস • প্রকাশিত: ১২ জুলাই ২০২৬, ০৮:০৪ পিএম • অনলাইন সংস্করণ

তিস্তা, সীমান্ত ও গণভোট ইস্যুতে সরকারের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে বাংলাদেশের বিরোধী জোট

তিস্তা, সীমান্ত ও গণভোট ইস্যুতে সরকারের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে বাংলাদেশের বিরোধী জোট

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের দীর্ঘদিনের তিস্তা সংকট, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং গণভোটের ফল বাস্তবায়নকে কেন্দ্র করে সরকারবিরোধী রাজনৈতিক চাপ আরও জোরালো হয়েছে। শনিবার রংপুরে অনুষ্ঠিত ১১ দলীয় বিরোধী জোটের বিভাগীয় সমাবেশে নেতারা সরকারের অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার, সীমান্ত নীতি এবং রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেন। সমাবেশে তিস্তা মহাপরিকল্পনার দ্রুত বাস্তবায়নকে উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতি ও জীবিকার জন্য জরুরি বলে তুলে ধরা হয়।

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তিস্তা কেবল একটি নদী নয়, এটি উত্তরাঞ্চলের লাখো মানুষের কৃষি, জীবিকা ও আঞ্চলিক অর্থনীতির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত একটি জাতীয় ইস্যু। তাঁর অভিযোগ, চলতি জাতীয় বাজেটে তিস্তা মহাপরিকল্পনার জন্য কোনো বরাদ্দ না রেখে সরকার উত্তরাঞ্চলের মানুষের প্রত্যাশাকে উপেক্ষা করেছে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে ভবিষ্যতে ১১ দলীয় জোট ক্ষমতায় এলে এটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করা হবে।

তিনি একই সঙ্গে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে বলেন, এসব সমস্যার মূল বোঝা সাধারণ জনগণ বহন করছে। নির্বাচনের আগে দেওয়া রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও সরকারের অঙ্গীকার পূরণ হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

সমাবেশে সীমান্ত পরিস্থিতিও গুরুত্ব পায়। ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, সীমান্তে পুশইন এবং হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সরকারের প্রতিক্রিয়া যথেষ্ট কার্যকর নয়। তিনি সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার এবং কূটনৈতিকভাবে আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানান।

সমাবেশের সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে সরকারের বাজেটে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেই। তিনি আরও দাবি করেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফর থেকেও তিস্তা প্রকল্প কিংবা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রশ্নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা যায়নি।

নাহিদ ইসলাম সরকারের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে সম্পর্ক এবং দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও সমালোচনা করেন। পাশাপাশি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে তাঁর মন্তব্য নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরে এলে তাঁর বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আইনি শাস্তি নিশ্চিত করা উচিত।

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমদ বীরবিক্রম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দিন, নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমির আল্লামা আবদুল কাইয়ুম সুবহানী, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল হালিম এবং জাগপার মুখপাত্র রাশেদ প্রধান।

সমাবেশ শেষে ১১ দলীয় জোট তিস্তা মহাপরিকল্পনার দ্রুত বাস্তবায়ন, উত্তরাঞ্চলের জন্য বিশেষ উন্নয়ন বরাদ্দ, গণভোটের ফল কার্যকর, সীমান্ত হত্যা ও পুশইন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় আরও সক্রিয় নীতি গ্রহণের আহ্বান জানায়।

তিস্তা পানি বণ্টন, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংস্কার এখন বাংলাদেশের রাজনৈতিক আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। বিরোধী জোটের এই সমাবেশ সেই বিষয়গুলোকে আবারও জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।