প্রকাশিত: ০৭ সেপ্টেম্বার ২০২৬ , ০৯:৩৬ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
হরমুজ প্রণালির বাইরে নতুন একটি ‘নিষিদ্ধ’ সামুদ্রিক অঞ্চল ঘোষণা করতে যাচ্ছে ইরান। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এ ঘোষণা আসতে পারে বলে জানিয়েছেন দেশটির শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোহসেন রেজাই। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, নতুন ঘোষিত এলাকায় কোনো জাহাজ প্রবেশ করলে সেটিকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হবে।
তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব রেজাই এ তথ্য জানান। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম প্রেস টিভির বরাত দিয়ে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়েছে।
রেজাই জানান, প্রস্তাবিত সামুদ্রিক অঞ্চলটি মার্কিন নৌবাহিনীর অবরোধরেখা থেকে শুরু হয়ে পারস্য উপসাগরের কিছু অংশ পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ওই এলাকায় প্রবেশকারী যেকোনো জাহাজকে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি দিয়ে ইরান ও ওমানের মধ্যে নতুন একটি নৌকরিডর চালুর সম্ভাবনার কথাও জানান রেজাই। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে একটি চুক্তি সই হতে পারে। করিডরটির প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
হরমুজ প্রণালির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও কঠোর অবস্থানের কথা জানান ইরানের এই নিরাপত্তা কর্মকর্তা। তিনি দাবি করেন, প্রণালিটি ‘সম্পূর্ণ বন্ধ এবং সশস্ত্র বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে’ রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি এখনও খোলা রয়েছে বলে যে দাবি করেছেন, সেটিকে তিনি ‘বড় মিথ্যা’ বলে মন্তব্য করেন।
রেজাইয়ের দাবি, হরমুজ প্রণালি বন্ধের আগে প্রতিদিন ১০ কোটিরও বেশি টন পণ্য বহনকারী শতাধিক জাহাজ এই জলপথ ব্যবহার করত। বর্তমানে ইরানের প্রয়োজনীয় পণ্য বহনকারী মাত্র সাত থেকে আটটি জাহাজ এ পথে চলাচল করছে বলে তিনি জানান।
তিনি আরও দাবি করেন, এসব জাহাজকে পার করে দিতে যুক্তরাষ্ট্র বিপুল অর্থ ব্যয় করছে। তবে কয়েকটি জাহাজ হামলার শিকার হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এ বিষয়ে অবশ্য বিস্তারিত কোনো তথ্য দেননি রেজাই।
তেলবাহী জাহাজগুলোকে ডুবিয়ে না দেওয়ার কারণও ব্যাখ্যা করেন তিনি। রেজাই বলেন, এসব জাহাজ তেল বহন করায় এগুলো ধ্বংস করলে ওই অঞ্চলের পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এ কারণেই জাহাজগুলো ডুবিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়নি ইরান।
এদিকে মার্কিন নৌবাহিনীর একটি জাহাজের ওপর দিয়ে নতুন জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালানোর দাবিও করেছেন রেজাই। তাঁর ভাষ্য, প্রায় ৪৮ ঘণ্টা আগে প্রথমবারের মতো একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজের ওপর দিয়ে ওই ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালানো হয়। ক্ষেপণাস্ত্রটির কারণে মার্কিন বাহিনী ‘পালিয়ে যায়’ বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে কোন মার্কিন যুদ্ধজাহাজকে লক্ষ্য করে এই পরীক্ষা চালানো হয়েছে কিংবা কোথায় পরীক্ষা হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য দেননি রেজাই।
অন্যদিকে মার্কিন অর্থনৈতিক অবরোধের কারণে ইরানে ব্যাপক দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছে, এমন দাবিও প্রত্যাখ্যান করেছেন তিনি। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবিকে দেওয়া বক্তব্যে রেজাই বলেন, নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশে বড় ধরনের দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছে বলে যে দাবি করা হচ্ছে, তা ‘বড় মিথ্যা’।
তিনি দাবি করেন, ইরান সরকার দীর্ঘদিন ধরে নিষেধাজ্ঞাজনিত পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি নিয়েছে। ফলে দেশে পর্যাপ্ত খাদ্য ও প্রয়োজনীয় পণ্যের মজুত রয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরুর পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে। এর পাল্টা জবাবে ইরান ইসরায়েল এবং অঞ্চলটিতে থাকা মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
এরপর জুন মাসে পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়। এতে সংঘাত বন্ধের দিকে অগ্রসর হওয়া, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা নিয়ে সমাধানের পথ তৈরির মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল।
তবে সমঝোতার পরও দুই দেশ একে অপরের বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলেছে। নিষেধাজ্ঞা, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল এবং সামরিক কর্মকাণ্ড ঘিরে বিরোধ অব্যাহত থাকায় অঞ্চলটির উত্তেজনাও কমেনি।