প্রকাশিত: ০৭ সেপ্টেম্বার ২০২৬ , ০৯:৩০ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
গাজা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি কিছুটা জটিলতা তৈরি করছে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত ও জামাতা জ্যারেড কুশনার। তাঁর দাবি, গাজা নিয়ে শেষ পর্যন্ত কী অর্জন করতে হবে, সে বিষয়ে ওয়াশিংটন ও জেরুসালেমের মধ্যে মৌলিক কোনো মতপার্থক্য নেই।
রোববার ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে কুশনার এসব কথা বলেন। তাঁর বক্তব্যের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম জেরুসালেম পোস্ট।
কুশনার বলেন, ইসরায়েলের কিছু রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র কাজ করছে। তাঁর মতে, দেশটির সামনে একটি কঠিন ও অস্থির নির্বাচন রয়েছে। নির্বাচনী পরিস্থিতির কারণে কিছু বিষয়ে ইসরায়েল ‘অযৌক্তিক আচরণ’ করছে। তবে এসব জটিলতা কাটিয়ে উঠতে যুক্তরাষ্ট্র জোরালোভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
গাজার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন কুশনার। তিনি বলেন, গাজা কতটা সামরিকীকৃত হয়ে পড়েছে, যুক্তরাষ্ট্র এখন ধীরে ধীরে তার ব্যাপকতা উপলব্ধি করছে। তাঁর ভাষায়, অঞ্চলটির সামরিকীকরণের মাত্রা ধারণার চেয়েও বেশি।
কুশনারের মতে, গাজাকে নিরস্ত্রীকরণ করা সহজ হবে না। কারণ সেখানে অস্ত্রের উপস্থিতি থাকলে কোনো কার্যকর সরকার বা প্রশাসনকে নিরাপদে কাজ করার সুযোগ দেওয়া সম্ভব নয়।
তিনি জানান, গাজাকে নিরস্ত্রীকরণের বিষয়ে হামাসের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র চার মাসেরও বেশি সময় ধরে আলোচনা করেছে এবং এ বিষয়ে হামাস একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে।
এদিকে গাজা ইস্যুর পাশাপাশি ইউক্রেন সংকট নিয়েও কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। রোববার কুশনার ও মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ কিয়েভে পৌঁছে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করেন।
বৈঠকে ইউক্রেনের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক নিশ্চয়তা, আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার জন্য ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ এবং আসন্ন শীত মৌসুমে দেশটির জন্য সহায়তা প্যাকেজ নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকটিকে ‘খুবই গুরুত্বপূর্ণ’ বলে অভিহিত করেছেন জেলেনস্কি।
তিনি আরও জানান, ইউক্রেন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রকে নিয়ে ত্রিপক্ষীয় আলোচনা দ্রুত আবার শুরু হবে বলে তিনি আশা করছেন।
কুশনার ও উইটকফের কিয়েভ সফরের এক দিন আগে, শনিবার, তাঁরা মস্কো সফর করেন। সেখানে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেন মার্কিন প্রতিনিধিরা। ফলে গাজা সংকটের পাশাপাশি ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়েও একই সময়ে কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে ওয়াশিংটন।