প্রকাশিত: ০৭ সেপ্টেম্বার ২০২৬ , ০৮:৫৬ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
ভারতের কলকাতায় চিকিৎসা নিতে যাওয়া বাংলাদেশি রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশি রোগীদের আস্থা ফেরানো এবং তাদের নিরাপদ চিকিৎসা ও আবাসন নিশ্চিত করতে নতুন উদ্যোগ নিচ্ছে কলকাতার বিভিন্ন হাসপাতাল। এর অংশ হিসেবে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বাংলাদেশে প্রতিনিধি দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে শহরটির কয়েকটি বড় হাসপাতাল।
রোগী ও স্বজনদের নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করতে হাসপাতালগুলো নিজস্ব থাকার ব্যবস্থা গড়ে তোলার পাশাপাশি অনুমোদিত হোটেল ও গেস্টহাউসের সঙ্গে চুক্তি করছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশি রোগীদের জন্য বিশেষ সহায়তা ডেস্ক চালুর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কলকাতার হাসপাতালগুলোর প্রতিনিধি দলের সদস্যরা বাংলাদেশে গিয়ে সম্ভাব্য রোগী ও তাদের পরিবারের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করবেন। চিকিৎসার জন্য কলকাতায় আসার আগে নিরাপদ হোটেল নির্বাচন ও কক্ষ বুকিংয়ের ক্ষেত্রেও তারা পরামর্শ ও সহায়তা দেবেন। অগ্নিনিরাপত্তাসহ প্রয়োজনীয় সরকারি ছাড়পত্র রয়েছে, এমন আবাসন বেছে নিতে রোগীদের উৎসাহিত করা হবে।
সম্প্রতি কলকাতার ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের একটি অতিথিশালায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সাত বাংলাদেশিসহ নয়জনের মৃত্যু হয়। ওই ঘটনার পর শহরের কম খরচের ও অনিবন্ধিত হোটেল-গেস্টহাউসগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে স্থানীয় প্রশাসন।
ঘটনার পর বাংলাদেশ উপহাইকমিশনও ভ্রমণ নির্দেশিকা জারি করে। এতে ভারতে যাওয়ার আগেই বৈধ অনুমোদন ও অগ্নিনির্বাপক ছাড়পত্র রয়েছে, এমন নিরাপদ হোটেলে কক্ষ বুক করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা, চিকিৎসার জন্য কলকাতায় আসা বাংলাদেশের অনেক রোগী ও স্বজনের পক্ষে এ ধরনের নির্দেশনা মেনে চলা সবসময় সহজ নাও হতে পারে। বিশেষ করে সড়কপথে কলকাতায় যাওয়া রোগীদের একটি বড় অংশ কম খরচে থাকার জায়গা খোঁজেন। এ কারণে যথাযথ অনুমোদন বা অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই, এমন আবাসনেও তাদের ওঠার ঝুঁকি থাকে।
বাংলাদেশি রোগীদের নিরাপদ আবাসনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দক্ষিণ কলকাতার বিপি পোদ্দার হাসপাতাল নিজেদের ব্যবস্থাপনায় থাকার জায়গা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। হাসপাতালটির একটি প্রতিনিধি দল আগামী সপ্তাহে বাংলাদেশে যাওয়ার কথা রয়েছে।
হাসপাতালের গ্রুপ উপদেষ্টা সুপ্রিয় চক্রবর্তী বলেন, রোগীদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা তাদের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। এ কারণে হাসপাতালের কাছেই বাংলাদেশি রোগীদের জন্য নির্দিষ্ট আবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে। সেখানে পরিকল্পিত নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকবে।
বাংলাদেশি রোগীদের জন্য একই ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে উডল্যান্ডস মাল্টিস্পেশালিটি হাসপাতাল। হাসপাতালটি বাংলাদেশে প্রতিনিধি দল পাঠানোর পরিকল্পনা করছে। পাশাপাশি আলিপুর এলাকায় একাধিক গেস্টহাউস ও হোটেলের সঙ্গে চুক্তি করেছে তারা।
উডল্যান্ডসের প্রধান নির্বাহী এবং অ্যাসোসিয়েশন অব হসপিটালস অব ইস্টার্ন ইন্ডিয়ার সভাপতি রূপক বড়ুয়া বলেন, নিরাপদ আবাসনের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে বাংলাদেশি রোগী ও তাদের স্বজনদের সচেতন করতে চান তারা।
তিনি জানান, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে হাসপাতালে আসতে পারেন এমন রোগীদের আলিপুর এলাকার গেস্টহাউস ও হোটেলগুলোর একটি তালিকা দেওয়া হচ্ছে, যাতে তারা কলকাতায় আসার আগেই থাকার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পারেন।
বাংলাদেশি রোগীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়াতে বিশেষ ডেস্ক চালুর উদ্যোগ নিয়েছে রুবি জেনারেল হাসপাতাল। এর আগে হাসপাতালটি বাংলাদেশি রোগীদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য প্রতিনিধি দল পাঠিয়েছিল।
রুবি জেনারেল হাসপাতালের প্রধান মহাব্যবস্থাপক (অপারেশন্স) সুভাষিস দত্ত বলেন, রোগীদের সঙ্গে ইতোমধ্যে যোগাযোগ শুরু হয়েছে। হাসপাতালের আশপাশে নিরাপদ থাকার জায়গাগুলোর একটি তালিকাও তৈরি করা হয়েছে।
তিনি জানান, চিকিৎসার জন্য কলকাতায় যাওয়ার আগেই রোগীরা যাতে নিরাপদ আবাসন বুক করতে পারেন, সে বিষয়েও হাসপাতালের পক্ষ থেকে সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।
কলকাতার হাসপাতালগুলোর এসব উদ্যোগের মূল লক্ষ্য এখন বাংলাদেশি রোগীদের আস্থা পুনর্গঠন এবং চিকিৎসার পাশাপাশি তাদের যাতায়াত ও আবাসনকে আরও নিরাপদ করা।