প্রকাশিত: ২৯ জুলাই ২০২৬ , ১০:২৪ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
ভারতে নিট-ইউজি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে পুলিশের শক্তি প্রয়োগের ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর জবাব দাবি করেছেন কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, শিক্ষার্থীরা কি এমন কোনো অপরাধ করেছিল যে তাদের ওপর লাঠিচার্জ, পেলেট গান ও অস্ত্র ব্যবহার করতে হলো?
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) লোকসভায় পাবলিক এক্সামিনেশনস (প্রিভেনশন অব আনফেয়ার মিনস) সংশোধনী বিল, ২০২৬-এর ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন তিনি।
প্রিয়াঙ্কা বলেন, শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি ও উদ্বেগের সমাধান করার পরিবর্তে সরকার তাদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগের পথ বেছে নিয়েছে। একটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনের জবাবে এ ধরনের পদক্ষেপ দেশের তরুণ সমাজের কাছে ভুল বার্তা দিচ্ছে। তার মতে, শিক্ষার্থীদের ওপর চালানো প্রতিটি লাঠির আঘাত সরকারের ভাবমূর্তিকেই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
তিনি আরও বলেন, দেশের তরুণরা এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর আস্থা হারাচ্ছে, যেখানে মেধার চেয়ে অনিয়ম বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। রাম মনোহর লোহিয়া হাসপাতালে আহত এক শিক্ষার্থীর পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর দাবি, গত এক দশকে ভারতে ১৫২টি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত চক্রগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, সরকারি শিক্ষায় বিনিয়োগের তুলনায় প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য পরিবারগুলোকে অনেক বেশি ব্যক্তিগত ব্যয় বহন করতে হচ্ছে।
অন্যদিকে, কংগ্রেস নেতা কে সি ভেনুগোপালও নিট পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে হওয়া আচরণের সমালোচনা করেন। তিনি লোকসভায় মহারাষ্ট্রের ১৯ বছর বয়সী নিট পরীক্ষার্থী অঙ্কিতা সাঙ্গালের লেখা একটি চিঠি পড়ে শোনান। কাঙ্ক্ষিত কাট-অফ নম্বরের চেয়ে ১১ নম্বর কম পাওয়ায় গত ২৫ জুলাই তিনি আত্মহত্যা করেন।
ভেনুগোপাল বলেন, ২০১৪ সালে ভারতে শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার সংখ্যা ছিল ৮ হাজার ৬৮, যা বর্তমানে বেড়ে ১৪ হাজার ৪৮৮-এ পৌঁছেছে। এটি কেবল একটি পরিসংখ্যান নয়, বরং দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য একটি গভীর সংকটের প্রতিফলন।
লোকসভায় বক্তব্যের একপর্যায়ে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বলেন, তরুণদের আস্থা অর্জনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ক্যামেরার কোণ পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন হৃদয়ের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন। তার এ মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সংসদে কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। সরকারি দলের সদস্যদের আপত্তির পর স্পিকার ওম বিড়লা তার বক্তব্যের কিছু অংশ কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেন।
এ সময় কে সি ভেনুগোপাল বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করা শিক্ষার্থীরা রাষ্ট্রের শত্রু নয়। তাদের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ীদের চিহ্নিত করে জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত।