ঢাকা অফিস

প্রকাশিত: ০৪ এপ্রিল ২০২৬ , ১১:২৯ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বাতিল বিএনপির ঐতিহাসিক প্রতারণার ধারাবাহিকতা — বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন

‘সংস্কারের সাংবিধানিক বৈধতা: নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার কুপ্রভাব’ শীর্ষক একটি আলোচনা সভা আজ শুক্রবার সকালে ঢাকায় বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় দলের সভাপতি হাসনাত কাইয়ূম বর্তমান রাজনৈতিক গতিপথ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের মানুষ যে আমূল পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখেছিল, সরকার ও প্রধান বিরোধীজোটের রহস্যময় সমীকরণ সেই স্বপ্নকে ধূলিসাৎ করছে। সরকার ও বিরোধীজোটের সম্মিলিত সংবিধান সংশোধন কমিটি গঠনের উদ্যোগ সেই আশাকে বিরাট হতাশার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।”

​হাসনাত কাইয়ূম আরও বলেন, “বিদ্যমান ব্যবস্থায় সংস্কারের সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে যে বিতর্ক তোলা হচ্ছে, তা আসলে একটি রাজনৈতিক চতুরতা। অতীতে আমরা দেখেছি, তিন জোটের রূপরেখা পায়ে ঠেলে তৎকালীন বিএনপি সরকার জনআকাঙ্ক্ষাকে অগ্রাহ্য করেছে। এবারও গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বাতিলের উদ্যোগ নিয়ে বিএনপি সংবিধানকে শাসকের ইচ্ছাধীন দলিলে পরিণত রাখতে চাচ্ছে। ক্ষমতার ভারসাম্যহীন এই সংবিধানে থেকে কোনো টেকসই সমাধান সম্ভব নয়।” এমন কিছু হলে তার মূল্য সরকারকেই দিতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

​সরকার ও বিরোধীজোটের জনআকাঙ্ক্ষার বিপরীত এসব উদ্যোগ জনগণকেই রুখে দিতে হবে উল্লেখ করে নেতৃবৃন্দ বলেন, “অভ্যুত্থান শেষ হয়নি। সরকার ও রাষ্ট্রের ন্যূনতম জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এই অভ্যুত্থান শেষ হবে না।” রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন এই ‘প্রতারণার রাজনীতি’র বিরুদ্ধে এবং প্রকৃত সংস্কারের দাবিতে দেশব্যাপী জনমত গঠন ও গণসংযোগ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে সভায়।

​সভায় আরও বক্তব্য রাখেন দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদার ভূঁইয়া, নির্বাহী কমিটির সদস্য ফরিদুল ইসলাম, রাষ্ট্র সংস্কার ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি লামিয়া ইসলাম প্রমুখ। সভার সঞ্চালনা করেন দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ হাসিবউদ্দীন হোসেন।