কাজী শামসুল হক

প্রকাশিত: ২৬ মার্চ ২০২৬ , ০৫:০৫ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিস্তার : শঙ্কা নাকি সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত

বিংশ শতাব্দীর শিল্প বিপ্লব যখন কড়া নেড়েছিল, তখন মানুষের মনে ভয় ছিল যন্ত্র বুঝি কেড়ে নেবে সব কাজ। একুশ শতকের মাঝামাঝি দাঁড়িয়ে আমরা ঠিক একই রকম এক সন্ধিক্ষণে। তবে এবার যন্ত্র নয়, আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI। প্রতিদিনের সংবাদ শিরোনামে এখন একটিই প্রশ্ন, প্রযুক্তি কি মানুষের বিকল্প হয়ে দাঁড়াচ্ছে?

পরিবর্তনের হাওয়া: গত কয়েক বছরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে, তা বিস্ময়কর। চ্যাটজিপিটি (ChatGPT) থেকে শুরু করে স্বয়ংক্রিয় উৎপাদন ব্যবস্থা। সবখানেই প্রযুক্তির জয়জয়কার। ডাটা এন্ট্রি, গ্রাফিক ডিজাইন, এমনকি কোডিংয়ের মতো কাজেও AI এখন অভাবনীয় দক্ষতা দেখাচ্ছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই কর্মসংস্থান নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরনের অনিশ্চয়তা ও শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

শঙ্কা বনাম বাস্তবতা: ইতিহাস বলছে, প্রতিটি বড় প্রযুক্তিগত পরিবর্তন কিছু পুরনো পেশাকে বিলুপ্ত করে ঠিকই, কিন্তু তার চেয়েও বেশি নতুন কাজের সুযোগ তৈরি করে। এআই' এর ক্ষেত্রেও বিষয়টি ভিন্ন হওয়ার কথা নয়। তবে পার্থক্যটা হলো এর গতির মধ্যে। বিগত বিপ্লবগুলোতে মানিয়ে নেওয়ার জন্য মানুষ কয়েক দশক সময় পেত, কিন্তু এআই' এর রূপান্তর ঘটছে চোখের পলকে।

• ঝুঁকিতে থাকা খাত: রুটিনমাফিক কাজ, সাধারণ হিসাবরক্ষণ এবং অনুবাদমূলক পেশাগুলো চ্যালেঞ্জের মুখে।

• নতুন সম্ভাবনা: ডাটা সায়েন্স, এআই এথিক্স, এবং ক্রিয়েটিভ স্ট্র্যাটেজিতে তৈরি হচ্ছে লাখো পদ।

আমাদের করণীয় কী? এই ডিজিটাল জোয়ারে টিকে থাকতে হলে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলানো জরুরি। প্রযুক্তিকে প্রতিপক্ষ না ভেবে একে সহযোগী হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।

১. দক্ষতা বৃদ্ধি (Upskilling): প্রথাগত শিক্ষার পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার শিখতে হবে।

২. সৃজনশীলতা ও আবেগ: সহানুভূতি, নৈতিক বিচারবোধ এবং সূক্ষ্ম সৃজনশীলতা, এই গুণগুলো একান্তই মানুষের। এআই হয়তো তথ্য দিতে পারে, কিন্তু প্রজ্ঞা দিতে পারে না।

৩. সরকারি উদ্যোগ: রাষ্ট্রকে তার শিক্ষানীতি এমনভাবে সাজাতে হবে যেন নতুন প্রজন্ম শুধু ডিগ্রিধারী না হয়ে প্রযুক্তি-সচেতন দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে ওঠে।

মূলকথা হলো, প্রযুক্তি মানুষকে হটিয়ে দেওয়ার জন্য নয় বরং মানুষের জীবনকে আরও গতিশীল ও ত্রুটিমুক্ত করার জন্য। আমরা যদি সময়ের সাথে নিজেদের উপযুক্তভাবে আপডেট করতে পারি, তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আমাদের কর্মসংস্থান ছিনিয়ে নেবে না বরং কর্মক্ষেত্রে আমাদের সক্ষমতাকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেবে। মনে রাখতে হবে, যন্ত্রের কোনো হৃদয় নেই, বুদ্ধিমত্তা কৃত্রিম হলেও মানুষের সৃজনশীলতা চিরকালই অকৃত্রিম।