প্রকাশিত: ১৮ জুলাই ২০২৬ , ০৮:১৪ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিএনপি বরাবরই সংবিধান সংশোধনের পক্ষে কথা বলেছে, সংবিধানের সংস্কার বা পুনর্লিখনের পক্ষে নয়। জনগণ দলের নির্বাচনী ইশতেহার দেখে ভোট দিয়েছে এবং সেই ইশতেহারের ভিত্তিতেই বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে।
শুক্রবার সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে প্রয়াত অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক স্মরণসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল অভিযোগ করেন, জুলাই-আগস্টের রক্তাক্ত ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের ফসল এবং ‘জুলাই সনদ’ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টা চলছে। তবে বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, জনগণের রায় ও দলের নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই এসব বাস্তবায়ন করা হবে।
জুলাই সনদের কিছু বিষয়ে বিএনপির আপত্তির কথাও তুলে ধরেন তিনি। বলেন, উচ্চকক্ষ গঠন এবং আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বমূলক নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়ে বিএনপির সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি এবং দলটি কখনোই এসব প্রস্তাবে একমত হয়নি। জনগণের সম্মতি ছাড়া এসব বিষয় অন্তর্ভুক্ত করাকে তিনি জাতির সঙ্গে এক ধরনের প্রতারণা বলে মন্তব্য করেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের বড় বড় গণতান্ত্রিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের পেছনে বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু রাজনৈতিক দল জুলাই আন্দোলনকে শুধুমাত্র ক্ষমতায় যাওয়ার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চায়। তাঁর মতে, জুলাই আন্দোলন কোনো এক মাসের আন্দোলনের ফল নয়; বরং গত ১৮ থেকে ১৯ বছর ধরে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে চলমান সংগ্রামের চূড়ান্ত পরিণতি।
তিনি দাবি করেন, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে বিএনপির প্রায় ৬০ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, ১ হাজার ৭০০ নেতাকর্মী গুমের শিকার হয়েছেন এবং কয়েক হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।
প্রয়াত অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদকে স্মরণ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, তিনি কখনো ক্ষমতার লোভ বা ব্যক্তিস্বার্থে বিএনপির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। দল যখন ক্ষমতার বাইরে থেকে গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছে, তখনও তিনি পাশে ছিলেন। তাঁকে উদারপন্থী গণতন্ত্রের একজন পথপ্রদর্শক বলেও উল্লেখ করেন মির্জা ফখরুল।
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক সংকট মোকাবিলায় ধৈর্য ও জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের ক্ষত এক দিনে মুছে ফেলা সম্ভব নয়। ১৯৭১ সালে যেমন সবাই মিলে স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছে, তেমনি ২০২৪ সালেও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে সংগ্রাম হয়েছে। বিভাজনের রাজনীতি পরিহার করে একটি মানবিক, গণতান্ত্রিক ও সুন্দর বাংলাদেশ গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।