এখন সময় ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৮ জুলাই ২০২৬ , ০৮:৩৭ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

যুক্তরাষ্ট্র এখন কে-পপ অ্যালবামের সবচেয়ে বড় বাজার

বিশ্বজুড়ে কে-পপের জনপ্রিয়তা শুধু গান বা স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মেই সীমাবদ্ধ নেই। ফিজিক্যাল অ্যালবামের বাজারেও নতুন ইতিহাস গড়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার সংগীতশিল্প। ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে কে-পপ অ্যালবামের আন্তর্জাতিক রপ্তানি রেকর্ড পরিমাণ বেড়েছে, আর সবচেয়ে বড় ক্রেতা হিসেবে প্রথমবারের মতো শীর্ষে উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্র।

দক্ষিণ কোরিয়ার কাস্টমস সার্ভিসের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত কে-পপ অ্যালবাম রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ২৫ কোটি ৭৪ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ প্রবৃদ্ধি ১২৫ শতাংশ।

এতদিন কে-পপের সবচেয়ে বড় বাজার হিসেবে এশিয়ার দেশগুলোকেই ধরা হতো। তবে নতুন পরিসংখ্যান সেই ধারণা বদলে দিয়েছে। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে যুক্তরাষ্ট্রে ৭ কোটি ৪১ লাখ ২০ হাজার ডলারের কে-পপ অ্যালবাম রপ্তানি হয়েছে, যা অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় সর্বোচ্চ।

তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে চীন। দেশটিতে রপ্তানির পরিমাণ ৬ কোটি ১১ লাখ ৮০ হাজার ডলার। তৃতীয় অবস্থানে থাকা জাপানে রপ্তানি হয়েছে ৪ কোটি ৫৬ লাখ ১০ হাজার ডলারের অ্যালবাম। এছাড়া শীর্ষ ১০ আমদানিকারক দেশের তালিকায় রয়েছে জার্মানি, তাইওয়ান, হংকং, নেদারল্যান্ডস, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স এবং পোল্যান্ড।

বিশ্লেষকদের মতে, কে-পপ অ্যালবাম রপ্তানির এই উল্লম্ফনের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে জনপ্রিয় দুই ব্যান্ড বিটিএস ও ব্ল্যাকপিংকের নতুন অ্যালবাম। দীর্ঘ প্রায় চার বছর পর গত মার্চে বিটিএস তাদের পঞ্চম স্টুডিও অ্যালবাম ‘আরিরাং’ প্রকাশ করে। অন্যদিকে ফেব্রুয়ারিতে ব্ল্যাকপিংক তাদের তৃতীয় মিনি অ্যালবাম ‘ডেডলাইন’ বাজারে আনে। দুটি অ্যালবামই বিশ্বজুড়ে ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের যুগেও কে-পপের ফিজিক্যাল অ্যালবামের চাহিদা কমেনি। বরং অ্যালবামের সঙ্গে থাকা ফটোকার্ড, পোস্টার ও অন্যান্য সংগ্রহযোগ্য উপকরণ ভক্তদের কাছে এগুলোকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। ফলে সংগীত শোনার মাধ্যম হিসেবে নয়, সংগ্রহের মূল্যবান উপকরণ হিসেবেও কে-পপ অ্যালবামের বাজার দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের ধারণা, শিল্পীদের প্রতি ভক্তদের আবেগ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার অভিনব বিপণন কৌশলের সমন্বয়েই আন্তর্জাতিক বাজারে কে-পপ অ্যালবামের এই অভূতপূর্ব সাফল্য এসেছে।