এখন সময় ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৮ জুলাই ২০২৬ , ০৮:২৬ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

কুয়েত-পাকিস্তানের মধ্যে প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে আলোচনা

পাকিস্তান ও কুয়েতের মধ্যে একটি বিস্তৃত প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে। এর পাশাপাশি জ্বালানি খাতে সহযোগিতা ও বিনিয়োগের বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে। শুক্রবার (১৭ জুলাই) প্রকাশিত রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পাঁচটি সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আলোচনা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা এই প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বর্তমানে ২০২৩ সালে স্বাক্ষরিত সীমিত পরিসরের একটি প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তির আওতায় পাকিস্তান ও কুয়েত সামরিক প্রশিক্ষণ ও যৌথ মহড়ায় অংশ নিচ্ছে। এবার কুয়েত এমন একটি বিস্তৃত চুক্তি করতে আগ্রহী, যা পাকিস্তান ও সৌদি আরবের দীর্ঘদিনের প্রতিরক্ষা সহযোগিতার আদলে গড়ে উঠতে পারে।

একজন পাকিস্তানি সরকারি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কুয়েত হাজার হাজার পাকিস্তানি সেনা মোতায়েনের পাশাপাশি যুদ্ধবিমান, ড্রোন, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং অন্যান্য সামরিক সুবিধা পাওয়ার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

তবে পাকিস্তান এ ধরনের প্রস্তাবে কতটা সাড়া দেবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। কারণ সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক কয়েক দশকের কৌশলগত অংশীদারত্বের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে, যা অন্য কোনো দেশের ক্ষেত্রে সহজে অনুকরণযোগ্য নয়।

আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একজন পাকিস্তানি নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেন, "কুয়েতের চাওয়ার তালিকায় প্রায় সব ধরনের সামরিক সহযোগিতাই রয়েছে। তবে একটি বিষয় পরিষ্কার, এই মুহূর্তে যুদ্ধের উদ্দেশ্যে সেনা মোতায়েনের বিষয়টি আমরা বিবেচনা করছি না এবং করতে পারি না।"

মধ্যপ্রাচ্যের একটি সূত্রও নিশ্চিত করেছে যে, কুয়েত ও পাকিস্তানের মধ্যে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সংগ্রহসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা চলছে। তবে এই আলোচনা শেষ পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে রূপ নেবে কি না, সে বিষয়ে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।

রয়টার্স চারজন পাকিস্তানি ও মধ্যপ্রাচ্যের একজন সূত্রের সঙ্গে কথা বলেছে। সংবেদনশীলতার কারণে তারা কেউই প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে রাজি হননি। বর্তমানে দুই দেশের আলোচনা কোন পর্যায়ে পৌঁছায়, তা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপরও অনেকাংশে নির্ভর করবে।