প্রকাশিত: ১৩ আগষ্ট ২০২৬ , ০৮:২০ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
সরবরাহ কমায় চুলা জ্বলছে না, উৎপাদন ব্যাহত; সংকট কাটতে আরও সময় লাগতে পারে
দেশে গ্যাসের সংকট আরও তীব্র হয়েছে। উৎস থেকে সরবরাহ কমে যাওয়ায় রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় আবাসিক গ্রাহকরা গ্যাসের চাপ পাচ্ছেন না। একই সঙ্গে শিল্প-কারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র, সার কারখানা ও সিএনজি স্টেশনগুলোতেও সংকটের প্রভাব পড়েছে। ফলে রান্না থেকে শিল্প উৎপাদন—সব ক্ষেত্রেই বাড়ছে ভোগান্তি।
জ্বালানি খাতের সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, মহেশখালীর এলএনজি অবকাঠামোর সমস্যার কারণে জাতীয় গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। দেশের মোট গ্যাস সরবরাহের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ আমদানি করা এলএনজি থেকে আসে। একটি এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর সরবরাহ ব্যবস্থায় ঘাটতি তৈরি হয় এবং এর প্রভাব ধীরে ধীরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দিনের বড় একটি সময় চুলায় গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে রাতের দিকে রান্না করার চেষ্টা করছে। কোথাও কোথাও কয়েক দিন ধরে গ্যাসের চাপ না থাকায় বাসিন্দারা বৈদ্যুতিক চুলা, রাইস কুকার কিংবা অন্যান্য বিকল্প ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করছেন। এতে একদিকে যেমন বাড়তি খরচ হচ্ছে, অন্যদিকে বিদ্যুতের ওপরও অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে।
শিল্পাঞ্চলেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও অন্যান্য শিল্প এলাকায় গ্যাসের চাপ কম থাকায় অনেক কারখানা পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না। কোনো কোনো কারখানায় উৎপাদন কমিয়ে দেওয়া হয়েছে, আবার কোথাও বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে এবং সময়মতো পণ্য সরবরাহ নিয়েও তৈরি হচ্ছে অনিশ্চয়তা।
গ্যাস সংকটের সঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিষয়টিও সরাসরি যুক্ত। গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো প্রয়োজনীয় সরবরাহ না পেলে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যেতে পারে। তখন ঘাটতি পূরণে তুলনামূলক বেশি ব্যয়বহুল জ্বালানি ব্যবহার করতে হয়। সাম্প্রতিক সময়ে গ্যাসের পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিংয়ের অভিযোগও পাওয়া যাচ্ছে।
সংকট মোকাবিলায় সরকার অতিরিক্ত এলএনজি আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে। গ্যাসের জরুরি চাহিদা মেটাতে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে আট কার্গো এলএনজি আমদানির প্রস্তাবেও নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এলএনজি সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সংকট দ্রুত কাটার সম্ভাবনা কম। ফলে আগামী কয়েক দিন সাধারণ মানুষ, শিল্প খাত ও বিদ্যুৎ উৎপাদন—তিন ক্ষেত্রেই পরিস্থিতি নজরে রাখতে হবে।