ঢাকা অফিস

প্রকাশিত: ১৩ আগষ্ট ২০২৬ , ০৯:৩৬ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

আবারও বাড়ল সোনার দাম, ভরিতে বেড়েছে ১ হাজার ৬৩৩ টাকা

২২ ক্যারেট সোনার নতুন দাম ২ লাখ ৩৪ হাজার ৩৮ টাকা

দেশের বাজারে আবারও বেড়েছে সোনার দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভালো মানের ২২ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ভরিতে ১ হাজার ৬৩৩ টাকা বাড়ানো হয়েছে। নতুন দাম কার্যকর হওয়ার পর ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৩৮ টাকা।

নতুন দামে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২ লাখ ২৩ হাজার ৫৪১ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৯১ হাজার ৯৩১ টাকা। সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার ৮২২ টাকা প্রতি ভরি।

সোনার দাম বাড়ার ফলে দেশের বাজারে গহনা কেনার খরচ আরও বেড়েছে। বিশেষ করে বিয়ে, সামাজিক অনুষ্ঠান কিংবা পারিবারিক প্রয়োজনের জন্য যারা সোনা কেনার পরিকল্পনা করছেন, তাদের বাজেট নতুন করে হিসাব করতে হচ্ছে। কারণ ঘোষিত সোনার মূল্যের সঙ্গে গহনা তৈরির মজুরি ও সরকার নির্ধারিত ভ্যাট যুক্ত হলে ক্রেতাকে আরও বেশি অর্থ পরিশোধ করতে হয়।

সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহে দেশের সোনার বাজারে একাধিকবার দাম ওঠানামা করেছে। কখনো বড় অঙ্কে দাম বেড়েছে, আবার অল্প সময়ের ব্যবধানে কমেও এসেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার মূল্য, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, ডলারের বিনিময় হার এবং স্থানীয় বাজারের চাহিদা—সব মিলিয়ে সোনার দামে এই পরিবর্তন হচ্ছে।

সোনাকে দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে নিরাপদ বিনিয়োগের একটি মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অনিশ্চিত অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে অনেকে নগদ অর্থের পরিবর্তে সোনা কিনে রাখেন। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লে স্থানীয় বাজারেও তার প্রভাব পড়ে।

তবে দাম বাড়ায় সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে উদ্বেগও বাড়ছে। স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা বলছেন, উচ্চমূল্যের কারণে অনেক ক্রেতা আগের তুলনায় কম ওজনের গহনা কিনছেন। কেউ কেউ পুরোনো গহনা বদলে নতুন গহনা নেওয়ার দিকে ঝুঁকছেন। এতে বাজারে ক্রেতাদের আচরণেও পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামের ওঠানামা অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশের বাজারেও ভবিষ্যতে আরও মূল্য সমন্বয় হতে পারে। ফলে সোনা কিনতে আগ্রহীদের বাজারদর ও সংশ্লিষ্ট সমিতির সর্বশেষ ঘোষণা দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

সোনার দাম বৃদ্ধির বিষয়টি শুধু অলংকারের বাজারেই প্রভাব ফেলছে না; এর সঙ্গে পারিবারিক সঞ্চয়, বিনিয়োগ ও বিয়ের মতো সামাজিক আয়োজনের ব্যয়ের বিষয়টিও জড়িত। ফলে প্রতিবার দাম বাড়ার সঙ্গে সাধারণ মানুষের আগ্রহ ও উদ্বেগ দুটোই বাড়ছে।