কাজী শামসুল হক

প্রকাশিত: ৩১ জুলাই ২০২৬ , ১২:০৮ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

হাডসনের নামে এক সাংস্কৃতিক অঙ্গীকার

সেদিনের সন্ধ্যাটি ছিল অন্য রকম। নিউ ইয়র্কের সংস্কৃতিপ্রেমী কিছু মানুষের সমবেত উপস্থিতিতে আয়োজিত হয়েছিল এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা। তরুণ উদ্যোক্তা, সংগীত ও সংস্কৃতির অনুরাগী এবং ইসলামি সমাজকর্মী মোমিনুল ইসলাম মজুমদারের আহ্বান ও নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত সেই আয়োজনে সৌভাগ্যক্রমে আমিও উপস্থিত হওয়ার সুযোগ পেয়েছিলাম। শারীরিক অসুস্থতা তখনো আমাকে পুরোপুরি ছেড়ে যায়নি। তবু মন সায় দেয়নি ঘরে বসে থাকতে। অসুস্থতাকে সঙ্গী করেই হাজির হয়েছিলাম সেই সন্ধ্যার মিলনমেলায়।

অনুষ্ঠানটির ছিল ‘হাডসন কালচারাল গ্রুপ’ আত্মপ্রকাশের পর প্রথম মিলনমেলা। নামটি উচ্চারিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমার মনের ভেতর যেন একটি পরিচিত অথচ নতুন দরজা খুলে গেল। হাডসন, নিউ ইয়র্কের বুক ও উপকণ্ঠ ছুঁয়ে বয়ে চলা সেই ঐতিহাসিক নদী। এই নদীর ওপর দিয়ে আমি বহুবার যাতায়াত করেছি। কখনো সেতু পেরিয়েছি, কখনো নৌযানে তার বুকের ওপর দিয়ে ভেসে গেছি। নদীর তীর ধরে বহুদূর হেঁটেছি। তার জল, আকাশ, বাতাস এবং দূরের পাহাড় দেখে কবিতাও লিখেছি। তবু স্বীকার করতে দ্বিধা নেই, এত দিন যেন নদীটিকে দেখেছি শুধু চোখ দিয়ে, তার রূপ ও ইতিহাসের গভীরে প্রবেশ করিনি।

ইদানীং হাডসনকে নতুন করে জানতে গিয়ে মনে হয়েছে, এত দিনের পরিচিত নদীটি আসলে আমার কাছে অনেকটাই অচেনা ছিল। তার জলধারার ভেতরে যে ইতিহাস, তার দুই তীরে যে সভ্যতার স্মৃতি, তার আলোছায়ায় যে শিল্প, সাহিত্য ও মানুষের দীর্ঘ জীবনসংগ্রাম জড়িয়ে আছে, সেসবের মধ্যে যতই অবগাহন করেছি, ততই মুগ্ধ হয়েছি। এ যেন তরুণ বয়সের কোনো প্রেমের গল্পের নায়ক। যে হঠাৎ একদিন পরিচিত কারও চোখে আবিষ্কার করে অজানা এক গভীরতা। সেই সাংস্কৃতিক সন্ধ্যায় তাই আমি শুধু একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলাম না। পুরো আয়োজনজুড়েই যেন হাডসনের শান্ত, গভীর ও প্রবহমান রূপ আমাকে আচ্ছন্ন করে রেখেছিল।

সেদিন বারবার মনে হচ্ছিল, এমন একটি নদীর নামে সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের নামকরণ নিছক একটি নাম নির্বাচন নয়। এর মধ্যে নিশ্চয়ই রয়েছে প্রবহমানতা, গভীরতা, সৌন্দর্য এবং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে সুস্থ সংস্কৃতির আলো পৌঁছে দেওয়ার এক নীরব অঙ্গীকার।

নদী শুধু জলধারা নয়। নদী একটি জনপদের স্মৃতি, একটি সভ্যতার ইতিহাস এবং মানুষের অন্তহীন যাত্রার জীবন্ত প্রতীক। কোনো কোনো নদী তার দুই তীরের ভৌগোলিক সীমা অতিক্রম করে একটি জাতির চিন্তা, শিল্প, সাহিত্য ও জীবনবোধের অংশ হয়ে ওঠে। নিউ ইয়র্কের হাডসন নদী তেমনই এক নদী। তার শান্ত, গভীর এবং অবিরাম বয়ে চলা জলধারা কেবল একটি ভৌগোলিক রেখা নয়, বরং মহাকালের এক জীবন্ত ও মহিমান্বিত দলিল।

উত্তর নিউ ইয়র্কের মেঘছোঁয়া এডিরনডেক পর্বতমালার নিভৃত প্রকৃতিতে অবস্থিত ‘লেক টিয়ার অব দ্য ক্লাউডস’কে প্রচলিতভাবে হাডসন নদীর উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সেখান থেকে স্ফটিকস্বচ্ছ জলের যে চঞ্চল ধারাটি পাহাড়ের বুক চিরে নেমে আসে, দক্ষিণের দিকে অগ্রসর হতে হতে তার রূপ বদলে যায়। কৈশোরের দুরন্ততা পেরিয়ে যেন সে অর্জন করে গভীরতা, স্থিরতা এবং এক মায়াবী পরিপক্বতা।

সবুজ পাহাড়, বিস্তৃত উপত্যকা, শান্ত জনপদ, নগর ও বন্দরের পাশ দিয়ে প্রায় ৩১৫ মাইল পথ অতিক্রম করে হাডসন এসে মিলিত হয়েছে আটলান্টিক মহাসাগরের মোহনায়। এই দীর্ঘ যাত্রাপথে নদীটি দেখেছে মানুষের আগমন ও প্রস্থান, জনপদের উত্থান ও পতন, বাণিজ্যের বিস্তার, নগরায়ণের পরিবর্তন এবং শিল্প ও সংস্কৃতির নব নব জাগরণ।

আদিবাসী মহিকান জনগোষ্ঠী এই নদীকে এমন একটি জলধারা হিসেবে চিনত, যার পানি দুই দিকে প্রবাহিত হয়। আটলান্টিকের জোয়ারের টানে এর জল কখনো উজানের দিকে এগিয়ে যায়, আবার ভাটার টানে ফিরে আসে সাগরের বুকে। নদীর এই দ্বিমুখী প্রবাহ মানুষের জীবনের সঙ্গেও আশ্চর্যভাবে মিলে যায়। মানুষও কখনো সামনে এগোয়, কখনো ফিরে তাকায়। কখনো সাফল্যের উচ্ছ্বাসে ভেসে চলে, আবার কখনো ব্যর্থতা ও বেদনার ভাটায় থমকে দাঁড়ায়। তবু জীবনের মূল প্রবাহ থেমে থাকে না।

হাডসন নদী তাই স্থবিরতার প্রতীক নয়, পরিবর্তনের মধ্যেও অবিচল থাকার শিক্ষা। তার বুকে জোয়ার আসে, ভাটা নামে, তীরের দৃশ্য বদলায়, ঋতুর রং পরিবর্তিত হয়, কিন্তু নদী তার গন্তব্য ভুলে যায় না। মানুষের সাহিত্য, সংস্কৃতি এবং নৈতিক জীবনও এমন হওয়া প্রয়োজন। সময়ের পরিবর্তনকে গ্রহণ করতে হবে, কিন্তু নিজের সত্য, সৌন্দর্য ও মানবিকতার গন্তব্য হারিয়ে ফেলা যাবে না।

আমার আরও দূর সুদূরে প্রসারিত হয়। ১৬০৯ সালে ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির অভিযানে ইংরেজ নাবিক হেনরি হাডসন এই নদীপথে যাত্রা করেন। এরপর নদীটি ইউরোপীয় বাণিজ্য, নৌযাত্রা এবং বসতি সম্প্রসারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ করিডোরে পরিণত হয়। পরবর্তীকালে হাডসন নদীকে ঘিরে গড়ে ওঠে শিল্প ও নান্দনিকতারও এক নতুন অধ্যায়। উনিশ শতকের ‘হাডসন রিভার স্কুল’ নামে পরিচিত চিত্রশিল্প আন্দোলন আমেরিকার প্রকৃতি, পাহাড়, নদী, বনভূমি এবং আলোছায়ার অপরূপ সৌন্দর্যকে বিশ্ববাসীর সামনে নতুনভাবে তুলে ধরে।

শিল্পীরা হাডসনকে শুধু একটি নদী হিসেবে দেখেননি। তাঁরা এর বিস্তৃত জলরাশি, পাহাড়ের ছায়া, সূর্যাস্তের আলো এবং কুয়াশায় ঢাকা তীরভূমির মধ্যে মানুষের আত্মিক আকাঙ্ক্ষা ও মহাবিশ্বের মহিমা খুঁজে পেয়েছিলেন। তাঁদের তুলিতে প্রকৃতি হয়ে উঠেছিল সৌন্দর্যের পাশাপাশি নৈতিক অনুভবেরও একটি ভাষা। সেই শিল্পধারা মানুষকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছিল, সভ্যতার বিকাশ শুধু ইট, পাথর, সেতু ও বন্দরের বিস্তার নয়। সভ্যতার প্রকৃত সাফল্য মানুষের মন, রুচি ও বিবেকের উৎকর্ষের মধ্যেও নিহিত।

এই ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং প্রতীকী তাৎপর্যকে সামনে রেখেই সম্প্রতি নিউ ইয়র্ক শহরে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ‘হাডসন কালচারাল সেন্টার’। সংগঠনটির নামকরণ কোনো আকস্মিক আবেগ কিংবা কেবল একটি পরিচিত স্থানের নাম গ্রহণ নয়। এর মধ্যে রয়েছে একটি সুস্পষ্ট সাংস্কৃতিক দর্শন এবং নতুন মানুষ গড়ার প্রত্যয়।

হাডসন নদীর মতো এই প্রতিষ্ঠানও হতে চায় প্রবহমান। পুরোনো ঐতিহ্যের মূল্যবান সম্পদকে ধারণ করে নতুন সময়ের মানুষের কাছে সাহিত্য ও সংস্কৃতির নতুন ভাষা পৌঁছে দেওয়াই এর উদ্দেশ্য। এখানে প্রবীণ ও নবীন, প্রতিষ্ঠিত ও সম্ভাবনাময়, দেশজ ও প্রবাসী শিল্পী, সাহিত্যিক এবং সংস্কৃতিপ্রেমীরা একটি সুস্থ ও মর্যাদাপূর্ণ পরিসরে মিলিত হতে পারবেন।

পুরোনো মানেই অচল নয়, আবার নতুন মানেই শিকড়হীন নয়। প্রকৃত সংস্কৃতি অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেয়, বর্তমানের প্রয়োজনকে উপলব্ধি করে এবং ভবিষ্যতের জন্য নতুন পথ নির্মাণ করে। হাডসন কালচারাল সেন্টার সেই সমন্বয়ের একটি মুক্ত মঞ্চ হতে চায়। এখানে ঐতিহ্যের সঙ্গে আধুনিকতার বিরোধ সৃষ্টি করা হবে না। বরং দুয়ের মধ্যে একটি সৃজনশীল সেতুবন্ধন গড়ে তোলার চেষ্টা থাকবে।

আমাদের সময়ের একটি বড় সংকট হলো, সংস্কৃতির নামে কখনো কখনো অস্থিরতা, অশালীনতা এবং দায়িত্বহীনতাকে উৎসাহিত করা হয়। মানুষের মননকে সমৃদ্ধ করার পরিবর্তে তাকে বিভ্রান্ত করা হয়। বিনোদনের নামে রুচির অবক্ষয়, স্বাধীনতার নামে সীমাহীন স্বেচ্ছাচারিতা এবং আধুনিকতার নামে নিজস্ব মূল্যবোধ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার প্রবণতা সমাজকে গভীর সংকটের দিকে নিয়ে যেতে পারে।

হাডসন কালচারাল সেন্টার এমন সাংস্কৃতিক বিশৃঙ্খলার অংশ হতে চায় না। এই প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য কোনো নিষ্প্রাণ বা সংকীর্ণ সংস্কৃতি তৈরি করাও নয়। বরং সৌন্দর্য, শালীনতা, সৃজনশীলতা, মানবিকতা এবং নৈতিক দায়িত্ববোধকে একই ধারায় প্রবাহিত করা। এখানে এমন সাহিত্য ও শিল্পচর্চাকে উৎসাহ দেওয়া হবে, যা মানুষকে কেবল আনন্দ দেবে না, তাকে চিন্তা করতে শেখাবে, নিজের ভেতর তাকাতে উদ্বুদ্ধ করবে এবং সমাজের প্রতি দায়িত্বশীল করে তুলবে।

সাহিত্য মানুষের মনের ভাষা। সংগীত তার অনুভূতির অনুরণন। চিত্রকলা তার নীরব স্বপ্ন। নাটক মানুষের জীবনসংগ্রামের দৃশ্যমান প্রতিচ্ছবি। এসবের কোনোটি মানুষের নৈতিক বিকাশ থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। শিল্প যদি মানুষকে সত্য থেকে দূরে সরিয়ে দেয়, তবে তা বাহ্যিকভাবে আকর্ষণীয় হলেও শেষ পর্যন্ত আত্মাহীন হয়ে পড়ে। আবার নৈতিকতার কথা যদি সৌন্দর্য, সৃজনশীলতা ও হৃদয়ের ভাষা ছাড়া বলা হয়, তবে তা মানুষের মনে স্থায়ী আসন তৈরি করতে পারে না।

হাডসন কালচারাল সেন্টার এই দুই ধারার মিলন ঘটাতে চায়। শিল্পের সৌন্দর্যের সঙ্গে জীবনের সত্য, স্বাধীন চিন্তার সঙ্গে সামাজিক দায়িত্ব এবং আধুনিক সৃষ্টিশীলতার সঙ্গে মানবিক মূল্যবোধের সমন্বয়ই হবে এর পথচলার ভিত্তি।

হাডসন নদীর পানি যেমন বিভিন্ন পাহাড়ি ধারা, ঝরনা ও উপনদীকে নিজের মধ্যে ধারণ করে এক বৃহৎ প্রবাহে পরিণত হয়েছে, তেমনি এই সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানও বিভিন্ন বয়স, পেশা, অভিজ্ঞতা ও সাংস্কৃতিক পটভূমির মানুষকে একত্রিত করতে চায়। এখানে মতের বৈচিত্র্য থাকবে, কিন্তু বিশৃঙ্খলা নয়। চিন্তার স্বাধীনতা থাকবে, কিন্তু দায়িত্বহীনতা নয়। আনন্দ থাকবে, কিন্তু অশালীনতা নয়। আধুনিকতা থাকবে, কিন্তু শিকড়বিচ্ছিন্নতা নয়।

প্রবাসে বসবাসকারী মানুষের কাছে সংস্কৃতির প্রয়োজন আরও গভীর। কারণ প্রবাসের জীবন মানুষকে নতুন সুযোগ দেয়, আবার কখনো তাকে নিজের ভাষা, স্মৃতি ও সাংস্কৃতিক পরিচয় থেকে দূরেও সরিয়ে দেয়। নতুন প্রজন্মের সঙ্গে পূর্ববর্তী প্রজন্মের অভিজ্ঞতার দূরত্ব তৈরি হয়। মাতৃভাষা দুর্বল হয়ে পড়ে, ইতিহাসের সঙ্গে সম্পর্ক শিথিল হয় এবং নিজস্ব সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের জায়গায় অনুকরণের প্রবণতা বাড়তে থাকে।

এই বাস্তবতায় হাডসন কালচারাল সেন্টার প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলা ভাষা, সাহিত্য, সংগীত, শিল্প ও মানবিক ঐতিহ্যকে নতুনভাবে তুলে ধরতে পারে। একই সঙ্গে আমেরিকার বহুজাতিক ও বহুসাংস্কৃতিক সমাজের সঙ্গে একটি সম্মানজনক সাংস্কৃতিক সংলাপ গড়ে তুলতে পারে। নিজের পরিচয় সংরক্ষণ করে অন্য সংস্কৃতির ভালো দিক গ্রহণ করাই প্রকৃত সাংস্কৃতিক উদারতা।

হাডসন নদী কোনো একটি জনগোষ্ঠীর নদী হয়ে থাকেনি। তার দুই তীরে বিভিন্ন জাতি, ভাষা ও ধর্মের মানুষ বসতি গড়েছে। তার বুকে চলেছে নানা দেশের নৌযান। তার সৌন্দর্য অসংখ্য শিল্পী, কবি ও পর্যটককে অনুপ্রাণিত করেছে। সেই বহুত্বের চেতনাও হাডসন কালচারাল গ্রুপের নামের মধ্যে নিহিত। প্রতিষ্ঠানটি নিজস্ব মূল্যবোধে দৃঢ় থাকবে, কিন্তু তার দরজা থাকবে মানবিক, সৃজনশীল ও কল্যাণমুখী সব মানুষের জন্য উন্মুক্ত।

একটি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের সাফল্য শুধু অনুষ্ঠান আয়োজনের সংখ্যায় নির্ধারিত হয় না। তার প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করে, সে কতজন মানুষের চিন্তার মধ্যে আলো জ্বালাতে পারল, কতজন তরুণকে সৃষ্টিশীলতার পথে আনতে পারল, কতজন প্রবীণের অভিজ্ঞতাকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে পারল এবং কতটুকু সুস্থ সাংস্কৃতিক পরিবেশ নির্মাণ করতে পারল।

হাডসন কালচারাল সেন্টারের যাত্রা তাই শুধু একটি সংগঠনের সূচনা নয়। এটি একটি অঙ্গীকারের সূচনা। এমন এক সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চার অঙ্গীকার, যেখানে মানুষের মর্যাদা রক্ষিত হবে, সৃষ্টিশীলতার স্বাধীনতা বিকশিত হবে এবং শিল্পের মাধ্যমে একটি সুন্দর, সংবেদনশীল ও দায়িত্বশীল সমাজ গড়ার প্রেরণা সৃষ্টি হবে।

হাডসন নদীর মতোই এই প্রতিষ্ঠানের পথ দীর্ঘ হোক। তার চিন্তা হোক গভীর, তার প্রকাশ হোক শান্ত অথচ শক্তিশালী এবং তার সৃষ্টিশীলতা হোক অবিরাম। সময়ের জোয়ার ও ভাটার মধ্যেও সে যেন নিজের গন্তব্য ভুলে না যায়।

হাডসনের জল যেমন পাহাড় থেকে নেমে জনপদ, নগর ও ইতিহাসকে স্পর্শ করে মহাসাগরের বিশালতায় মিশে যায়, তেমনি হাডসন কালচারাল গ্রুপের সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রবাহও মানুষের হৃদয় থেকে হৃদয়ে ছড়িয়ে পড়ুক। বিভ্রান্তি নয়, সৃষ্টি। অশালীনতা নয়, সৌন্দর্য। হতাশা নয়, নতুন মানুষ গড়ার উদ্দীপনাই হোক তার পথচলার স্থায়ী পরিচয়। আমিও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এমন একটি গতিশীল সাংস্কৃতিক অঙ্গীকারে আত্মলীন হতে।