খেলাধুলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ০১ আগষ্ট ২০২৬ , ১২:০৭ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

স্পেনকে অনুকরণ নয়, নিজস্ব শক্তি দিয়েই নতুন ব্রাজিল গড়তে চান আনচেলত্তি

বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন পূরণ করতে না পারলেও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা থেকে সরে আসছেন না ব্রাজিলের প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি। ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে নরওয়ের কাছে হেরে বিদায়ের পর ছুটি কাটিয়ে ব্রাজিলে ফিরেছেন ইতালিয়ান এই কোচ। সামনে ২০৩০ বিশ্বকাপকে লক্ষ্য রেখে তিনি নতুন প্রজন্মের ফুটবলার গড়ে তোলা এবং দলগত শক্তি বাড়ানোর পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন।

আনচেলত্তি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন বা ফ্রান্সের খেলার ধরণ অনুকরণ করার কোনো ইচ্ছা তাঁর নেই। তাঁর মতে, প্রতিটি দেশের ফুটবল সংস্কৃতি আলাদা এবং ব্রাজিলকে নিজেদের শক্তির জায়গা থেকেই এগোতে হবে।

তিনি বলেন, "আমাদের কাউকে অনুসরণ করার প্রয়োজন নেই। কোথায় উন্নতি করা সম্ভব, সেটাই খুঁজে বের করতে হবে। রক্ষণ ও আক্রমণভাগে আমাদের ভালো খেলোয়াড় আছে। এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি মিডফিল্ডারদের উন্নয়নে।"

আনচেলত্তির মতে, অলিম্পিক নতুন প্রতিভা খুঁজে বের করার অন্যতম বড় মঞ্চ। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, টোকিও অলিম্পিকে স্পেনকে হারিয়ে স্বর্ণ জিতেছিল ব্রাজিল। সেই স্প্যানিশ দলের আটজন খেলোয়াড় পরে বিশ্বকাপজয়ী দলে জায়গা করে নিলেও ব্রাজিলের সেই অলিম্পিক দল থেকে কেবল ব্রুনো গিমারেস ও মাথিউস কুনহা বিশ্বকাপ স্কোয়াডে ছিলেন। এই ব্যবধানই ভবিষ্যতের জন্য শিক্ষা হিসেবে দেখছেন তিনি।

তাই বয়সভিত্তিক দলগুলোর সঙ্গে সমন্বয় আরও জোরদার করা হচ্ছে। অনূর্ধ্ব-১৫, অনূর্ধ্ব-১৭ ও অনূর্ধ্ব-২০ দলের কোচদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে প্রতিভাবান ফুটবলারদের বিকাশ পর্যবেক্ষণ করা হবে। আনচেলত্তির বিশ্বাস, এখন থেকেই পরিকল্পনা করলে ২০৩০ সালের মধ্যে নতুন একটি শক্তিশালী প্রজন্ম তৈরি করা সম্ভব হবে।

ব্রাজিলের সমর্থকদের বড় তারকার ওপর নির্ভরতার প্রবণতার কথাও উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে। তবে আনচেলত্তি মনে করেন, বর্তমান ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন কোনো একক সুপারস্টার নয়, বরং একটি সুসংগঠিত দল।

তিনি বলেন, "এই মুহূর্তে আমাদের কোনো একক পথপ্রদর্শক তারকা নেই, আবার তার প্রয়োজনও নেই। আমাদের অনেক ভালো খেলোয়াড় আছে। লক্ষ্য হলো দলগত শক্তিকে আরও সুদৃঢ় করা।"

আগামী সেপ্টেম্বরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুটি এবং অক্টোবরে ভারতের বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচ দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন অধ্যায় শুরু হবে ব্রাজিলের ইতিহাসের প্রথম পূর্ণকালীন বিদেশি কোচের।

এদিকে নেইমারের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার কার্যত শেষ বলেই ধরে নিচ্ছেন আনচেলত্তি। গত বিশ্বকাপে চোটের কারণে পুরোপুরি ফিট না থাকলেও তাঁকে দলে রেখেছিলেন তিনি। সম্প্রতি ৩৪ বছর বয়সী নেইমার নিজেও জাতীয় দল থেকে বিদায়ের ঘোষণা দিয়েছেন।

আনচেলত্তি বলেন, "নেইমার অসাধারণ প্রতিভাবান একজন ফুটবলার। আমরা অল্প সময় একসঙ্গে কাজ করেছি, কিন্তু সে সবসময় পেশাদার ও আন্তরিক ছিল। দুর্ভাগ্যজনকভাবে চোটের কারণে সে নিজের শতভাগ দিতে পারেনি।"

১৯৯৪ বিশ্বকাপে ইতালির সহকারী কোচ হিসেবে ব্রাজিলের কাছে টাইব্রেকারে হেরে শিরোপা হারানোর স্মৃতি রয়েছে আনচেলত্তির। তবে তাঁর মতে, সাম্প্রতিক বিশ্বকাপে নরওয়ের কাছে পরাজয়টি আরও বেশি কষ্ট দিয়েছে।

"ক্লাব ফুটবলে হারলে দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ থাকে। কিন্তু জাতীয় দলে একটি হার অনেক দিন মনে থেকে যায়। নরওয়ের বিপক্ষে সেই পরাজয় এখনও আমাকে কষ্ট দেয়," বলেন ব্রাজিল কোচ।