ঢাকা অফিস

প্রকাশিত: ২১ আগষ্ট ২০২৬ , ০৪:৪২ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

মন্ত্রিসভায় একসঙ্গে ছয় নতুন মুখ, কে পেলেন কোন দায়িত্ব

চার মন্ত্রী ও দুই প্রতিমন্ত্রীর শপথ; রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলের শপথের পরই বঙ্গভবনে নতুন সদস্যদের শপথ

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের রদবদল হয়েছে। শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে চার নতুন মন্ত্রী ও দুই প্রতিমন্ত্রী শপথ নিয়েছেন। নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেওয়ার পরপরই নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের শপথ পড়ান। এর মধ্য দিয়ে সরকার গঠনের প্রায় ছয় মাসের মাথায় মন্ত্রিসভায় প্রথম বড় ধরনের পরিবর্তন এলো।

নতুন চার মন্ত্রী হলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ, বান্দরবানের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী এবং এতদিন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। নতুন দুই প্রতিমন্ত্রী হলেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন।

কে কোন মন্ত্রণালয়ে

নতুন সদস্যদের দায়িত্ব বণ্টন নিয়ে সরকারি সূত্রে বেশ কিছু তথ্য সামনে এসেছে। তবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন প্রকাশের আগে দায়িত্বে শেষ মুহূর্তে পরিবর্তন হতে পারে।

সূত্র অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি হওয়ার কারণে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছেড়ে দেওয়া স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন আবদুল মঈন খান। বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য এর আগে ২০০১ সালে তথ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

আন্দালিভ রহমান পার্থ পেতে পারেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। তিনি বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এবং ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য। বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে তাঁর দল এবারের নির্বাচনে অংশ নেয়।

এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত প্রতিমন্ত্রী থেকে পূর্ণমন্ত্রী হয়েছেন। তিনি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বেই থাকছেন বলে সূত্র জানিয়েছে।

বান্দরবানের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরীকে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার সম্ভাবনার কথাও জানা গেছে।

অন্যদিকে মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন ধর্ম মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হতে পারেন বলে সরকারি সূত্র জানিয়েছে। তবে হুমায়ুন কবিরের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রণালয় নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।

জোটের শরিকদেরও জায়গা

মন্ত্রিসভার এই সম্প্রসারণে বিএনপির পাশাপাশি জোটের শরিক দলগুলোর প্রতিনিধিত্বও দেখা যাচ্ছে। আন্দালিভ রহমান পার্থ বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান। তাঁর মন্ত্রী হওয়াকে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের রাজনৈতিক সমন্বয়ের অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে সাচিং প্রু জেরীকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রতিনিধিত্বও বাড়ছে।

সরকার গঠনের সময় প্রধানমন্ত্রীসহ মোট ৫০ জন মন্ত্রিসভায় শপথ নিয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী ছাড়া ২৫ জন মন্ত্রী এবং ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। এবার ছয়জন নতুন সদস্য যুক্ত হওয়ায় মন্ত্রিসভার আকার আরও বাড়ল।

সামনে আরও রদবদল?

নতুন সদস্যদের শপথের পর এখন নজর মন্ত্রণালয়গুলোর আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব বণ্টনের দিকে। বিশেষ করে রাষ্ট্রপতি হওয়ার কারণে মির্জা ফখরুলের ছেড়ে দেওয়া মন্ত্রণালয়গুলোতে নতুন দায়িত্ব বণ্টন এবং কয়েকজন বর্তমান মন্ত্রীর দায়িত্ব পরিবর্তন হতে পারে বলে আলোচনা রয়েছে।

ফলে শুক্রবারের এই রদবদল শুধু নতুন ছয়জনের অন্তর্ভুক্তিতেই সীমাবদ্ধ থাকছে না; সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বেও পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন প্রকাশের পরই পুরো চিত্র স্পষ্ট হবে।