প্রকাশিত: ২৭ আগষ্ট ২০২৬ , ০৪:৫৪ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
রেঞ্জ রোভার, বিএমডব্লিউ, লেক্সাস ও টয়োটা—গাড়ির সম্ভাব্য মূল্য ৬ কোটি ৭০ লাখ টাকা; এআই দিয়ে শনাক্ত কাস্টমসের
মোংলা বন্দরে ব্যবহৃত গাড়ির যন্ত্রাংশের ঘোষণা দিয়ে আনা চারটি বিলাসবহুল গাড়ি শনাক্ত ও জব্দ করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। গাড়িগুলোর মধ্যে রয়েছে রেঞ্জ রোভার ভোগ, বিএমডব্লিউ ৬৫০আই, লেক্সাস এলএক্স৫৭০ ও টয়োটা ক্রাউন অ্যাথলেট। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) হিসাবে চারটি গাড়ির সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে ৪ কোটি থেকে ৬ কোটি ৭০ লাখ টাকা বা তারও বেশি।
বৃহস্পতিবার এনবিআরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। সংস্থাটি জানায়, ঢাকার গেন্ডারিয়ার ক্রাউন অটোমোবাইল সার্ভিসেস গাড়ির যন্ত্রাংশ আমদানির ঘোষণা দিয়ে এসব গাড়ি মোংলা বন্দরে আনে। কাগজপত্রে চালানটিতে হেডলাইট, ব্যবহৃত দরজা, সাসপেনশন শক অ্যাবজরভার, টেইল লাইট, এয়ার ক্লিনার বক্স, রাবার চ্যানেল ও স্টিয়ারিংয়ের মতো পুরোনো গাড়ির যন্ত্রাংশ থাকার কথা বলা হয়েছিল।
তিন-চার টুকরো করে আনা হয় গাড়ি
কাস্টমসের তদন্তে বেরিয়ে আসে, এগুলো সাধারণ খুচরা যন্ত্রাংশ নয়। আস্ত গাড়িগুলোকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন না করে মাত্র তিন থেকে চারটি বড় অংশে কেটে সেমি নকড ডাউন বা এসকেডি অবস্থায় আনা হয়েছিল। পরে এসব অংশ জোড়া লাগালে পূর্ণাঙ্গ গাড়ি তৈরি করা সম্ভব।
চালানটির শুল্কায়নযোগ্য মূল্য দেখানো হয়েছিল মাত্র ৯ লাখ ৯৩ হাজার ৫৪৭ টাকা। অথচ শনাক্ত হওয়া চারটি গাড়ির সম্ভাব্য বাজারমূল্য এর চেয়ে কয়েক গুণ বেশি। ফলে শুল্ক ও কর ফাঁকির উদ্দেশ্যে এ ধরনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এআইয়ে ধরা পড়ল গাড়ির পরিচয়
ঘটনাটির আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো, গাড়িগুলোর পরিচয় শনাক্তে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। শতভাগ কায়িক পরীক্ষার পাশাপাশি বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ও খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) বিশেষজ্ঞদের কারিগরি সহায়তা নেওয়া হয়। গাড়ির বিভিন্ন অংশে থাকা স্টিকার, লেবেল, নম্বর ও অন্যান্য চিহ্ন বিশ্লেষণ করেও পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।
কাস্টমস গোয়েন্দারা গত জুলাইয়ে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে চালানটির খালাস স্থগিত করেন। পরে ১৯ জুলাই শতভাগ কায়িক পরীক্ষা চালিয়ে গাড়ির অংশগুলো শনাক্ত করা হয়।
চার গাড়ির সম্ভাব্য মূল্য কত
কাস্টমসের হিসাবে ২০১৭ সালের রেঞ্জ রোভার ভোগের বাংলাদেশি বাজারমূল্য আনুমানিক ১ কোটি ৬০ লাখ থেকে ১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। ২০১৬ সালের লেক্সাস এলএক্স৫৭০-এর মূল্য প্রায় ২ কোটি থেকে সাড়ে ৩ কোটি টাকা। বিএমডব্লিউ ৬৫০আইয়ের মূল্য প্রায় ৬০ থেকে ৯০ লাখ টাকা এবং টয়োটা ক্রাউন অ্যাথলেটের মূল্য ৩০ থেকে ৪০ লাখ টাকা।
তবে চূড়ান্ত শুল্কায়নযোগ্য মূল্য এবং প্রকৃত রাজস্ব ক্ষতির পরিমাণ এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। তদন্ত শেষে আমদানিকারকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।