প্রকাশিত: ২১ আগষ্ট ২০২৬ , ০৪:২৭ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
২৩–২৫ আগস্ট সফরের খবরের মধ্যেই রাষ্ট্রপতি ভবনের বিজ্ঞপ্তি ঘিরে ধোঁয়াশা; ঢাকা বলছে, এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে শুক্রবার দিনভর নতুন করে জটিলতা তৈরি হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে আগামী ২৩ থেকে ২৫ আগস্ট তাঁর নয়াদিল্লি সফরের সম্ভাবনার খবর প্রকাশিত হলেও বাংলাদেশ সরকার জানিয়েছে, সফরের বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। এর মধ্যেই ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবন তারেক রহমানকে সম্ভাব্য অভ্যর্থনা জানানোর প্রস্তুতি নিয়ে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে তা অল্প সময়ের মধ্যেই প্রত্যাহার করেছে। ফলে সফরটি আদৌ নির্ধারিত সময়ে হচ্ছে কি না, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব এ এ এম সালেহ শুক্রবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে এখনো সিদ্ধান্ত নেয়নি বাংলাদেশ। তিনি জানান, শেখ হাসিনা ও অন্য পলাতক আসামিদের প্রত্যর্পণ নিয়ে ঢাকার সাম্প্রতিক অনুরোধের বিষয়ে নয়াদিল্লির জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে সরকার।
রাষ্ট্রপতি ভবনের বিজ্ঞপ্তি ঘিরে নতুন জল্পনা
শুক্রবার ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে শনিবারের ‘চেঞ্জ অব গার্ড’ অনুষ্ঠান বাতিলের বিষয়ে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। সেখানে সম্ভাব্য অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানের মহড়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। কিন্তু বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের প্রায় এক ঘণ্টার মধ্যেই সেটি প্রত্যাহার করা হয়। এই আকস্মিক পরিবর্তন সফরের প্রস্তুতি নিয়ে কূটনৈতিক মহলে নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, তারেক রহমানের ২৩ থেকে ২৫ আগস্ট দিল্লি সফরের সম্ভাবনা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই হবে তাঁর প্রথম ভারত সফর। তবে সফরের চূড়ান্ত সূচি দুই দেশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি।
হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে ঢাকার অপেক্ষা
তারেক রহমানের সম্ভাব্য সফরের সঙ্গে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন। বাংলাদেশ তাঁর প্রত্যর্পণের জন্য নয়াদিল্লির কাছে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানিয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকা এখনো ভারতের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে। একই সঙ্গে দুই দেশ সাম্প্রতিক টানাপোড়েন কাটিয়ে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিষয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—‘হাসিনাকে ফেরত না দিলে তারেক ভারত যাবেন না’—এমন কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বাংলাদেশ সরকার দেয়নি। বরং সরকারের সর্বশেষ বক্তব্য হচ্ছে, সফর নিয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি এবং ভারতের জবাবের অপেক্ষা চলছে।
সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ
তারেক রহমানের সম্ভাব্য সফরকে বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্ক পুনর্গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বাণিজ্য, সীমান্ত, পানি, নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক সহযোগিতার পাশাপাশি রাজনৈতিক বিষয়গুলোও আলোচনায় আসতে পারে।
তবে শেখ হাসিনার অবস্থান ও প্রত্যর্পণ ইস্যু দুই দেশের সম্পর্কের অন্যতম স্পর্শকাতর বিষয় হয়ে আছে। গত সপ্তাহেও বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের জন্য অনুকূল কূটনৈতিক পরিবেশ প্রয়োজন।
এখন নজর দিল্লি–ঢাকার সিদ্ধান্তে
সব মিলিয়ে শুক্রবারের পরিস্থিতিতে তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে নিশ্চয়তার চেয়ে অনিশ্চয়তাই বেশি। একদিকে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ২৩–২৫ আগস্টের সম্ভাব্য সফরের কথা বলছে, অন্যদিকে ঢাকা আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত না হওয়ার কথা জানিয়েছে। তার ওপর রাষ্ট্রপতি ভবনের প্রস্তুতি-সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ ও প্রত্যাহারের ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও রহস্যময় করেছে।
এখন দুই দেশের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এবং ভারতের প্রত্যর্পণ-সংক্রান্ত জবাবের দিকেই নজর রাখছে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহল।