এখন সময় ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৩ মার্চ ২০২৬ , ০৬:৫০ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

বিশ্ববাজারে তেলের অস্থিরতা ও বাংলাদেশের জ্বালানি মজুত পরিস্থিতি

মধ্যপ্রাচ্যের বালুকারাশিতে যখন বারুদের গন্ধ আর যুদ্ধের দামামা, তখন তার সরাসরি আঘাত এসে লেগেছে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে। ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল ও আমেরিকার চলমান সংঘাতের ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী। এমন এক সংকটময় মুহূর্তে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানি তেলের মজুত ও সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)।

বিপিসির জরুরি তথ্য: কার কতদিনের মজুত?

মঙ্গলবার কারওয়ান বাজারে বিপিসি ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সংস্থাটির চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে আশ্বস্ত করেন। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা থাকলেও বাংলাদেশে বর্তমানে তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। বিপিসির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন ধরনের জ্বালানির মজুত পরিস্থিতি নিম্নরূপ:

ডিজেল: ১৪ দিন

অকটেন: ১৭ দিন

পেট্রোল: ৯ দিন

ফার্নেস অয়েল: ৩৫ দিন (বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ)

জেট ফুয়েল: ২১ দিন (আকাশপথের জন্য)

মেরিন ফুয়েল: ৪২ দিন (নৌযানের জন্য)

কেরোসিন: ২০০ দিন

বিপিসি চেয়ারম্যান উল্লেখ করেন, সাধারণত দেশে ১৫ থেকে ৬০ দিনের চাহিদার সমপরিমাণ তেল মজুত থাকে। পরিস্থিতি অনুযায়ী এই মজুত বাড়ে বা কমে। তবে যুদ্ধকালীন এই জরুরি পরিস্থিতিতে আমদানি অব্যাহত রাখতে এবং আপৎকালীন সংকট মোকাবিলায় সরকার সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।

মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্র ও বিশ্ব অর্থনীতির সংকট

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ সৃষ্টি করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, এই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ দেশটির শীর্ষ অন্তত ৪৮ জন নেতা প্রাণ হারিয়েছেন। ইরানে নিহতের সংখ্যা ইতিমধ্যে ৫৫০ ছাড়িয়েছে।

এই হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরান ও তার মিত্র শক্তিগুলো মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ও ইসরায়েলি স্থাপনায় পাল্টা হামলা শুরু করেছে। তেহরান থেকে ‘কঠোর প্রতিশোধের’ হুঁশিয়ারি আসার পর হরমুজ প্রণালীসহ বিশ্বের প্রধান জ্বালানি পরিবহন রুটগুলোতে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়েছে। এর ফলে প্রতিদিন আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য একটি বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চ্যালেঞ্জ

বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ চেইন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বাংলাদেশ তার জ্বালানি চাহিদার সিংহভাগই মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে আমদানি করে। বিপিসি জানিয়েছে, বর্তমান মজুত দিয়ে স্বল্পমেয়াদে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হলেও, দীর্ঘমেয়াদী সংকটের কথা মাথায় রেখে বিকল্প উৎস থেকে তেল আমদানির বিষয়টিও সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে।

বিপিসি ভবন থেকে জানানো হয়েছে যে, তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে আমদানিকারক দেশগুলোর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।