নারায়ণগঞ্জ-৫ উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলছে

নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের বহুল আলোচিত উপ-নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়েছে ভোটগ্রহণ একটানা ভোট চলবে বিকেল চারটা পর্যন্ত। নির্বাচন উপলক্ষ্যে ব্যাপক তৎপরতা বজায় রেখেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।

এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জাতীয় পার্টি মনোনীত ও আওয়ামী লীগ সমর্থিত আলহাজ্ব সেলিম ওসমান (লাঙল), কৃষক-শ্রমিক জনতা লীগের শফিকুল ইসলাম (গামছা), স্বতন্ত্র এস এম আকরাম (আনারস) ও মামুন সিরাজুল মজিদ (চিংড়ি মাছ)। গত ২৯ এপ্রিল এই আসনের এমপি নাসিম ওসমানের মৃত্যুতে আসনটি শূন্য হলে আওয়ামী লীগ আসনটিতে কোনো প্রার্থী না দিয়ে জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দেয়।

নারায়ণগঞ্জের আদমজীতে অবস্থিত র‌্যাব-১১ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান বলেন, ‘উপনির্বাচনের দায়িত্ব পালনের সময় কোনো কেন্দ্র বা কোনো এলাকার তথ্য আদান প্রদানের জন্য সারাসরি আমাদের সঙ্গে যোগযোগ করতে পারবেন (মোবাইল নাম্বার ০১৭৭৭৭১১১০০)।

নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মিহির সারওয়ার মোর্শেদ বলেন, ‘গোয়েন্দা সংস্থাগুলো দুই ধরনের ভোটকেন্দ্রের তালিকা তৈরি করেছে। আমরা সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করছি। এতে গুরুত্বপূর্ণ ৯৮টি ও সাধারণ ৪৩টি কেন্দ্র চিহ্নিত করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে যাতে কোনো ধরনের সমস্যা সৃষ্টি না হয় সেজন্য আগে থেকেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্ক রাখা হয়েছে। পাশাপাশি বাড়তি নিরাপত্তাও নেয়া হয়েছে।’

নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার ড. খন্দকার মহিদউদ্দিন বলেন, ‘নির্বাচনে থাকবে পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনার চেয়েও বেশি ফোর্স থাকছে। ১০টি কেন্দ্রের জন্য মোবাইল দল থাকার কথা থাকলেও ৪-৫টি কেন্দ্রের জন্য একটি মোবাইল দল রয়েছে। স্ট্রাইকিং ফোর্সও রয়েছে।’

নারায়ণগঞ্জ জেলা নির্বাচন অফিসার তারিফুজ্জামানান জানান, এ আসনে ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ১৪১টি এবং ভোটার কক্ষ ৬৭৪টি। প্রত্যেকটি কেন্দ্রে একজন করে প্রিজাইডিং অফিসার, প্রতিটি বুথে একজন করে সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার, দুইজন করে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা রয়েছে। কেন্দ্রগুলোতে অস্ত্রসহ চারজন পুলিশ, দু’জন আনসারসহ মোট ১৮ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করছে। ১২ জন আনসার সদস্য লাঠি নিয়ে দায়িত্ব পালন করছে। (পুরুষ-৬, মহিলা-৬)। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পাঁচজন পুলিশ এবং দুজন আনসার অস্ত্রসহ মোট ১৯ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করছে।

এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৪২ হাজার ৪০৫ জন। পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৭৪ হাজার ৩১১ ও মহিলা ভোটার ১ লাখ ৬৮ হাজার ০৯৪ জন। আসনে ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ১৪১টি এবং ভোটার কক্ষ ৬৭৪টি। ভোটারদের মধ্যে শীতলক্ষ্যা নদীর পূর্ব পাড়ে বন্দর সিটি করপোরেশনের ৯টি সিটি ওয়ার্ড ও ৫টি ইউনিয়নে ভোটার ২ লাখ ১০ হাজার ৯৬ যার মধ্যে  পুরুষ ভোটার ১লাখ ১ হাজার ৪৭৯ ও মহিলা ভোটার ৯৯ হাজার ৬১৭ জন। ভোট কেন্দ্র ৮৯ টি ভোটার কক্ষ ৪১৭টি। শীতলক্ষ্যা নদীর পশ্চিম পাশে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার আওতাধীন সিটি করপোরেশনের ৪টি পূর্ণ ও ৪টি আংশিক ওয়ার্ডের ভোটার ১ লাখ ৪১ হাজার ৩০৯ ভোট। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৭২ হাজার ৮৩২ ও মহিলা ভোটার ৬৮ হাজার ৪৭৭ জন। ভোটকেন্দ্র ৫২টি ভোটার কক্ষ ২৫৮টি।

ভোটকেন্দ্রগুলোতে অস্ত্রসহ চারজন পুলিশ, দু’জন আনসারসহ মোট ১৮ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করছে। ১২ জন আনসার সদস্য লাঠি নিয়ে দায়িত্ব পালন করবে। (পুরুষ-৬, মহিলা-৬)। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পাঁচজন পুলিশ এবং দু’জন আনসার অস্ত্রসহ মোট ১৯ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করছে।

জাতীয় পাটির সাংসদ নাসিম ওসমান গত ২৯ এপ্রিল মারা গেলে নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) আসন শূন্য হয়।

You Might Also Like