আনুষ্ঠানিক বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করলেন রাষ্ট্রদূত কাদের

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত  জনাব আকরামুল কাদের এবং তদীয় পতœী রিফাত সুলতানা আকরাম  যুক্তরাষ্ট্রে তাঁদের বন্ধুস্থানীয় ব্যক্তি, সহকর্মী, এবং মার্কিন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানানোর উদ্দেশ্যে দূতাবাসের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে এক অভ্যর্থনা  অনুষ্ঠান ও নৈশভোজ এর আয়োজন করেন।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেসউইম্যান শিলা জ্যাকসন লী, কংগ্রেসম্যান এড হুইটফিল্ড, মার্কিন রাষ্ট্রাচার প্রধান  রাষ্ট্রদূত পিটার সেলফ্রিজ, পররাষ্ট্র দপ্তরের উপ সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী  জনাব অতুল কেশাপ,  হোয়াইট হাউজ প্রতিনিধি, বিভিন্ন মন্ত্রনালয় এর কর্মকর্তা, নিউইয়র্কে নিযুক্ত বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল জনাব শামীম আহসান, লস এঞ্জেলস এ নিযুক্ত বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মিজ সুলতানা লায়লা হোসেন, কূটনৈতিক কোর-এর সদস্য, বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তা, এবং ওয়াশিংটনস্থ বাংলাদেশ কম্যুনিটির গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ।

রাষ্ট্রদূত কাদের এর বক্তব্যটি ছিল বেশ আবেগনির্ভর। শুরুতেই তিনি বলেন, “ আমি একটি অসাধরণ পরিসমাপ্তির অপেক্ষায় ছিলাম, কিন্তু আজ উপলব্ধি করছি তা অর্জন করা বেশ কঠিন।’’ যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর বিগত পাঁচ বছরের কর্মকালে তাঁকে সর্বোতভাবে সহযোগিতা করার জন্য তিনি হোয়াইট হাউজ, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর, মার্কিন কংগ্রেস, যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ জনগন, এবং যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশীদের ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, তাঁর সময়কালে মার্কিন সরকারের অব্যাহত ইতিবাচক মনোভাব এবং দূতাবাসের সাথে পররাষ্ট্র দপ্তরের চমৎকার সহযোগিতার সম্পর্কের কারণে দ্বিপাক্ষিক প্রায় সকল বিষয়ে নতুন অনেক সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। স্বভাবসুলভ বিনয়ী কন্ঠে তিনি বলেন,   রাষ্ট্রদূত থাকাকালীন  সাফল্য-ব্যর্থতার হিসাবের খাতাটি আজ তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ করলেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন,  মার্কিন সরকার তাঁর উত্তরসূরীকেও  একইপ্রকার সাহায্য ও সহযোগিতা প্রদান অব্যাহত রাখবে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ কংগ্রেশানাল ককাস এর প্রতিনিধিত্ব করেন কংগ্রেসউইম্যান শীলা জ্যাকসন লী । তিনি বলেন, “ রাষ্ট্রদূত কাদের এবং মিসেস কাদের বাংলাদেশ- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধুত্বকে সুদৃঢ় করা এবং সেইসাথে সামনে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে  অনন্যসাধারণ ভূমিকা পালন করেছেন”। বাংলাদেশ- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে তাদের  অসাধারন ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি রাষ্ট্রদূত কাদেরকে  সম্মানসূচক ‘সার্টিফিকেট অব কংগ্রেসানাল সাপোর্ট’  প্রদান করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত মার্কিন সরকারের প্রতিনিধি, পররাষ্ট্র দপ্তরের সাউথ ও সেন্ট্রাল এশিয়া ব্যুরোর উপসহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী জনাব অতুল কেশাপ বলেন, রাষ্ট্রদূত কাদের তাঁর কর্মকালীন সময়ে দুদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন এক উচ্চতায় নিয়ে যেতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি বলেন, দুদেশের সম্পর্কের সাম্প্রতিক সবকয়টি উল্লেখযোগ্য সাফল্যের পেছনে রাষ্ট্রদূত কাদেরের অবদান অনস্বীকার্য, যেমন,  টিকফা চুক্তি স্বাক্ষর, নিয়মিত অংশীদারিত্ব সংলাপ, নিরাপত্তা সংলাপ, ও সামরিক সংলাপ অনুষ্ঠানের জন্য চুক্তি স্বাক্ষর ইত্যাদি।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে  এযাবৎকালে বাংলাদেশের সবচেয়ে দীর্ঘ সময়কালীন রাষ্ট্রদূত জনাব আকরামুল কাদের  আগামী ০২ জুন, ২০১৪ তারিখে রাষ্ট্রদূত হিসেবে তাঁর কর্মভার অর্পন করবেন। অসাধারন কূটনৈতিক  সাফল্যের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশীদের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে সরাসরি সম্পৃক্ততার করণে তিনি প্রবাসী বাংলাদেশীদের কাছেও একজন  অত্যন্ত জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব। অনুষ্ঠানে উপস্থিত একজন বাংলাদেশী আবেগপ্রবণ কন্ঠে বলেন যে,“কম্যুনিটির জন্য রাষ্ট্রদূত কাদেরের অনুরাগ জনপ্রিয়তার নিরিখে তাঁকে প্রায় একটি অনতিক্রম্য পর্যায়ে নিয়ে গেছে”।

You Might Also Like