৯/১১ মেমোরিয়াল জাদুঘর উদ্বোধন হল

নাশরাত আর্শিয়ানা চৌধুরী : মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক শহরের প্রাণ কেন্দ্র ট্রিনিটি স্ট্রিট এর গ্রাউন্ড জিরোতে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের নীচের জায়গাতে আজ থেকে খোলে দেয়া হলো ৯/১১ মেমোরিয়াল জাদুঘর। গত ২১ মে বুধবার সকালে এর উদ্বোধন করা হয়। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যেখানে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার ছিল ঠিক ওই স্থানের নীচেই আট তলা বিশিষ্ট এই জাদুঘরটি করা হয়েছে। গত বুধবার প্রথম দিনে সেখানে ছিল উপচে পড়া ভীর। প্রথম দিনে দর্শনাির্থীদের টিকিটের সকল খরচ বহন করেছে কন্ডে নেস্ট নামের একটি কোম্পানী।
২০০১ সালে ১১ সেপ্টেম্বর টুইন টাওয়ারে ভয়াবহ বিমান হামলার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্রের দুটি ভবন। মারা যান ২৯৮৩ জন। পরে ওই ভবনটি দুটি ভেঙ্গে ফেলা হয়। পরবর্তীকালে এর পাশেই নির্মাণ করা হয় ফ্রিডম টাওয়ার। এখন এই ভবনের উচ্চতা ১০৮ তলা। আর যেখানে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের দুটি ভবন ছিল সেখানে তৈরি করা হয়েছে উত্তর ও দক্ষিন ভবনের জন্য আলাদা আলাদা জলপ্রপাত। সারাক্ষন সেখান থেকে পানি পড়তে থাকে। ওই পানি আবার আরো ভেতরে পড়ার জন্য আলাদা করে গভীর গর্ত করে দেয়া হয়েছে। বিভিন্ন দেশ থেকে দর্শনার্থীরা সেখানে আসেন এবং নাইন ইলেভেনের সেই সব স্মৃতি মনে করেন। অনেকেই চোখের জলও ফেলেন। মেমোরিয়াল পুল এর পানি খুব ঠান্ডা। বিশ্বের কোথাও এতটা প্রশান্তিময় পরিবেশ নেই। আবহটা তৈরী করা হয়েছে এমন ভাবে। ground zero_2তবে অনেকেই ভয়ে আবার সেখানে যান না। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘ দিন বসবাস করেন তাদের অনেকেই সেখানে যান না।
মূলত যারা ওই দিন বিমান হামলার ঘটনায় নিহত হয়েছেন তাদের আত্মার শান্তির জন্য এটা বিশেষ ভাবে তৈরী করা হয়েছে। আবহ ও পরিবেশটাই সেখানে অন্য রকম। নতুন করে গাছ লাগানো হয়েছে। সবগুলো গাছের সাইজ একই সমান। সেখানে এখন ব্যাপক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। মার্কিন পুলিশ সেখানে পাহাড়া দিচ্ছে। মহিলা পুলিশও রয়েছে। দর্শনার্থী যারা আসছেন তাদেরকে বিভিন্ন ধরনের তথ্য দিচ্ছেন। মেমোরিয়াল পুলে ও পার্কে যাওয়ার জন্য কোন টাকা লাগে না। এটা সবার জন্য উন্মুক্ত। সেখানে যেতে হলে অবশ্যই সাথে দেশলাই, লাইটার, ছুড়ি, চাকু, পিস্তল, বন্দুক, কিংবা কোন ধরনের অস্ত্র জাতীয় জিনিস বহন ও ব্যবহার করা যাবে না। পুরো এলাকাটি সার্ভিলেন্স ক্যামেরায় বন্দী। এমনকি সেখানে কোন কিছু ফালানো যায় না। বলা আছে সেখানে বাণিজ্যিকিকরণের উদ্দেশ্যে কোন ভিডিও করা যাবে না। এছাড়াও আরো অনেক নিয়ম রয়েছে। তবে যে কেউ যতক্ষন খুশী সেখানে বসে থাকতে পারেন। আর শ্রদ্ধা জানাতে পারেন ওই সব ব্যক্তিদের স্মরণে যারা সেখানে প্রাণ দিয়েছেন।
প্রবেশ মুখেই নিহতদের স্মরণে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য একটা জায়গা তৈরী করা হয়েছে। সেখানে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। গতকাল বুধবার সেখানে গিয়ে দেখা গেল অনেকেই সেখানে এসেছেন। আগ্রহ ভরে জাদুঘরের সব জিনিস দেখছেন। জাদুঘরের ভেতরে প্রবেশ মুখেই বক্স অফিস। ওই বক্স অফিস থেকে টিকিট সংগ্রহ করতে হয়। কেবল মঙ্গলবার বিকেলে সাড়ে পাঁচটা থেকে এটা সবার জন্য উন্মৃক্ত কোন টিকিট লাগে না। অন্য দিন টিকিট লাগে। এক এক জনের জন্য প্রবেশ করতে লাগবে ২৪ ডলার। ৬৫ বছরের উপরে যাদের বয়স তাদের ১৮ ডলার, কলেজ ছাত্রছাত্রীদের জন্য ১৮ টাকা, ৭-১৭ বছর বয়স হলে ১৫ ডলার, আর ৯/১১ এর পরিবারের সদস্যদের, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও ওই সময়ে যারা উদ্ধার কাজে অংশ নিয়েছেন তাদের জন্য প্রবেশ ফি লাগবে না। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ক্ষতিগ্রস্ত ও নিহতদের পরিবারের সদস্যদের একজন করে আমন্ত্রণ জানানো হয়।
জাদুঘর উন্মুক্ত করা প্রসঙ্গে সেখানে বলা হয়েছে ৯/১১ এর ডেডিকেশন পিরিয়ড শেষ হয়েছে। আর এই কারণেই এখন এটা জাদুঘর করে সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়েছে। এটা প্রতিদিন সকাল সাড়ে আটটা থেকে রাত সাড়ে আটটা পর্যন্ত খোলা থাকবে।
৯/১১ এ যারা মারা গেছেন তাদের স্মরণে ও তাদের প্রতি সম্মান জানিয়ে এটা তৈরী করা হয়েছে। ওই ঘটনায় মারা গেছেন নারী, শিশু ও পরুষ মিলে প্রায় তিন হাজার জন। ১৯৯৩ সালে ৬ জন ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে বোমা হামলায় মারা যান। ১৯৯৩ সালে একবার ও ২০০১ সালে একবার মোট দুইবার সেখানে হামলা হয়।
৯/১১ মেরোরিয়ালের দ্টুা পুল প্রায় একই সমান। এই দ্টুা উত্তর আমেরিকায় মানুষের তৈরি সবচেয়ে বড় জলপ্রপাত। পুলগুলো তৈরি করা হয়েছে যেখানে টাওয়ার ছিল সেখানে।
এই স্থাপনার ডিজাইনের জন্য বিশ্বব্যাপী একটি প্রতিযোগিতার আযোজন করা হয়। সেখানে ৫২০০ জন প্রতিযোগী ডিজাইন জমা দেয় ৬৩ টি দেশ থেকে। এ থেকে তারা ডিজাইন বাছাই করেন। ডিজাইন নির্বাচন করেছেন আর্কিটেক্ট মাইকেল এ্যারেড ও ল্যান্ড ¯েকপ আর্কিটেক্ট পিটার ওয়াকার। তাদের নির্বাচন করা ডিজাইনের ভিত্তিতে এই স্থাপনা তৈরি করা হয়।
যারা ২০০১ ও ১৯৯৩ সালে মারা গেছেন তাদের সবার নাম মেমোরিয়াল পুলের পাশে ব্রঞ্জ প্যানেলে লেখা- যা স্মারণ করিয়ে দেয় আমেরিকার মাটিতে একটি বিদেশী আক্রমন হয়েছিল ও তা থেকে কত মানুষ মারা গিয়েছিল। আমেরিকার ইতিহাসে সবচেয়ে উদ্ধার কারীকে হারিয়েছে।
এটা দেশের প্রধান ইন্সটিটিউশন যারা ৯/১১ এ ঘটনা নিয়ে গবেষনা করবে ও এই ঘটনা নিয়ে কি প্রভাব ফেলেছে তা বের করবে।
এই মোমোরিয়াল পুলে ঢুকলেই সেখানে সব ধরনের নির্দেশনা দেয়া রয়েছে। এছাড়াও ইনফরমেশন বুথ রয়েছে। তা থেকে সব ধরনের তথ্য সংগ্রহ করা যায়। এছাড়াও নিহতদের ছবি ও প্রোফাইলও রয়েছে। নর্থ পুলে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার নর্থে যারা কাজ করতেন বা সেখানে ঘুরতে গেছেন ওই দিন মারা গেছেন তাদের নাম লেখা রয়েছে। ফ্লাইট ইলেভেনের আমেরিকান এয়ারলাইন্সের ক্রু ও প্যাসেঞ্জারদের নাম রয়েছে। ১৯৯৩ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারীতে যে বোমা হামলা হয় ও যারা মারা গেছে তাদের নাম।
সাউথ পুলে ওয়াল্ড ট্রেড সেন্টারের সাউথে যারা কাজ করতেন ও ডব্লিউ টিসির অন্যান্য এরিয়াতে যারা কাজ করতো ও ঘুরছিল। এদের মধ্যে যারা মারা গেছে তাদের নাম ও ১৭৫ নম্বর ফ্লাইটের ক্রু ও প্যাসেন্সার ও অন্যান্যদের নাম। যারা মারা গেছেন।
উল্লেখ্য, ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে বিমান হামলার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় ধ্বংস হয় ডব্লিউটিসি ভবন।

You Might Also Like