বিশ্ব শান্তি ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্যই মহানবী’র আগমণ

বিশ্ব শান্তি ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্যই হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ পৃথিবীতে আগমন করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন বক্তারা। রোববার জ্যামাইকাস্থ সুসান বি এন্থোনি একাডেমীতে আমিরিকান মুসলিম সেন্টার আয়োজিত আন্তর্জাতিক সীরাত কনভেনশন-২০১৪ এ আলোচনায় অংশ নিয়ে এ মন্তব্য করেন বক্তারা। ‘মুহাম্মদ (সা.) বিশ্বশান্তি ও ন্যায়বিচারের মহত্তম আদর্শ’ এ শিরোনামে আয়োজিত এ কনভেনশনে বক্তব্য রাখেন আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন বক্তা, মুফাসসিরে কুরআন, এটিএন বাংলার ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা তারেক মনোয়ার, দৈনিক ইনকিলাবের  নির্বাহী সম্পাদক মাওলানা কবি রুহুল আমিন খান, মুফতি ফারহান, ইয়াং স্পিকার ওসাম শরিফ, সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট দলের প্রার্থী মুনির আবেরী, আমেরিকান মুসলিম সেন্টার জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মীর্যা আবু জাফর বেগ প্রমূখ। বিকাল চারটার পর থেকে প্রবাসী বাঙালী নারী পুরুষের উপস্থিতিতে কানায় পরিপূর্ন হয়ে উঠে অডিটরিয়ামের পুরো এলাকা। অনেকে ফ্লোরে বসেই বক্তাদের আলোচনা শোনেন।

20140511_193243 কনভেনশনে প্রধান বক্তার আলোচনায় আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন মুফাসসিরে কুরআন এটি এন বাংলার ভাইস প্রেসিডেন্ট মাওলানা তারেক মনোয়ার বলেন,‘ সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ মুক্ত সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তুলতেই রাসুল (সা.) তাঁর পুরো জীবন ব্যয় করেছেন। তাঁর জীবনের প্রতিটি পরতে শুধুই শান্তি আর শান্তি’। ইসলামে নারীদের মর্যাদার বিষয়টি আলোকপাত করতে গিয়ে মাওলানা তারেক মনোয়ার বলেন, ‘ পৃথিবীতে হযরত মুহাম্মদ ( সা.) -ই প্রথম নারীদের মর্যাদাকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। অথচ দু:খজনক হলেও সত্য বাংলাদেশে দু’জন নারী প্রধানমন্ত্রী পেয়েও যৌতুক প্রথা থেকে আমরা মুক্ত হতে পারেনি। এর পেছনে একটিই কারণ আমরা কুরাআনের কাছ থেকে শিক্ষা নেই নি’। তরুণ প্রজন্মকে পিতা মাতার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের গুরুত্ব্ তুলে ধরেন মাওলানা মনোয়ার। অপসংস্কৃতি করাল গ্রাস থেকে মুক্ত থাকতে মসজিদের সাথে তরুণ সমাজকে সম্পর্ক বৃদ্ধি করার প্রতিও গুরুত্ব দেন আল্লামা মনোয়ার। এসময় তাঁর বক্তব্যের বাঁকে বাঁকে কবি নজরুল রঁচিত নাতে রাসুল পরিবেশনা কনভেনশনে ভিন্ন মাত্রা দেয়। কনভেনশনে আলোচনায় অংশ নিয়ে দৈনিক ইনকিলাবের নির্বাহী সম্পাদক মাওলানা কবি রুহুল আমিন খান বলেন, ‘বিশ্ব শান্তির জন্যই রাসুলের সুন্নাহ’। বিশ্ব শান্তির জন্য তিনি মুসলমানদের ঐক্যের আহ্বান জানান। বিশ্বের বিরাজমান সংকট নিরসনে কুরআন সুন্নাহর আইন বাস্তবায়নের প্রতিও গুরুত্বারুপ করেন তিনি। হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রিয় নেতা আল্লামা জুনায়েদ আল  হাবীব দু:খ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমার দেশে রাসুলকে গালি দিলে তাদেরকে সংসদে দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধের শহীদ বলা হয়, দেশ এক জাহান্নামে পরিণত হয়েছে। হেফাজতে ইসলামের ভূমিকার কারণে দেশ গজব থেকে কিছুটা হলেও মুক্তি পেয়েছে’। কনভেনশনে আলোচনায় অংশ নিয়ে তরুণ বক্তা উসাম শরিফ সবাইকে আল্লাহর সৈনিক হবার আহ্বান জানান। এসময় তিনি বলেন, ‘আল্লাহর সৈনিক হতে আজ থেকে সবাই রাসুলের একটি সুন্নতকে অন্তত নিজের জীবনে ধারণ করার চেষ্টা করি’। রাসুলের পুরো জীবনকে ন্যায়ের মূর্ত প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেণ ইংরেজী ভাষী বক্তা মুফতি ফারহান। তিনি বলেন , ‘ইসলামিক ন্যায়বিচার সকল মানুষের জন্য সমভাবে কল্যাণের বার্তা বয়ে নিয়ে আসে’।  ডেমোক্রেট দলের সিনেট নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থী মুনির আবেরি বলেন, ‘মুসলমানদের নিজেদের অধিকার আদায়ের জন্য আমেরিকার রাষ্ট্রীয় কাঠোমোতে সক্রিয় অংশগ্রহণ করতে হবে। এজন্য অধিক পরিমানে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী ব্যবস্থায় সম্পৃক্ত থাকতে হবে। ভোটার তালিকায় অন্তর্ভূক্ত হতে হবে। যাতে করে আমরা স্কুলে হালাল ফুডের ব্যবস্থা করতে পারি। ঈদের দিনে ছুটির ব্যবস্থা করতে পারি’। কনভেনশনের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তুলে ধরতে গিয়ে আমেরিকান মুসলিম সেন্টার জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মীর্জা আবু জাফর বেগ বলেন, হযরত মুহাম্মদ (সা.) শেষ নবী এ বিষয়টি তরুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতেই আজকের এই কনভেনশন। মুহিবুল ইসলামের সঞ্চালনায় এ কনভেনশনে সভাপতিত্ব করেন লুৎফুল হক চৌধুরী। কনভেনশনে নিউইয়র্কের বিভিন্ন মসজিদের ইমাম সাহেবরা উপস্থিত ছিলেন।

You Might Also Like