আমি ও জবাবদিহিতা : সৈয়দ আবুল হোসেন

বিশ্বব্যাংকের ইন্টিগ্রিটি বিভাগ যেসব উড়ো চিঠি ও অভিযোগের ভিত্তিতে বাংলাদেশের পদ্মা সেতুর আশু বাস্তবায়নে পেরেক ঠুকেছিলো- বিশ্বব্যাংকের ইতিহাসে এটা নজিরবিহীন ঘটনা। এটি নিশ্চিতভাবে একটি পরিকল্পিত ঘটনা। শুধু দুর্নীতির আশঙ্কায় এ ধরনের প্রকল্প বন্ধ করা যায় না। এ ক্ষেত্রে কঠোর নজরদারি, তত্ত্বাবধায়ন ও আইনের প্রয়োগ করে পদ্মা সেতুর কাজ এগিয়ে নেয়াই ছিল বিশ্বব্যাংকের দায়িত্ব। বাংলাদেশের জনকল্যাণ ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে পদ্মা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়ন করা ছিল বিশ্বব্যাংকের জন্য একটি বিরাট সুযোগ। পৃথিবীর কোনো দেশে জনকল্যাণমূলক প্রকল্পে অর্থায়নের এ ধরনের বড় সুযোগ বিশ্বব্যাংক আর কখনো পাবে বলে মনে হয় না। সামগ্রিক বিবেচনায়, ঠুনকো অজুহাতে বিশ্বব্যাংকের এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়া ঠিক হয়নি। পদ্মা সেতুর স্বার্থে আমি পদত্যাগ করার পরও বিশ্বব্যাংক ঋণ দিতে এগিয়ে আসেনি। এ থেকে প্রমাণ হয়, বিশ্বব্যাংক কোনো ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে কাজ করেছে। এ ক্ষেত্রে কোনো অসৎ উদ্দেশ্য কাজ না করলে অর্থায়ন বন্ধে এ ধরনের পদক্ষেপ নেয়া যায় না। ইন্টিগ্রিটি বিভাগ সেসব উড়ো চিঠি ও স্বার্থান্বেষী ব্যক্তির অভিযোগে প্রভাবিত হয়ে এ নজিরবিহীন খারাপ দৃষ্টান্ত স্থাপন করল, তাদের নাম ও অভিযোগ জনসম্মুখে প্রকাশ করা জরুরি ছিল। এই কথাগুলো বলেছেন বহুল আলোচিত ও সমালোচিত সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী ও চারবারের সংসদ সদস্য সৈয়দ আবুল হোসেন। এই জীবনে তাকে নিয়ে যত আলোচনা সমলোচনা ও অভিযোগ উঠেছে তিনি নিজেই এর স্বপক্ষে তার কথা তুলে ধরেছেন এবং আত্মপক্ষ সমর্থন করেছেন। এটা তিনি করেছেন এমনভাবে যে কেবল মুখে বলে করেছেন তাই নয়। বই হিসাবে প্রকাশ করেছেন। তার নামে আমি ও জবাবদিহিতার কথা বলে তা প্রকাশ করেন। বইটির নামকরণ করা হয়েছে ‘আমি ও জবাবদিহিতা’। ৭২০ পৃষ্ঠার বইটি প্রকাশ করেছে পারিজাত প্রকাশনী। ২০১৪ সালে বইটি প্রথম বাজারে আসে। এরপর বইটির দ্বিতীয় সংস্করনও প্রকাশিত হয়। বইটি পাঠকদের ক্যেতুহল তৈরি করেছে। সম্প্রতি বইটি বাজারে এসেছে।

একুশে বই মেলায় আবুল হোসেনের “আমি ও জবাবদিহিতা” নিয়ে পাঠকদের ব্যাপক আগ্রহ ছিল: সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনের জবাবদিহিতা মূলক বই “আমি ও জবাবদিহিতা” বইটি ছিল এবারের একুশে বইমেলায়। মেলার প্রথমদিনেই বইটি মেলার সকল স্টলে শোভা পেয়েছে। বইটি নিয়ে পাঠকদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি করে। আগ্রহও লক্ষ্য করা গেছে। গত বছর এটি প্রকাশ হলেও চলতি বছরে বইটির দ্বিতীয় সংস্করণ প্রকাশিত হয়। প্রথমবার তিনি কেবল বইটি গণমাধ্যমকর্মী   ও গবেষকদের জন্য সীমিত পরিসরে প্রকাশ করেছিলেন। এখন বইটি সকল পাঠকের জন্য বৃহৎ পরিসরে প্রকাশ করেছেন। প্রথম সংস্করনের চেয়ে পরিসরও বড় করা হয়েছে।

নেভি ব্ল-ু রঙের প্রচ্ছদে নিজের ছবি দিয়ে প্রচ্ছদ করেছেন। ঝকঝকে কাগজে মুদ্রণ করা হয়েছে এটি। ওজনেও ভারী। মেলায় আসা দামী, পৃষ্ঠা সংখ্যায় বেশি ও ভারি বইয়ের মধ্যে এটি একটি। এই সবের দিক থেকে বইটিকে বুক অব দ্য ইয়ারও বলা যায়। আমি ও জবাবদিহিতা বইয়ে মোট পৃষ্ঠা ৭৯০। বইয়ে সরকারের সাবেক যোগাযোগ ও আইসিটি মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন তার বিরুদ্ধে এ যাবতকালে উঠা ও আনা সব অভিযোগের বিষয়ে আতœপক্ষ সমর্থন করে বক্তব্য দিয়ে অভিযোগ খন্ডনের জন্য বক্তব্য দিয়েছেন। আমিও জবাবদিহিতা তার এটি তথ্য ভিত্তিক সংকলন বই। ২০০৯ সালে তিনি আওয়ামী লীগের যোগাযোগ মন্ত্রী ও পরবর্তীতে আইসিটি মন্ত্রী হিসাবে যে কার্যক্রম গ্রহণ ও মন্ত্রীত্বের তিন বছরে তিনি যে সব কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেছেন তা বইয়ে সন্নিবেশিত হয়েছে। পদ্মা সেতু নিমার্ণে যে তিনি কোনো অনিয়ম করনেনি, কোনো ধরনের প্রস্তাব বিস্তার করেননি তাও তার বইতে তথ্যভিত্তিকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে তার সম্পর্কে বিভিন্ন গণমাধ্যমে যে সব তথ্য ও প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে এরও জবাব দিয়েছেন। বিভিন্ন নথি দিয়ে অভিযোগ মিথ্যে প্রমাণ করার চেষ্টা করেছেন।

যোগাযোগ মন্ত্রী থাকতে মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা রক্ষায় তিনি যে সব ইউও নোট লিখেছেন, প্রধানমন্ত্রী বরাবর যে সব সার সংক্ষেপ প্রেরণ করা হয়েছে তাও তুলে ধরা হয়েছে। আইসিটি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী থাকাকালীন সিঙ্গাপুর সফর, বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসাবে বোয়া ফোরাম ফর এশিয়া (বিএফএ) সম্মেলনে যোগদান সংক্রান্ত তথ্য ছবি সংকলনে প্রকাশ করা হয়েছে। সামগ্রিক ভাবে মন্ত্রী হিসাবে তিন বছরের কার্যক্রম ও বইতে স্থান পেয়েছে। দ্বিতীয় সংস্করণে সংযোজিত হয়েছে এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক এর উপর একটি প্রতিবেদন। দুদক কর্তৃক দায়েরকৃত পদ্মা সেতুর পরামর্শক নিয়োগের মামায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিলের পর পরের অবস্থা, অভিযোগ প্রমাণ না হওয়া এবং সকলকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়টি। সেই সব পেপাড় কাটিংও বইয়ে সংযোজিত করা হয়েছে। আবুল হোসেন মনে করেন তার এই সংকলিত বইটি পাঠকের কাছে বিশেষ করে নতুন প্রজš§ ও গবেষকদের কাছে একটি রেফারেন্স বই হিসাবে সমাদৃত হবে।

বইটির শুরু ও শেষে সব দিকেই তার প্রোফাইল ছবি দেওয়া হয়েছে। বইটির ইংরেজি নামকরণ করা হয়েছে Me And Accountability। বইয়ের সূচীপত্রে রয়েছে ১২ টি অধ্যায়, সেখানে আমি ও জবাবদিহিতা প্রারম্ভিক কথা নামে প্রথম অধ্যায়। এরপরেই এটা ইংরেজি অনুবাদ Me And Accountability, তৃতীয় চ্যাপ্টারে রয়েছে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনকালীন বিভিন্ন অধিদপ্তর/ সংস্থার কাছে প্রেরিত কতিপয় ইউও নোট, ৪. বিভিন্ন সময়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবরে প্রেরিত কিছু সারসংক্ষেপ, ৫. যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের তিন বছরের (২০০৯-২০১১) উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে সাফল্যের ধারাবাহিকতার যোগাযোগ খাত, প্রকাশিত উন্নয়ন পুস্তিকা, ৬. তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী থাকালীন সিঙ্গাপুরে আইসিটি সম্মেলনে অংশগ্রহণ ভিত্তিক সচিত্র প্রকাশনা, ৭ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস প্রতিবেদন, ৮. OAO Forum for Asia (BFA) Annual Conference-2013, 9.Visit of Mr Qir Guangnong, 10. some Photographs of the seminar Titled, 11. New year Reception-2014 of BOAO Forum for Asia, Beijing China আর ১২ নম্বরে রয়েছে সংলগ্নি।

অনঁষ“আমি ও জাবদিহিতা”য় প্রারম্ভিক কথায় আবুল হোসেন লিখেছেন তার বইটি কেন লিখেন সেই সব কথা। সেখানে তুলে ধরেছেন তার জীবনের অনেক উল্লেখযোগ্য ঘটার কথা। যা ১০-২৮ পৃষ্ঠা পর্যন্ত ঠাঁই পেয়েছে। এরপর দ্বিতীয় অধ্যায়ের ইংরেজীতে লেখা হয়েছে Me and Accoutability। যা ঠাঁই পেয়েছে ২৯-৪৫ পৃষ্ঠা পর্যন্ত। ৪৯- ২১৩ পৃষ্টা পর্যন্ত তৃতীয় অধ্যায় রয়েছে। সেখানে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপালণকালীন সময়ে বিভিন্ন অধিদপ্তর সংস্থার কাছে লেখা কতিপয় ইউও নোট সন্নেবেশিত করা হয়েছে। ২১৭ পৃষ্টা থেকে ৩৬৪ পৃষ্টা পর্যন্ত সাফল্যের ধারাবাহিকতায় যোগাযোগ খাত প্রকাশ নভেম্বর ২০১১ নামে একটি গ্রন্থও এতে সন্নেবেশিত করা হয়েছে। সেখানে বিভিন্ন ছবি দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত মেট্রো রেল, বিটিআরসি বাসে ডিজিটাল টিকেটিং উদ্বোধন, ঢাকা যানবহান সক্রিয় বোর্ড, বিটিআরসির ১০০ সিএনজি বাসের উদ্বোধন, দুটি ট্যানেল প্রকল্প, এলিভেটেড এক্সপ্রেস ও ডেইএমইউ এর খবর ও ছবি। তিনি তাঁর এই বইটিতে উলেœখ করেছেন যে, দেশীয় স্বার্থান্বেষী মহলের মিথ্যা অভিযোগ, নামে-বেনামে চিঠি এবং এ মিথ্যা অভিযোগ যাচাই না করে তা আমলে নিয়ে বিশ্বব্যাংকের আগাম দুর্নীতির আশঙ্কা প্রকাশ এবং এ নিয়ে দেশের কতিপয় পত্রিকার অতিশয় বাড়াবাড়ি, কার্টুন প্রকাশ, সম্পাদকীয়, উপ-সম্পাদকীয় ও প্রবন্ধ লিখে পদ্মা সেতুর বিষয়ে নিতিবাচক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। প্রটোকল অফিসারের অসাবধনতার কারণে পাসপোর্ট ব্যবহার নিয়ে লেখালেখি হয়। তদন্তে তিনি নির্দোষ প্রমাণিত হন, তা এসবি’র রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে। এসবি’র এই রিপোর্টটি বইটির ৬৯৮ থেকে ৭০১ পৃষ্ঠায় সংলগ্নি হিসেবে দেওয়া হয়েছে। কানেকটিভিটি এণ্ড ইনক্লোসিভ গ্রোথ ইন দি এশিয়া পেসিফিক নামক একটি সম্মেলনে ২০১৩ সালের ০৩ অক্টোবর ইন্দোনেশিয়ার বালিতে অনুষ্ঠিত এপেক কনফারেন্সে তিনি মডারেটরের দায়িত্ব পালন করেন। এরও একটি সচিত্র প্রতিবেদন এই বইয়ের ৫৯৫ পৃষ্ঠা থেকে ৬০৩ পৃষ্ঠায় উল্লেœখ রয়েছে। এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (অওই) এবং সৈয়দ আবুল হোসেন নামে একটি প্রতিবেদন বইটির পৃষ্ঠা ৭১৩ থেকে ৭১৭ পৃষ্ঠা পর্যন্ত সংযোজন করা হয়েছে। বইয়ের ৩৬৭ থেকে ৪২৪ পৃষ্ঠা পর্যন্ত ঠাঁই পেয়েছে সিঙ্গাপুরে আইসিটি সম্মেলনে সৈয়দ আবুল হোসেন ১৭-১৯ তারিখ পর্যন্ত ২০১২ সালে সফর করেছেন সেই বিষয়ে একটি লেখা ও ছবি, ৪২৮-৪৮২ পৃষ্টা পর্যন্ত বইয়ে ঠাঁই পেয়ে ক্যাম্পাস পত্রিকায় তাকে নিয়ে কভার স্টোরী করা ও সেই পত্রিকার ভেতরে তার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ে যে সব প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল সেগুলো।

এরপরের চ্যাপ্টারে ঠাইঁই নিয়েছে গবসড়রৎ অ ঢ়ড়যড়ঃড় ধষনঁস বিভিন্ন সময়ে ছবি দিয়ে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধির সঙ্গে তার ছবি রয়েছে। ৪৮৩-৫৮৮ পৃষ্ঠা পর্যন্ত। ২০১১ সালের চীন সফরের উপর ৫৮৯-৫৯২ পৃষ্ঠায় রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীন সফরের উপর একটি প্রতিবেদন ও ছবি। ৫৯৩ থেকে ৬০৩ পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ের বিভিন্ন গুরুত্ব¡পূর্ণ ছবি দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে ৩ অক্টোবর ২০১৩ সালের ছবিগুলো রয়েছে।

এরপর রয়েছে সংলগ্নি। সেখানে ৬০৭ থেকে ৭৯০ পৃষ্টা পর্যন্ত মোট ৩৯ টা সংলগ্নি রয়েছে। সেখানে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে যে সব খবর প্রকাশ হয়েছে এর কিছু আংশিক প্রতিবেদনের কাটিং, পদ্মা সেতু প্রকল্পে পরামর্শক নিয়োগ ও ওই ঘটনায় দুর্নীতির অভিযোগ দুদুকের অনুসন্ধান, তদন্ত ও ফাইনাল রিপোর্ট প্রদান পর্যন্ত বিভিন্ন বিষয়ে সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদন উল্লেখ করা হয়েছে। সংলগ্নি ২৩ এ ঢাকা আরিচা মহাসড়কে মানিকগঞ্জের ঘিউর এলাকায় সংঘটিত বাস মাইক্রোবাসের মুখোমুখি দূর্ঘটনার কারণ ও দায়দায়িত্ব নিরুপন বিষয়ে এর তদন্ত প্রতিবেদন তুলে ধরা হয়েছে। ওই ঘটনার পর তার পদত্যাগের জন্য যে দাবি উঠেছিল ও সংসদ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল তাও ঠাঁই পেয়েছে।

তার পাসপোর্ট নিয়ে যে ঘটনা ঘটেছিল সেটাও তিনি প্রতিবেদন সহ তুলে ধরেছেন। সেখানে দাবি করেছেন তিনি নির্দোষ। ওই ঘটনা ওয়ান ইলেভেনের সরকারের সময়ে গোয়েন্দারা ও এসবি তদন্ত করে। ওই তদন্তে আবুল হোসেনকে নির্দোষ বলা হয়। সেই সঙ্গে যে ঘটনাটি ঘটেছে তা অনাকাঙ্খিত ও অনিচ্ছাকৃত বলেও মতো দেন তদন্ত কর্মকর্তা। এটাও বলা হয়, তিনি ওই সময়ে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির অনুমতি নিয়েই বিদেশে গিয়েছিলেন ওই তদন্ত রিপোর্টের কপিও প্রকাশ করেছেন।

মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলায় ডাসার গ্রামের বাড়ীতে বিলাশ বহুল ভবন তৈরি, কোটি টাকা খরচ করে তার সরকারি অফিস সাজানো, সরকারি গাড়ি ক্রয়, প্রভাব খাটিয়ে তার বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা তৈরি করা সব ব্যাপারে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন। এই বিষয়ে তার বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে এই পর্যন্ত যত মিডিয়াতে যত খবর প্রকাশ করা হয়েছে তা লিপিবদ্ধ করেছেন। ও এর জবাব দিয়েছে। ওই সব প্রকাশিত খবরের ব্যাপারে ও অভিযোগের ব্যাপারে তিনি সংশ্লিস্ট সম্পাদক ও সাংবাদিককে তার সঙ্গে যৌথ স্বাক্ষরে ঘটনার তদন্ত করার কথাও বলেছেন। তবে কেউ তাতে আগ্রহী হননি। তিনি তার বিরুদ্ধে কেউ লেখার কারণে মামলা করেননি। কেন মামলা করেননি সেটাও বলেছেন, বলেছেন আমার পূর্ব পুরুষ থেকে আমি আমরা কেউ কোনো দিন কারো বিরুদ্ধে মামলা করিনি। এটার রেওয়াজ নেই। এই কারণেই করিনি। যত খবর প্রকাশ করা হয়েছে এর প্রতিবাদও ভদ্রতাজনিত কারণে দেওয়া হয়নি। শেষ দিকে কিছু প্রতিবাদ দেওয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসাবে একটি শীর্ষ দৈনিকের সম্পাদকের প্রতি তার বিরুদ্ধে অভিযোগের যৌথ তদন্তর অনুরোধ জানালেও ওই সম্পাদক তাতে রাজি হননি। সেই সব বিষয়ও তিনি তুলে ধরেছেন। একটি জাতীয় দৈনিকের সম্পাদকের কাছে দেওয়া চিঠিও প্রকাশ করেছেন। বইটি শেষ করা হয়েছে তার প্রোফাইল ছবি দিয়ে।

এই বইটি ছাড়াও সৈয়দ আবুল হোসেন বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন বই লিখেছেন। এরমধ্যে রয়েছে- স্বাধীনতার জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, শেখ হাসিনা-সংগ্রামী নেত্রীর প্রতিকৃতি, গণতন্ত্র নেতৃত্ব¡ ও উন্নয়ন, শেখ হাসিনার অসামান সাফল্য, বঙ্গজননী বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব, ব্যর্থ জোট শাসন ব্যর্থ পররাষ্ট্র নীতি, আওয়ামী লীগ সুবর্ণ জয়ন্তী স্মারক গ্রন্থ, গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার সংকট, আওয়ামী লীগের নীতি ও কৌশল শিল্পায়ন ও অভ্যন্তরীন সম্পদ সমাবেশ, শেখ হাসিনার অক্ষয়কৃীর্তি পাবর্ত্য শান্তি চুক্তি।

সৈয়দ আবুল হোসেন তার বইটির ব্যাপারে আশাবাদী। তিনি মনে করেন পাঠকেরা যাঁরা তার সম্পর্কে কিছু কিছু গণমাধ্যমে মিথ্যে সংবাদ পড়েছেন তাদের মনে একটি ভুল ধারণা তৈরি হতে পারে সেটি ভাঙ্গানোর জন্য এটি কাজে লাগবে। এছাড়াও অনেক পাঠকই প্রকৃত ঘটনা জানে না সেই জন্য এটা কাজে লাগবে। বিশেষ করে পদ্মা সেতু প্রকল্পের দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে যখন কোনো গবেষক গবেষণা করবেন তখন বইটি ভীষণ কাজে দিবে। এখানে কোনো কিছুই গোপন করা হয়নি। যা সত্য তাই লেখা হয়েছে।

বইটিতে তিনি প্রথম অনুচ্ছেদে বলেছেন তার বিরুদ্ধে যত অভিযোগ আছে সেই সম্পর্কে। বইয়ে তিনি তার কর্মকান্ডের ব্যাপারে বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরছেন। দায়িত্বে থাকাকালীন তার মন্ত্রণালয়ের কাজও সম্পর্কেও তথ্য দিয়েছেন। সেই সঙ্গে বইয়ে মানিকগঞ্জে সড়ক দূর্ঘটনায় প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার তারেক মাসুদ, সাংবাদিক মিশুক মুনিরের নিহত হওয়ার তদন্ত রিপোর্টও দিয়েছেন। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে যে ই সব অভিযোগের জবাব দিয়েছেন এর স্বপক্ষে নথি দিয়ে তা প্রমাণ করার চেষ্টা করেছেন যে তা সত্য নয়। তাকে নিয়ে এই পর্যন্ত যাঁরা যারা যে অভিযোগ তুলেছেন তাদের সম্পর্কেও বলেছেন। বইয়ে নিজেকে তিনি অভিযোগ থেকে মুক্ত করার চেষ্টা করেছেন। সেই সঙ্গে এটাও চেষ্টা করেছেন যে, কেমন করে তিনি কি কি করেছেন। বইয়ে যতগুলো বিষয় তুলে ধরেছেন সেখানে সংশ্লিষ্ট পদ্মা সেতু প্রকল্পে পরামর্শক নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়েও তার পক্ষে খোলা মেলো কথা বলেছেন। এখন তিনি মন্ত্রী, এমপি কোনটিই নন। এবার দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও মনোনয়ন পাননি। নিজেও নির্বাচন করতে ইচ্ছুকও ছিলেন না। তার এলাকা থেকে বাহাউদ্দিন নাছিমকে পাশ করিয়ে আনা হয়েছে। এনিয়ে তার মনে কষ্ট থাকলেও তার কোনো বহি:প্রকাশ নেই। কারণ ওই এলাকায় বাহাউদ্দিন নাছিমকে মানোনয়ন দেয়ার আগে তাকে একটি বারের জন্য জিজ্ঞেস করা হয়নি। তার দুঃখ একবার জিজ্ঞেস করলেও কোনো ক্ষতি ছিল না। কারণ আমি নিজেই নির্বাচন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। এই কারণে আমি এবার নির্বাচন করতাম না। বাহাউদিন নাছিমকে ও তার এলাকার উপজেলার সভাপতি তাহমিনা সিদ্দিককেও তিনি চিঠি লিখেছেন। ওই সব চিঠিও তার আরো একটি বইয়ে প্রকাশ করেছেন। এইসব প্রসঙ্গে ছাড়াও আমি ও জবাবদিহিতা বইয়ে সৈয়দ আবুল হোসেন জানিয়েছেন তার বির“দ্ধে উঠা অভিযোগ নেয়া আরো অনেক কথা।

পদ্মা সেতু প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে সৈয়দ আবুল হোসেন বলেছেন, আমি আওয়ামী লীগ সরকারের (২০০৯-২০১৩ মেয়াদে) মন্ত্রী ছিলাম। প্রথমে যোগাযোগমন্ত্রী এবং পরে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রী। নামে-বেনামে চিঠি, অসত্য অভিযোগ, কতিপয় পত্রিকার অপপ্রচার- সব মিলিয়ে একটি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে দেশের বৃহত্তর স্বার্থে আমি মন্ত্রিসভা থেকে ২৩ জুলাই, ২০১২ তারিখে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করি। পদ্মা সেতু নির্মাণ নিয়ে ষড়যন্ত্রকারীরা আমার বিরুদ্ধে, পদ্মা সেতু নির্মাণের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ হয়েছিল। এ সরকারের আমলে পদ্মা সেতু চালু হবে- সরকার পরবর্তী নির্বাচনে জয়ী হওয়ার চাবিকাঠি হাতে পাবে- এটা ছিল কারো কারো কাছে, বিশেষত: ষড়যন্ত্রকারীদের কাছে আতঙ্ক। তাই ষড়যন্ত্রকারীরা পদ্মা সেতুর প্রস্তুতির শেষপর্বে নানা অজুহাত ও কল্পনাপ্রসূত অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংককে বিভ্রান্ত করে পদ্মা সেতু নির্মাণকে বাধাগ্রস্ত করে। এ সময়ে একটি অশুভ চক্রের আঁতাত পরিলক্ষিত হয়। পদ্মা সেতুর মূল কাজের প্রাকযোগ্য ঠিকাদার নিয়োগে আমার প্রতিষ্ঠিত সাকো বিভিন্ন বিদেশি কোম্পানির কাছে অনৈতিক দাবি করেছে- হঠাৎ করে তথাকথিত এ অভিযোগ তোলা হয়। দৈনিক ইত্তেফাকের মতো পত্রিকা এ সংবাদ লিড নিউজ করে। ইত্তেফাক পত্রিকার এ নিউজ আমার সম্পর্কে জনমনে নেতিবাচক ধারণা প্রদান করে। অথচ ইত্তেফাক পত্রিকার সম্পাদক একজন প্রাক্তন যোগাযোগমন্ত্রী এবং তিনি জানেন, উত্থাপিত বেনামি অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। পরবর্তীতে দুদক ঠিকাদার প্রাক-নির্বাচনের উত্থাপিত অভিযোগ তদন্ত করে। প্রত্যেক ঠিকাদার কোম্পানির সাথে কথা বলে। দুদকের তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিলেনি। বিশ্বব্যাংক দুদক এর রিপোর্ট গ্রহণ করে। পরবর্তীতে ষড়যন্ত্রকারীরা পরামর্শক নিয়োগে দুর্নীতির আশঙ্কার অভিযোগ তুলে পদ্মা সেতুর নির্মাণকে বিলম্বিত করতে নতুন কৌশল অবলম্বন করে। কতকগুলো বেনামি চিঠি ও কতিপয় স্বার্থান্বেষী মহলের অভিযোগের ভিত্তিতে পদ্মা সেতুর পরামর্শক নিয়োগে বিশ্বব্যাংকের ইন্টিগ্রিটি বিভাগ দুর্নীতির আশঙ্কা আবিষ্কার করলেন। একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করে পদ্মা সেতুর নির্মাণ বন্ধে পেরেক ঠুকে দিলেন। ইন্টিগ্রিটি বিভাগের প্রতিবেদন, অসত্য তথ্য-উপাত্ত গ্রহণ করে বিশ্বব্যাংক প্যানেল একটি চূড়ান্ত রিপোর্ট দিয়ে একদিকে বাংলাদেশের একটি বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্পের আশু বাস্তবায়ন কার্যক্রমের মৃত্যু ঘটালেন, অন্যদিকে পদ্মা সেতুসহ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব-পালনে আমার অঙ্গীকার ও স্বপ্নের অপমৃত্যু ঘটালেন।

তিনি বলেন, ঠিক এসময়েই বাংলাদেশের একটি বিশেষ মহল বিশ্বব্যাংকে নামে-বেনামে চিঠি দিয়ে, ই-মেইল, ফ্যাক্স দিয়ে বোঝাতে শুরু করলেন- এ সরকারের আমলে পদ্মা সেতু করা ঠিক হবে না। পদ্মা সেতু এ সরকারের আমলে বাস্তবায়ন হলে এখানে বড় ধরনের আর্থিক দুর্নীতি হবে, দুর্নীতির চেষ্টা হচ্ছে। আর এ দুর্নীতির অর্থ আওয়ামী লীগ পরবর্তী নির্বাচনে জয়লাভ করার কাজে ব্যয় করবে। রাজনীতিক কাজে বিশ্বব্যাংকের অর্থ ব্যয় হবে এবং এর মাধ্যমে রাজনৈতিকভাবে সরকার লাভবান হবে। এ বিষয় নিয়ে মহলটি শুধু বাংলাদেশেই অপপ্রচার করে ক্ষান্ত হয়নি, এ অপপ্রচারের উপাদান নিয়ে বিশ্বব্যাংকে লবিংও করেন। বিশ্বব্যাংক অশুভ মহলের লবিংয়ে প্রভাবিত হয়। এর কিছুটা সত্যতা পাওয়া যায় বাংলাদেশস্থ’ বিশ্বব্যাংকের আবাসিক প্রতিনিধি গোল্ড স্টেইনের কথায়। বিশ্বব্যাংকের আবাসিক প্রতিনিধি অনানুষ্ঠানিক এবং মৌখিকভাবে একাধিকবার আমাকে বলেছিলেন, পদ্মা সেতুর কাজ এত দ্রুত না করে, আস্তে-ধীরে এগুবার জন্য। পদ্মা সেতু একটি বড় প্রকল্প- একে ধীরে সুস্থে’ এগিয়ে নেয়া ভাল। প্রয়োজনে পরবর্তী সরকারের সময় এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা যাবে। অভিযোগ উত্থাপনের আগে বা পরে বিশ্বব্যাংকের এই স্থানীয় আবাসিক প্রতিনিধি বা বিশ্বব্যাংকের অন্য কোনো কর্মকর্তা আমার সাথে এ বিষয়ে কথা বলেন নি। আবাসিক প্রতিনিধি গোল্ড স্টেইনের এ ধরনের কথা বা আচরণ থেকেই স্পষ্ট বোঝা যায়, শুরু থেকেই পদ্মা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে একটি সরকার বিরোধী সংঘবদ্ধ মহল গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থেকে কাজ করছিল। এ সময়ে বাংলাদেশের মিডিয়ার একটি বৈশিষ্ট্যও লক্ষণীয়। কতিপয় পত্র-পত্রিকা বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে নানা কল্পকাহিনী তৈরি করে এবং বিশ্বব্যাংকের পক্ষ নিয়ে অপপ্রচার শুরু করে। অতীতে আমার বিরুদ্ধে কতিপয় পত্রিকার ভিত্তিহীন ও কাল্পনিক রিপোর্টের পুনঃউল্লেখ করে আমার ভাবমূর্তি বিনষ্টের অপচেষ্টা করে। পত্রিকার এসব অসত্য রিপোর্টের ভিত্তিতে কতিপয় সুধিজন পদ্মা সেতুতে আমাকে সম্পৃক্ত করে টকশোতে তোলপাড় সৃষ্টি করেন। এসব সুধিজন বিশ্বব্যাংকের সাথে ঐকমত্য পোষণ করে পদ্মা সেতু নিয়ে একই সুরে, সত্য-মিথ্যার বিচার না করে, দেশের স্বার্থের কথা বিবেচনা না করে, আমার বিরুদ্ধে একতরফাভাবে কথা বলেছেন। এ ক্ষেত্রে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এক টকশোতে বলেছেন- “বিশ্বব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী সৈয়দ আবুল হোসেনকে আসামি করা হলে অসুবিধা কী? তাঁকে আসামি করা হলে দুদকের ভাবমূর্তি বাড়বে। সৈয়দ আবুল হোসেন নির্দোষ প্রমাণিত হলে কোর্ট থেকে মুক্ত হয়ে আসবেন। আমরা তাঁকে ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে নেব”। একটু চিন্তা করলে বোঝা যাবে, এ ধরনের বক্তব্য ন্যায়-ভ্রষ্ট ও দুদক-এর প্রতি চাপ সৃষ্টির সামিল। গত ১৮.০৭.২০১৩ খ্রি: তারিখে বিষয়টি উল্লেখ করে আমি ড. ইফতেখারুজ্জামানকে একটি পত্র প্রদান করি। কতিপয় পত্রিকার অসত্য তথ্য ও টকশো আলোচনা এবং লবিং শেষ পর্যন্ত বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের পদ্মা সেতুর আশু বাস্তবায়নের অপমৃত্যু ঘটায় এবং বাংলাদেশ ও আমাকে জনগণের কাছে হেয় প্রতিপন্ন করার ব্যর্থ চেষ্টা করে। পরে অবশেষে প্রমাণ হলো আমি যেটা বলেছি সেটাই সত্য। দুর্নীতি দমন কমিশন কোনো প্রমাণ পায়নি আমার বিরুদ্ধে। তারা বরং আমাকে মামলায় সন্দেহভাজন হিসাবে রেখে ভুল করেছিল এটা বুঝতে পেরেছে। এই কারণে আমরা স্বাভাবিক ভাবেই ফাইনাল রিপোর্টের মাধ্যমে মামলা শেষ হয়েছে ও অন্য যাদের অব্যাহতি দিয়েছে। আমাকে তেমন করে দিতে হয়নি। এইজন্য দুদুক সঠিক কাজ করায় ধন্যবাদ পেতেই পারেন।

বিশ্বব্যাংকের ইন্টিগ্রিটি বিভাগ যেসব উড়ো চিঠি ও অভিযোগের ভিত্তিতে বাংলাদেশের পদ্মা সেতুর আশু বাস্তবায়নে পেরেক ঠুকলো- বিশ্বব্যাংকের ইতিহাসে এটা নজিরবিহীন ঘটনা। এটি নিশ্চিতভাবে একটি পরিকল্পিত ঘটনা। শুধু দুর্নীতির আশঙ্কায় এ ধরনের প্রকল্প বন্ধ করা যায় না। এ ক্ষেত্রে কঠোর নজরদারি, তত্ত্বাবধায়ন ও আইনের প্রয়োগ করে পদ্মা সেতুর কাজ এগিয়ে নেয়াই ছিল বিশ্বব্যাংকের দায়িত্ব। বাংলাদেশের জনকল্যাণ ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে পদ্মা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়ন করা ছিল বিশ্বব্যাংকের জন্য একটি বিরাট সুযোগ। পৃথিবীর কোনো দেশে জনকল্যাণমূলক প্রকল্পে অর্থায়নের এ ধরনের বড় সুযোগ বিশ্বব্যাংক আর কখনো পাবে বলে মনে হয় না। সামগ্রিক বিবেচনায়, ঠুনকো অজুহাতে বিশ্বব্যাংকের এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়া ঠিক হয়নি। পদ্মা সেতুর স্বার্থে আমি পদত্যাগ করার পরও বিশ্বব্যাংক ঋণ দিতে এগিয়ে আসে নি। এ থেকে প্রমাণ হয়, বিশ্বব্যাংক কোনো ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে কাজ করেছে। এ ক্ষেত্রে কোনো অসৎ উদ্দেশ্য কাজ না করলে অর্থায়ন বন্ধে এ ধরনের পদক্ষেপ নেয়া যায় না। ইন্টিগ্রিটি বিভাগ সেসব উড়ো চিঠি ও স্বার্থান্বেষী ব্যক্তির অভিযোগে প্রভাবিত হয়ে এ নজিরবিহীন খারাপ দৃষ্টান্ত স্থাপন করল, তাদের নাম ও অভিযোগ জনসম্মুখে প্রকাশ করা জরুরি ছিল। বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় অর্থমন্ত্রী জনাব আবুল মাল আবদুল মুহিত ইন্টিগ্রিটি বিভাগ সম্পর্কে নানা মন্তব্য করেছেন। গত ১০ ডিসেম্বর, ২০১৩ জাইকা বাংলাদেশের প্রখ্যাত সিভিল ইঞ্জিনিয়ার ড. জামিলুর রেজা চৌধুরীকে দেশে বড় উন্নয়ন কার্যক্রমে অবদানের জন্য সম্মাননা প্রদান করেন। উল্লেখ্য, ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী পদ্মা সেতুর কারিগরি পর্যালোচনা কমিটির প্রধান ছিলেন। সম্মাননা অনুষ্ঠানে মাননীয় অর্থমন্ত্রী জনাব আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, পদ্মা সেতু নিয়ে বিশ্বব্যাংক যে ‘দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ করেছে তা ‘ননসেন্স’। বাংলাদেশের বদনাম করেছে বিশ্বব্যাংক। এটা ষড়যন্ত্রমূলক। বিশ্বব্যাংক যখন পদ্মা সেতুতে দুর্নীতির আশঙ্কা প্রকাশ করে, তখন মাননীয় অর্থমন্ত্রী সম্ভবত পত্রিকার অপপ্রচারে প্রভাবিত হয়ে বিশ্বব্যাংকের অভিযোগকে সত্য মনে করেছিলেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়ন না করে, বিলম্ব হলেও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নের মাধ্যমে পদ্মা সেতু বাস্তবায়ন করতে চেয়েছিলেন। তিনি তখন আমার স্বচ্ছ কার্যক্রমে গুরুত্ব দেন নি। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পদ্মা সেতু বাস্তবায়ই তাঁর চিন্তা-চেতনায় ছিল। আমি তাঁকে শ্রদ্ধা করি। তিনি সবার শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তিত্ব। কিন্তু যখন তিনি আমার স্বচ্ছতা ও বিশ্বব্যাংকের এই অসৎ উদ্দেশ্য বুঝলেন, তখন অনেক বিলম্ব হয়ে গেছে। আমি যখন বুঝতে পারলাম (অহেতুক কারণে বিশ্বব্যাংকের অভিযোগ উত্থাপন ও আবাসিক প্রতিনিধির বক্তব্য শুনে) মাওয়ায় পদ্মা সেতু (প্রস্তুতি কাজ শেষ করার পরও) এ সরকারের মেয়াদে করা যাবে না, তখন আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে পাটুরিয়া-গোয়ালন্দ পয়েন্টে ‘ইরফফবৎং ঋরহধহপরহম’ এর আওতায় উক্ত টেন্ডারের মাধ্যমে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু করার জন্য সার-সংক্ষেপ পাঠাই এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিশ্বব্যাংকের অবস্থান বুঝতে পেরে তাতে অনুমোদন দিয়েছিলেন। কিন্তু মাননীয় অর্থমন্ত্রী ও অর্থ সচিবের সহযোগিতা না পাওয়ায় তা এগিয়ে নেয়া সম্ভব হয় নি। নতুবা আমরা পাটুরিয়া-গোয়ালন্দ পয়েন্টে ২০১৩ খ্রিস্টাব্দেরমধ্যেই দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের কাজ শেষ করতে পারতাম। সে সময় আমার এই ইতিবাচক উদ্যোগ, আমার কর্ম প্রচেষ্টাকে মূল্যায়ন করা হয় নি। আমার চিন্তাধারা অনুযায়ী এগুলে পদ্মা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব হত। কিন্তু ষড়যন্ত্রের কারণে আমরা পদ্মা সেতু বাস্তবায়ন করতে পারি নি। আসলে আমরা সব হারিয়ে পরে বুঝি, কিন্তু তখন আর কিছুই করার থাকে না। হঠাৎ করে প্রস্তুতির শেষপর্বে পদ্মা সেতু নির্মাণে বিশ্বব্যাংকের দুর্নীতির আশঙ্কা প্রকাশ অমূলক, ভিত্তিহীন, কাল্পনিক, বায়বীয় এবং উদ্দেশ্যমূলক। পদ্মা সেতুর প্রস্তুতিপর্বের কার্যক্রম, প্রতিটি গৃহীত পদক্ষেপ এবং এ সংক্রান্ত দলিলাদি মূল্যায়ন করলে দেখা যাবে, এতে কোনো অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়নি এবং দুর্নীতির আশঙ্কা তৈরিরও কোনো সুযোগ ছিল না। দেশবাসী, বুদ্ধিজীবী, মিডিয়াকর্মী ও দেশের সচেতন সমাজের কাছে আমার আহবান থাকবে- দয়া করে একটু গভীরভাবে চিন্তা করুন, মূল্যায়ন করুন, দেখবেন- পদ্মা সেতু, সরকার এবং আমি একটি মিথ্যা ও উদ্দেশ্যমূলক অভিযোগের শিকার।

সৈয়দ আবুল হোসেন দাবি করেন, দেশীয় স্বার্থান্বেষী মহলের মিথ্যা অভিযোগ, নামে-বেনামে চিঠি এবং এ মিথ্যা অভিযোগ যাচাই না করে তা আমলে নিয়ে বিশ্বব্যাংকের আগাম দুর্নীতির আশঙ্কা প্রকাশ এবং এ নিয়ে দেশের কতিপয় পত্রিকার অতিশয় বাড়াবাড়ি, কার্টুন প্রকাশ, সম্পাদকীয়, উপ-সম্পাদকীয় ও প্রবন্ধ লিখে পদ্মা সেতুর বিষয়ে বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হয়েছে। পদ্মা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়নে মূলত কতিপয় মিডিয়া সংকট তৈরি করেছে। বিশেষ করে, কতিপয় পত্রিকার পরিকল্পিত ও উদ্দেশ্যমূলক পুনঃপুন মিথ্যা প্রচারণা সত্যকে মিথ্যার মোড়কে ঢেকে দিয়েছে। এছাড়া, কতিপয় পত্র-পত্রিকার অসত্য লেখা এবং এ নিয়ে মধ্যরাতে টকশো-তে আলোচনা- পরিকল্পিত মিথ্যা অভিযোগকে সর্বত্র ছড়িয়ে দিয়েছে। এ মিথ্যা প্রচারণা বিশ্বব্যাংক ও জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে। জনৈক বিশিষ্ট সাংবাদিক আমাকে অবহিত করেছিলেন, পদ্মা সেতুর বিষয় নিয়ে কানাডার আদালতে যে শুনানি হয়েছে তাতে ১০০০ পৃষ্ঠার পুলিশ রিপোর্টে আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে যেসব অসত্য ও ভিত্তিহীন প্রতিবেদন দেশীয় পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে সেসব বাংলা পত্রিকার সংবাদ ইংরেজি অনুবাদ করে ও ইংরেজি পত্রিকার কাটিংসহ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বর্তমান ও পরবর্তী জেনারেশনের কাছে এসব অপপ্রচার বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে এবং করবে। অথচ এসব তথ্য ও প্রচারণা সর্বৈব মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রের নামান্তর । যেখানে কোনো ঠিকাদার নিয়োগ হয়নি, বিশ্বব্যাংকের কোনো অর্থ ছাড় হয়নি- সেখানে কোনো ষড়ন্ত্রের আশঙ্কা খোঁজা কতটুকু যুক্তিযুক্ত। প্রবাদ আছে, অসত্য খবর দ্রুত ছড়ায় এবং মানুষ সহজে তা বিশ্বাস করে। আমি জোর দিয়ে বলতে চাই, আমি পদ্মা সেতু নির্মাণে কোনো ধরনের অনিয়ম ও অবৈধ কাজ করিনি। অথচ কতিপয় মিডিয়া বা মিডিয়াবাজ যেভাবে লেখার মাধ্যমে সন্ত্রাস সৃষ্টি করে আমাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, এধরনের নেতিবাচক কাজ যেন অন্য কারো বেলায় না হয়Ñ এটাই আমি কামনা করি। বিশ্বব্যাংকের অভিযোগের প্রেক্ষাপটে আমি বিশ্বব্যাংক চেয়ারম্যানকে সার্বিক বিষয় তুলে ধরে, সত্যতা তুলে ধরে একটি পত্র লিখেছিলাম । বিশ্বব্যাংক আমার সে চিঠির উত্তর দিয়েছেন । আমি বিশ্বব্যাংককে ফেরত চিঠিও দিয়েছিলাম ।

সৈয়দ আবুল হোসেনের দাবি, পদ্মা সেতু প্রকল্পে একটি অসত্য ও বায়বীয় অভিযোগের ভিত্তিতে বিশ্বব্যাংক যখন প্রকল্পের কাজ বিলম্ব করার কৌশল অবলম্বন করল, ঠিক তখনই মহাজোট সরকারের শরিক দলের নেতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জনাব হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ পত্রিকায় বিবৃতির মাধ্যমে আমাকে পদত্যাগ করার পরামর্শ দিলেন। জোট সরকারের আরেক নেতা জনাব রাশেদ খান মেনন একই সুরে কথা বললেন। এ সময়ে আমাদের দলের, আওয়ামী লীগের এক শ্রদ্ধাভাজন নেতা এ মর্মে পরামর্শ দিলেন যে, পদ্মা সেতুর কর্মকন্ডের সঙ্গে জড়িতরা সকলেই স্বচ্ছতার স্বার্থে স্ব স্ব পদ থেকে অন্য পদে চলে যেতে পারেন। এমন একটি মুহূর্তে একজন সম্পাদক ও কতিপয় সুধীজন টকশো’তে দেশের বৃহত্তর স্বার্থে আমার পদত্যাগের পরামর্শ রাখলেন। এরকম একটি মুহূর্তে আমি স্বেচ্ছায় পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিলাম এবং পদত্যাগ করলাম। কিন্তু যখনই পদত্যাগ করলাম তখন অনেকেই উল্টো কথা বলতে শুরু করলেন। আমি দোষী না হলে কেন পদত্যাগ করলাম? অত্যন্ত শ্রদ্ধাভাজন একজন সংবিধান প্রণেতা এবং আইন বিশেষজ্ঞ আমার পদত্যাগের পর আমাকে বললেন, অসত্য অভিযোগে আমার পদত্যাগ করা সমীচীন হয় নি। আজ পাঠকের কাছে, দেশবাসীর কাছে, দেশের সাংবাদিক বন্ধুদের কাছে আমার জানতে ইচ্ছে হয় পদত্যাগ করে আমি কি ভুল করেছিলাম? সেদিন পদ আঁকড়ে থাকলে, আমার সম্পর্কে আপনারা কী ধারণা করতেন? চূড়ান্ত বিচারে যখন আমি নির্দোষ প্রমাণিত হব, বিশ্বব্যাংকের কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্ত ভুল প্রমাণিত হবে, তখন আপনাদের ভূমিকা কী হবে? বিশ্বব্যাংকের পক্ষে অনেক সুধিজনও কথা বলেছিলেন। তখন তাদের মনোভাব ও করণীয় কী হবে? অনেকেই আমাকে পরামর্শ দিয়েছেন বিশ্বব্যাংকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করতে, মানহানির মামলা করতে। আমার দ্বারা এ কাজ করা সম্ভব নয়, কখনো সম্ভব হবে না। ব্যক্তি জীবনে আমি একজন সাধারণ মানুষ। ছোটবেলা থেকে আদর্শ ও নৈতিকতার মধ্য দিয়ে বড় হয়েছি। পারিবারিক মূল্যবোধ আমার কাজের নিবিড় সঙ্গী। নিজের অধ্যবসায়, চেষ্টা, নিষ্ঠা, কঠোর শ্রম, আন্তরিকতা ও সততার মাধ্যমে নিজেকে আজকের অবস্থানে প্রতিষ্ঠিত করেছি। স্কাইলাস বলেছেন, “কথা ও কাজে সততাই চরিত্রের মেরুদন্ড।” কথা ও কাজে সততা বজায় রেখে আমি বড় হয়েছি। কাউকে প্রতারিত করে, কাউকে বঞ্ছিত করে, কাউকে কষ্ট দিয়ে আমি কিছু অর্জন করি নি। আমি মনে করি, বিনা পরিশ্রমে যা অর্জিত হয়, তা দীর্ঘস্থায়ী হয় না। আমি কষ্ট করে, সৎ পথে সম্পদ অর্জন করেছি। মানুষ, সমাজ ও দেশের উন্নয়নে নিবেদিত হয়ে দায়িত্ব পালন করেছি। ব্যক্তি ও রাষ্ট্রীয় জীবনের কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সততা নিশ্চিত করে কাজ করেছি। আমি আমার কর্মজীবনকে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মধ্যে গড়ে তুলেছি। আমি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতায় বিশ্বাসী একজন পরিচ্ছন্ন মানুষ। কোনোদিন, কোনো অন্যায়কে, অবৈধ কাজকে প্রশ্রয় দেইনি। সরকারি নিয়ম-কানুন, বিধি-বিধান ভঙ্গ করে কোনো নথিতে সাক্ষর করিনি। কারও কোনো কাজে হস্তক্ষেপ করিনি। কাউকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করিনি। কাউকে কোনো বিশেষ সুবিধা পাইয়ে দিতে কোনো উদ্যোগ নেইনি। আমার শিক্ষাজীবন যেমন ছিল পরিচ্ছন্ন, তেমনি যখন ব্যবসা করেছি তখনও আমার সুনাম ছিল সুবিদিত। রাজনীতি করতে এসে জনপ্রতিনিধি বা এমপি নির্বাচিত হওয়া এবং মন্ত্রী নিযুক্ত হওয়ার পর থেকে আলোচনা, সমালোচনা এবং মিডিয়ার অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি পরিলক্ষিত হয়েছে। জানি না, এটা দেশের রাজনীতির খেলা কিনা; বা একে রাজনীতির অপসংস্কৃতি বলা যায় কিনা!

তিনি নিজে জবাবদিহিতা পছন্দ করেন। এটা বলতে গিয়ে তিনি বলেছেন, জবাবদিহিতার অর্থ স্ব”ছতা এবং যেকোনো জিজ্ঞাসায় উত্তর দিতে বাধ্যবাধকতা। জবাবদিহিতা মানে দায়বদ্ধতা। স্বচ্ছ ও যথাযথভাবে কাজ সম্পাদন করাই জবাবদিহিতা। বর্তমান বিশ্বে জবাবদিহিতাকে সুশাসনের পূর্বশর্ত হিসেবে বিবেচনা করা হয়। জবাবদিহিতা ছাড়া সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয় না। প্রশাসনিক সাফল্য আসে না। Stephen R. Covey বলেছেন, Accountability breeds response-ability. Karl Levin- Gi fvlvq- Restoring responsibility and accountability is essential to the economic and fiscal health of the nation. Ab¨w`‡K, Winston Churchill e‡j‡Qb- The price of greatness is accountability. একজন ব্যক্তি হিসেবে পরিবারের কাছে যেমন আমাদের দায়বদ্ধতা আছে, তেমনি কর্পোরেট শাখায় প্রতিষ্ঠানের কাছে এবং জনপ্রতিনিধি হিসেবে জনগণের কাছে আমাদের দায়বদ্ধতা রয়েছে। এ দায়বদ্ধতা হলো জনগণের যেকোনো জিজ্ঞাসা ও প্রত্যাশা পূরণের দায়বদ্ধতা। দায়বদ্ধতাই কাজ করার অনুপ্রেরণা যোগায়, ভালো কাজের পথ দেখায় এবং এ দায়বদ্ধতাই সকল উন্নয়নের নিয়ামক শক্তি। আমি এই জবাবদিহিতা বা দায়বদ্ধতাকে আমার কাজের সঙ্গী হিসেবে বিবেচনা করি। সকল ব্যক্তিগত, প্রাতিষ্ঠানিক ও সরকারি দায়িত্বপালন আমি এ জবাবদিহিতার আলোকে বাস্তবায়ন করেছি। জবাবদিহিতার আলোকেই আমি আমার নির্বাচনি এলাকার উন্নয়নে, জনগণের কল্যাণ সাধনে কাজ করার শক্তি পেয়েছি, নিবেদিত প্রাণে কাজও করেছি। প্রায় তিন বছর যোগাযোগ মন্ত্রীর দায়িত্বপালন করেছি। দেশের বৃহৎ প্রকল্প- পদ্মা সেতুর আনুষঙ্গিক কাজ শেষ করে মূল সেতুর প্রস্তুতি কার্যক্রম চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে এসেছি। আমার এই দায়িত্বপালনের সময় বিভিন্নভাবে আমার বিপক্ষে নেতিবাচক কথা এসেছে, মিডিয়া অসত্য তথ্য দিয়ে রিপোর্ট করেছে এবং মিডিয়ার অসত্য রিপোর্টে বিভিন্ন দেশি-বিদেশি সংস্থা, ব্যক্তি প্রভাবিত হয়েছেন- আমি আমার কাজের মাধ্যমে, সেসব বিতর্ক এড়াতে চেয়েছি। আমি মনে করি, আমার বিরুদ্ধে এসব অসত্য রিপোর্টের বিষয়ে জনগণকে অবহিত করা এবং সত্য ঘটনা জানানো দরকার। কারণ, বর্তমান বিশ্বে Information বা তথ্যই শক্তি। তাই বলা হয়, Information is power, Information is knowledge and Information is security| অর্থাৎ তথ্যই শক্তি, তথ্যই জ্ঞান এবং তথ্যই নিরাপত্তা। তথ্যের যথাযথ ব্যবহার, তথ্যের নিরপেক্ষতা ও তথ্যের সত্যতা ব্যক্তি, সমাজ ও দেশের জন্য সমপ্রযোজ্য। তাই তথ্যের এ শক্তি বিবেচনায় আমি এ লেখার আশ্রয় নিয়েছি। এ লেখায় আমি কিছু কৈফিয়ত বা প্রশ্নের উত্তর দেয়ার পাশাপাশি অসত্য রিপোর্টের অন্তরালের ঘটনা বা সত্য ঘটনা তুলে ধরে জনমনের বিভ্রান্তি দূর করার চেষ্টা করেছি। আমার কর্মময় জীবনের অবদান নিয়েও বিভিন্ন আঙ্গিকে পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। বিশেষ করে, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালনকালীন কার্যক্রম নিয়ে মন্ত্রণালয় একটি উন্নয়ন পুস্তিকা বের করে। এছাড়া, বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে BOAO Forum for Asia (BFA) সম্মেলনে আমার অংশগ্রহণভিত্তিক একটি ফটো অ্যালবাম প্রকাশিত হয়েছে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে অল্পদিন দায়িত্ব পালন সময়ে আমি সিঙ্গাপুরে আইসিটি সম্মেলনে অংশগ্রহণ করি। এ সম্মেলনের ওপর ভিত্তি করেও একটি সচিত্র পুস্তিকা প্রকাশিত হয়েছে। যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী থাকাকালীন পত্রিকার অভিযোগ/প্রতিবেদন-এর করণীয় সম্পাদনে বিভিন্ন অধিদপ্তর/সংস্থাকে আমি UO-Note লিখতাম। এসব নোটে কাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাকে আমি গুরুত্ব দিয়েছি। কতিপয় পত্রিকা, বিশেষ করে, দৈনিক প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার আমি মন্ত্রী থাকাকালীন যোগাযোগমন্ত্রীর অফিস সংস্কার, যোগাযোগমন্ত্রীর জন্য নতুন গাড়ি ক্রয় এবং কালকিনিতে আমার বাড়ি নির্মাণ নিয়ে অসত্য ও বিভ্রান্তিমূলক খবর প্রকাশ করেছে এবং সম্পাদকীয়, উপ-সম্পাদকীয় ও কার্টুন ছেপেছে। লেখাগুলোকে একত্র করে ‘আমি ও জবাবদিহিতা’ নামে এ পুস্তিকা সম্পাদনার উদ্যোগ গ্রহণ করি। স্বচ্ছতার জন্য পত্রিকার অসত্য রিপোর্ট এবং এ রিপোর্টকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সুধীজনের মিডিয়ার বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে আমি সংশ্লিষ্ট সম্মানিত ব্যক্তিদের চিঠি দিয়েছি। এ চিঠিগুলো প্রাসঙ্গিক বিবেচনায় এ বইয়ের সংলগ্নিতে দেওয়া হয়েছে।

তিনি দাবি করেন যে, এ সম্পাদনার উদ্দেশ্য- আমার কাজের ধরন, তিন বছর মন্ত্রীর দায়িত্ব পালনে সম্পাদিত কাজের ব্যাপ্তি, স্বার্থান্বেষী মহলের নামে-বেনামে চিঠি, কতিপয় পত্রিকার অসত্য রিপোর্ট এবং এসব ভিত্তিহীন রিপোর্টের প্রকোপ কতটুকু এ রিপোর্টগুলো যে অসত্য এবং এর ভিত্তিতে নেয়া বিশ্বব্যাংকের সিদ্ধান্ত যে ভুল তা দেশের জনগণকে জানানো। আশা করি, সম্পাদিত এ পুস্তিকা আমার কাজের উদ্যোগ, কাজের স্বচ্ছতা এবং কাজের জবাবদিহিতা বুঝতে পাঠককে সাহায্য করবে। আমি যে আমার দায়িত্বপালনে কখনো কোনো অন্যায় ও অবৈধ পথে হাঁটিনি- তারও পরিচয় আমার বক্তব্য ও পারিপার্শ্বিকতা থেকে পাওয়া যাবে। আমি জানি, চূড়ান্ত পর্যায়ে জনগণই সকল বিচারের মালিক। পদ্মা সেতু প্রকল্প নিয়ে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে ইতোমধ্যে কানাডার আদালতের মামলা ও কানাডা পুলিশের তদন্তে আমার প্রতি বিশ্বব্যাংক ও দেশীয় কতিপয় পত্রিকার অসত্য এবং অনুমাননির্ভর রিপোর্ট ও অভিযোগের কুয়াশা কাটতে শুরু করেছে। প্রবাদ আছে- This world is consists of men, women and herveys সমস্যা কাটিয়ে, সংকট উত্তরণের মাধ্যমে সত্যতা প্রতিষ্ঠা করাই মানুষের ধর্ম। মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ তায়ালা সবকিছু দেখছেন এবং জানেন। তিনি জানেন, আমি দায়িত্ব পালনে কোনো অন্যায় ও অবৈধ কাজ করিনি। তারপরও যেহেতু অভিযোগ উঠেছে, অসত্য তথ্য দিয়ে, অপপ্রচার করে জনগণকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা হয়েছে, সেহেতু দেশবাসীকে এ বিষয়ে সত্য জানানো প্রয়োজন। এ উপলব্ধি থেকে আমার এ লেখার অবতারণা। আমি পাঠক ও দেশবাসীকে এ বলে অঙ্গীকার করছি যে, পদ্মা সেতুসহ আমার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অপরাপর অভিযোগের সাথে কোনোক্রমেই আমি সম্পৃক্ত নই। আমি নিরাপরাধ ও নির্দোষ। আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা। আদর্শ, নীতি ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশের উন্নয়নে কাজ করেছি। আমার সারা জীবন সততা, জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতার মাঝে আবর্তিত হয়েছে। আমি জীবনে কোনো অন্যায়, জ্ঞানত কোনো পাপ, কোনো দুর্নীতি ও কোনো অবৈধ কাজ করিনি, করতে পারি না। যাঁরা নানা অসত্য কথা বলেছেন, তারা না জেনে- না বুঝে, ভ্রান্ত ধারণা থেকে এসব কথা বলছেন, অভিযোগ করছেন। কারণ, এ পর্যন্ত যত ঘটনাকে কেন্দ্র করে, আমাকে জড়িয়ে অসত্য তথ্য প্রকাশ পেয়েছে, প্রকাশ করা হয়েছে, সময়ের আবর্তে তা সবই অসত্য প্রমাণিত হয়েছে। পদ্মা সেতুসহ আমার বির“দ্ধে উত্থাপিত সব অভিযোগ ভবিষ্যতেও অসত্য প্রমাণিত হবে- ইনশাল্লাহ।

নিজের সম্পর্কে বলতে গিয়ে বলেছেন, মহান আল্লfহ মানুষকে সৃষ্টির সেরা জীব ‘আশরাফুল মাখলুকাত’ হিসেবে সৃষ্টি করেছেন। সৃষ্টির লক্ষ্য মহান আল্লfহর এবাদত করা এবং তাঁর সৃষ্ট জীবের সেবা করা। শিক্ষার প্রথম পাঠ- ‘ইক্রা’ মানে পড়। এটাই ছিল আমাদের নবী, মানবতার নবি হযরত মুহম্মদ (সঃ) এর কাছে আল্লাহর প্রেরিত প্রথম বাণী। আমরা সেই আল্লøাহর বান্দা এবং রাসুল (সঃ) এর উম্মত। আমাদের অনেকের জর সময় বা অব্যবহিত পরে আরবি বা ইসলামি শিক্ষা দিয়ে জীবনের প্রথম শিক্ষার পাঠ শুরু হয়। আমারও তাই হয়েছে। তবে আমার পরিবার, আমার মা-বাবা আমার শিক্ষা গুরু। মা-বাবার শিষ্টাচার, তাঁদের মননশীলতা, তাঁদের মূল্যবোধ, তাঁদের সংস্কৃতিতে আমি একটু একটু করে বড় হয়েছি। বাবা-মায়ের স্নেহ, মমতা, যত, তাঁদের নির্দেশনা আমাকে মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করেছে। বাবা-মা আমার আদর্শ, আমার শ্রদ্ধা ও ভালবাসার অঙ্গীকার। তাঁদের শিক্ষাকে উপজীব্য করে একজন ভালো মানুষ হিসেবে, পরোপকারী ব্যক্তি হিসেবে নিজেকে এগিয়ে নিয়েছি। ফ্রাঙ্কলিন বলেছেন, “তোমার সন্তানকে প্রথমে বড়দের মান্য করতে এবং পরে মিষ্ট আচরণ করতে শেখাও।” আমার বাবা-মাও আমাকে তাই শিখিয়েছেন। আমি সে আলোকেই নিজেকে গড়ে তুলেছি এবং এখনও সেভাবে নিজেকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি।

সৈয়দ আবুল হোসেন তার শিশুকাল সম্পর্কে বলেছেন, শৈশবে ভালো ছাত্র হিসেবে আমার সুনাম ছিল। পড়াশোনা, নির্মল আনন্দ ও জ্ঞানান্বেষণের তাগিদে অনেক বই পড়েছি, অনেক ভালো শিক্ষকের সংস্পর্শে এসেছি। অনেকের উপদেশ ও নির্দেশনা পেয়েছি। এসব সংস্পর্শ ও অভিজ্ঞতা আমার মনকে, আমার সুন্দর, সৎ ও স্বচ্ছ জীবন গঠনে অনুঘটকের ভূমিকা পালন করেছে। আমি নিজে একদিন বড় হব, সৃষ্টিরসেরা মানুষের সেবা করবÑ এই আশাবোধ ও অঙ্গীকার আমার মধ্যে দৃঢ়তর হয়েছে। পরবর্তীকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চ শিক্ষার পাঠ চুকিয়ে কর্মজীবনে প্রবেশ করি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাজীবনে বহু স্বনামধন্য শিক্ষকের সংস্পর্শে আসার সৌভাগ্য হয়েছে। প্রতিভাবান অগ্রজদের সান্নিধ্য পেয়েছি। নানা মতো ও পথের শ্রেষ্ঠ মানুষের সাহচর্যে নিজের জীবনকে, জীবনবোধকে শাণিত করার সুযোগ পেয়েছি। শিক্ষা জীবনের এই সুযোগ এবং অভিজ্ঞতা নিয়ে কর্মজীবনে প্রবেশ করি।

জীবনের প্রথম চাকরি ও ব্যবসার কথা বলতে গিয়ে বলেন, প্রথমে স্বল্প সময়ের জন্য আমি সরকারি চাকুরীজীবী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করি। কিন্তু সরকারি চাকুরি পছন্দ না হওয়ায়, চাকুরি ছেড়ে দিই এবং ব্যবসা শুরু করি। গঠন করি সাকো ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড। এটা ১৯৭৫ খ্রিস্টাব্দের কথা। সাকো’র মাধ্যমে দেশের বিদ্যুৎখাতসহ অর্থনৈতিক অবকাঠামো উন্নয়নে কাজ শুরু করি। আল্লাহর অসীম রহমত, নিজের প্রতি আস্থা, নিজের শ্রম, মেধাকে কাজে লাগিয়ে প্রচুর প্রকল্প বাস্তবায়নে সক্ষম হই। নিজের সততা, নিষ্ঠা, আন্তরিকতার জন্য কাজ পেতে আমাকে এ সময়ে কোনো বেগ পেতে হয় নি। কাজ পেয়েছি, কাজ করেছি। পিছনে তাকাতে হয়নি। যেখানেই হাত দিয়েছি- সেখানেই মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে সফল হয়েছি। অবশ্য এই সফলতার জন্য আমি মনে করি, আমার সততা, আমার চেষ্টা, কর্মনিষ্ঠা আমাকে এগিয়ে নিয়েছে এবং আজকের এ পর্যায়ে পৌঁছতে সহায়তা করেছে।

তার রাজনীতি সম্পর্কে বলেন, আমি ইতিবাচক রাজনীতিতে বিশ্বাসী একজন মানুষ। আমি জননেত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন ও আদর্শের রাজনীতি করি। আমি উৎপাদন ও কল্যাণের রাজনীতিতে বিশ্বাসী। সৎ ভাবে, স্বচ্ছভাবে ব্যবসা করা এবং নিজেকে সমাজে গৌরবের আসনে প্রতিষ্ঠা, সরকারি কাজে সততা ও স্বচ্ছতা প্রতিপালন, এলাকার শিক্ষা প্রসারে কাজ করা, এলাকার উন্নয়ন, ঐক্য ও পরমতসহিষ্ণু রাজনীতি প্রবর্তন ইত্যাদি শুধুমুখের কথা বা মুখের বুলি নয়, এগুলো কর্মজীবনে বাস্তবায়ন করে আমি আমার কথা ও কাজের প্রমাণ রাখতে সক্ষম হয়েছি। আমার পুরো জীবন ¯চ্ছতার মাঝে প্রতিষ্ঠিত। রাজনীতিক জীবনে আমি জনকল্যাণে নিবেদিত একজন মানুষ হিসেবে, জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করছি। গতানুগতিক রাজনীতির ধারায় আমি বিশ্বাসী নই। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর আদর্শে একটি সুস্থ’ ও সেবামূলক রাজনীতিক ধারা আমি আমার এলাকায় গড়ে তুলেছি। জনসভা ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দলীয় কোন্দলের উর্ধ্বে থেকে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও অন্যান্য রাজনীতিক দলের নেতাদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব বন্ধন গড়ে তুলেছি। সবাইকে সহঅবস্থানে, একমঞ্চে বসা ও বক্তৃতা দেয়ার সংস্কৃতি লালন করেছি। মাও সে তুং এর ভাষায় “শত পুষ্পের বিকাশ সম্ভব হোক, শত মতের মধ্যে সুস্থ’ প্রতিযোগিতা চলুক”- এ কথায় আমি বিশ্বাস করি। আমি রাজনীতির নামে এলাকায় সন্ত্রাস সৃষ্টি করতে দিই নি। কাউকে জ্বালাও-পোড়াও এর নামে এলাকায় ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে দিই নি। আমি আমার এলাকার সকল রাজনীতিক সহকর্মী এবং প্রতিপক্ষের মধ্যে সমঝোতা প্রতিষ্ঠা করেছি। সকল মতাদর্শের প্রতি সমান শ্রদ্ধাশীল থেকে সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টির জন্য নিবেদিত হয়ে কাজ করেছি। কাজের এই ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রেখেই আমি কাজ করব। অপরাজনীতি করা আমার পক্ষে অসম্ভব। ডিজরেইলির ভাষায়-“ There is no gambling like politics. “ আমি রাজনীতির এ নেতিবাচক ধারায় বিশ্বাস করি না। আমি মহান আল্লাহকে হাজির-নাজির মেনে বলছি, আমি শান্তিতে বিশ্বাসী। আমি পরমত সহিষ্ণুতায় বিশ্বাসী। আমি আমার নির্বাচনি এলাকার রাজনীতিতে উদার ও পরমত সহিষ্ণুধারা প্রবর্তনে সক্ষম হয়েছি। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ও জননেত্রী শেখ হাসিনার ঐকমত্যের রাজনীতি প্রতিষ্ঠায় আমি নিরলস কাজ করে চলেছি।

তিনি মন্ত্রী থাকাকালীন সময় নিয়ে বলেছেন, মন্ত্রী থাকাকালীন সরকারি কাজে আইনের বিধি-বিধান, কঠোরভাবে মেনে সিদ্ধান্ত দিয়েছি। সর্বোচ্চ সততা রক্ষা করেছি। ব্যক্তিজীবনে ব্যবসায় সততা নিশ্চিত করে, ব্যবসায় সাফল্য অর্জন করেছি। দেশে-বিদেশে আমার গড়া, ‘সাকো’ সুনাম অর্জন করেছে। আজ ‘সাকো’ দেশের একটি অন্যতম ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। দেশের বিদ্যুৎ অবকাঠামো উন্নয়নে ‘সাকো’ আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাত একটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান। আমি ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১ এবং ২০০৮-এর নির্বাচনে পরপর চারবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য। প্রতিটি নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়লাভ করেছি। ১৯৯৬-২০০০ মেয়াদে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ছিলাম। প্রতিমন্ত্রী হিসেবে আমি সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করি। দল ও সরকারের ইতিবাচক ভাবমূর্তি বিনির্মাণে আমার সততা ও দক্ষতা সে সময় প্রশংসিত হয়। কিন্তু প্রটোকল অফিসারের অসাবধানতার কারণে পাসপোর্ট ব্যবহার নিয়ে পত্রিকায় লেখালেখি হয়, পরিবর্তীকালে তদন্তে বিষয়টি ‘ভুল’ হিসেবেই প্রমাণিত হয় এবং আমি নির্দোষ প্রমাণিত হই। ২০০৯ খ্রিস্টাব্দে সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে আমি যোগাযোগমন্ত্রীর দায়িত্ব লাভ করি। এখানে উল্লেখ্য, আমি সরকারি কাজ ও ব্যবসাকে কখনও এক করে দেখি না। মন্ত্রিত্ব লাভের পর আমি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘সাকো’ থেকে পদত্যাগ করেছি। সাকোর বোর্ড সভা আমার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে। মন্ত্রী থাকাকালীন আমি সাকোর কোনো ব্যবসায় দায়িত্বপালন করিনি। এমপি হিসেবে, মন্ত্রী হিসেবে আমি সব সময় জনগণের উন্নয়নে, জনগণের কল্যাণে সরকারি দায়িত্বপালনে সক্রিয় থেকেছি। নিজের অর্থ জনকল্যাণে ব্যয় করেছি। সংসদ সদস্যের ক্ষমতা অপব্যবহার করে কারও কাছ থেকে অর্থ নেইনি। ব্যক্তি জীবনে আমার সম্পর্কে কেউ কখনও নেতিবাচক অঙ্গুলি নির্দেশ করতে পারে নি। আমি কোনো অন্যায় ও অসত্যের সঙ্গে আপোশ করি নি।

পদ্মা সেতুর স্বপ্ন নিয়ে বলেন, ২০০৯-২০১৩ মেয়াদে পদ্মা সেতু নির্মাণ ছিল আওয়ামী লীগ সরকারের অঙ্গীকার। পদ্মার দক্ষিণ পাড়ে আমার বাড়ি। দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের স্বপ্নÑ পদ্মা সেতু। সেই স্বপ্নের পদ্মা সেতু বাস্তবায়নের দায়িত্ব পেয়ে যোগাযোগমন্ত্রী হিসেবে আমি চেয়েছি- স্বচ্ছতা, সততা ও দ্রুততার সাথে পদ্মা সেতুর কার্যক্রমকে বাধাহীনভাবে এগিয়ে নিতে। প্রতিমুহূর্ত, প্রতিক্ষণকে আমি কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছি। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১৮ ঘণ্টা কাজ করেছি। সততা, স্বচ্ছতা ও দ্রুততার সাথে কাজ সম্পাদনে সক্ষম হয়েছি। দ্রুততম সময়ে সরকারের অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের সাথে সমন্বয়পূর্বক দাতা সংস্থাদের সাথে ঋণচুক্তি স্বাক্ষরের ব্যবস্থা করেছি। দায়িত্ব পালনকালীন ভূমি অধিগ্রহণ ও পুনর্বাসন কাজ শেষ করে এসেছি। প্রাক-যোগ্য দরদাতা নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষ করেছি এবং ২০১৩ খ্রিস্টাব্দের ডিসেম্বরের মধ্যে সেতুর কাজ শেষ করতে হবে- এ লক্ষ্য নিয়ে দ্র“ততার সাথে এগিয়েছি। শুধু পদ্মা সেতু নির্মাণ কার্যক্রম নয়, যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনকালীন প্রায় তিন বছরে যোগাযোগ খাতে (সড়ক বিভাগ, সেতু বিভাগ, রেলপথ বিভাগ (বর্তমানে রেলপথ মন্ত্রণালয়), বিআরটিএ, বিআরটিসি ও ডিটিসিবি) যে উন্নয়ন কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে, যে উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে, তা বিগত সময়ের তুলনায় অনেক বেশি। আমি যখন দায়িত্ব নেই, তখন বঙ্গবন্ধু সেতুর টোল আদায় ছাড়া সেতু বিভাগের কোনো কাজ ছিল না। আমি দায়িত্ব্ এসে সেতু বিভাগের কার্যক্রমে গতি আনি। কার্যক্রম ত্বরান্বিত করি। মাওয়া-জাজিরা পয়েন্টে পদ্মা সেতু নির্মাণ, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ, পাটুরিয়া-গোয়ালন্দ পয়েন্টে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণসহ ১১টি প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন শুরু করি। সেতু বিভাগকে একটি কর্মমুখর বিভাগে উন্নীত করি। বঙ্গবন্ধু সেতু নির্মাণে প্রস্তুতিমূলক কাজ করতে যেখানে ১০ বছর লেগেছে, সেখানে পদ্মা সেতুর ক্ষেত্রে ২ বছর লেগেছে। সড়ক বিভাগের অধীনে ১৬০টি প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয় যার মধ্যে ৪৪টি অগ্রাধিকার প্রকল্প। এর অনেক প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে। অনুরূপভাবে রেলওয়ের উন্নয়নে ৪৪টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর অনেকগুলোর কাজ বাস্তবায়নধীন। এসব উন্নয়ন কার্যক্রমের ফিরিস্তি আমি দেব না। জোর দিয়ে বলতে পারি, যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে আমি যেসব প্রকল্প গ্রহণ করেছি, বাস্তবাবায়ন করেছি- তা হবে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের জন্য একটি মাইল ফলক এবং একটি ঐতিহাসিক দলিল।

সৈয়দ আবুল হোসেন বলেন, তিন বছর (২০০৯-২০১১) যোগাযোগমন্ত্রী হিসেবে আমার দায়িত্ব-পালনকালীন আমার বিরুদ্ধে যে সব অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে সেগুলো বায়বীয় এবং ভুল ধারণাভিত্তিক। মন্ত্রণালয়ের প্রতিটি সিদ্ধান্তে আমার অবস্থান, নথিতে আমার মতামত ও সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করলে, প্রত্যক্ষ করলে বোঝা যাবে, আমি কতটুকু দায়িত্বশীল, সৎ এবং স্বচ্ছ। আমি দৃঢ়ভাবে বলতে পারি, আমি প্রতিটি সিদ্ধান্তে শতকরা ১০০ ভাগ স্বচ্ছ ছিলাম। ২০০৯-এ সরকারের যোগাযোগমন্ত্রী নিযুক্ত হওয়ার পর আমি যোগ্যতা নিষ্ঠা এবং সততার সাথে দায়িত্ব পালন করেছি। মন্ত্রীত্বের তিন বছরে সরকারের ‘ভিশন-২০২১’ বাস্তবায়নে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী বিদ্যমান রুটিন কাজের পাশাপাশি পদ্মা সেতু, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, মেট্রোরেল এবং রেল বহরে ডেমু ট্রেন সংযোজনসহ রেলের আধুনিকায়নে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন কার্যক্রমে নানা প্রকল্প সংযুক্ত হয়। যোগাযোগমন্ত্রীর পদ থেকে সরে আসার পর এ পর্যন্ত যত প্রকল্প চালু হয়েছে তা আমি গ্রহণ ও বাস্তবায়নের শেষ পর্যায়ে রেখে এসেছিলাম। কিন্তু এসব প্রকল্প যখন উদ্বোধন করা হয়, ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়, কৃপণতা ও সংকীর্ণতার কারণে একবারও আমার নাম উচ্চারিত হয় না। কৃতজ্ঞতার ধারাবাহিকতা প্রকাশ করা হয় না। রেলওয়ের ডেমু ট্রেন নিয়ে যখন কোনো লেখা পত্রিকায় আসে তখন আকারে ইঙ্গিতে আমাকে খোঁচা মেরে লেখা হয়। আমি যোগাযোগমন্ত্রী থাকাকালীন যোগাযোগ খাতে চ্যানেলাইজ হয় বিলিয়নস ডলারের বৈদেশিক সাহায্য। যেটা অতীতে কখনো কেউ করতে পারেনি। বাংলাদেশের মানুষের স্বপ্নের পদ্মা সেতু বাস্তবায়নে আমি যে পরিশ্রম করেছি, এজন্য আমি প্রশংসা পাওয়ার যোগ্য। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর যখন ‘পদ্মা সেতু’ প্রকল্পের মতো একটি মেগা প্রজেক্ট হাতে নেয়া হয়, তখন পদ্মা সেতু প্রকল্পের কোনো প্ল্যাণ ছিল না। চূড়ান্ত ডিজাইন ছিল না। অর্থের সংস্থান ছিল না। ছিলো না কোনো দাতা সংস্থার কমিটমেন্ট। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকার গঠনের পর দ্রুত একে একে সব পদক্ষেপ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হয়। এ সময় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার স্বার্থে আমি যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী পর্যায়ে সকল সিদ্ধান্ত, টেন্ডার কার্যক্রমের সকল নথিপত্র টিআইবিতে পাঠাই। এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে টিআইবি’র পরামর্শ চেয়ে পত্র দিয়েছি। দুর্নীতি প্রতিরোধে আমি যোগাযোগ মন্ত্রণালয় ও দুদক এর সাথে একটি মতবিনিময় সভা আহবানের জন্য দুদক চেয়ারম্যানকে প্রস্তাব দিয়েছিলাম। দুদক চেয়ারম্যান সে প্রস্তাবে সাড়া দিয়েছিলেন )। এ ধরনের পদক্ষেপ তখনই নেয়া যায় যখন কোনো মন্ত্রীর সৎ সাহস ও সততা উচ্চকিত থাকে। আমি মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে অত্যন্ত স্বচ্ছতা ও সততার সাথে সম্পাদন করেছি। দপ্তর/অধিদপ্তরের যেকোনো ধরনের দুর্নীতি বন্ধে সচেষ্ট হয়েছি। দুর্নীতি কমিয়ে এনেছি এবং যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালনকালীন তিন বছরে সর্বত্র স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করেছি। টেন্ডার প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি বন্ধের ব্যবস্থা নিয়েছি। ফলে, কাজের প্রতিটি স্তরে দুর্নীতির পথ অনেকটা রুদ্ধ হয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের চূড়ান্ত রিপোর্ট সম্পর্কে বলেছেন, বিশ্বব্যাংক প্যানেল চেয়ারম্যান লুইস মেরিনো ওকাম্পোর চূড়ান্ত রিপোর্ট পড়লে দেখা যাবে যে, দুদক আমাকে মন্ত্রী হিসেবে, মন্ত্রণালয়ের প্রধান ব্যক্তি হিসেবে আসামি করে নি কেন এটাই রিপোর্টের মূল বক্তব্য )। বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী মহলের অভিযোগ, নামে-বেনামে চিঠি, মিডিয়ার অসত্য রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতুতে অভিযোগ উপস্থাপন করেছে। বিশ্বব্যাংক প্যানেল চেয়ারম্যান যে ভাষায় চিঠি লিখেছে, যেভাবে আমাকে আসামি করার উদ্দেশ্যে উলঙ্গ কথাবার্তা ঢাকায় এসে বলেছেন, তা ছিল শিষ্টাচার বহির্ভূত, অশোভনীয় ও মর্যাদাহানিকর। যাঁরা বিশ্বব্যাংকের কাছে অভিযোগ করেছে তাদের নাম বিশ্বব্যাংক প্রকাশ করে নি বা তাদের অভিযোগ সত্য কি না তা পর্যবেক্ষণ করে দেখেনি। সত্য একদিন প্রকাশ পাবেই। সত্যকে মিথ্যা দিয়ে ঢেকে দেওয়া যায় না। শেক্সপিয়রের ভাষায়- “সততার নিকট দুর্নীতি কোনোদিনই জয়ী হতে পারে না।” তাই বিশ্বব্যাংকের উচিত অভিযোগকারীদের তথ্য মিডিয়ায় প্রকাশ করা। আমার প্রশ্ন, মন্ত্রী হওয়ায় আমাকে কেন আসামি করা হবে? মূল্যায়ন কমিটির মূল্যায়ন যথার্থ হয়নি, বিশ্বব্যাংকের এ ধরনের কোনো অভিযোগ নেই। অর্থাৎ এটা পরোক্ষভাবে প্রমাণ করে মূল্যায়ন কমিটির মূল্যায়ন সঠিক হয়েছে। মূল্যায়ন সঠিক হলে মন্ত্রীর সম্পৃক্ততার প্রশ্ন আনা হয় কেন? মন্ত্রী মূল্যায়ন কমিটির সদস্য নয় এবং মন্ত্রী কার্যাদেশ প্রদানে চূড়ান্ত অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষও নয়। চূড়ান্ত অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ- সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। অভিযোগ উত্থাপনের আগে আমার সুপারিশে তা সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে উত্থাপনের সময়ও তখন হয় নি। এমতাবস্থায়, কোনো অভিযোগ আমার বিরুদ্ধে কীভাবে, কোনো যুক্তিতে উত্থাপিত হয়? বিশ্বব্যাংকের নিয়োগকৃত প্যানেল চেয়ারম্যান লুইস মেরিনো ওকাম্পো একজন বিখ্যাত আইনজ্ঞ। তিনি এ বিষয়টি জানেন না, এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়। তিনি ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে প্রভাবিত হয়ে আমার ওপর মিথ্যা অপবাদ দিয়েছেন। মূলত মন্ত্রী মূল্যায়ন কমিটির সদস্য নয় এবং টেন্ডার মূল্যায়নে কাউকে সুযোগ দেয়ার কোনো কর্তৃপক্ষ নন। মন্ত্রী হিসেবে কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পক্ষে আমি মূল্যায়ন কমিটির কাউকে প্রভাবিত করেছি, তদবির করেছি, বিশ্বব্যাংকের এ ধরনের কোনো অভিযোগও আমার বিরুদ্ধে নেই। মূল্যায়ন কমিটির কোনো সদস্যও বলতে পারবেন না যে, আমি তাদের কাছে কারও পক্ষে বা বিপক্ষে সুপারিশ করেছি, কোনো কথা বলেছি এবং কোনো তদবির বা তাদের প্রভাবিত করেছি। বিশ্বব্যাংক প্যানেলও এ ধরনের অভিযোগ করেননি। বিশ্বব্যাংকের নির্দেশনা অনুসরণ করায় মূল্যায়ন কমিটির মূল্যায়নে হ্যালক্রোর (ঐধষপৎড়) পরিবর্তে এসএনসি-লাভালিন (ঝঘঈ-খধাধষরহ) প্রথম হয়। এটা প্রমাণ করে- এসএনসি-লাভালিনের ব্যাপারে মন্ত্রী হিসেবে আমার কোনো প্রভাব ছিল না। তা হলে কোনো যুক্তিতে, কোনো কারণে, মন্ত্রী হিসেবে আমাকে মামলায় আসামি করা যাবে? বিশ্বব্যাংক বলেছে বলেই কি আমি মন্ত্রী হওয়ার কারণে আমাকে দোষী হতে হবে? লুইস ওকাম্পোর মতো একজন বিশিষ্ট আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আইনজীবী ও বিচক্ষণ ব্যক্তি এবং বিশ্বব্যাংক প্যানেলের অন্য দুজন স্বনামখ্যাত ব্যক্তি কীভাবে অসত্য তথ্য ও অভিযোগে প্রভাবিত হতে পারেন তা বোধগম্য নয়। ওকাম্পোর মতো বিশ্ববিখ্যাত আইনজ্ঞদের এ ধরনের নেতিবাচক মনোভাব মনে করিয়ে দেয়, বড় বড় আইনজ্ঞরা কথার মারপ্যাচে কীভাবে নির্দোষ ব্যক্তিদের দোষী বানিয়ে ফেলে। ওকাম্পো কি তা হলে সেই চেনাপথে হেঁটেছেন? বিশ্বব্যাংক কোনো কথা বললে তা সত্য হবে, আর আমরা যাঁরা সৎভাবে কাজ করি, সরকারি নিয়ম মেনে চলি, তাদের সততাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হবে! মনে হয়, এ ধারণা থেকে আমাদের সবাইকে বের হয়ে আসতে হবে। এখানে উল্লেখ্য, আমি ‘সাকো’ থেকে পদত্যাগ করে মন্ত্রিত্ব গ্রহণ করার পর আমার সম্পর্কে বাংলাদেশের একটি ইংরেজি পত্রিকায় নেতিবাচক রিপোর্ট প্রকাশিত হয়। সম্ভবত পত্রিকার রিপোর্টকে গ্রহণ এবং বিশ্বব্যাংকের প্রভাবের কারণে একটি বিদেশি কোম্পানি আমার প্রতিষ্ঠিত কোম্পানি সাকো’র সাথে তার এগ্রিমেন্ট বাতিল করে। বিশ্বব্যাংকের এ ধরনের অনাহুত হস্তক্ষেপে আমার প্রতিষ্ঠানকে ব্যবসা হারাতে হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের মতো প্রতিষ্ঠানও ভুলের উর্ধ্বে নয়Ñ এটা দেশে দেশে স্বীকৃত সত্য। বিশ্বব্যাংক প্যানেলের চূড়ান্ত রিপোর্টের প্রেক্ষিত এবং কতিপয় পত্রিকার পুনঃপুন অসত্য রিপোর্টের প্রতিবাদে অনলাইনে ও পত্রিকায় আমার যে লেখা প্রকাশিত হয়েছেÑ তা পাঠকের জ্ঞাতার্থে সংযুক্ত করা হল।

এসএনসি লাভালিনের কর্মকর্তাদের সাক্ষাৎ প্রসঙ্গে বলেন, আমার বিরুদ্ধে আরেকটি অভিযোগ ছিল আমি মন্ত্রী থাকাকালীন এস.এন.সি-লাভালিন কর্মকর্তাদের সাথে সাক্ষাৎ করেছি। এটা সত্য, সাবেক প্রতিমন্ত্রী জনাব আবুল হাসান চৌধুরীর অনুরোধে এবং তাঁর উপস্থিতিতে আমার সরকারি অফিস কক্ষে এস.এন.সি-লাভালিনের প্রতিনিধির সাথে আমার সৌজন্য সাক্ষাৎ হয়েছে। এখানে কোনো গোপনীয়তা ছিল না। সেতু বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ সাক্ষাতের সময় উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, এস.এন.সি-লাভালিনের প্রতিনিধি ছাড়াও বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডার প্রাক্তন হাইকমিশনার দুবার এস.এন.সি-লাভালিনের বিষয়ে আমার সঙ্গে দেখা করেছেন। প্রাক্তন ব্রিটিশ হাই কমিশনার এবং জাপানের রাষ্ট্রদূতও তাদের দেশীয় প্রতিষ্ঠানের ব্যাপারে আমার সাথে সাক্ষাৎ করেছেন। সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে সরকারি অফিসে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও কথা বলা মন্ত্রী হিসেবে আমার দাপ্তরিক কাজের অংশ ছিল এবং ক্রয় আইনের চৎবধসনষব অনুযায়ী সকল ব্যক্তির প্রতি সম আচরণের নীতি বাস্তবায়নের অংশ ছিল। অনুন্নত বা উন্নয়নশীল দেশ, বিশেষ করে, বাংলাদেশের মতো দেশে এ ধরনের সাক্ষাৎ প্রায়শই ঘটে এবং এটা শিষ্টাচার হিসেবে দেখা হয়। এটাকে কেউ কখনও বাঁকা চোখে দেখে না। কাজকে ত্বরান্বিত ও স্বচ্ছতা দিতে বিভিন্ন ব্যক্তির বক্তব্য, প্রতিষ্ঠানের কথা শোনা হয়। এমনকি সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতেও উত্থাপিত বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে প্রায়শই আলোচনা শেষে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। পদ্মা সেতু প্রকল্পের ব্যাপারে সৌজন্য সাক্ষাতকালে মন্ত্রী হিসেবে আমি সকলকেই আশ্বস্ত করেছি যে, টেন্ডারের শর্ত, দাখিলকৃত দরপত্রের মেরিট, মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশ এবং বিশ্ব-ব্যাংকের গাইড লাইন ও সম্মতি নিয়েই যথারীতি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করা হবে। সামগ্রিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিয়ে, ক্রয়নীতির কোনো ব্যত্যয় না ঘটিয়ে আমি মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। এক্ষেত্রে কারো সাথে দেখা করার সূত্র ধরে আমাকে দায়ী করার চেষ্টা উদ্দেশ্যমূলক, অযৌক্তিক এবং বিধিবহির্ভূত।

বাংলাদেশের সর্বোচ্চ তদন্ত সংস্থা ‘দুদক’ বিশ্বব্যাংকের অভিযোগের ভিত্তিতে পদ্মা সেতুর মূল কাজের ঠিকাদার নিয়োগের তদন্তে আমার বা আমার প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানের কোনো সম্পৃক্ততা খুঁজে পায় নি। প্রতিটি কাজ যেহেতু আমি স্বচ্ছতা ও সততার সাথে করেছি, সেহেতু পরামর্শক নিয়োগের ক্ষেত্রেও আমার কোনো নেতিবাচক সম্পৃক্ততা পাওয়া যায় নি। যেখানে বিশ্বব্যাংকের একটি ডলারও ব্যয় হয় নি, যেখানে কোনো অর্থ ছাড় হয় নি, কোনো কার্যাদেশ প্রদান করা হয় নি, সে ক্ষেত্রে অনুমান নির্ভর, কল্পনাপ্রসূত, অসত্য অভিযোগ উত্থাপন অবান্তর। প্রসঙ্গত পদ্মা সেতুর পরামর্শক নিয়োগে দরপ্রস্তাব পাওয়া গেছে ৩৭ মিলিয়ন ডলার। পত্র-পত্রিকায় অভিযোগ উঠেছে, পদ্মা সেতুর পরামর্শক নিয়োগে ৩৫ মিলিয়ন ডলার ঘুষ লেনদেন হয়েছে। পত্রিকার এই রিপোর্টের সূত্র ধরে এককালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, বর্তমান বিরোধীদলের দুই নীতিনির্ধারণী রাজনীতিবিদ টকশোতে, সমাবেশে বলেছেন, “৩৫ মিলিয়ন লেনদেন সত্য ঘটনা, আমরা জানি, ঘুষ লেনদেন ছাড়া এ ধরনের কাজ হয় না।” ৩৭ মিলিয়ন দর প্রস্তাবের মধ্যে ৩৫ মিলিয়ন ডলার ঘুষ লেনদেন রাজনীতিবিদদের এ বক্তব্য থেকে কারও বুঝতে অসুবিধা হয় না যে, পদ্মা সেতু এক অপপ্রচারের শিকার। পত্রিকার অপপ্রচারে বিভ্রান্ত হয়ে জেনেশুনে, দেশের প্রচলিত রাজনীতির কারণে তারা এ ধরনের মন্তব্য করেছেন। অবশ্য বিরোধী দলের অন্য একজন খ্যাতিমান রাজনীতিবিদ, বিশিষ্ট আইনজ্ঞ ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ পদ্মা সেতু প্রকল্প বিষয়ে আমাকে জড়িয়ে এক সমাবেশে বক্তব্য দেন। আমি টেলিফোনে বিষয়টি তার নজরে আনি। তিনি বলেন, “আবুল ভাই, আমি জানি, আপনি পদ্মা সেতুর অভিযোগে সম্পৃক্ত নন, রাজনীতিক কারণে আমাকে এ বক্তব্য রাখতে হয়েছে।” দুঃখের বিষয় এ ধরনের অবাস্তব খবরকে কেন্দ্র করে মধ্যরাতে কতিপয় গুণীজনও আলোচনা-সমালোচনা করেছেন। হতে পারে তারা পদ্মাসেতু প্রকল্পের টেকনিক্যাল বিষয় সম্পর্কে জ্ঞাত ছিলেন না কিংবা জ্ঞাত হওয়ার সুযোগ পান নি। শুধু প্রচারিত মিথ্যা অভিযোগের ভিত্তিকে ‘কান নিয়েছে চিলে’ সূত্রে কথা বলেছেন। অথচ হাত দিয়ে দেখেননি কানটা যথাস্থানে ছিল কিনা। কতিপয় পত্রিকার এসব অসত্য লেখা এবং এ অসত্য লেখার ভিত্তিতে সুধীজনদের আলোচনা এবং সে সময়কার বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর গোল্ড স্টেইনের বক্তব্য ও কার্যক্রম পদ্মা সেতুর বিষয়ে অসত্যকে উচ্চকিত করেছে। এ প্রসঙ্গে দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় ২৫ জুলাই ২০১৩ তারিখে প্রকাশিত জনাব আজিজুল ইসলাম ভুঁইয়া’র একটি লেখা সংযুক্ত করা হলো।

প্রকৃতপক্ষে কতিপয় পত্রিকার পরিকল্পিতভাবে পুনঃপুন অসত্য রিপোর্ট প্রকাশ- আমার সম্পর্কে জনমনে ভুল ধারণা সৃষ্টিতে বেশি সহায়তা করেছে। যোগাযোগমন্ত্রী হওয়ার পর, মন্ত্রীর অফিস মেরামত ও গাড়ি ক্রয় নিয়ে অসত্য রিপোর্ট প্রকাশ করে কতিপয় পত্রিকা আমাকে বিতর্কিত করার প্রক্রিয়া শুরু করে। যোগাযোগমন্ত্রীর অফিস মেরামত ছিল একটি রুটিন ওয়ার্ক। এ কাজের দায়িত্বে ছিল গণপূর্ত বিভাগ, যোগাযোগ মন্ত্রণালয় নয়। গণপূর্ত বিভাগ অফিস মেরামত বাবদ ব্যয় করেছে আনুমানিক ৭ লক্ষ ২০ হাজার টাকা। এ হিসেব এখনও গণপূর্ত বিভাগে রয়েছে। অথচ প্রথম আলোসহ কতিপয় পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে এই ব্যয় ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকা। আর যোগাযোগমন্ত্রীর যে গাড়ি নিয়ে পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে, সে গাড়ি আদৌ ক্রয় করা হয় নি। আমি পত্রিকার এ অসত্য সংবাদের প্রতিবাদ জানাই। কালকিনিতে আমার বাড়ি নির্মাণ নিয়ে প্রথম আলো হেড লাইন করে অসত্য সংবাদ প্রকাশ করে। আমি এর প্রতিবাদ জানিয়ে প্রথম আলো পত্রিকার সম্পাদককে একটি চিঠি দিই। সড়ক দুর্ঘটনায় যোগাযোগমন্ত্রী হিসেবে আমাকে অহেতুক দায়ী করে অব্যাহত প্রচারণা ছিল একটি অশুভ পরিকল্পনা। চলচ্চিত্রকার তারেক মাসুদ ও সাংবাদিক মিশুক মুনীর সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেলে তার জন্য যোগাযোগমন্ত্রীকে দায়ী করে শহিদ মিনারে আমার পদত্যাগ চাওয়া হয়। অথচ মানিকগঞ্জে দুর্ঘটনা কবলিত সড়কে খাদাখন্দ ছিল না। দুই ড্রাইভারের অসর্তকতা ও অতিবৃষ্টির জন্য ভিজিবিলিটি না থাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে আমি যোগাযোগমন্ত্রীর পদ থেকে চলে আসার পর পরবর্তী ঈদগুলোতে ঘরমুখো মানুষের নাজেহাল এবং সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা অনেক বেশি ছিল। এখনও অহরহ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে। দুর্ঘটনায় প্রেস ক্লাবের সামনে একাধিক সাংবাদিক মৃত্যুবরণ করেন। দেশে বিভিন্ন সড়ক দুর্ঘটনায় বিশিষ্ট ব্যক্তি, ২ জন এমপিও মৃত্যুবরণ করেছেন। এসব দুর্ঘটনা নিয়ে পত্রিকায় লেখা হয় না, আন্দোলন হয় না। কারও পদত্যাগ চাওয়া হয় না। তা হলে শুধু আমার বেলায় কেন লেখালেখি, আন্দোলন ও পদত্যাগ চাওয়া হয়েছিল? দুর্ঘটনার এই বিষয়টি উল্লেখ করে আমি প্রথম আলো’র সম্পাদককে একটি চিঠি দিয়েছিলাম। এ বিষয়ে আমি কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদকে দুটি চিঠি লিখেছি সড়ক দুর্ঘটনা পৃথিবীর প্রত্যেক দেশে একটি অনিবার্য আতঙ্ক। ইতিহাস বলে, শুধু বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশ নয়, উন্নত দেশেও সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। আমেরিকা, ফ্রান্স, লন্ডন, জাপান, সিঙ্গাপুরের মতো উন্নত দেশ হতে শুরু করে এশিয়া-আফ্রিকা ও ল্যাটিন আমেরিকার উন্নয়নশীল দেশগুলোও সড়ক দুর্ঘটনা হতে মুক্ত নয়। বরং জনসংখ্যা, যানবাহন ও আধুনিক অবকাঠামো বিবেচনায় উন্নয়নশীল দেশে সড়ক দুর্ঘটনার তুলনামূলক ভয়াবহতা উন্নত দেশের তুলনায় তেমন ভয়ঙ্কর নয়। অতীতের দিকে দৃষ্টি দিলে দেখা যাবে, পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ানক সড়ক দুর্ঘটনাগুলোর অধিকাংশই উন্নত বিশ্বে ঘটেছে। এক হিসেবে দেখা যায়, ১৮৫০ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত সড়ক দুর্ঘটনায় সারা বিশ্বে ২১৩০ জন বিখ্যাত ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এদের ৭০ ভাগই ঘটেছে উন্নত দেশসমূহে। দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান, রাজনীতিবিদ, নোবেল পুরস্কার বিজয়ী, দার্শনিক, স্থপতি, প্রকৌশলী, খেলোয়াড়, কবি-সাহিত্যিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, গণিতজ্ঞ, গায়ক, লেখক, দার্শনিক, চিত্রশিল্পী, অভিনেতা-অভিনেত্রী, চলচ্চিত্র পরিচালক, রেসলার,এ্যাথলেট, সাংবাদিক, শিক্ষক, অর্থনীতিবিদ ও নভোচারীসহ আরও অনেক পেশার বিখ্যাত ব্যক্তিরা রয়েছেন। আমাদের বাংলাদেশেও অনেক বিখ্যাত লোক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দের ২০ জানুয়ারি প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার আলমগীর কবির সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। বিশ্বখ্যাত ফরাসি বিজ্ঞানী ও নোবেল পুরস্কার বিজয়ী পিয়েরে কুঁড়ি (চরবৎৎব ঈঁৎরব, ১৮৫৯-১৯০৬) ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন। নাইজেরিয়ার নেতা এডোগোক আদেলাবুর ১৯৫৮ সালে ৪৩ বছর বয়সে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। ব্রাজিলের এক সময়ের জনপ্রিয় প্রেসিডেন্ট জুসেলিনো কুরিটসেক সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। ভারতের মন্ত্রী ও কংগ্রেস নেতা ২০০০ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। আজারবাইযানের জাফর সিভেরি ১৯৪৭ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। সোভিয়েত নেতা ম্যাসহরেভ ১৯৮০ খ্রিস্টাব্দে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। যুগোশ্লাভিয়ার প্রিন্স ক্রিস্টোফার ১৯৯৯ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন। নভোচারী পিট কনরার্ড সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছিলেন। প্রিন্সেস ডায়নাও মারা গিয়েছেন সড়ক দুর্ঘটনায়। পৃথিবীর এত জনপ্রিয় ব্যক্তিরা সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেলেও সংশ্লিষ্ট দেশের সরকার বা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর কেউ পদত্যাগ চায়নি। হৈ চৈ করেনি। শিশুদের গলায় ‘পদত্যাগ চাই’ ব্যানার ঝুলায় নি। শহিদ মিনারে যায়নি। এমনকি বাংলাদেশের এক সময়ের ডাকসাইটে অর্থমন্ত্রী জনাব সাইফুর রহমান সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর পরও বুদ্ধিজীবী বা খোদ বিরোধীদল বিএনপির কেউ যোগাযোগমন্ত্রীর পদত্যাগ চায় নি। ডেইলি স্টার আমার সম্পর্কে অনেক অসত্য, ভিত্তিহীন রিপোর্ট ও প্রবন্ধ প্রকাশ করেছে, যার পরিপ্রেক্ষিতে আমি বিভিন্ন সময়ে সম্পাদককে চিঠি দিয়েছি। এর মধ্যে একটি চিঠি সংযুক্ত করা হল। ডেইলি স্টারে প্রকাশিত একটি লেখার প্রতিবাদ জানিয়ে আমি লেখককে একটি চিঠি দিয়েছি সেই চিঠিটি সংযুক্ত করা হল। যোগাযোগ মন্ত্রণালয় থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রেরিত সড়ক সংস্কার সংক্রান্ত একটি সার-সংক্ষেপকে উপজীব্য করে কতিপয় পত্রিকার অসত্য রিপোর্ট সংসদের নজরে এলে তা নিয়ে সংসদে উত্তপ্ত আলোচনা হয়। এ আলোচনায় আমাকে সমালোচিত হতে হয়। ০৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১১ তারিখে দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকার একটি সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অবকাঠামো মেরামত/সংস্কার সম্পর্কে একটি সার-সংক্ষেপ পাঠানো হয়। একই সময়ে প্রথম আলো সম্পাদক বরাবরেও একটি পত্র দেওয়া হয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর প্রেরিত সার-সংক্ষেপে এমন কিছু ছিলো না যা নিয়ে সংসদে উত্তপ্ত আলোচনা হতে পারে। যাঁরা ঐ সময় সংসদে পত্রিকার উদ্দেশ্যমূলক অসত্য রিপোর্ট নিয়ে আলোচনা করেছেনÑ তাঁরা ২০১৪ খ্রিস্টাব্দে নির্বাচিত দশম সংসদের এমপি এবং অনেকে ৮ জানুয়ারি মন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। যার সম্পর্কে অহেতুক অসত্য কথা বলা হয়েছে, তিনি ২০১৪ খ্রিস্টাব্দের সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত দশম সংসদের এমপিও নন এবং মন্ত্রণালয়ের কোনো দায়িত্বেও নেই। এটি যে ঘরে-বাইরের একটি ষড়যন্ত্র তা সহজেই অনুমেয়। কোনো কোনো পত্রিকা লিখেছে, প্রথম জীবনে আমি নাকি সরকারি চাকুরি হারিয়েছিলাম- তা আদৌ সত্য নয়। আমার অধঃস্তন কর্মকর্তার অসর্তকতার কারণে একটি তথ্যগত ভুলের অভিযোগ উঠলে, তদন্তে ও চূড়ান্ত বিচারে তাতে আমার সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হয় নি। পরবর্তীকালে আমি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করে চাকরি ছেড়ে ব্যবসায় এসেছি। এ প্রসঙ্গে উল্লেখ্য, ড. মোহাম্মদ আমীন ‘সময়ের পরশ পাথর’ নামে আমার সম্পর্কে বিভিন্নজনের বক্তব্য নিয়ে একটি সম্পাদনা গ্রন্থ প্রকাশ করেছেন। এ পুস্তিকা’র একটি পর্যালোচনা বা বুক রিভিউ করে প্রথম আলো’র রস-আলো। এ রস-আলো পর্র্যালোচনায় উল্লেখ করে আমি যখন টিসিবি-তে চাকুরি করি, তখনকার কোনো কর্মকর্তা সহকর্মীর কোনো স্মৃতিচারণ বইতে নেই। থাকলে ভালো হত। এ প্রেক্ষিতে ড. আমীন বইটির দ্বিতীয় সংস্করণে টিসিবি’র সে সময়কার পরিচালক মোবারক এ মোল্লা’র একটি বক্তব্য প্রকাশ করে।

তার পাসপোর্ট কেলেঙ্কারীর বিষয়ে বলেন, আমি আগেই বলেছি, আমার প্রটোকল অফিসারের অসর্তকতার জন্য ১৯৯৬-২০০০ মেয়াদে প্রতিমন্ত্রী থাকাকালীন আমার পাসপোর্ট ব্যবহার নিয়ে একটি অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটেছিল। তাতে আমার কোনো ত্রুটি ছিল না, দোষ ছিল না। এই ঘটনায় বিতর্ক এড়াতে আমি পদত্যাগ করেছি। পদত্যাগের জন্য তখন কেউ আমার প্রশংসা করে নি। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে এসবির যে অনুসন্ধান রিপোর্ট খুঁজে বের করা হয়েছিল তাতে দেখা যায়, ভুলটি হয়েছিল আমার প্রটোকল অফিসারের অজ্ঞতার কারণে। রাজনীতিক প্রতিহিংসার ইন্ধন ও মিডিয়ার প্রপাগান্ডার কারণে পাসপোর্ট ব্যবহার বিষয়টি রাজনীতিক অঙ্গনে সে সময় বিতর্কের সৃষ্টি করে। এ ঘটনার পরপরই পাকিস্তানের এক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাংলাদেশ সফরে আসেন। তিনি এ সফরে সাধারণ পাসপোর্ট ব্যবহার করেন। এ বিষয়ে তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, ‘এটা আমার পারসোনাল ট্যুর। তাই আমি রেড পাসপোর্ট ব্যবহার করি নি’। প্রটোকল অফিসারের অজ্ঞতার কারণে সংগঠিত ঘটনার পর আমি গণতান্ত্রিক নিয়ম, আমার সততা ও ভাবমূর্তি রক্ষায় মন্ত্রিত্ব ত্যাগ করি। উদ্দেশ্য ছিল সর্বমহল আমার এ ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগকে স্বাগত জানাবে। আমার পদত্যাগের প্রশংসা করবে। আমার এ পদত্যাগ ভারতের রেলমন্ত্রী লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর পদত্যাগের সাথে তুল্য। তৎকালীন পররাষ্ট্র মন্ত্রী জনাব আবদুস সামাদ আজাদ আমাকে পদত্যাগে নিষেধ করেছিলেন। কারণ, দেশের বাইরে যাওয়ার সময়, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তখন বিদেশ সফরে ছিলেন, তাঁকে (পররাষ্ট্র মন্ত্রী জনাব আবদুস সামাদ আজাদ) আমি বলে গিয়েছিলাম। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমার এ পদত্যাগে দীর্ঘদিন সম্মতি দেন নি, গ্রহণ করেন নি। ঘটনার ১৬ দিন পর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছিলেন। যাহোক, পরবর্তীকালে নিয়ম অনুযায়ী পাসপোর্টের বিষয়টি তদন্ত হয়েছিল। তদন্তে আমার কোনো ত্রুটি ছিল না। আমি নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ায় বিষয়টি নথিভুক্ত করা হয়। আজ সেই পুরোনো কাহিনি নিয়ে, অতিরঞ্জিত কল্পকথা নেতিবাচক পন্থায় মিডিয়ায় উত্থাপন করা হচ্ছে। রাজনীতিক প্রতিহিংসায় আমার সততা ও কর্মোদ্যোগ সম্পর্কে নানা কল্পকাহিনী তৈরি হচ্ছে। আমার সম্পর্কে জনগণের কাছে একটি ৎিড়হম ঢ়বৎপবঢ়ঃরড়হ দেওয়া হচ্ছে।

তাকে নিয়ে যা হয়েছে সেই সম্পর্কে বলেন, ইদানীং আবার একটি সংঘবদ্ধ চক্র আমার সুনাম এবং আমার প্রতিষ্ঠিত সাকোর ব্যবসাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে নতুন করে প্রপাগান্ডা চালাচ্ছে। অসত্য তথ্য সরবরাহ করে বিভিন্ন পত্রিকায় রিপোর্ট করাচ্ছে। অভিযোগÑ ‘সাকো’ প্রভাব বিস্তার করে ব্যবসা করে আন্তর্জাতিক ব্যবসা সম্পর্কে যাদের ধারণা নেই তারা এসব কথা বলতে পারে। ১৯৭৫ সালে প্রতিষ্ঠিত কোম্পানি ‘সাকো’ ইন্টারন্যাশনাল লিঃ একটি রেজিস্ট্রিকৃত কোম্পানি। ‘সাকো’ হঠাৎ করে ব্যবসা শুরু করেনি। ‘সাকো’ স্বচ্ছতা, সততা বজায় রেখে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে বিশেষজ্ঞ কমিটির মূল্যায়নে কারিগরিভাবে রেসপনসিভ এবং দরপত্র মূল্যায়নে সর্বনিু হয়ে কাজ পাচ্ছে। কোনো বিদেশি কোম্পানির স্থানীয় প্রতিনিধি বা পরামর্শক হিসেবে কাজ করা বাংলাদেশের ও বিদেশি আইন অনুযায়ী স্বীকৃত। বাংলাদেশে শুধু ‘সাকো’ নয়, অনেক প্রতিষ্ঠানই বিদেশি কোম্পানির প্রতিনিধি বা পরামর্শক হিসেবে একইভাবে কাজ করে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে (২০০৮-২০১৩) আইপিপি, রেন্টাল ও পিপিপি মিলে প্রায় ৫০-৫৫টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র অনুমোদন পেয়েছে যার অনেকগুলো উৎপাদনে গিয়েছে, অনেকগুলো নির্মাণাধীন এবং কতিপয় মূল্যায়ন পর্যায়ে আছে। এ ৫০-৫৫টি বিদ্যুৎ প্রকল্পের মধ্যে ‘সাকো’ ৪টি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের স্থানীয় প্রতিনিধি বা পরামর্শকের ভূমিকা পালন করেছে। সংখ্যার বিচারে এটা খুব বেশি নয়। বাকি প্ল্রান্টগুলোর কাজ পেয়েছে দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশে এর আগে এত সংখ্যক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের অনুমোদন পায় নি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার দেশে পাওয়ার প্ল্যান্ট নির্মাণ ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। আমার প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠান ‘সাকো’ কোনো রেন্টাল পাওয়ার প্ল্যান্ট করে নি, আমরা নিজেরা কোনো আইপিপি পাওয়ার প্ল্যান্টের মালিক হইনি। ‘সাকো’ বিদেশি প্রিন্সিপালকে নিয়ে আন্তর্জাতিক দরপত্রে অংশগ্রহণ করে। ‘সাকো’ সরাসরি নেগোসিয়েশনের মাধ্যমে কোনো ব্যবসা করে নি। আন্তর্জাতিক দরপত্রে অংশগ্রহণ করে সর্বনিু রেসপনসিভ দরদাতা হয়ে কিছু কাজ পেয়েছে। এ ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উদ্দেশ্যমূলক এবং অতীতের ন্যায় এটিও আমার বিরুদ্ধে একটি ষড়যন্ত্র। ভবিষ্যতে বাংলাদেশে আরও বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মিত হবে এবং সাকো ইন্টারন্যাশনাল লিঃ কারিগরিভাবে যোগ্য এবং দরপত্র মূল্যায়নে সর্বনি¤œ হয়ে কাজ পাওয়ার জন্য সততার সাথে চেষ্টা করবে। খড়বিংঃ জবংঢ়ড়হংরাব বা সর্বনি¤œ দরদাতা নির্বাচিত হয়ে কাজ করা মানে দেশের জন্য কাজ করা। দেশের উন্নয়নে অবদান রাখা। দেশের বিদ্যুৎ সেক্টরে ভূমিকা রাখা। ‘সাকো’ ১৯৭৫ খ্রি: থেকে যোগ্যতা ও দক্ষতার সাথে এ ভূমিকা পালন করে আসছে। কোনো দরপত্রে সর্বনিু দরদাতা নির্বাচিত হতে হলে পৃথিবীর পাওয়ার প্ল্যান্ট প্রস্তুতকারকদের সম্পর্কে জানতে হয়, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ ও সুসর্ম্পক রাখতে হয় এবং বিশ্ব বাজারদর সম্পর্কেও জ্ঞান রাখতে হয়। তদবির বা প্রভাব বিস্তার করে এসব জ্ঞানের শূন্যতা পূরণ করা যায় না। প্রতিযোগিতামূলক কাজ পাওয়া যায় না। এজন্য সাকোর দক্ষও কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন জনবল রয়েছে। ১/১১- এর পূর্বে আমার সম্পর্কে অভিযোগ পত্রিকার খবরের ভিত্তিতে বিভিন্ন সময়ে একাধিকবার তদন্ত হয়েছে। তদন্তে কিছু না পেয়ে বিষয়টি নথিভুক্ত করা হয়েছিল। ২০০১ খ্রিস্টাব্দে বিএনপি ক্ষমতায় এসে ১৯৯৬ থেকে ২০০০ খ্রি: পর্যন্ত সংবাদপত্রে প্রকাশিত অসত্য খবরের উপর ভিত্তি করে একটি শ্বেতপত্র তৈরি করে এবং তদন্ত করে শ্বেতপত্রে অন্তর্ভুক্ত কথিত অভিযোগের কোনো সত্যতা পায় নি। ১৯৯৬ খ্রিস্টাব্দে নির্বাচনের সময় আমার সাক্ষর জাল করে, সুপার ইম্পোজ করে একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী একটি অপপ্রচার শুরু করে। আমার সাক্ষর জাল করা একটি চিঠি সে সময় বাংলাবাজার পত্রিকায় প্রকাশ করা হয়। চিঠিটি’র বিষয়বস্তু ছিল আমি নাকি চায়নার একটি কোম্পানি সিএমসিকে লিখেছি যে, আমার সাথে যোগাযোগ করলে বাংলাদেশের যেকোনো কাজ পাওয়া যাবে। আমার সাথে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে। এ ধরনের প্রপাগান্ডার উদ্দেশ্য আমাকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন এবং জনগণের কাছে মেসেজ দেওয়া যে, আমি অন্যায়ভাবে কাজ করতে পারদর্শী। চিঠিটি বিএনপির শ্বেতপত্রে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। বিএনপির শাসনামলে তদন্তে আমার সম্পৃক্ততা নেই বলে প্রমাণিত হয়। অর্থাৎ চিঠির সাক্ষর আমার ছিল না। সিএমসিকে লেখা চিঠিটি যে জালÑএ কথা আমি মিডিয়াকে জানিয়েছি এবং সিএমসিও বলেছে- এ ধরনের কোনো চিঠি তারা পায় নি। বিষয়টি আমার ফেসবুক স্ট্যাটাসে দেওয়া আছে। তারপরও আবার ১/১১-এর সময় আমার সাক্ষর সুপার ইম্পোজ করে আওয়ামী লীগ থেকে আমার পদত্যাগপত্র প্রচার করা হয়। এবার ক্ষমতায় এসে পদ্মা সেতুর মূল কাজের ঠিকাদার নিয়োগ নিয়েও ‘সাকো’র এক কর্মকর্তার সাক্ষর সুপার ইম্পোজ করে প্রপাগান্ডা চালানো হয়। আমাকে বিভিন্ন অবৈধ কাজের সাথে সম্পৃক্ত করার অপচেষ্টা করা হয়। শেষোক্ত বিষয়ে চিঠিটি নিয়ে তদন্ত করেও বিশ্বব্যাংক কিছু পায়নি। এ ধরনের নেতিবাচক চিঠি প্রকাশের আগে পত্রিকা আমার বা ‘সাকো’র কোনো বক্তব্য নেয় নি। মনে হয়, চিঠিটি প্রকাশ করে আমাকে হেয় করাই ছিল একমাত্র উদ্দেশ্য। অথচ সেই মিথ্যা স্বাক্ষরের অভিযোগ আজও আমাকে বইতে হচ্ছে। বিএনপি সরকারের আমলে তদন্তে এসব জাল চিঠি প্রমাণিত হলেও সরকার পত্রিকার বিরুদ্ধে, পত্রিকার সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয় নি। এছাড়া, ১/১১ এর তত্ত্বাবধায়ক সরকার দ্বিতীয় কিস্তিতে যাদের নামে তদন্ত করেছিল, সেখানে আমার নামও অন্যায়ভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। জীবনে অন্যায়, অনিয়ম ও অসৎ পথে হাঁটিনি বলে সেখানেও আমি নির্দোষ প্রমাণিত হই। ২০০৯ খ্রিস্টাব্দে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এসে আমাকে মামলা থেকে অব্যাহতি পেতে হয় নি, যা অনেকের ক্ষেত্রে হয়েছে। এসব বিষয়গুলো একটু গভীরভাবে পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে যে, এসব অসত্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে কতিপয় পত্রিকা জনমনে আমার সততাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে সহায়তা করেছে। আর কতিপয় পত্রিকার/মিডিয়ার ঠুনকো, অসত্য রিপোর্টগুলো আজ আমার বিরুদ্ধে প্রয়োগ করে আমার সততাকে কটাক্ষ করা হচ্ছে এবং পদ্মা সেতু নির্মাণকে বিলম্বিত করা হয়েছে।

অনেক বিজ্ঞজন, অনেক সুধিজন এবং আমার এক রাজনীতিক সহকর্মী মন্ত্রিসভা থেকে আমার পদত্যাগের আগে দম্ভোক্তি করে বলেছেন “আমরা কেউ ধোয়া তুলসী পাতা নই।” আমি ধোয়া বা আধোয়া তুলসি পাতা কি না জানি না, এতটুকু জানি, আমি জীবনে কারও অপকার করি নি। কার গিবত করি নি। কার চরিত্র হনন করে কথা বলি নি। কাউকে গালাগাল করি নি। কারো বিরুদ্ধে মন্দ বলি নি। কেউ আমার প্রতি অন্যায় করলে তাকে নিন্দা করতে শিখি নি। তার অন্যায় কাজের প্রতিবাদ করি নি। বরং বিনয়ের সাথে আচরণ করেছি। হযরত সোলায়মান (আঃ) এর ভাষায়, “যদি কেউ তোমার নিন্দা করে তা হলে কথার চেয়ে নিজের জীবন-চরিত্রের দ্বারা তার প্রতিবাদ কর।” আমি হযরত সোলায়মান (আঃ) এর বাণী ব্যক্তিজীবনে প্রয়োগ করেছি। নিন্দুককে ভালোবেসেছি। পাপকে ঘৃণা করেছি, পাপীকে ঘৃণা করিনি। কার বিরুদ্ধে অশোভন কথা বলি নি। করে কোনো ক্ষতি হোকÑ এরকম কোনো কাজ করি নি। আবার মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের পর আমার এক রাজনীতিক সহকর্মী/বন্ধু পকেটে হাত দিয়ে বলেছেন, ‘আমি পকেট ভারি করতে মন্ত্রী হই নি’ এবং “পদ্মা সেতুর অতীত নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করতে চাই না”। পদ্মা সেতুর অতীত ঘাঁটাঘাঁটি করলে দেখা যাবে, পদ্মা সেতু কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়িত হয়েছে। যেখানে বঙ্গবন্ধু সেতুর প্রস্তুতি কাজ করতে ১০ বছর লেগেছে, সেখানে পদ্মা সেতুর ক্ষেত্রে ২ বছরে সে কাজ শেষ করা হয়েছে। শুধু একটি ষড়যন্ত্র পদ্মা সেতুকে ২০১৩ খ্রিস্টাব্দে চালু করার পথকে রুদ্ধ করেছে। এছাড়া, আমি যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে বিগত তিন বছরে যে কাজ করেছি, ১০০ বছরের মধ্যে ৫ বছর মেয়াদি কোনো সরকারের সময় তা করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে যে প্রকল্পগুলো উদ্বোধন হচ্ছে, কার্যক্রম চলছে, তা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমার প্রচেষ্টায় গৃহীত প্রকল্প। পরবর্তীতে আমার নেয়া এ প্রকল্পগুলো এখন আমার বন্ধু বর্তমান যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং রেলমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মুজিবুল হক উদ্বোধন করছেন, বাস্তবায়ন কাজ এগিয়ে নিচ্ছেন। আমি সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্বপালনে কোনো অনিয়ম করি নি। নিয়মিত সরকারকে কর দিই। দেশের প্রচলিত আইন মেনে চলি। সৎভাবে ব্যবসা করে সম্পদ অর্জন কি অন্যায়? দীর্ঘ প্রায় ৪০ বছর অক্লান্ত পরিশ্রম করে আমি বর্তমান অবস্থানে এসেছি। রাজনীতি করি। এর অর্থ এই নয়, সব ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদরা অন্যায় পথে চলেন। বাংলাদেশের ব্যবসায়ী-রাজনীতিবিদওÑ যে সৎ ও নৈতিকতাসম্পন্ন লোক হতে পারেন, তা কি বিশ্বাসযোগ্য নয়? শুধু বিদেশি বা বিদেশি সংস্থা, বিশ্বব্যাংক কিছু বললে সত্য হবে, আর আমরা বললে সত্য হবে নাÑ এ মানসিকতার পরিবর্তন দরকার। যাঁরা নীতিবাক্য বলেন, তাদের নিজেদের সৎ এবং সচেতন হয়ে কথা বলা প্রয়োজন। নিজে দায়িত্ববোধসম্পন্ন না হয়ে নীতিবাক্য ব্যবহার ও নীতিবাক্যের ফুলঝুরি আওড়ানো ঠিক নয়। অন্যায়ভাবে, ঈষার্ন্বিত হয়ে কার প্রতি অসৎ ইঙ্গিত করা শোভনীয় নয়। কথা বলার সময়, যে যাই হোক, সবাইকে সুবিবেচনা, ধৈর্য, সততা ও সংযমী হওয়া দরকার। আয়নায় নিজের চেহারা দেখা প্রয়োজন। সাংবাদিকতা একটি দায়িত্বশীল পেশা। আমি সাংবাদিকদের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। এ প্রসঙ্গে ভল্টেয়ার এর একটি বিখ্যাত উক্তি উদ্ধৃত করে বলতে চাই-`I Disapprove of what you say, but I will defend to the death your right to say it..’ ভল্টেয়ার-এর বিখ্যাত উক্তিটি আমি সমর্থন করি, ব্যক্তিগতভাবে অনুসরণ করি। মানুষের কথা বলার অধিকার আছে, পত্রিকায় খবর প্রকাশের স্বাধীনতা আছে, সেটা সত্য হোক আর অসত্য হোক। কিš‘ অন্যায়, অসত্য ও ভিত্তিহীন খবর প্রচার না করাই সংবাদপত্র ও সাংবাদিকদের শিষ্টাচার বলে আমি মনে করি। এ ক্ষেত্রে ধর্ম ও নৈতিকতা আমাদের রক্ষাকবচ। ধর্ম সত্য কথা বলে এবং সত্যের সন্ধান দেয়। আর নৈতিকতা হল সত্য বাস্তবায়ন এর বহিঃপ্রকাশ। তাই ধর্ম ও নৈতিকতা সত্যের পথ দেখায়, অন্যায় থেকে, অনৈতিক কাজ থেকে মানুষকে রক্ষা করে। সাংবাদিকদের এ সত্য মেনে চলার অঙ্গীকারই সাংবাদিকতা। তবে এর ব্যত্যয় ঘটে বলেই পেশায় দুর্যোগ নেমে আসে, পেশার বদনাম হয়। তাই চারিদিক থেকে প্রতিবাদ আসে। আবার অসত্য সংবাদের প্রতিবাদের অধিকার সবারই আছে। উইলিয়াম সেক্সপিয়রের ভাষায়- The nature of bad news infect the teller.. অনৈতিক খবর বা ইয়োলো জার্নালিজম যেমনসংবাদপত্রের সুনাম-সুখ্যাতি নষ্টে কাজ করে, তেমনি উন্নয়ন কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করে। দেশের অগ্রগতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। আর দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা উন্নয়ন কার্যক্রমকে এগিয়ে নেয়। দেশের সার্বিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করে। কতিপয় পত্রিকা, বিশেষ করে, প্রথম আলো, ডেইলি স্টার, দৈনিক ইত্তেফাক-এর মতো পত্রিকার কাছ থেকে অসত্য ও উদ্দেশ্যমূলক রিপোর্ট আদৌ প্রত্যাশিত নয়। এসব পত্রিকা নির্দয়ের মতো অসত্য ও ভিত্তিহীন সংবাদ পরিবেষণ করে আমাকে জনসম্মুখে হেয় প্রতিপন্ন করেছে। দি ডেইলি স্টার যে অসত্য, উদ্দেশ্যমূলক রিপোর্ট প্রকাশ করে তা কম্পিউটার বিজ্ঞানী প্রফেসর মুহম্মদ জাফর ইকবালের বক্তব্যে সুস্পষ্ট। পত্রিকার অসত্য সংবাদ জনগণের কাছে, দাতা সং¯’ার কাছে সহজেই বিশ্বাসযোগ্য হয়। ফলে গণতন্ত্র ও উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়। যেমনটি হয়েছে পদ্মা সেতুর ক্ষেত্রে । পত্রিকার এ অসত্য রিপোর্টের বিষয়ে সৎ সাংবাদিকদের সোচ্চার হওয়া উচিত। আজ বাংলাদেশে গণমাধ্যম বড় শক্তি, শিক্ষার অন্যতম বাহন। প্রিন্ট মিডিয়া ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার বদৌলতে পত্রিকায় বিভিন্ন প্রবন্ধ লেখা, সংবাদ ও টকশো আলোচনা শিক্ষার বাহন হিসেবে কাজ করছে। এসব লেখা ও আলোচনায় প্রায়ই বিজ্ঞ ও সিনিয়র সাংবাদিকদের বক্তব্যে বর্তমান মিডিয়া জগতের উন্নয়নের কথা যেমন শুনি, তেমনি কতিপয় সাংবাদিক ও মিডিয়ার অপসংবাদের কথাও জানি। সিনিয়র সাংবাদিকদের বক্তব্যের মূল মর্মবাণী হলো বর্তমানে সংবাদপত্র বিকাশের পাশাপাশি সংবাদপত্রে এক ধরনের অপসংবাদ ও অপসাংবাদিকতা দেশের সংবাদপত্র জগৎকে বিতর্কিত করছে। সংবাদপত্র জগতে এক ‘অপসংস্কৃতি’র জš§ দিচ্ছে। কতিপয় সাংবাদিক, সাংবাদিকতার সত্য ও মহান পেশাকে কলুষিত করে একে অন্যায় ও অবৈধ আয়ের উৎস হিসেবে গ্রহণ করছে, মানুষকে ব্ল্যাকমেইল করছে। সুরুচি, সুনীতি ও সুচিন্তার যোগফল যেমন গণতন্ত্র, তেমনি এই গণতন্ত্রের পুরোপুরি প্রয়োগই সংবাদপত্র, সাংবাদিক ও দেশের উন্নয়নের নিয়ামক শক্তি। অসত্য ও ব্ল্যাকমেইলিং রিপোর্টের প্রভাব সমাজ, দেশ ও ব্যক্তির জন্য কতটুকু ক্ষতিকর ও এর প্রভাব কতটুকু বিস্তৃত, তা ভেবে দেখার জন্য সাংবাদিক, টিআইবি ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে অনুরোধ করছি। আমি মূলত অপসংবাদ ও কতিপয় মিডিয়াবাজদের অপসাংবাদিকতার অসহায় শিকার হয়েছি।

সাংবাদিকতা নিয়ে বলেছেন, অপসংবাদ ও অপসাংবাদিকতা যে কত ক্ষতিকর তা কেবল ভুক্তভোগীই জানেন এবং জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে তা তিনি উপলব্ধি করেন। আমার বিরুদ্ধে সংগঠিত অপসংবাদ আমাকে, আমার পরিবারকে, আমার মুরুব্বি ও আত্মীয়-স্বজনকে আহত করেছে, চিšিন্তত করেছে। যেদিন ইত্তেফাকের মতো পত্রিকা ‘যোগাযোগমন্ত্রীর দুর্নীতি ফাঁস করলো বিশ্বব্যাংক’ এবং যেদিন আমাকে নিয়ে অসত্য রিপোর্ট প্রকাশ করে, সেদিন আমার পরম শ্রদ্ধেয় মুরুব্বি, যিনি আমাকে ভালবাসেন, আমাকে সত্য জীবন যাপনের উপদেশ দিয়েছেন, আমার জন্য সব সময় আল্লাহর রহমত কামনা করেন তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। মিথ্যা সংবাদ তাঁকে আহত করেছিল। জšে§র পর থেকে যাঁরা আমাকে জানেন, চিনেন এবং আমার সততা ও সরলতা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল, ভাঙা রেকর্ডের মতো বাজানো অপসংবাদে তারা বিভ্রান্ত না হলেও চিন্তিত হয়েছেন। পদ্মা সেতুর দায়িত্বপালন নিয়ে এত ব্যস্ত ছিলাম যে, দু’বছর আমি এলাকায় ব্যক্তিগত সফরে, জনগনের সাথে যোগাযোগ রক্ষায় যেতে পারিনি, নিজ গ্রামে যাইনি। পত্রিকায় এত অপপ্রচার হলেও এলাকার জনগণ অপ্রচারে বিভ্রান্ত হননি। যাঁরা অপসংবাদ এখনো ভাঙা রেকর্ডের মতো বাজিয়ে চলেছেন, তারা আজও অনুতপ্ত হয়েছেন বলে মনে হয় না। যে সাংবাদিকদের হাত ধরে অসত্য ও ভিত্তিহীন, কাল্পনিক রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে তারা সৃষ্টিকর্তার কাছে কী জবাব দেবেন? আমি কোর্টের বিচারে যেতে চাইবো না। তবে মহান আল্লøাহ, সৃষ্টিকর্তার বিচারের অমোঘ বিধান থেকে তারা কী করে রেহাই পাবেন? আমি আমার ধর্ম ও নৈতিকতায় পুরোপুরি বিশ্বাস করি এবং সে আলোকে নিজের জীবন, নিজের কর্মজগতে কাজ সম্পাদন করি। সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর উপর অবিচল আস্থা রাখি। সৃষ্টিকর্তা, মহান আল্লøাহ সবাইকে সুমতি ও সুপথের সন্ধান দিন, অনুতপ্ত হয়ে তাঁর কৃপা পাওয়ার সুযোগ দিনÑ এ কামনা করি। আমরা জানি, সংবাদপত্র ও সাংবাদিক সত্যের কণ্ঠস্বর ও সমাজের বিবেক। সংবাদপত্র রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। দেশে উন্নয়ন কার্যক্রম ও সুশাসন বাস্তবায়নে সংবাদপত্র অপরিহার্য অনুষঙ্গ। আমি মনে করি, উন্নয়ন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গণতন্ত্রের কোনো বিকল্প নেই। আর এই গণতন্ত্রের বিকাশে সাংবাদিকদের উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে। গণতন্ত্রে যেমন নীতিমালা আছে, সাংবাদিকদেরও তেমনি নীতিমালা রয়েছে। সৎ উদ্দেশ্যে দেশের উন্নয়নে এ দুয়ের সুসমন্বয় হলে দেশের অগ্রগতি ত্বরান্বিত হয়। সংবাদপত্রের এ শক্তি ও ইতিবাচক কার্যধারা সম্পর্কে আমি অবহিত। আমি সংবাদপত্রের প্রসার ও গুণগত উন্নয়ন দেখতে আগ্রহী। সংবাদপত্রের এ গুণগত কারণে আমি সম্পাদক ও সাংবাদিকদের শ্রদ্ধা করি। কিন্তু কোনো সম্পাদক ও সাংবাদিকদের কাছ থেকে অপসংবাদ, অপসংবাদিকতা ও অপআচরণ প্রত্যাশা করি না। এ ধরনের নেতিবাচক কার্যক্রম আস্থা ও শ্রদ্ধার মধ্যে ফাটল ধরায়। সংবাদ ও সাংবাদিকদের প্রতি মানুষের এক ধরনের নস্টালজিয়ার জš§ নেয়। প্রথম আলোর সম্পাদক পত্রিকার এক প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে আমাকে দাওয়াত দিয়েছিলেন। একাধিকবার তার পক্ষ থেকে টেলিফোন করে আমার উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছিল। অনুরোধের প্রেক্ষিতে আমি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলাম। অনুষ্ঠানে আমার উপস্থিতিতে কার্টুন ছবি প্রদর্শন এবং তা ভিডিওতে অতিথিদের দেখানো হয়। অতিথিকে দাওয়াত দিয়ে নিয়ে তাঁকে হেয় প্রতিপন্ন করা কোনো ধরনের ঊঃযরপং? কোনো ধর্মে এ ধরনের বিধান আছে? ইসলাম ধর্মে এ ধরনের কোনো বিধান নেই। এ ধরনেরনজির বাঙালি কালচারেও নেই। এটিকে একধরনের রুচিহীন বিষয় ছাড়া আর কী বলা যায়? “বদলে যাও, বদলে দাও”Ñ তাদের এ স্লে­াগানের সাথে তাদের কার্যক্রমের কোনো মিল পাওয়া যায় না। দাওয়াত দিয়ে উদ্দেশ্যমূলকভাবে কার্টুন প্রদর্শন এবং নানা অসত্য রিপোর্টের প্রতিবাদ জানিয়ে আমি প্রথম আলো সম্পাদক-কে যে চিঠি লিখেছি তা সংযোজন করা হল। কতিপয় পত্রিকার অপসংবাদ ও অপসংবাদিকতা দেশের উন্নয়ন কার্যক্রম যেমন বাধাগ্রস্ত’ করেছে, তেমনি আমার সুনাম নষ্ট করেছে। আমি অপসংবাদের শিকার হয়েছি। কতিপয় পত্রিকার অপপ্রচার আমাকে, আমার পরিবার, আত্মীয়স্বজন, দেশবাসী এবং বিশ্ববাসীর কাছে হেয় প্রতিপন্ন করেছে, আমার সম্মান ও সুখ্যাতি নষ্ট করেছে। আমি পত্রিকার এসব সংবাদের তদন্ত ও সত্যতা যাচাইয়ে কতিপয় সম্পাদককে চিঠি দিয়েছি। আমি বারবার পত্রিকার সম্পাদককে চিঠি দিয়ে তাদের অভিযোগ ও তাদের রিপোর্টের সত্যতা প্রমাণের আহবান জানিয়েছি। আমি তাদের ক্লিয়ারকাট প্রস্তাব দিয়েছিলাম, আসুন, ১৯৯১ খ্রিস্টাব্দে আমি রাজনীতিতে যোগদানের পর থেকে এ যাবৎ আমার ব্যক্তিগত বিষয় ও পদ্মা সেতুসহ যত বিষয় নিয়ে অন্যায়ভাবে আমাকে জড়িয়ে যেসব পত্রিকায় রিপোর্ট করা হয়েছে সেগুলো সংশ্লিষ্ট পত্রিকার সম্পাদক ও আমার যৌথ স্বাক্ষরে ‘দুদক’কে দিয়ে তদন্ত করাই। শুধু অভিযোগ নয়, সত্য প্রকাশ হোক, উদঘাটন হোক, এটা আমি যেমন চাই। তেমনি চাই তদন্তে পত্রিকার খবর অসত্য প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট পত্রিকার সম্পাদককে বিচারের দায়-দায়িত্ব নিয়ে কাঠগড়ায় দাঁড়াতে। কিন্তু কোনো সম্পাদক এ বিষয়ে সাড়া দেননি। তাদের ভুলও স্বীকার করেননি। যেসব মিডিয়া এবং তথাকথিত মিডিয়াবাজরা আমাকে নিয়ে যে ষড়যন্ত্র করেছে, আমি তা ভুলে যেতে চাই। সেই বিভীষিকাময় দুঃসময়ের কথা ভুলে যেতে চাই। তবে, আমি এতটুকু আশা করব, যাঁরা আমার সুনামকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন, সত্য উপলব্ধি করুন এবং সেভাবে তাদের লেখনীর মাধ্যমে আমার প্রতি সুবিচার করুন। এ সুবিচারটুকু আমি আপনাদের কাছে চাইতেই পারি। আমি আশা করি, কতিপয় মিডিয়া অসত্য সংবাদ নিয়ে যে বাড়াবাড়ি করেছেন, আমার সুনাম নষ্ট করেছেন, তারা একদিন লজ্জিত হবেন, আমার বন্ধু হবেন, আমার সততার সহমর্মী হবেন, আমাকে ভালবাসবেন এবং আমার প্রতি আন্তরিক ও সহƒদয় হবেন। আমি মিডিয়ার সহযোগিতা কামনা করি। আমি সারা জীবন সততা, নিষ্ঠা ও স্ব”ছতার মধ্য দিয়ে দায়িত্বপালন করেছি। আল্লাহর রহমতে সমাজে নিজেকে সৎ, পরিশ্রমী ও কর্মঠ মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছি। অনেকে অর্থ উপার্জন করে আরামে-আয়েসে দিন কাটায় এবং অনেকে টাকা আয়-বর্ধনশীল কর্মসূচিতে বিনিয়োগ করে। আমি সৎ উপায়ে অর্জিত আমার উপার্জনের টাকা দিয়ে আর্তমানবতার সেবা করেছি, করে যাচ্ছি। প্রত্যন্ত এলাকার শিক্ষার উন্নয়নে আমার কষ্টলব্ধ উপার্জিত অর্থ ব্যয় করেছি। প্রবাদ আছে- Education is the backbone of the nation শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড। শিক্ষা ছাড়া জাতির উন্নতি হয় না। আরেকটি প্রবাদ আছে, “একজন শিক্ষিত মা, একটি শিক্ষিত জাতি উপহার দিতে পারে।” জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেছিলেন, “সোনার দেশ গড়তে সোনার মানুষ চাই।” অর্থাৎ শিক্ষিত মানুষ চাই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘শিক্ষাই মানব সম্পদ উন্নয়নের চাবিকাঠি।’ এসব বক্তব্যের মূল কথা হলো দেশের উন্নয়নের জন্য, দেশের নেতৃত্বের জন্য শিক্ষিত মানুষ চাই। শিক্ষিত মানুষই পারে বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে, নেতৃত্ব দিতে। এদিকটি জীবনের প্রথম দিন থেকে আমাকে উৎসাহিত করেছে। আমি মনে করি, আমি বিশ্বাস করি, শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর কারখানা হলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। মানুষকে দক্ষ, কর্মঠ,যোগ্য, বিনয়ী, বিদ্বান, বুদ্ধিমান, সর্বোপরি মানব সম্পদে রূপান্তরিত বা সোনার মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার একমাত্র মাধ্যম- শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এই বিশ্বাস থেকে আমি শিক্ষা প্রসারে আমার সাধ্যমতো কাজ করে চলেছি। একক প্রচেষ্টায় এলাকায় আমি অনেক প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা, উচ্চবিদ্যালয় ও ৪টি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ প্রতিষ্ঠা করেছি। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মান উন্নয়নে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। প্রতিটি স্কুল-কলেজ এলাকার গন্ডি পেরিয়ে সমগ্র দেশে সুনাম অর্জন করেছে। মূলত আমার একক প্রচেষ্টায় যতগুলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হয়েছে, বাংলাদেশে আর কারও একক প্রচেষ্টা এত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত হয়নি। আমার নির্বাচনি এলাকা মাদারীপুর-৩ এর কালকিনিতে আমার প্রতিষ্ঠিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো দেশ-বিদেশ থেকে লোকজন দেখতে আসেন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও সুধীজনরা এসেছিলেন। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের মতো বরেণ্য সাহিত্যিকও এসেছিলেন আমার এলাকায়, আমার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। তাঁরা আমার শিক্ষা কার্যক্রম দেখে মুগ্ধ হয়েছেন, হয়েছেন বিমোহিত। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে যাঁরা শিক্ষা গ্রহণ করেছেন, তারা অনেকেই সরকারি ও বেসরকারি সংস্থায় উচ্চপদসহ বিভিন্ন পদে কর্মরত আছেন। শিক্ষা বিস্তারের অবদান রাখার জন্য আমি দেশ-বিদেশে বহু পুরস্কারে ভুষিত হয়েছি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ভারতের স্বাধীনতা দিবসে আমাকে বিশেষ পুরস্কার প্রদান করে। এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বারভাঙা হলে ভাইস-চ্যান্সেলরের হাত থেকে আমি এ পুরস্কার গ্রহণ করি। বিশ্বব্যাংক অন্যায়ভাবে, অসত্য অভিযোগ ও পত্র-পত্রিকার খবরের উপর ভিত্তি করে, আমাকে যে অভিযুক্ত করেছে, এর প্রতিকার কী? পদ্মা সেতুর ঋণ নিয়ে, কার্যক্রম নিয়ে অহেতুক তারা বিশ্বব্যাপী তোলপাড় সৃষ্টি করলো, বাংলাদেশের পদ্মা সেতু নির্মাণকে অনিশ্চয়তায় নিয়ে এলো, এর প্রতিকার কী? এসব নেতিবাচক কার্যক্রমের মাধ্যমে ব্যক্তিগতভাবে আমার সম্মান ও সুনামকে ক্ষুন্নকরা হয়েছে।

দেশবাসীর কাছে আমাকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। আমাকে ছোট ও হেয় প্রতিপন্ন করা হয়েছে, এর প্রতিকার কী? যে স্বার্থান্বেষী গ্রুপের অসত্য অভিযোগ এবং যে সাংবাদিক ও সংবাদপত্রের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিশ্বব্যাংক আমার প্রতি এ অন্যায় করেছে, সে গ্রুপ ব্যক্তি, রিপোর্টার এবং পত্রিকা/মিডিয়ার ভূমিকা বা করণীয় কী? এসব প্রশ্নের উত্তর স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নৈতিকতার স্বার্থে মিডিয়ার দেওয়া উচিত। আমি এর জন্য তাদের কার বিচার চাই না। কতিপয় পত্রিকাও এ অসত্য রিপোর্টে প্রভাবিত হয়ে আমাদের সুধীসমাজ পত্রিকায় আমার সম্পর্কে কটূক্তি করে লিখেছেন, টকশোতে নেতিবাচক আলোচনা করেছেন, শহিদ মিনারে অনশন করেছেন, শিশুদের গলায় আমার নাম ঝুলিয়ে পদত্যাগ চেয়েছেনÑ এরই বা প্রতিকার কী? আবার এসব কতিপয় পত্রিকার রিপোর্ট এবং সুধিজনের আলোচনায় প্রভাবিত হয়ে জনৈক রাষ্ট্রদূত আমার সম্পর্কে তাদের দেশে Less than honest’ ’ বলে রিপোর্ট পাঠিয়েছেনÑ এরইবা প্রতিকার কী? আমি কারো শাস্তি চাই না- তবে আমি তাদের বিবেকের কাছে প্রতিকার চাই। যেভাবে তারা আমার সম্মান ক্ষুন্ন করেছেন, সেভাবেই তারা আমার ক্ষুন্ন মর্যাদা ফিরিয়ে দিতে পারেন। আমি তাদের সহƒদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। আমি বিশ্বাস করি, বিবেক মানুষের বড় রক্ষাকবচ। বিবেক মানুষকে তাড়িত করে ন্যায়ের দিকে, আলোর দিকে। আমি তাদের বিবেকের কাছে দাবি করছি, আপিল করছি, তাদের দ্বারা আমার ক্ষুন্নœ হয়ে যাওয়া সম্মান ফিরিয়ে দিতে। আমি সবার সহযোগিতা চাই। জনসেবা ও দেশের বৃহত্তর অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখার লক্ষ্য নিয়ে আমার রাজনীতিতে আসা। কিন্তু জনসেবার উদ্দেশ্যে রাজনীতিতে এসে আমি আজ ক্ষুব্ধ, মর্মাহত এবং ব্যথিত। আজ আমি হতাশ। সরকারে মন্ত্রিত্ব গ্রহণ করে আমি ঘরের শত্রু, বাইরের শত্র“র দ্বারা আক্রান্ত। সততা ও নিষ্ঠার যেন কোনো জায়গা নেই এখানে। কারও স্বার্থে ব্যাঘাত ঘটলেই পত্রিকায় লেখা, পরিকল্পিত প্রপাগান্ডা চালিয়ে অর্জিত মর্যাদাবোধকে ভেঙে দেওয়া হয়। চারবার এমপি হয়ে অনিয়ম না করেও বারবার অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছি। এ রাজনীতি এক নতুন জগৎ। এ জগতের জন্য যে রাজনীতিক প্রজ্ঞা ও কৌশল দরকার, সে মাপের নেতা আমি নই। তবে আমার আছে সহিষ্ণুতা, সহনশীলতা, আছে কর্মোদ্যোগ ও দায়িত্ববোধ। ব্যবসায়ী হিসেবে দেশের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। ব্যবসাই আমাকে উন্নতি ও মর্যাদা দিয়েছে। দেশের মানুষের উপকার ও সেবা করার শক্তি যুগিয়েছে। দেশ-বিদেশে আমাকে পরিচিতি দিয়েছে। আমি সততার সাথে, নিষ্ঠার সাথে ব্যবসা করে জীবনে উন্নতি এনেছি। রাজনীতিতে এসে এমপি হয়েছি, মন্ত্রী হয়েছি। এমপি মন্ত্রী হয়েও আমি দায়িত্বপালনে নিষ্ঠাবান ছিলাম। স্বচ্ছ ছিলাম। অক্লান্ত পরিশ্রম করেছি, দেশের উন্নয়নে কাজ করেছি। ব্যবসা থেকে নিজেকে গুটিয়ে একশ’ ভাগ রাজনীতিক কর্মী হয়েছি। সবার সাথে সদাচরণ করেছি। কাউকে বিদ্বেষ ভাব পোষণ করি নি। সব সময় অন্যের উপকারের চেষ্টা করেছি। উপকার করেছি। কার প্রতি বৈরীভাব পোষণ করি নি, কার উপর প্রতিশোধ নেয়ার স্পৃহা হয় নি। অথচ আজ আমি তার বিনিময়ে কী পাচ্ছি? পেয়েছি কিছু লোকের এক ধরনের নেতিবাচক মনোভাব। মনে হয়- সব্যসাচীর প্রবাদটিই সত্য। তিনি বলেছেন, “মানুষ যাকে উপকার করে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে তার কাছ থেকেই আঘাত পেয়ে থাকে। অকৃতজ্ঞতাও মানুষের একটি স্বভাব।” আমার ইতিবাচক কাজের জন্য আমি মিডিয়া থেকে, সহকর্মীদের কাছ থেকেও এজন্য অনুপ্রেরণা পাইনি, বরং বিরুদ্ধাচরণ পেয়েছি। সমালোচনা পেয়েছি। পত্রিকার ‘ব্যানার হেড’ শিরোনাম হয়েছি। তবে শেখ সাদী’র ভাষায়, “যে সৎ হয়, নিন্দা বা অপবাদ তার অনিষ্ট করতে পারে না”। আমি এ কথা বিশ্বাস করে কাজ করে চলেছি। আমি আগেই বলেছি, আমি ব্যবসা করে প্রতিষ্ঠা পেয়েছি। জীবনের প্রথম থেকেই এলাকার জনগণের পাশে থেকে কাজ করেছি। আমার নিজ এলাকা কালকিনি-মাদারীপুরের জনগণের শিক্ষা ও জীবনমান উন্নয়নে অবদান রাখার চেষ্টা করেছি। ১৯৮৮ খ্রিস্টাব্দে মহাদুর্যোগের সময় এলাকার মানুষের ঘরে ঘরে, নৌকায় গিয়ে সাহায্য করেছি, পুনর্বাসনের মাধ্যমে তাদের মনোবল ফিরিয়ে আনতে সচেষ্ট থেকেছি। এরপর থেকে এলাকার মানুষের প্রতিটি দুর্যোগে তাদের পাশে আছি। একপর্যায়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে রাজনীতিতে আসা। প্রথমেই আমি এলাকার উন্নয়নে শিক্ষাকে গুরুত্ব দেই। গড়ে তুলি স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, মাদরাসা এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়। আজ আমার নির্বাচনি এলাকা মাদারীপুর-৩ (কালকিনি উপজেলা/মাদারীপুর সদরের ৫টি ইউনিয়ন) একটি ‘শিক্ষা অঞ্চল’ হিসেবে দেশে-বিদেশে সুপরিচিত। রাজনীতিতে আসার সুবাদে দু’বার জননেত্রী শেখ হাসিনার মন্ত্রিসভার সদস্য হই, দক্ষতার সাথে, উদ্যোগ নিয়ে দায়িত্ব পালন করি। আমি আমার সামগ্রিক দায়িত্ব পালনে কোনো অবৈধ কাজ করিনি, কোনো অন্যায় করিনি, কোনো দুর্নীতি করিনি। আল্লাহর রহমতে যেকোনো বিচারে আমি সম্মানিত হবো। পদ্মা সেতু নির্মাণে বিশ্বব্যাংক অসত্য অভিযোগের ভিত্তিতে যে পদক্ষেপ নিয়েছে, আমার ও দেশের ক্ষতি করেছে, তাতে বিশ্বব্যাংক একদিন অনুতপ্ত হবে। ১৫ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৪ তারিখে পিপিআরসি নামক একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান আয়োজিত অনুষ্ঠানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও অর্থনীতিবিদ ড.আকবর আলি খান এর বক্তব্য এখানে প্রাসঙ্গিক। তিনি বলেছেন যে, বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে এমন সব উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ করে, যাতে বাস্তবতা প্রতিফলিত হয় না, ফলে গবেষণার ফলাফল হয় ভিত্তিহীন। পদ্মা সেতুর কথিত ষড়যন্ত্রের অভিযোগেও বেনামি এবং অনির্ভরযোগ্য উৎস থেকে তথ্য সংগৃহীত হয়েছে। কিন্তু ড. আকবর আলি খানসহ কোনো গুণী ব্যক্তি তখন এসব কাল্পনিক অভিযোগের ব্যাপারে কোনো প্রশ্ন তোলেননি। কর্মময় জীবন সম্পর্কে বলতে গিয়ে সৈয়দ আবুল হোসেন বলেন, আমি আগেই বলেছি, আমি কর্মজীবনে, ব্যবসায়িক জীবনে এবং সরকারি দায়িত্বপালনে সর্বদা স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও ইন্ট্রিগ্রিটিতে বিশ্বাসী একজন পরিচ্ছন্ন মানুষ। কোনোদিন, কোনো সময়, আমি কোনো অন্যায়কে প্রশ্রয় দেইনি। সরকারি নিয়ম-আইন ভঙ্গ করে কোনো নথিতে সাক্ষর করিনি। আমার কষ্টার্জিত, পরিশ্রমলব্ধ অর্থ গরীব-দুঃখী মানুষের উন্নয়নে, দেশের শিক্ষা বিস্তারে ্যয় করেছি, করে চলেছি। অর্থ থাকলে অনেক মানুষের যে বদঅভ্যাসগুলোর সৃষ্টি হয় তাতে আমি জীবনে কখনো সম্পৃক্ত হইনি। আমার শত্রুরাও এ বিষয়ে বলতে পারবে না। আমি বিশ্বাস করি, আমার জীবদ্দশায় না হলেও আমার অবর্তমানে এসব কাজের, আমার সরলতা, আমার সততা ও নিষ্ঠা এবং কর্তব্য ও দায়িত্ববোধের মূল্যায়ন হবে। হেনরি ডেভিডের ভাষায়, আমি মনে করি ,odness is the investment that never fails. . সত্য, সততা, স্বচ্ছতা, ন্যায়পরায়ণতা, বিনয়, জবাবদিহিতা আমার কাজের শক্তি, আমার অহংকার। জানিনা, কেন বারবার কলাম লিখে, গল্প বানিয়ে, রস দিয়ে, রঙ দিয়ে সংবাদ প্রচারের মাধ্যমে, সম্পাদকীয় লিখে জনগণকে বিভ্রান্ত করা হয়। পাশাপাশি আমার সুনাম ক্ষুণœ করা হয়! আমি বিশ্বাস করি, আমার সামগ্রিক দায়িত্বপালন, আমার সততা একদিন অপপ্রচার, অপসাংবাদিকতা এবং অসত্যকে চাপা দেবে এবং আমার সততা সবার কাছে প্রতিষ্ঠিত হবে, উদ্ভাসিত হবে। আজ হোক, কাল হোক, সত্য একদিন উদঘাটিত হবেই, সত্য প্রকাশিত হবেই। আমি মনে করি, আমার এ সম্পাদনা পুস্তিকা সত্য প্রকাশে সহায়ক হবে, সবাইকে সত্য জানতে সাহায্য করবে। ভবিষ্যৎ গবেষণার জন্য দেশের সাংবাদিক, সুধীজন ও মধ্যরাতের আলোচনায় যাঁরা অংশগ্রহণ করেন- তাঁরা রেফারেন্স হিসেবে এই বইটি ব্যবহার করতে পারেন। বিশ্বব্যাংকও এই বইটিকে গবেষণার জন্য রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। বিগত দিনে যাঁরা যোগাযোগ মন্ত্রী ছিলেন, বর্তমানে যিনি আছেন, ভবিষ্যতে যাঁরা যোগাযোগ মন্ত্রী হবেন- তাদের এবং আমার কার্যক্রমের তুলনামূলক চিত্র হিসেবে এই বই ব্যবহার করা যেতে পারে। আমি সবার দোয়া ও সহযোগিতা চাই। সত্য ও আলোর পথ অনুসরণ না করে, অসত্য অন্ধকারে যাঁরা আমার বিরুদ্ধে অন্যায়ভাবে কথা বলেছেন, আমার ভাবমূর্তি বিনষ্ট ও আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করেছেনÑ হে আল্লাহ্, হে প্রভু, তুমি তাদের ক্ষমা করো ও সত্যের পথ দেখাও!

নাছিমকে আবুল হোসেনের চিঠি যে ফুল ফুটিয়েছি তা ধ্বংস করে দিও না

সাবেক সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন এখন আর এমপি, মন্ত্রী কোনটি নন। ২০১৪ সালের অক্টোবর মাসের ২৬ তারিখ পর্যন্ত এক পদ্মা সেতুর প্রকল্পের পরামর্শক নিয়োগের বিতর্র্ক তাকে সব কিছু থেকেই বাইরে ছিটকে সরিয়ে দিয়েছে। তিনি দুর্নীতি করেছেন কি করেননি এটা ছিল বড় প্রশ্ন। তার বিরুদ্ধে এখনও দুদক কোনো প্রমাণ সংগ্রহ করতে পারেননি। তা না পারলেও তাকে সন্দেহভাজনের তালিকায় রেখেছে মামলাতে। এই কারণে তাকে রাখা হয়েছে মানসিক যন্ত্রনার মধ্যে। এই দুর্নীতির তদন্ত শেষ না হওয়ায় ও মামলায় তদন্ত শেষ করে চার্জশিট দাখিল না করার কারণে এখনও স্পষ্ট নয় কি হবে আবুল হোসেনের ভাগ্যে ঠিক কি হবে শেষ পর্যন্ত। কিন্তু ২৬ অক্টোবর তিনি দুদকের সব অভিযোগ তেকে রেহাই পান ও সন্দেহভাজনের তালিকা থেকেও বাদ পড়েন্ দুদক তাকে ক্লিন সার্টিফিকেটও দেয়। যদিও তিনি আগে থেকেই নিজেকে নির্দোষ দাবি করছিলেন। সব শেষে সেটাও প্রমাণ হয়েছে। তার নামটি নানা আলোচনায় আসার কারণে এবার তাকে সংসদ সদস্য পদে মনোনয়ন দেননি প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বাহাউদ্দিন নাছিমকে তার এলাকায় মনোনয়ন দেন এবং বিনা প্রতিদ্বন্ধতিায় পাস করিয়ে আনেন। বাহাউদ্দিন নাছিমকে সৈয়দ আবুল হোসেন অপছন্দ করেন না। তবে তাকে মনোনয়ন দেয়ায় এবং এই ব্যাপারে তার সঙ্গে কোনো কথা না বলায় তার মনে কষ্ট রয়েছে। এছাড়াও আশঙ্কা রয়েছে সৈয়দ আবুল হোসেন এলাকায় উন্নয়নের যে ধারা তৈরি করেছিলেন সেটা বহাল থাকবে কিনা। নাকি সমস্যা হবে। যাতে কোনো সমস্যা না হয়, উন্নয়নের ধারা বজায় থাকে এইজন্য তার এলাকার নব নির্বাচিত এমপি বাহাউদ্দিন নাছিম এমপি হওয়ার পর সৈয়দ আবুল হোসেন একটি চিঠি লিখেন। আবুল হোসেন চিঠি লিখতে পছন্দ করেন। এই কারণে তিনি তার প্রায় সব বিষয়েই সংশ্লিষ্টদের চিঠি লিখেন। ২০১৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর তার লেখা ওই চিঠিতে তিনি লিখেন, জনাব আ.ফ.ম. বাহাউদ্দিন (নাছিম) প্রিয় নাসিম,বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচনি এলাকা মাদারীপুর-৩ থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় তোমাকে আমি অভিনন্দন জানাই। তোমার সাফল্য কামনা করি। তুমি আমার ছোট ভাই। তুমি বড় নেতা হও, এমপি হও- এটা আমি সব সময় চেয়েছি। তোমার প্রতি আমার অশেষ ¯েœহ রয়েছে। তোমার প্রতি আমি অত্যন্ত দুর্বল। তোমার বাবার মৃত্যুতে তাঁর জানা যায় প্যারোলে তুমি এসেছিলে। আমি সে জানা যায় উপ¯ি’ত ছিলাম। তোমার সে উপস্থিতি ছিল বেদনাদায়ক। সে দৃশ্য আজও আমি ভুলিনি। সন্তান হয়ে বাবার মৃত্যু শয্যায় তুমি পাশে থাকতে পারনি। বিনাদোষে, রাজনীতিক প্রতিহিংসার কারণে, আসামি হয়ে তোমাকে জেলে থাকতে হয়েছিল। সে ঘটনা ছিল দুঃখজনক, অত্যন্ত বেদনাদায়ক। ¯েœহের নাসিম, আমার সরাসরি রাজনীতিতে আসার প্রেক্ষাপট, তোমার অজানা নয়। পশ্চাতে আওয়ামী লীগের কর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে, ব্যবসায় থেকে ১৯৯১ সালে আমি সরাসরি রাজনীতিতে এসেছি। জনগণের সেবার মানসিকতা নিয়ে গত ২৩ বছর, এলাকার উন্নয়নে সম্পৃক্ত থেকে কাজ করেছি। আমি রাজনীতিকে, সংসদ সদস্য পদকে আয়ের উৎস হিসেবে কখনো ব্যবহার করিনি। এলাকার নেতৃত্ব ও জনগণ তার সাক্ষ্য দেবে। তুমি জানো, আমি দল ও নেত্রীর প্রতি আনুগত্যশীল ও আস্থাশীল। নেত্রীর যেকোনো সিদ্ধান্ত আমার কাছে অবশ্য পালনীয়, করণীয়। নেত্রীর ¯েœহ, ভালবাসা, আমার প্রতি মমত্ববোধ- আমি কোনোদিন ভুলবো না, ভুলতে পারি না। যতদিন আমি বেঁচে থাকবো- ততদিন আমি নেত্রী ও তাঁর পরিবারের সদস্যের প্রতি অনুগত থেকে কাজ করে যাবো। চিঠিতে একপর্যায়ে কিছুটা আক্ষেপ করে লিখেন, ¯েœহাস্পদ নাসিম, আমি এখনো মাদারীপুর-৩ নির্বাচনি এলাকার সংসদ সদস্য। তুমি আমার নির্বাচনি এলাকায় নির্বাচন করবে, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছো- এটা ভালো কথা, আনন্দের কথা। এর জন্য কি আমার সাথে আলোচনা করা যেতো না? নির্বাচনের আগে বিষয়টি নিয়ে আমার সাথে খোলামেলা কথা বললে তুমি কি ভুল করতে? তুমি কালকিনি গেছো, যাচ্ছো- সেটা আমাকে বলে গেলে কি ভালো হতো না? আমি মনে করি, বিষয়টি তোমার জন্য ভালো হতো- নেতৃত্বসুলভ ও সৌজন্যমূলক হতো। জনগণের কাছে তোমার গ্রহণযোগ্যতা বাড়তো। জানি না, কোনো চিন্তা-চেতনায় বা কার পরামর্শে তুমি এধরনের অসৌজন্যমূলক পথে পা বাড়ালে। যাহোক, এগুলো তোমার প্রতি আমার কোনো অভিযোগ নয়- বড় ভাই হিসেবে আমার অবজারভেশন। প্রিয় নাসিম, তুমি জানো, নব্বই দশক থেকে সরাসরি আমি রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হয়ে, পরপর ৪ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে, কালকিনিকে, মাদারীপুর-৩ নির্বাচনি অঞ্চলকে সার্বিক দিক দিয়ে একটি উন্নত যোগাযোগ সমৃদ্ধি শিক্ষা-অঞ্চল হিসেবে গড়ে তুলেছি। এ অঞ্চলে আওয়ামী লীগের বাগান তৈরি করেছি, বাগানে ফুল ফুটিয়েছি। চারিদিকে আওয়ামী ফুলের সুঘ্রাণ ছড়িয়ে দিয়েছি। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করে এলাকার উন্নয়নকে এগিয়ে নিয়েছি। যোগাযোগ খাতের উন্নয়ন করেছি। সন্ত্রাস বন্ধ করেছি। মারামারি, দলাদলি বন্ধ করে এলাকায় শান্তি প্রতিষ্ঠা করেছি। এলাকায় নানা সরকারি অবকাঠামো তৈরি করেছি। নিজের অর্জিত সম্পদ দিয়ে নানা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়ন ও পরিচর্যা করেছি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে পরিচালনা পরিষদসহ রাজনীতি মুক্ত রেখেছি। কলেজ পরিচালনা কমিটিতে জেলা প্রশাসককে সভাপতি করেছি। উন্নয়ন কার্যক্রমের ফিরিস্তি দেবো না- তুমি একটু লক্ষ করলে দেখবে, বুঝবে- কালকিনি নব্বইয়ের আগে কি ছিল- আজ কোন্ অবস্থায়?

আরো লিখেন, ¯েœহের নাসিম, এলাকায় বর্তমানে অনেক প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন আছে। অনেক প্রকল্পের টেন্ডার হয়েছে। অনেকগুলোর টেন্ডার প্রক্রিয়াধীন আছে। খাসেরহাট পৌরসভা স্থাপনের কাজটি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সাহেবরামপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে। শেখ হাসিনা একাডেমি অ্যান্ড উইমেন্স কলেজ জাতীয়করণের বিষয়টি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। কালকিনি উপজেলা সদরের কালকিনি কলেজ ও কালকিনি পাইলট উচ্চবিদ্যালয় জাতীয়করনের প্রক্রিয়াধীন আছে। মাদারীপুর সদরে অবস্থিত খোয়াজপুরস্থ সৈয়দ আবুল হোসেন কলেজটিও জাতীয়করণের দাবি রাখে। কারণ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে এ কলেজটি দেশের একটি শ্রেষ্ঠ অলংকার। এ কলেজ থেকে পাশ করা তিন সহস্রাধিক শিক্ষার্থী সরকারের উচ্চ পদে কর্মরত। এ কলেজকে এগিয়ে নেয়া, জাতীয়করণ করার দায়িত্ব এখন তোমার।

আমি চাই আমার প্রতিষ্ঠিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং এলাকার অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়ন অব্যাহত থাকুক। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো রাজনীতিমুক্ত থাকুক। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর, বিশেষ করে, আমার প্রতিষ্ঠিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কলেজ পরিচালনা কমিটির জেলা প্রশাসক বর্তমানে সভাপতি- এ অবস্থা অব্যাহত থাকুক। শিক্ষার প্রচলিত ধারা এবং এলাকার বিদ্যমান উন্নয়ন কার্যক্রমে কোনো নেতিবাচক প্রতিফলন না ঘটুক। আমি চাই, তুমি রিলে রেসের মতো-যাও এ উন্নয়ন ধারাকে এগিয়ে নাও- জনগণের প্রত্যাশাপূরণে কাজ করো। এ ক্ষেত্রে আমার সকল সহযোগিতা তোমার সাথে থাকবে। øেহের নাসিম, তুমি শিক্ষিত, বুদ্ধিমান এবং রাজনীতিক সচেতন ব্যক্তিত্ব। তোমার অপার নেতৃত্বের গুণাবলী রয়েছে। একে সঠিকভাবে কাজে লাগাও- এটাই আমার প্রত্যাশা। গত ২৩ বছরে আমি মাদারীপুর-৩ নির্বাচনি এলাকায় আওয়ামী লীগের যে বাগান সৃষ্টি করেছি, সে বাগানে ফুল ফুটিয়েছি- তা যাতে ধ্বংস না হয়- সে দায়িত্ব তোমার। তোমার সাফল্য কামনা করি। চিঠিতে তিনি নাছিমকে শুভে”ছা দিয়ে শেষ করে নিজেকে বড় ভাই হিসাবে বিশেষায়িত করেছেন। সৈয়দ আবুল হোসেন, এমপি। ওই চিঠি লেখার দিনই তিনি তার উপজেলার সভাপতিকেও চিঠি লিখেন। সেখানেও উন্নয়নের ফিরিস্তি দেন।

এলাকাবাসী অনেকেই মনে করেন, মাদারীপুর নির্বাচনি এলাকা-৩ এর সার্বিক উন্নয়নে তাঁর কার্যক্রমের ছোঁয়া এলাকাকে সমৃদ্ধি এনে দিয়েছে, গ্রামের মানুষকে কর্মমুখর করেছে। তাঁর এই এলাকার জনগণ সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে আজ দেশে-বিদেশে কর্মরত। এ এলকার সুনাম আজ দেশ-বিদেশে বিস্তৃত। তিনি শুধু শিক্ষা বিস্তারেই অবদান রাখেননিÑএলাকার অবকাঠামো উন্নয়নেও স্মারক ভূমিকা পালন করেছেন। সৈয়দ আবুল হোসেন-এর নিরলস প্রচেষ্টায় এলাকায় সড়ক যোগাযোগের উন্নয়ন ঘটেছে, বিদ্যুৎ প্রাপ্তি নিশ্চিত হয়েছেÑএলাকার মানুষের জীবনে আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে। তিনি মাদারীপুর-৩ এলাকার আইকন, আইডল এবং উন্নয়ন স্মারক। ১৯৮৯ সালে খোয়াজপুর কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী শেখ শহিদ কলেজ প্রতিষ্ঠায় বাধা দেয়। কলেজের ছাত্ররা মেধা তালিকায় শীর্ষে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এ কলেজের ছাত্ররা বেশি ভর্তি হয়। এ কলেজের প্রায় ৩৫০০ ছাত্রছাত্রী সরকারি কর্মকর্তা হয়েছে। তারা দেশ শাসনে অবদান রাখছে। ১৯৭২ থেকে ১৯৯১ পর্যন্ত কালকিনি কলেজ ছিল টিনের ঘর। এখন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ। এ কলেজের ছাত্ররা দেশে-বিদেশে চাকরি করে। কলকাতা থেকে লোক আসে কলেজের অবকাঠামো দেখতে। দেখে তারা সৈয়দ আবুল হোসেনকে স্বাধীনতা পুরস্কার দেন। সৈয়দ আবুল হোসেন সব সময় এলাকার মানুষের সুখ-দুঃখের সাথে সম্পৃক্ত থাকতেন। এলাকায় যেতেন এবং মাঝে মাঝে তিনি চিঠির মাধ্যমে জনগণের সাথে যোগাযোগ রাখতেন, মতবিনিময় করতেনÑ তাঁর স্বপ্ন বাস্তবায়নের কথা বলতেনÑজনগণকে তাঁর সাথে সম্পৃক্ত করতেন। বিভিন্ন সময়ে তিনি যে চিঠিগুলো এলাকার জনগণের জনপ্রতিনিধিদের পাঠাতেন তার দু’টি লেখকের হস্তগত হয়েছে। চিঠি দু’টি এ লেখায় পত্রস্থ’ করা হলো।

সৈয়দ আবুল হোসেন ২০১৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের মাদারীপর জেলার কালকিনি উপজেলার সভাপতি বেগম তাহমিনা সিদ্দিককে একটি চিঠি লিখেন। ওই চিঠিতে তিনি বলেছেন, শ্রদ্ধেয় তাহমিনা সিদ্দিক, আপনি জানেন, আমি শিক্ষা জীবন শেষে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত থাকলেও ১৯৯১ সাল থেকে দলের রাজনীতির সাথে সরাসরি জড়িত রয়েছি। পরপর ৪ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে মাদারীপুর-৩ নির্বাচনি এলাকার জনগণের সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা এবং এলাকার সামগ্রিক উন্নয়নের সাথে আমি সম্পৃক্ত। দীর্ঘ এই আড়াই দশকে আপনারা অনেকে, বিশেষ করে, আপনি আমার সাথে ছিলেন, আপনাদের সাথে পরামর্শ করে আমি এলাকার কাজ করেছি। কখনও আপনাকে ছাড়া আমি এলাকা পরিদর্শন বা কোনো অনুষ্ঠানে যোগ দেইনি।

শ্রদ্ধেয় তাহমিনা সিদ্দিক, আপনি আমার কাজের ধরন ও স্টাইল সম্পর্কে ওয়াকেবহাল। আমি স্থানীয় নেতা-কর্মীদের সম্পৃক্ত করে, আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে কাজ করতে পছন্দ করি। আমি প্রত্যেক কর্মীকে সম্মান করি, কাউকে খাটো করে, হেয় প্রতিপন্ন করে কাজ করতে পছন্দ করি না। আমি নেতা-কর্মীদের মধ্যে দলাদলি সৃষ্টি এবং এলাকায় সন্ত্রাসের রাজনীতি অপছন্দ করি। আমার লক্ষ্য জনগণের ভাগ্য উন্নয়ন করা এবং এলাকার শান্তি বজায় রাখা। নিরবচ্ছিন্নœ কাজের মাধ্যমে আমার সে লক্ষ্য পূরণে আমি অনেকাংশে সফল হয়েছি। এ ক্ষেত্রে আমি আপনাদের সকলের সহযোগিতা কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করি। আরো লিখেছেন, আপনার মনে আছে, স্বাধীনতার পরে ১৯৭৩ সালে একবারমাত্র আওয়ামী লীগ আমাদের এলাকায় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়েছিল। ১৯৭৩ এরপর থেকে ১৯৯১ এর পূর্ব পর্যন্ত মাদারীপুর-৩ নির্বাচনি এলাকায় আওয়ামী লীগের কোনো প্রার্থী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়নি। এমনকি স্থানীয় নির্বাচনে উপজেলা চেয়ারম্যান পদেও নয়। এ সময় আমাদের এলাকায় আওয়ামী লীগের সংগঠন দুর্বল ছিল, অসংগঠিত ছিল। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে ১৯৯১ সালে আমি মাদারীপুর-৩ এলাকা থেকে নির্বাচন করি। এর আগে শুধু ব্যক্তি উদ্যোগে গরিব-দুঃখীদের সাহায্য-সহযোগিতা এবং ১৯৮৮ সালের বন্যা ও তদপরবর্তী প্রতিটি দুর্যোগে দুর্গতদের সাহায্যে সরাসরি অংশগ্রহণ করি। আমি নির্বাচনে এসে পার্টিকে, নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করে নির্বাচনে আওয়ামী লীগের জয় সুনিশ্চিত করি। আপনাদের নিয়ে এলাকায় আওয়ামী লীগকে সংগঠিত করার কাজ শুরু করি। এরপর আমি এই নির্বাচনি এলাকায় পরপর ৪ বার নিরঙ্কুশ সংখ্যা গরিষ্ঠতা পেয়ে নির্বাচিত হই। আমার সাথে নির্বাচন করে জনাব শেখ শহিদুল ইসলামের মতো একজন প্রাক্তন মন্ত্রীকেও জামানত হারাতে হয়েছে। এর অর্থ, এলাকায় আওয়ামী লীগ এত সুসংগঠিত হয়েছে, যে বাইরে থেকে বা অন্য দল থেকে কেউ এখানে এসে নির্বাচনি বৈতরনী পার হওয়া কখনও সম্ভব ছিল না। গত আড়াই দশকে আমি আপনাদের সহযোগিতায় এলাকায় আওয়ামী লীগের বাগান তৈরি করেছি। এলাকার আলো, বাতাস আওয়ামী লীগের কথা বলে। আওয়ামী লীগকে সুসংগঠিত করতে কত অর্থ, কত কষ্ট, কত উদ্যোগ, কত পরিশ্রম করতে হয়েছে- তা আপনার অজানা নয়। আপনার নিশ্চয়ই স্মরণ আছে, জায়গার অভাবে দীর্ঘদিন কালকিনি আওয়ামী লীগের অফিস প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়নি। কেউ অফিসের জন্য স্বে”ছায় জায়গা দিতে এগিয়ে আসেননি। পরবর্তীকালে জায়গা ক্রয় করে আমাদেরকে কালকিনিতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অফিস নির্মাণ করতে হয়েছে। কীভাবে যে অফিসের জায়গা ক্রয় ও অফিস নির্মাণ করা হয়েছে- তাও আপনি অবগত আছেন।

শ্রদ্ধেয় তাহমিনা সিদ্দিক, আজ মাদারীপুর-৩ নির্বাচনি এলাকা আওয়ামী লীগের বাগান, রাজনীতিক ভাষায় আওয়ামী লীগের দুর্গ। আওয়ামী লীগের এই অঞ্চলে, এ বাগানে কোনো বিভেদ নেই, হিংসা-বিদ্বেষ নেই, মারামারি নেই- কোনো কোন্দল নেই। আমরা এ অঞ্চলের সকল ধর্ম-বর্ণ-গোষ্ঠী ও দলের মধ্যে ঐক্য সৃষ্টি করেছি। এলাকার উন্নয়নে সবাইকে ঐকমত্যে নিয়ে এসেছি। আপনার নিশ্চয়ই মনে আছে, আমাদের কালকিনি কলেজ প্রাঙ্গণে লক্ষাধিক লোকের জনসভায় আমার অনুরোধে বিএনপির উপজেলা সভাপতি বক্তব্য রেখেছেন। বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা মরহুম জনাব এ. কে. এম ফিরোজ নুনও বক্তব্য রেখেছেন। আমি এলাকার উন্নয়নে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে একত্র করেছি। এ ধরনের ব্যতিক্রর্মী কালচার দেশে কোথাও সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা নেই। তার সুফলও আমরা পেয়েছি। এলাকার সামগ্রিক উন্নয়ন ঘটেছে, রাস্তাঘাটসহ যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হয়েছে। বিদ্যুৎ এসেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। শিক্ষার আলো সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে। আজ আমাদের নির্বাচনি এলাকায় ৩টি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজসহ ৮টি কলেজ উচ্চশিক্ষা বিস্তারের অবদান রাখছে। শেখ হাসিনা একাডেমি অ্যান্ড উইমেন্স কলেজ জাতীয়করণ করার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। কালকিনি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ও কালকিনি পাইলট উচ্চবিদ্যালয় (বয়েজ স্কুল) জাতীয়করণের প্রক্রিয়াধীন। গত আড়াই দশকে এলাকার অবকাঠামো উন্নয়নে অনেক কাজ হয়েছে। সেগুলো এখন দৃশ্যমান। বিস্তারিত বর্ণনা দেয়ার প্রয়োজন পড়ে না। সম্প্রতি শেখ হাসিনা একাডেমি অ্যান্ড উইমেন্স কলেজ, ডি. কে. আইডিয়াল সৈয়দ আতাহার আলী একাডেমি এণ্ড কলেজ, কালকিনি সৈয়দ আবুল হোসেন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, এ.বি.সি.কে সৈয়দ আবুল হোসেন কলেজ, খাসেরহাট সৈয়দ আবুল হোসেন স্কুল এণ্ড কলেজ, সাহেবরামপুর কবি নজরুল ইসলাম কলেজ, শশীকর শহিদ স্মৃতি মহাবিদ্যালয় এবং শিকারমঙ্গল উচ্চ বিদ্যালয়, নবগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়, লক্ষ্মীপুর ইউনাইটেড উচ্চ বিদ্যালয়, গোপালপুর উচ্চ বিদ্যালয়, সৈয়দ আবুল হোসেন একাডেমী, আলিপুর উচ্চ বিদ্যালয়, চলবল উচ্চ বিদ্যালয়, বাহাদুরপুর উচ্চবিদ্যালয় (মাদারীপুর সদর), বীরমোহন উচ্চবিদ্যালয় এবং জুঁরগাও উচ্চ বিদ্যালয়- আমার প্রচেষ্টায় উন্নয়ন অবকাঠামোতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন কাজের টেন্ডার আহবান করা হয়েছে এবং বাকিগুলোর টেন্ডারও পর্যায়ক্রমে আহবান করা হবে। গত আড়াই দশকে এ এলাকায় গড়ে উঠেছে পর্যাপ্ত প্রাথমিক ও উচ্চ বিদ্যালয়। এর পূর্বেও অনেক কলেজ, প্রাথমিক বিদ্যালয়, উচ্চবিদ্যালয় ও মাদ্রাসার অবকাঠামো উন্নয়ন করা সম্ভব হয়েছে। ১৩৫টি প্রাইমারি কমিউনিটি স্কুলের ম্যাচিং ফান্ডের টাকা আমি পরিশোধ করে এলাকার শিক্ষার ভিত নির্মাণ করেছিলাম। মাদারীপুর-৩ নির্বাচনি এলাকার ১৩৫টি প্রাইমারি কমিউনিটি স্কুল আজ সরকারি স্কুলে রূপান্তরিত হয়েছে। এসব স্কুলের শিক্ষকরা সরকারি চাকুরিজীবী হয়েছেন- ছেলেমেয়েরা লেখাপড়ার সুযোগ পেয়েছেন। আজ আমাদের এলাকা ‘শিক্ষাঞ্চল’ হিসেবে সর্বত্র প্রশংসিত হ”েছ। এটা গৌরবের এবং মর্যাদার। এ গৌরব যেমন আমাকে আল্পুত করে- তেমনি এ গৌরবের মালিক আমাদের নির্বাচনি এলাকার জনগণ, বিশেষ করে, আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা- যাদের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় এ কাজগুলো করা সম্ভব হয়েছে, সহজ হয়েছে। আপনি জানেন, শিক্ষা বিস্তারের অবদানের জন্য আমি দেশে-বিদেশে অনেক পুরস্কার পেয়েছি। ভারতের ‘স্বাধীনতা পুরস্কার’ আমাকে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের দাড়ভাঙ্গা হলে প্রদান করা হয়েছে।

কালকিনির চিত্র তুলে ধরতে গিয়ে লিখেন, শ্রদ্ধেয় তাহমিনা সিদ্দিক, আপনি জানেন, ১৯৯১ এর পূর্বে আমাদের নির্বাচনি এলাকা কালকিনির সাধারণ চিত্র আজকের মতো ছিল না। সাধারণ চিত্র ছিল ভয়াবহ। এলাকা ছিল সন্ত্রাসের জনপদ হিসেবে পরিচিত। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত নাজুক। সে সময় এলাকার একটি কাজের সুবাদে তৎকালীন আইজিপির সাথে আমি সাক্ষাৎ করেছিলাম। তিনি আমার বাড়ি কালকিনি শুনে আঁতকে উঠে বলেছিলেন- ‘কালকিনি একটি প্রত্যন্ত সন্ত্রাসী জনপদ’। সে সময় মানুষ সড়কে, নদীতে নিরাপদে, নির্বিঘেœ চলতে পারত না। যোগাযোগ ব্যবস্থাও ছিল অত্যন্ত নাজুক। এ সময় আমাদের নির্বাচনি এলাকাসহ পুরো কালকিনি অঞ্চল ছিল উন্নয়ন বঞ্চিত; ছিল অবহেলিত এবং নির্বান্ধব। আমি এলাকার সন্তান হিসেবে, আমার একটি সুন্দর স্বপ্ন বাস্তবায়নে এ অঞ্চলে কাজ শুরু করি। আজ এই প্রত্যন্ত ও অবহেলিত অঞ্চলে রাস্তা হয়েছে, ব্রিজ হয়েছে, কালভার্ট হয়েছে। পাকা সড়ক হয়েছে, গাড়ি চলছে। সড়ক ও সেতুর বন্ধনে এলাকা সংযুক্ত হয়েছে। এমনকি বিলের মধ্য দিয়েও রাস্তা হয়েছে, খোয়াজপুর হতে বাঁশগাড়ী খাসেরহাটের মধ্যে ১৮ কিলোমিটার সড়কটি বাঁশগাড়ী ও লক্ষ্মীপুর দুটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপকে একত্র করেছে। বাঁশগাড়ী-লক্ষ্মীপুরের এ রাস্তাটি করতে ৩২টি ব্রিজ নির্মাণ করতে হয়েছে। আগে এখানে নৌকায় দাঁড়িয়ে আমাকে জনসভা করতে হতো। সে এলাকা দুটি আজ সড়ক নেটওয়ার্কে সম্পৃক্ত। এলাকা দুটিতে প্রভূত উন্নয়ন হয়েছে। অন্ধকার জনপদে আলো জ্বলছে। সন্ত্রাস পুরোপুরি নির্মূল না হলেও সন্ত্রাস একেবারে শুন্যের কাছাকাছি এসে পৌঁছেছে। এলাকায় শান্তি ও সৌহার্দ্য বিদ্যমান। স্কুল হয়েছে, কলেজ হয়েছে, শিক্ষার ব্যাপক প্রসার ঘটেছে। আমাদের নির্বাচনি এলাকায় বিদ্যমান ৮টি কলেজের মধ্যে ৬টি কলেজই আমার সরাসরি আর্থিক সহযোগিতায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এ ছাড়া এখানে অনেক স্কুল ও মাদরাসা এবং ১৩৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রতিষ্ঠায় আমি সরাসরি সহযোগিতা করেছি। এসব প্রতিষ্ঠানে সুষ্ঠু পরিবেশে পাঠদান চলছে। এসব প্রতিষ্ঠানে কোনো নেতিবাচক ছাত্র রাজনীতি নেই। আছে শুধু পড়াশুনা। সমগ্র বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে শিক্ষাঙ্গনে এ ধরনের পরিবেশ খুবই বিরল। এলাকার এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়েছে। সার্বিক উন্নয়নের ছোঁয়ায় এলাকা আলোকিত হয়েছে। ছাত্র-ছাত্রীদের কল-কাকলিতে এলাকা আজ মুখরিত। আর্থনীতিক কর্মকাণ্ড বেড়েছে। বাজার হয়েছে। এক অপার শান্তি নেমে এসেছে এলাকায়। আপনি জানেন, এটা সম্ভব হয়েছে- এলাকার জনগণের সহযোগিতা এবং আমার ঐকান্তিক আগ্রহ ও উদ্যোগে। আমার স্বপ্নপূরণে, এলাকার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগিতা নিয়ে আমি নিরলসভাবে কাজ করেছি।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ার পাশাপাশি আমাদের নির্বাচনি এলাকায় বিভিন্ন অবকাঠামোও নির্মাণ করেছি। এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে ডাসারে একটি নতুন থানা প্রতিষ্ঠা করেছি। খাসেরহাটে একটি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের অবকাঠামো নির্মাণ কাজ চলছে। সাহেবরামপুরেও একটি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র স্থাপন অনুমোদনের প্রস্তাব চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে- এটিকে ক্রমান্বয়ে থানায় উন্নীত করার পরিকল্পনা আমার ছিল। আজ সর্বত্র সড়ক যোগাযোগ সহজ হয়েছে। পাকা সড়ক হয়েছে। মাদারীপুর (কুলপদ্দি) কালকিনি-ভুরঘাটা সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্প ও মাদারীপুর-আগৈলঝড়া সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্প নামে দু’টি প্রকল্প আমি যোগাযোগ মন্ত্রী থাকাকালীন গ্রহণ করেছিলাম- কাজও শুরু হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান যোগাযোগমন্ত্রী টাকা না দেয়ায়- কাজটি শেষ করা এখনও সম্ভব হয়নি। আপনি জানেন, কালকিনিÑভুরঘাটার এ রাস্তাটি সরকারি অর্থ যথাসময়ে ছাড় না পাওয়ায় আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আমরা সে রাস্তাটি ৩৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে সংস্কার করেছি। আওয়ামী লীগের নিজস্ব টাকায় এ ধরনের সংস্কার কাজ সম্পন্ন করা- সমগ্র বাংলাদেশে দলের জন্য একটি উদাহরণ। এছাড়া, আপনি জানেন, ১৯৯৬-২০০০ মেয়াদে আমি যখন স্থানীয় সরকার, পল্লøী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী ছিলাম সে সময় কালকিনি পৌরসভা প্রতিষ্ঠা করেছিলাম। সে সময় খাসেরহাট বন্দরকে পৌরসভায় রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছিলাম। কিন্তু খাসেরহাটের কতিপয় ব্যক্তির অনিচ্ছার কারণে সে সময় পৌরসভা করা সম্ভব হয়নি। এবার সম্প্রতি খাসেরহাট বন্দরকে পৌরসভায় উন্নীত করার উদ্যোগ নিয়েছি- যা অনুমোদনের চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। নির্মাণাধীন খাসেরহাট-সমিতির হাটের সাথে সংযোগ সড়ক, আড়িয়াল খাঁ নদীর উপর ব্রিজ এবং কাজীর টেকের আড়িয়াল খাঁ নদীর উপর ব্রিজ- এ সবই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহযোগিতা এবং আমার প্রচেষ্টা। আমার প্রচেষ্টায় নেয়া বিভিন্ন প্রকল্প এখন বাস্তবায়ন হবে, কাজ শুরু হবে। উদ্বোধন হবে। যদিও আমি কোনো উদ্বোধন কর্মসূচিতে কমই উপস্থিত থাকতাম। এসব প্রকল্পের কাজ স্থানীয়ভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে। কাজ শুরু হয়েছে। আগামীতে আমার গৃহীত প্রকল্পসমূহ উদ্বোধনের সময় আমার প্রচেষ্টায় গৃহীত প্রকল্পের প্রেক্ষাপট ধরে রাখা যুক্তিসঙ্গত হবে। উদ্বোধনকালে বর্তমানের প্রেক্ষাপট এবং আমার প্রচেষ্টার কথা এড়িয়ে যাওয়া ঠিক হবে না। কারণ, কৃতজ্ঞতাবোধ মানুষকে বড় করে, ছোট করে না।

এলাকার উন্নয়ন ও পরিবর্তন প্রসঙ্গে লিখেন, শ্রদ্ধেয় তাহমিনা সিদ্দিক, ১৯৯০ সালের আগের কালকিনি তথা মাদারীপুর-৩ নির্বাচনি এলাকার পরিস্থিতি, অবস্থান এবং বর্তমান কালকিনির অবস্থান আপনার অজানা নয়, অজানা নয় এলাকার জনগণেরও। গত আড়াই দশকে এলাকার উন্নয়নে যে পরিবর্তন এসেছে, এলাকার জনগণের প্রতিটি ক্ষেত্রে যে স্বস্তি মিলেছে- এর উন্নয়নে আমার অর্জিত অর্থ ব্যয়, যে পরিশ্রম, যে চেষ্টা- তা আজ উদাহরণ। সর্বত্র উন্নয়নের চিহ্ন প্রতিফলিত। যোগাযোগসহ নানা অবকাঠামো নির্মাণ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো এর উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। বিগত আড়াই দশকে আমার নির্বাচনি এলাকায় অনেক রাস্তা-ঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট নির্মিত হয়েছে। অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং এর অবকাঠামো নির্মাণ ও উন্নয়ন হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলার প্রভূত উন্নতি হয়েছে। এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা সাবলীল হয়েছে। শিক্ষার হার বেড়েছে। কর্মসংস্থান বেড়েছে। জনগণের জীবনমানে প্রভূত উন্নতি হয়েছে। সামাজিক পরিবর্তন দৃশ্যমান। এসব উন্নয়ন ও সামাজিক বিবর্তন ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে থাকবে, ইতিহাসে সমুজ্জ্বল হয়ে থাকবে। আমি চিরদিন বেঁচে থাকব না- কিন্তু এলাকার সার্বিক উন্নয়ন দীর্ঘকালের সাক্ষী হয়ে থাকবে। মানুষের উন্নয়নে, সভ্যতার বিকাশে এ উন্নয়ন নিয়ামক ভূমিকা পালন করবে, ঐতিহাসিক ভূমিকা রাখবে। আজ কালকিনিসহ মাদারীপুর-৩ নির্বাচনি এলাকার উন্নয়ন দেখে সবাই ঈর্ষাবোধ করে, সে ঈর্ষাবোধ আমাকে আনন্দিত করে- এলাকার মানুষকে গৌরবান্বিত করে।

দীর্ঘ আড়াই দশক আপনাদের সাথে কাজ করেছি। বিভিন্ন সভা-সমিতি ও জনসভায় যোগদান করেছি ও বক্তৃতা করেছি। আমার আগমনে লাখো লোকের সমাবেশ দেখে মুগ্ধ হয়েছি। পিন-পতন নীরবতায় ভাষণ দিয়েছি। এসব লক্ষণ- আড়াই দশকে এলাকায় আমাদের আওয়ামী লীগ দলটিকে নার্সারি করারই ফসল। এ সকল সভাসমাবেশে আপনাদের বক্তব্য আমি শুনেছি। আমি আপনাদের সাথে বিভিন্ন আলোচনায় এবং সভা-সমিতিতে একাধিকবার বলেছিলাম- আমি মাদারীপুর-৩ নির্বাচনি এলাকায় পরপর ৪ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছি এবং এলাকায় বর্তমানে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা সুসংগঠিত-সুশৃঙ্খল। তাই আমি আপনাদের মধ্য থেকে নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টির কথা বলেছিলাম। কিন্তু এরপরও নেতাকর্মীদের একাধিক ফোরামের দাবি এবং আপনার হজ থেকে ফেরার পর নেতাকর্মীদের যে উত্তেজনা এবং চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে আমার মনে হয়েছে- শেষবারের মতো নির্বাচনে আমাকে হয়তো যেতে হতে পারে। যাহোক, আমি দীর্ঘদিন দলমত-নির্বিশেষে জনগনের সমর্থন-ভালবাসা, সহযোগিতা পেয়েছি- তার কৃতজ্ঞতাস্বরূপ আমার প্রতিষ্ঠিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নামে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে এ এলাকার সম্মানিত ব্যক্তিবর্গের মধ্যে কিছু উপহার সামগ্রী বিতরণের সিদ্ধান্ত নেই- যা শুধু পৌর এলাকায় বিতরণ করা হয়েছে। বাকি উপহার সামগ্রী প্রস্তুত আছে- যা নির্বাচনের পর বিতরণের জন্য অপেক্ষায় আছে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে কী প্রক্রিয়ায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে এ উপহার বিতরণ করা যায়- এ ব্যাপারে আপনাদের মতামত কাম্য। উপহার সামগ্রী বিতরণের বিষয়টি থানা আওয়ামী লীগ কমিটির সভায় উত্থাপন করে তাদের মতামত নেয়া যেতে পারে। সামগ্রিক বিষয়টি নেতাদের জানানোর লক্ষ্যে এ চিঠির কপিও তাদের মধ্যে সরবরাহ করা যায়।

এলাকায় অন্য একজনকে প্রার্থী করার ব্যাপারে লিখেন, শ্রদ্ধেয় তাহমিনা সিদ্দিক, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনীতিক বা কৌশলগত কারণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাঁকে তাঁর নিজ নির্বাচনি এলাকা থেকে প্রার্থী করতে পারেননি। তাই তাঁকে অন্য নির্বাচনি এলাকায় প্রার্থী করেছেন। এ ক্ষেত্রে আমার কোনো অনুযোগ বা অভিযোগ নেই।

শ্রদ্ধেয় তাহমিনা সিদ্দিক, আপনি জানেন, আমি আমার নেত্রী শেখ হাসিনা এবং তাঁর পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের প্রতি অনুগত এবং গভীর শ্রদ্ধাশীল। আমি মাননীয় নেত্রীর যে ¯েœহ, ভালবাসা, সহযোগিতা এবং পৃষ্ঠপোষকতা পেয়েছি- তা অতুলনীয়। নেত্রীর সাথে আমার এ সম্পর্ক কোনো কিছুর বিনিময়ে ছিন্ন করা যাবে না। যতদিন বেঁচে থাকব- ততদিন তাঁর নীতি ও আদর্শের প্রতি অবিচল থেকে কাজ করে যাব। বর্তমান পরিস্থিতিতেও এলাকার উন্নয়নে আমার ব্যক্তি পর্যায়ের কাজ করার প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে। আমি কালকিনি-মাদারীপুর-৩ নির্বাচনি এলাকার সন্তান। কালকিনি-মাদারীপুর-৩ নির্বাচনি এলাকা আমার জš§ভূমি। কালকিনি-মাদারীপুর-৩ নির্বাচনি এলাকার উন্নয়নে আমি আজীবন কাজ করব। প্রত্যেক মানুষের পাশে থাকব। তাদের সুখ-দুঃখ ভাগ করে চলব। শ্রদ্ধেয় তাহমিনা সিদ্দিক, আপনি জানেন, কালকিনি-মাদারীপুর-৩ নির্বাচনি এলাকার জনগণ আমার প্রাণ। কালকিনি-মাদারীপুর-৩ নির্বাচনি এলাকার প্রত্যেক মানুষের সাথে আমার আত্মার বন্ধন, নাড়ির সম্পর্ক। দলমত-নির্বিশেষে প্রত্যেক মানুষের সাথে আমার এ আত্মার বন্ধন কখনও, কোনো অবস্থায় ছিন্ন হবে না- ইনশাল্লøাহ। কালকিনির শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো আমার চোখ, আমার মুখ, আমার চিন্তা এবং আমার কাজকর্মের মূল শক্তি। তাই এলাকার শিক্ষার উন্নয়নে আমার অর্জিত অর্থ অকাতরে ব্যয় করেছি। কারণ আমার লক্ষ্য ছিল- শিক্ষাই আমাদের এলাকার উন্নয়ন এনে দেবে। প্রতি ঘরে ঘরে শিক্ষার আলো ছড়ালে সামগ্রিক উন্নয়ন সাধিত হবে। আমার যে স্বপ্ন, আমার যে উদ্দেশ্য তা পূরণ হয়েছে। আজ ঘরে ঘরে শিক্ষিত লোক। সরকারি চাকুরিতে, উচ্চপদে কালকিনির ছেলেমেয়েরা নিয়োজিত। বেসরকারি খাতেও তাই। এটাই আমার আনন্দ। আমি চাই- শিক্ষা বিস্তারে মাদারীপুর-৩ নির্বাচনি এলাকায় যে আবহ আমি সৃষ্টি করেছি- তা অব্যাহত থাকুক। নতুন নেতৃত্ব- সেদিকে লক্ষ্য রেখে কাজ করবেন। আপনারাও সে লক্ষ্যে কাজ করবেন- এটাই আমার প্রত্যাশা। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে আমার প্রতিষ্ঠিত প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জেলা প্রশাসককে সভাপতি করা হয়েছে। এর সুফলও আমরা পেয়েছি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার মান বেড়েছে। অন্য অঞ্চলের তুলনায় আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মান উন্নত। শিক্ষার পরিবেশ সুসংসহত হয়েছে। রাজনীতিক সংকট, সংঘর্ষ এখানে ঘটেনি, যা বাংলাদেশের প্রায় সর্বত্র বিরাজমান। এ বিষয়গুলো আপনি জানেন। এটার যাতে ব্যতয় না ঘটে- জেলা প্রশাসক যাতে পরিচালনা কমিটির সভাপতি থাকেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো যাতে রাজনীতিক ডামাঢোলে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়- সেটা লক্ষ করা আপনাদের দায়িত্ব। শুধু কালকিনি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে রাজনীতিক ব্যক্তিত্বকে সভাপতি করা হয়েছে- বিএনপির আমলের সূত্র ধরে। এ কলেজের পরিচালনা কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসককে করার জন্য এবার কমিটি গঠনের সময় পরামর্শ রেখেছিলাম। স্বাভাবিক কারণে তা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। যাই হোক, আমার অনুরোধ থাকবে- শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর, বিশেষ করে কলেজ পরিচালনা কমিটিতে অন্তত সভাপতির ক্ষেত্রে, রাজনীতিক ব্যক্তিত্ব আনবেন না, পদাধিকার বলে জেলা প্রশাসককে সভাপতি রাখবেন।

সংসদ সদস্য হিসাবে শেষ চিঠি উল্লেøখ করে লিখেন, শ্রদ্ধেয় তাহমিনা সিদ্দিক, সংসদ সদস্য হিসেবে এটা হয়তো আমার শেষ চিঠি। আমি এখনও অর্থাৎ এ পত্র লেখার সময়ও এলাকার সংসদ সদস্য। আমি নির্বাচন না করার কারণে আমার সাথে আওয়ামী লীগের কোনো নেতা, কর্মীর সাথে আমার কোনো দূরত্ব নেই। কোনো দূরত্ব সৃষ্টি হবে না। আমি আগের মতো আছি, থাকব। কারও প্রতি আমার কোনো অভিযোগ নেই। আপনাদের দীর্ঘায়ু, সুস্বাস্থ্য কামনা করি, আপনারা ভালো থাকুন। আমার ছোট ভাই নাসিম নির্বাচিত হলে তার নেতৃত্বে এলাকার বিদ্যমান শান্তি ও উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখুন। চলৎ উন্নয়ন ধারার যেকোনো বিচ্যুতি, অশান্তি সৃষ্টির যেকোনো কারণ- আমাকে কষ্ট দেবে। শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি চিঠি শেষ করেন। সেখানে বলেন, গভীর শ্রদ্ধান্তে,একান্তভাবে আপনার,(সৈয়দ আবুল হোসেন, এমপি)। তিনি আবার ওই চিঠির অনুলিপি দেন উপজেলা চেয়ারম্যান, কালকিনি, মাদারীপুর, মেয়র/কাউন্সিলর, কালকিনি পৌরসভা, মাদারীপুর, মাদারীপুর-৩ নির্বাচনি এলাকার সকল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান/মেম্বার,মাদারীপুর-৩ নির্বাচনি এলাকার সকল ইউনিয়ন পরিষদ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের সভাপতি/সাধারন সম্পাদক, মাদারীপুর-৩ নির্বাচনি এলাকার সকল কলেজ, উচ্চবিদ্যালয় ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ ও প্রধান শিক্ষক।

এর আগে তিনি ২০১৩ সালের ৫ মে তাহমিনা সিদ্দিককে আরো একটি চিঠি লিখেন। সেখানেও তিনি বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন। ওই চিঠিতে বেগম তাহমিনা সিদ্দিক,সভাপতি,বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ,কালকিনি উপজেলা শাখা, কালকিনি, মাদারীপুর বরাবর লিখেন, শ্রদ্ধেয় তাহমিনা,আস্সালামু আলাইকুম। আমার অনেক স্বপ্ন। স্বপ্ন এলাকার সার্বিক উন্নয়ন দেখা। এলাকার সহজ ও সুন্দর যাতায়াত ব্যবস্থা অবলোকন করা। এলাকার শিক্ষা প্রসারে ভালো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব দেখা। এলাকার জনগণ সুখ ও শান্তিতে বসবাস করবেন, সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যে জীবন কাটাবেন, সুশিক্ষায় শিক্ষিত হবেন, এলাকার উন্নয়নে কাজ করবেন- সম্মিলিত শক্তিতে এলাকাকে আলোকময় করে তুলবেন- এই স্বপ্ন বাস্তবায়নই আমার ধ্যান-জ্ঞান ও কর্মপ্রচেষ্টা। এ প্রচেষ্টা বাস্তবায়নে আপনাদের সহযোগিতা নিয়ে আমি কাজ করে চলেছি। আমি বিশ্বাস করি, আমাদের স্বপ্নের অনেক অনুষঙ্গ বাস্তবায়ন হয়েছে। এখন এলাকায় যথেষ্ট উন্নতমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে চারিদিকে। এলাকায় রাস্তাঘাট হয়েছে। ঘুটঘুট অন্ধকারে বিদ্যুতের আলো জ্বলছে। শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় আমাদের অবহেলিত জনপদে নতুন থানা হয়েছে। পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র স্থাপিত হয়েছে। ভবিষ্যতে আরো পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র ও থানা প্রতিষ্ঠিত হবে- ইন্শাআল্লাহ। আইন-শৃঙ্খলার উন্নয়ন হওয়ায় জনগণ শান্তিতে বসবাস করছে। ঘরে ঘরে শিক্ষাবাতি জ্বলে উঠায় পারিবারিক কর্মসংস্থান বেড়েছে। পারিবারিক স্বাচ্ছন্দ্য ফিরে এসেছে। জনগণের মধ্যে আনন্দের স্পন্দন লক্ষনীয়। আশা করি, অচিরেই এমন দিন আসবে যেদিন- আমাদের এলাকা ‘মডেল এলাকা’ হিসেবে সারাদেশে উচ্চকিত হবে, অনুসরিত হবে। কালকিনিসহ আমাদের সমগ্র নির্বাচনি এলাকা হবে একটি গর্বিত ঐতিহাসিক এলাকা। এজন্য আমাদের আরও ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। ইতিবাচক রাজনীতির ধারা অব্যাহত রাখতে হবে।

আমার এই স্বপ্ন পূরণের কাজে আপনাদের সহযোগিতা স্মরণীয় হয়ে থাকবে। এ স্মরণীয় সহযোগিতা দানের জন্য আমি আপনাদের কাছে কৃতজ্ঞ। আমি আপনার মাধ্যমে নির্বাচনি এলাকার প্রতিটি গ্রাম, ইউনিয়ন ও উপজেলার জনগণকে কৃতজ্ঞতা জানাই। নব্বই থেকে এ পর্যন্ত আমার উন্নয়ন কাজে ইউনিয়নের যে সকল চেয়ারম্যান সহযোগিতা করেছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। এসব কাজে নির্বাচনি এলাকার যে সকল মুরব্বি, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকবৃন্দ, স্বাধীনতা যুদ্ধের অকুতোভয় মুক্তিযোদ্ধাগণ অবদান রেখেছেন, আমার কাজকে ত্বরান্বিত করতে কাজ করেছেন- সবার প্রতি আমি শ্রদ্ধা জানাই, কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি। সর্বোপরি, আমি আমার নির্বাচনি এলাকার আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী এবং আওয়ামী লীগ অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মী সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। আমি আপনাদের সকলকে অভিনন্দন জানাই। আমি আশা করি, আপনি এবং আওয়ামী লীগ ও বঙ্গবন্ধুর উত্তরসূরীরা এ ধারা অব্যাহত রেখে এলাকার সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে অব্যাহতভাবে কাজ করবেন।

এলাকার কথা বলতে গিয়ে লিখেন, শ্রদ্ধেয় তাহমিনা, একসময় বাঁশগাড়ী ও লক্ষ্মীপুরের অবস্থান ছিল দু’টি বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মতো। আজ খোয়াজপুর হতে বাঁশগাড়ী-খাসেরহাটের মধ্যে ১৮ কিলোমিটার সড়কটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপকে একত্র করেছে। এ সড়ক শুধু দুটো জায়গাকে একত্র নয়, দু জায়গার অসংখ্য মানুষের বন্ধনকে, সামাজিক অবস্থানকে এক করেছে, এক জায়গায় দাঁড় করিয়েছে। এ দু’টো জায়গা ও তার আশে-পাশে যে উন্নয়ন কাজ হয়েছে-তা দেশের কোনো এলাকায় হয়েছে বলে আমার জানা নেই। বাঁশগাড়ী ও লক্ষ্মীপুরের উন্নয়ন- এলাকার সার্বিক উন্নয়নে প্রতিফলিত হয়েছে। এ উন্নয়ন জনগণের কাছে উদাহরণ হিসেবে সমাদৃত হয়েছে। তাই, এসব উন্নয়ন কার্যক্রমকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য আমি খোয়াজপুর হতে বাঁশগাড়ী-খাসেরহাট সড়কটি বাস্তবায়ন সমাপ্তি উপলক্ষে একে স্মরণীয় করে রাখতে চাই। এজন্য আমি চাই, আমরা একদিন খোয়াজপুর-খাসেরহাটের এ রাস্তাটি পায়ে হেঁটে অতিক্রম করবো। এর উদ্দেশ্য, অতীতে এই নদী-নালা, বিল- অতিক্রম করে কীভাবে এলাকার জনগণ যাতায়াত ও বসবাস করতো- তার স্মৃতি একটু হলেও পায়ে হেঁটে রোমন্থন করা। জনগণের কষ্টের সাথে একাত্মতা পোষণ করা। জনগণের, আমাদের পূর্বসুরীদের কষ্টের অংশীদার হওয়া। শ্রদ্ধেয় তাহমিনা, লক্ষ্মীপুরও ছিল একটি বিচ্ছিন্নœ দ্বীপ। কোনো যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিল না। নৌকায় জনসভা করতে হয়েছে। আজ সেখানে পাকা রাস্তা হয়েছে। কাঁচা রাস্তা হয়েছে। পুল-কালভার্ট নির্মিত হয়েছে। বিদ্যুতের আলোয় এলাকা আলোকিত হয়েছে। আজ সভ্যতার সকল উপকরণ সেখানে বিদ্যমান। এ কার্যক্রমে আমি সব সময় লক্ষ্মীপুরের বর্তমান চেয়ারম্যানকে আমার পাশে পেয়েছি। আমি এই লক্ষ্মীপুরেও একবার যেতে চাই।

শ্রদ্ধেয় তাহমিনা, আপনি জানেন, আমি আমার নির্বাচনি এলাকার সম-উন্নয়নে কাজ করেছি। আজ প্রতিটি ইউনিয়নকে যোগাযোগ নেটওয়ার্কের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়নে যে সড়ক যোগাযোগ দৃশ্যমান দেখছেন- তা আমার উদ্যোগে, আমার প্রচেষ্টায় ও পরিশ্রমে বাস্তবায়িত হয়েছে। শিক্ষাসহ সর্বত্র উন্নয়নের যে গতি- তা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়েছে স্থানীয় জনগণ ও জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতায়। ইউনিয়নের চেয়ারম্যানগণ স্ব স্ব এলাকার উন্নয়নে আমাকে সহযোগিতা দিয়েছেন- কাজটি এগিয়ে নিতে দািয়ত্ব পালন করেছেন। আমি কখনো এলাকার উন্নয়ন কাজে চেয়ারম্যানদের দায়িত্ব পালনে হস্তক্ষেপ করিনি। কাজটি যাতে মানসম্পন্ন হয়- সেদিকে যতœবান থাকার তাগিদ দিয়েছি। দেশের অন্যান্য অঞ্চলে যেভাবে উন্নয়ন কাজ হয়- আমি সেই নেতিবাচক প্রক্রিয়া কখনো অনুসরণ করিনি। ইউনিয়ন চেয়ারম্যানগণ নিজ দায়িত্বে কাজ বাস্তবায়ন করেছেন। এলাকার উন্নয়নে আমি তাদের অব্যাহত সহযোগিতা ও ‘উন্নয়নমনস্কতা’কে স্বাগত জানাই। তাদের প্রতি আমি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আপনি জানেন, কালকিনি থানার নতুন ভবন নির্মাণের প্রকল্প গৃহীত হয়েছে। টেন্ডার প্রক্রিয়াধীন আছে। খাসেরহাট তদন্ত কেন্দ্রের নতুন ভবন নির্মাণে টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। কালকিনি উপজেলার নতুন ভবন নির্মাণের জন্য অর্থ বরাদ্দ হয়েছে। টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ করে কার্যক্রম বাস্তবায়ন দ্রুত করা প্রয়োজন। নতুন ভবন নির্মাণ যাতে এ সরকারের আমলেই শুরু করা যায়- সেদিকে লক্ষ করে কাজ করতে হবে। আপনার হয়তো মনে আছে, আমি ১৯৯৬-২০০০ মেয়াদে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী থাকাকালীন কালকিনি উপজেলা সদরকে পৌরসভায় উন্নীত করি। বর্তমান সরকারের এ মেয়াদে আমার প্রচেষ্টায় পৌরসভার উন্নয়নে সর্বাধিক বরাদ্দ দেওয়া হয়। এরপরও বিশেষ বরাদ্দ আনা হয়। আশা করি, সরকারি বরাদ্দের এ কাজগুলি স্বচ্ছতার সাথে, নিয়মের অনুসরণ করে বাস্তবায়িত হয়েছে। আমি আপনাকে জানাতে চাই, কালকিনি পৌরসভাকে ‘গ’ থেকে ‘খ’ শ্রেণিতে উন্নীত করা প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। আমি আগেই বলেছি, আমার নির্বাচনি এলাকার সম-উন্নয়নে আমি বিশ্বাসী। এ বিশ্বাসে নব্বই থেকে এ পর্যন্ত আমি অক্লান্তভাবে কাজ করে চলেছি। তবে অনেকে আমার নির্বাচনি এলাকার মাদারীপুর সদরের ৫টি ইউনিয়নে কম কাজ করেছি বলে অভিযোগ করেন। তাদের এ অভিযোগ আদৌ সত্য নয়। আমি এ ৫টি ইউনিয়নের উন্নয়নে কী অবদান রেখেছি- তা আপনার এবং ঐ এলাকার জনগণের অজানা নয়। আমি ’৯১তে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পূর্বেই খোয়াজপুরের কলেজটি প্রতিষ্ঠা করি- এটা আমার সমগ্র নির্বাচনি এলাকার প্রথম কাজ। প্রতিষ্ঠিত সেই কলেজটি আজ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ। বাংলাদেশের ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রতিষ্ঠিত প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ। এটি খোয়াজপুরবাসীর জন্য এক ইতিহাস। এ কলেজের পাশ করা ৩৫০০ শিক্ষার্থী দেশের সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদে কর্মরত। কেন্দুয়ার যে এবিসি কলেজটি আমার নাম ধারণ করে আছে সে কলেজটির উন্নয়নে অনেক কাজের প্রচেষ্টা চলছে। এছাড়া, আপনার মনে আছে, আমি মোস্তফাপুর উচ্চ বিদ্যালয়কে কলেজে উন্নীত করার উদ্যোগ নেই। কলেজ অংশের অবকাঠামো উন্নয়নে আলাদাভাবে তিনতলা বিশিষ্ট বিল্ডিংও নির্মাণ করা হয় এবং বেগম ফজিলাতুন্নেসা স্কুল ও কলেজ নামকরণের জন্য প্রস্তাব করা হয়। প্রশাসনিক জটিলতার কারণে প্রস্তাবিত এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু করা যায়নি।

শ্রদ্ধেয় তাহমিনা, আমার নির্বাচনি এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মানসম্মত শিক্ষা প্রদানে আমি নিরন্তর প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছি। প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাশের হার প্রায় একশ ভাগ। অভিজ্ঞ শিক্ষকমন্ডলী দিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। আপনি জেনে খুশি হবেন, শেখ হাসিনা একাডেমি অ্যান্ড উইমেন্স কলেজ এবং খোয়াজপুর সৈয়দ আবুল হোসেন কলেজে অনার্স ও মাস্টার্স কোর্স চালু হয়েছে। দুটি কলেজকে ইতোমধ্যে অনার্স ও মাস্টার্স কোর্সের অনুুকূলে শিক্ষক নিয়োগের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এ দু’টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই ইউনিয়ন পর্যায়ে বাংলাদেশের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ। আপনার নিশ্চয়ই মনে আছে, আমি যখন কালকিনি কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে উন্নীত করি, তখন কালকিনি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ছিল বাংলাদেশের উপজেলা পর্যায়ে প্রতিষ্ঠিত প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ। আমাদের এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো ইতিহাসের অংশ। এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো আমাদের গর্ব। এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশের অহংকার। শ্রদ্ধেয় তাহমিনা, বিগত তিন দশকে আমার নির্বাচনি এলাকায় অনেক রাস্তা-ঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট নির্মিত হয়েছে। অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং এর অবকাঠামো নির্মাণ ও উন্নয়ন হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলার প্রভূত উন্নতি হয়েছে। এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা সাবলীল হয়েছে। শিক্ষার হার বেড়েছে। কর্মসংস্থান বেড়েছে। জনগণের জীবনমানে প্রভূত উন্নতি হয়েছে। সামাজিক পরিবর্তন দৃশ্যমান। এসব উন্নয়ন ও সামাজিক বিবর্তন ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে থাকবে, ইতিহাসে সমুজ্জল হয়ে থাকবে। আমি, আপনি চিরদিন বেঁচে থাকবো না- কিন্তু এই উন্নয়ন দীর্ঘকালের সাক্ষী হয়ে থাকবে। মানুষের উন্নয়নে, সভ্যতার বিকাশে এ উন্নয়ন নিয়ামকের ভুমিকা পালন করবে, ঐতিহাসিক ভুমিকা রাখবে।

শ্রদ্ধেয় তাহমিনা, আপনি জানেন, খোয়াজপুরে অবস্থিত সৈয়দ আবুল হোসেন কলেজ সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমে অন্তর্ভূক্ত ছিল। কিন্তু এলাকার বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠন, বঙ্গবন্ধুর অনুচর সর্বজন শ্রদ্ধেয় অধ্যক্ষ আসাদুজ্জামান সাহেবের অনুরোধে আমি সাহেবরামপুর কবি নজরুল ইসলাম কলেজকে উন্নয়ন কার্যক্রমে (খোয়াজপুর সৈয়দ আবুল হোসেন কলেজকে বাদ দিয়ে) অন্তর্ভূক্ত করি। বিষয়টি অনুমোদিত হয়েছে। এজন্য আমি খুশী। তবে, এ কারণে খোয়াজপুরবাসীর কিছুটা অস্বস্তি আমি হƒদয়ঙ্গম করতে পারি। আমি বিশ্বাস করি, খোয়াজপুরের জনগণ বিষয়টি বাস্তবতার নিরিখে উপলব্ধি করবেন এবং বিষয়টি মেনে নেবেন। আমি সাহেবরামপুর কবি নজরুল ইসলাম কলেজের উন্নয়ন কার্যক্রমের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনে অংশগ্রহণ করে আমার সম্পৃক্ততা রাখতে চাই। অধিকন্তু, আমি খাসেরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনে উপস্থিত থাকতে চাই। এলাকার জনগণের ভালো কাজে আপনাদের সাথে নিজেকে আরও নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত রাখতে চাই। শ্রদ্ধেয় তাহমিনা, সার্বিকভাবে ৪টি বিষয়ে আমি আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি-খোয়াজপুর-খাসেরহাট সড়কের ১৮ কি.মি. একদিন পায়ে হেঁটে অতিক্রম করা; লক্ষ্মীপুরের উন্নয়ন কার্যক্রম দেখা ও জনগণের সাথে কথা বলা; খাসেরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের অবকাঠামোর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনে আমার অংশগ্রহণ;সাহেবরামপুর কবি নজরুল ইসলাম কলেজের ভিত্তিপ্রস্তর অনুষ্ঠানে আমার যোগদান। এ ৪টি কার্যক্রমকে সমন্বয়পূর্বক তারিখ ও দিনকাল নির্ধারণ করে আমার সফরসূচি প্রণয়নে আপনার সহযোগিতা কামনা করি। তিনি চিঠিতে তার উন্নয়নের ইতিহাস তুলে ধরে এরপর সেটি শেষ করেছেন। সবশেষে তার সাফল্য কামনা করে বলেছেন, আপনার অব্যাহত সাফল্য কামনা করি। গভীর শ্রদ্ধান্তে,একান্তভাবে আপনার, সৈয়দ আবুল হোসেন, এমপি। তিনি ওই চিঠির কপি দিয়েছেন মির গোলাম ফারুক,উপজেলা চেয়ারম্যান,সাধারণ সম্পাদক,বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ,কালকিনি উপজেলা শাখা।

 

সৈয়দ আবুল হোসেনের আমি ও জবাবদিহিতা বইটি দেখার জন্য ও পড়ার জন্য ক্লিন করুন এইখানে:

লিংক- 1| লিংক- 1

লিংক- 2 | লিংক- 2

লিংক -3 |  লিংক -3

You Might Also Like