‘সরকার রাজনৈতিক স্বার্থে ছাত্রলীগকে ব্যবহার করছে বলেই নিয়ন্ত্রণ করছে না’

বাংলাদেশের ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র সায়াদ হত্যার বিষয়টিকে সঠিকভাবে বিচার প্রক্রিয়ার মধ্যেই নিয়ে যাওয়া হচ্ছে না বা এ ব্যাপারে ব্যাপক গড়িমসি করে কাউকে কাউকে পার পাইয়ে দেয়ার একটা অপচেষ্টা চলছে। যে কারণে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিদ্ধান্তকে প্রত্যাখ্যান করেছে। সায়াদ হত্যাকাণ্ড নিয়ে এমন মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ফেরদৌস হোসেন।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো না কোনোভাবে দলবাজির সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়ছে। দেখা যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের অবস্থান টিকিয়ে রাখার জন্য এবং সরকারকে খুশি করার জন্য তারা অনেক বেশি তৎপর। আর এই অবস্থা চলতে থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ক্রমান্ময়ে ধ্বংস হয়ে যাবে।

পূর্ণাঙ্গ সাক্ষাৎকারটি উপস্থাপন করা হলো

প্রশ্ন: সম্প্রতি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র সায়াদ মোমতাজ নিহত হয়েছেন। মৃত্যুর আগে সায়াদ তার ভাইকে ফোনে বলেন, আমাকে ছাত্রলীগের ছেলেরা মেরেছে। তিনি নিজেও ছাত্রলীগ নেতা ছিলেন এবং ছাত্রলীগের হাতেই নিমর্মভাবে তিনি নিহত হন। একজন মেধাবী ছাত্রের এভাবে নিহত হওয়ার ঘটনাকে আপনি কিভাবে দেখছেন।

ৎঅধ্যাপক ফেরদৌস হোসেন: সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় এবং অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেসব সহিংসতার ঘটনা ঘটছে বিশেষ করে কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে যেসব হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে তার অধিকাংশই ছাত্রলীগের দ্বারা ঘটছে। শাসক দল আওয়ামী লীগের  ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে এসব হত্যার ঘটনা ঘটছে। আর তাদের ভেতরকার এইসব কোন্দেলের নেপথ্যে রয়েছে নিজেদের মধ্যে প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতা, চাঁদাবাজি, নানাধরণের টেন্ডারবাজিসহ স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো। এসব নিয়ে তারা নিজেদের মধ্যে বিবাদে জড়িয়ে পড়ছে। আর এসব সহিংসতা ও হত্যার ঘটনায় পুলিশ প্রশাসন এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারছে না। আমরা লক্ষ্য করছি যেসব জায়গায় নানাধরণের সন্ত্রাসী ঘটনা সংঘটিত হচ্ছে সেখানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বা পুলিশ প্রশাসনের যে ধরণের প্রিভেনটিভ মেজর নেয়া দরকার তা নিতে ব্যর্থ হচ্ছে। পুলিশ প্রশাসন বা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উচিত যাতে করে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বা সহিংস ঘটনা না ঘটে সেদিকে লক্ষ্য রাখা। কিন্তু তারা এ কাজটি করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হচ্ছে।

প্রশ্ন:  সায়াদ হত্যার পর সাধারণ ছাত্রছাত্রী এবং শিক্ষকরা এর  তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। তারা বিচারের দাবি জানিয়ে ভিসি বরাবর আলটিমেটাম দেন। সাধারণ শিক্ষার্থীরা এ ব্যাপারে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছে। অনেক শিক্ষক ইস্তফা দেয়ার কথাও বলেছেন। তবে তাদের আন্দোলনে ভিসি যোগ দেননি। অন্যদিকে ছাত্রলীগ সায়াদ হত্যার বিচার দাবি করে মানববন্ধন করেছে এবং উপাচার্য অধ্যাপক রফিকুল হক তাদের সেই মানববন্ধনে যোগ দিয়েছেন। তো যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তারা যখন বিচারের দাবি করে এবং উপাচার্য যখন তাদের সাথে যোগ দেন তখন- বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ হয় কিনা!

অধ্যাপক ফেরদৌস হোসেন: জ্বি উপচার্যের এ ভূমিকা অবশ্যই প্রশ্নবিদ্ধ হয়। এটাই প্রত্যাশিত যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিরপেক্ষ অবস্থান গ্রহণ করবে এবং প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো না কোনোভাবে দলবাজির সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়ছে। দেখা যাচ্ছে যে শাসকদল কৃর্তৃক নিযুক্ত হওয়ার পর তারা শাসকদলের প্রতিনিধি হিসেবে নিজেদেরকে স্টাবলিশ  করতে সচেষ্ট থাকেন। এখানে ছাত্রদের প্রতি বা প্রতিষ্ঠানের প্রতি তাদের যে নৈতিক দায়িত্ববোধ তা সঠিকভাবে প্রয়োগ করতে পারছে না বা সেই অনুযায়ী কাজ করতে পারছে না। দেখা যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের অবস্থান টিকিয়ে রাখার জন্য এবং সরকারকে খুশি করার জন্য তারা অনেক বেশি তৎপর। আর এই অবস্থা চলতে থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ক্রমান্ময়ে ধ্বংস হয়ে যাবে। এ ধরণের প্রক্রিয়াই আমরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে লক্ষ্য করছি। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন এবং শিক্ষকদের প্রতি সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের আস্থা থাকছে না। আর এ ধরণের অনাস্থার পরিবেশ যদি অব্যাহতভাবে বিদ্যমান থাকে তাহলে উচ্চ শিক্ষা কার্যক্রম ব্যহত হতে বাধ্য। এই প্রক্রিয়া চলতে থাকা বাংলাদেশে শিক্ষার জন্য, উচ্চ শিক্ষার জন্য বা সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য কোনোভাবেই ইতিবাচক হতে পারে না। এর নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া  ব্যাপকভাবে পড়বে সমাজে এবং রাষ্ট্রে। এটা এখনই বন্ধ হওয়া দরকার এবং এ ব্যাপারে বাংলাদেশের সচেতন নাগরিকদেরও সোচ্চার হওয়ার সময় এসেছে।

প্রশ্ন: সায়াদকে নির্মমভাবে মারার পর তাকে মারাত্মক অসুস্থ অবস্থায় রাত ৯ টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু সেখানে তার চিকিৎসা হয়নি এবং একরকম বিনা চিকিৎসায় তার মৃত্যু হয়। এটি কি আশ্চর্যের বিষয় নয়! কেন তাকে চিকিৎসা দেয়া হলো না ! এটি ছাত্রলীগের ঘটনা বলে কি চিকিৎসা করা হলো না!

অধ্যাপক ফেরদৌস হোসেন: দেখুন এটি সত্যি খুবই মর্মান্তিক। আমি এ ব্যাপারে বলতে চাই যে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রক্টর এবং সহকারী প্রক্টরদের নিয়ে প্রক্টরিয়াল বডি থাকে। প্রাথমিকভাবে এ দায়িত্বটি তাদের ওপরই বর্তায়। তবে আমরা এটাও লক্ষ্য করছি যে শুধুমাত্র উপাচার্য বা উপ-উপাচার্যই নয় অন্যান্য ক্ষেত্রেও যারা দায়িত্বপ্রাপ্ত তারাও দলীয় সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গী দিয়ে তাদের ভূমিকা পালন করছে। আর এটা করছে বলেই দেখা যাচ্ছে যেখানে যে ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথা তারা তা করছে না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের-  এই যে অতি রাজনীতিকিকরণ এবং পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ এর ফলে তাদের প্রতি ছাত্র-ছাত্রীদের আস্থাকে ব্যাপকভাবে বিনষ্ট করবে। আর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এটা কোনোভাবেই কাঙ্খিত হতে পারে না। তাছাড়া শাসকদলের প্রতি একধরণের ভীতি কিংবা অনুকম্পার সংস্কৃতি আমরা লক্ষ্য করছি বিশ্ববিদ্যালয়সহ সর্বত্র। এটি সমাজ এবং রাষ্ট্রব্যবস্থাকে একটা অনিশ্চয়তার জায়গায় নিয়ে যাচ্ছে। এবং দেশের নাগরিকদের যে নিরাপত্তা বিধান করার কথা  রাষ্ট্রের; সেক্ষেত্রে রাষ্ট্র নিদারুণভাবে ব্যর্থ হচ্ছে।

প্রশ্ন: একটা বিষয় লক্ষ্য করা যায় যখন যে দল ক্ষমতায় থাকে তাদের ছাত্রসংগঠনের দৌরাত্ম্য চরম আকার ধারণ করে। বিএনপির ক্ষমতার সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ছাত্রদলের প্রভাব ও দৌরাত্ম্য দেখা গেছে। তবে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন বিগত এবং বর্তমান সরকারের সময়ে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে এত বেশি সহিংসতা, খুন-হত্যা, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজিসহ ভয়াবহ নানাসব ঘটনার অভিযোগ উঠেছে যা অতীতের প্রায় সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। সরকারকেও এ  ব্যাপারে অনেকটা নীরব ভূমিকা পালন করতে দেখা যাচ্ছে। এটি কেন?

অধ্যাপক ফেরদৌস হোসেন: এর কারণ হচ্ছে সরকার ছাত্রলীগকে ব্যবহার করছে তাদের রাজনৈতিক স্বার্থে। যেহেতু রাজনৈতিক স্বার্থে ছাত্রলীগকে সরকার পেটোয়া বাহিনীর মতো ব্যবহার করছে বলেই তাদেরকে নিয়ন্ত্রণ করছে না। এরফলে ছাত্রলীগ লাগামহীন আচরণ করছে বিভিন্ন জায়গায়। এজন্য মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভ এবং অসন্তোষ ক্রমান্বয়ে দানা বেঁধে উঠছে। হয়তো দেখা যাবে তাদের এই ধরণের অপতৎপরতার কারণে জনবিস্ফোরণ ঘটতে পারে শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে।

প্রশ্ন:  ছাত্রলীগ নেতা সায়াদ মোমতাজ হত্যার ঘটনায় কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) তিন ছাত্রলীগ নেতাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আজীবন বহিষ্কার এবং আরো তিনজনকে বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কার করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের জরুরি সিন্ডিকেট সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে তাদের এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান  করে প্রশাসনিক ভাবনে তালা লাগিয়ে দিয়েছে সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা। তাদের দাবি সায়াদ হত্যার সাথে আরো অনেক জড়িত ছিল তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। কিন্তু একজন মেধাবী ছাত্রকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হলো আইনে তার শাস্তি কি শুধুই বহিষ্কার করা?

অধ্যাপক ফেরদৌস হোসেন: দেখুন এখানে দু’টি বিষয় রয়েছে। একটি হলো বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তার নিজস্ব আইনে একজন ছাত্রকে সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে তাকে বহিষ্কার করতে পারে। তবে একই সাথে আরেকটি দায়িত্ব আছে পুলিশ প্রশাসনের। সেক্ষেত্রে  যারা এই অপরাধের সঙ্গে জড়িত  তদন্তের মাধ্যমে চিহ্নিত করে  তাদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যদি  ফৌজদারি মামলা রুজু করত এবং সেই অনুযায়ী পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করত সেটাই হতো সঠিক।

কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সেটি করেনি সরকারি ছাত্র সংগঠন হওয়ার কারণে। পুলিশও একই কারণে  এ ব্যাপারে তৎপরতা দেখাচ্ছে না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এক্ষেত্রে শাক দিয়ে মাছ ঢাকার মতো একধরণের পরিস্থিতি সৃষ্টি করে ঘটনাকে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছে। এসব কারণে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নেয়া সিদ্ধান্ত গ্রহণযোগ্য হচ্ছে না এবং তাদের মধ্যে ক্ষোভ আরো বেশি মাত্রায় সঞ্চিত হচ্ছে। আর এই ক্ষোভ যেকোনো সময় বিক্ষোভে পরিণত হতে পারে। এবং বিক্ষোভ যে কোনো সময় বিস্ফোরণে রূপ নিতে পারে।

প্রশ্ন:  আপনি আইনের যে কথাটি বললেন, সে প্রসঙ্গ ধরেই বলব- নিহত সায়াদের বাবা তার সন্তানের লাশ নিয়ে ঘরে ফেরার সময় দুঃখ এবং ক্ষোভ নিয়ে বলেছে তিনি তার সন্তান হত্যার বিচার চান না। কারণ তিনি বিশ্বাস করেন যে এর সুষ্ঠু বিচার তিনি পাবেন না। তো তার এই বক্তব্য থেকে বিচার ব্যবস্থার প্রতি জনগণের বা মানুষের একটা ক্ষোভ কি দানা বেঁধে উঠছে না!

অধ্যাপক ফেরদৌস হোসেন: এখানেও দুটি ব্যাপার রয়েছে। একটি হচ্ছে সায়াদ হত্যার ব্যাপারটিকে বিচার প্রক্রিয়ার মধ্যে নিতে গেলে অভিযোগকারীর একটা ভূমিকা থাকে। আমরা জানি যে ঘটনাটি সংঘটিত হয়েছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে। অতএব এখানে প্রাথমিক দায়িত্ব ছিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের। যে কথা আমি আগেও বলেছি সেটি হচ্ছে ‘বাকৃবি’ প্রশাসনের উচিত ছিল দোষীদের বিরুদ্ধে ‘এফআইআর’ দায়ের করা। এতে যদি বিলম্ব বা কোনো ধরণের  গাফেলতি হয় তাহলে আমরা জানি বিচারের দীর্ঘসূত্রিতা বিচার প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং ন্যায় বিচার থেকে বিচারপ্রার্থী বঞ্চিত হয়। এবং সেধরণের পরিস্থিতি সচেতনভাবে এখানে সৃষ্টি করা হচ্ছে। এটিও কোনোভাবেই কাঙ্খিত না। আমি এখানে স্পষ্টভাবে বলতে চাই বিষয়টিকে বিচার প্রক্রিয়ার মধ্যে নিয়ে যাওয়া হলে হয়তো বুঝতাম যে বিচারটি সঠিকভাবে এগোচ্ছে কি না! কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে সায়াদ হত্যার বিষয়টিকে সঠিকভাবে বিচার প্রক্রিয়ার মধ্যেই নিয়ে যাওয়া হচ্ছে না বা এ ব্যাপারে ব্যাপক গড়িমসি করে কাউকে কাউকে পার পাইয়ে দেয়ার একটা অপচেষ্টা চলছে। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক।

প্রশ্ন: বাকৃবিসহ দেশের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের টর্চার সেল রয়েছে। সেখানে নিয়ে গিয়ে টর্চার করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে টর্চার সেলের উপস্থিতি সংক্রান্ত যে খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে তা কি বাংলাদেশের গোটা শিক্ষা ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে না?

অধ্যাপক ফেরদৌস হোসেন: অবশ্যই প্রশ্নবিদ্ধ করবে। আমি মনে করি টর্চার সেলের মাধ্যমে এই ধরণের লোমহর্ষক বা বিভৎস কর্মকাণ্ড যদি করা হয়ে থাকে যা  বিভিন্ন পত্র পত্রিকা ও মিডিয়াতে এরইমধ্যে  প্রতিবেদন আকারে প্রকাশিত হয়েছে, তাহলে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। সরকারের উচিত ছিল এগুলোকে চিহ্নিত করে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা। কিন্তু তা না করে এটাকে যদি নীরবে গ্রহণ করে নেয়া হয় এবং এইসব অপতৎপরতা করেও যদি কেউ পার পেয়ে যায় তাহলে রাষ্ট্র ব্যবস্থা, সমাজ ব্যবস্থা এবং জন নিরাপত্তা বলতে বাংলাদেশে আর কিছুই থাকবে না। বাংলাদেশকে যারা ব্যর্থ এবং অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করতে চাচ্ছে সেই প্রচেষ্টাই হয়তো সফল হবে। জনগণ রাষ্ট্রের কাছ থেকে- তাদের রাষ্ট্রীয়, সামাজিক এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তা আশা করে-সেই আশাও হয়তো সে সময় মানুষ করবে না। আর সে সময় একটা নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে রাষ্ট্রের মধ্যে। আর এ ধরণের নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি যদি সৃষ্টি হয় তাহলে মানুষ তাদের সমস্ত সৃজনশীল কর্মকাণ্ড থেকে দূরে সরে যাবে। যেটা কোনোভাবেই  একটি সুষ্ঠু রাষ্ট্র ব্যবস্থার জন্য কাঙ্খিত নয়।

সবশেষে -আপনি দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে বর্তমান এ অবস্থা থেকে বের করে আনার জন্য কি পরামর্শ দেবেন।

অধ্যাপক ফেরদৌস হোসেন: বাংলাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর এই নৈরাজ্য এবং অব্যবস্থাপনার কবল থেকে বেরিয়ে আসার জন্য ছাত্র ও শিক্ষকদের উদ্যোগী হওয়া প্রয়োজন। তাছাড়া অভিভাবক, গণমাধ্যম এবং সচেতন নাগরিক সমাজকে এ ব্যাপারে সোচ্চার হতে হবে। এরপর এ বিষয়টিকে একটি সামাজিক আন্দোলনে রূপ দিতে হবে যাতে করে কোনো ধরণের অপশক্তি মাথা চাড়া দিয়ে উঠে অপতৎপরতা চালাতে না পারে। তাছাড়া বর্তমানেও যেটা চলছে তাও যেন সরকার বন্ধ করতে বাধ্য হয়। ছাত্র,শিক্ষক, অভিভাবক, মিডিয়া, সচেতন নাগরিক সমাজ সবার পক্ষ থেকে দায়িত্ব নিয়ে  সরকারের ওপর এ ব্যাপারে ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করা দরকার।

 

– রেডিও তেহরান এর সৌজন্যে

You Might Also Like