একটি ধ্বংসস্তূপের নির্মম সত্যকথন

না জ মা মো স্ত ফা
বলা চলে আমরা সত্যযুগের খুব কাছাকাছি অবস্থান করছি। বহু দিনের গোপন অনেক ঝাঁপিতে ঢেকে রাখা অপকর্মও দিবালোকের মতো আলোতে এসে পড়ে। এসব একবিংশ শতকের সত্যযুগের চলমান বাস্তবতা বলতে হবে। শেখ সেলিমের ভিডিও ফুটেজে ফুটে ওঠে রাজনীতিতে অযোগ্য জয়ের হম্বিতম্বি, যা হাসিনাপুত্রের রাজনীতির শুরু থেকে অনেক বেখাপ্পা প্রশ্নের মোকাবিলা তাদের রাজনীতিকদের করতে হয়েছে। তারা বারবার জানান দিয়েছেন, এদেশের রাজনীতির সঙ্গে জয় বেমানান। তাদের দৃষ্টিতে এটি ছিল হাসিনার রাজনীতির অনেক বড় ভুল। ’৮০ সালে হাসিনার ক্ষমতা গ্রহণের সময় অনেক উল্টাসিধা কথা উঠেছে দলের মাঝে। জেআইসি’র ভিডিও ফুটেজের কথোপকথনে অনেক তথ্যই বেরিয়ে আসে দিবালোকের মতো স্পষ্ট হয়ে। মূল থেকে বাংলাদেশী জীবনের সঙ্গে বেখাপ্পা জয়ের অনেক তথ্য যেমন এসেছে, তেমিন এসেছে গান পাউডার দিয়ে বাসে মানুষ নিধনের বিষয়টিও, দিবালোকের মতো স্বচ্ছতা নিয়ে। অবস্থার প্রেক্ষিতে এসব বক্তব্য নিয়ে সরকারের খুব কাছের জন শেখ সেলিমকে বর্তমান সরকারকৃত ওই সময়কার গোপন ষড়যন্ত্রের সব উন্মোচন করতে হয়। সেদিন যুবলীগকৃত ওই বাস পোড়ানোর পরিকল্পনাতে জড়িতদের কথাও আলোচনার অংশ হয়। তিনি বেশ ক’জনের নামও প্রকাশ করেন। এটিও সুস্পষ্ট করে বলেন, এসব পার্টির জন্য খারাপ হইছে। প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সেদিন এভাবে বাস ধ্বংসের পূর্বপরিকল্পনা করে এটি ঘটানো হয়। এটিও সুস্পষ্ট হয় এরকম একটি ঘটনার পরও যুবলীগকে কোনো শোকজ বা তিরস্কারও করা হয়নি। কারণ কে তিরস্কার করবেন? যিনি তিরস্কার করবেন তার নির্দেশেই এটি ঘটেছে। আওয়ামী ধ্বসের জন্য নেত্রী নিজে বড়মাপে দায়ী, এটি শেখ সেলিম স্বীকার করেন। ‘তিনি কথা কম বললে ভালো ছিল, তিনি সব সময় বেফাঁস কথা বলেন,’ এটি ছিল তার বাচনিক মন্তব্য। গোটা দেশ জানে তার বেফাঁস কথা ও বেফাঁস কাজের মাঝে গোটা জাতি হাবুডুবু খাচ্ছে।
১৯৮৬-এ জাতীয় বেঈমানে রূপান্তরিত হওয়া থেকে শুরু করে লালদীঘির ময়দানে নেত্রী বলেন, যারা ইলেকশন করবে তারা হবে জাতীয় বেঈমান। অতঃপর তিনি নিজে সে বেঈমানের মালা সেধে গলে পরে নেন। এসব বলে নেত্রী আবার ইলেকশন করলেন। এসব ছিল আরেক আওয়ামীদলীয় মন্ত্রী ও নেতা ওবায়দুল কাদেরের জবানবন্দি। তিনি এটিও পরিষ্কার করেন যে, ’৮৬-এর ইলেকশন ছিল পাতানো ইলেকশন। মূলত এসব ছিল ক্ষমতা ও টাকার লোভ। উভয় কৃতকর্মই খুব খারাপ অর্জন, তাার ক্ষমতার লোভটা বেশি ছিল। তিনি এটিও সুস্পষ্ট করেন যে, ’৮৬ সালের অনেক কেন্দ্রে কোনো ভোটারই যায়নি। খুব খোলামেলাভাবে তিনি এসব গভীর গোপন কথা অকপটে প্রকাশ করেন এবং এটিও বলেন যে, আপনাদের সঙ্গে আমার যে ফ্রেন্ডলি রিলেশন হয়ে গেছে, সেটি ভবিষ্যতের জন্যও রাখবেন। সেদিনের নির্বাচনী টাকার ছালাটা এসেছিল বহু দিক থেকে। এটিও তিনি সুস্পষ্ট করেন যে, জাতীয় পার্টির এরশাদ ১০ কোটি টাকার এ পাতানো খেলাতে এ টাকাটা হাসিনাকে দেন। মূল থেকে অপকর্মে দক্ষ এরশাদ অনেক নাটকীয়তার পরও অনেক অপকর্মের প্রত্যক্ষ জোগানদাতা। জিয়া হত্যার চালে তিনি সরাসরি জড়িত ছিলেন। এর সূত্র ধরে তড়িঘড়ি মঞ্জুর হত্যার নায়ক তিনি নিজে। নাটুকে কবি ও কপটতায় ভরা ধার্মিকতার নকল আলখেল্লা গায়ে দিয়ে তিনি আজও জাতীয় বেঈমান ও বিশ্ববেহায়ার অবস্থান

থেকে সরে আসতে পারেননি। ভারতের স্বার্থে তারা দু’জনাই, এরশাদ ও হাসিনা ভারতের নিমকখোর। তাই এবার বাংলাদেশের দুধের ওপরে ভেসে থাকা সরটুকু ভারতের পাতে তুলে দিয়ে সংকীর্ণভাবে নিজেদের ভোগ করা নিমক হালাল করতে তারা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে। আড়াইশ’ বছর আগে ইংরেজের কারসাজিতে বাংলার স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হয়েছিল নিমকহারামের কারসাজিতে। একই ছলের নাটক সাজাতে তারা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন, তাই এ দুই শেয়ালের মুখে একই রা। ভারত যে বাংলাদেশের রাজনীতিতে ষড়যন্ত্রে জড়িত সব দিন, সেটি আমরা অনেকে কম আঁচ করলেও এখন সবাই এটি জানছেন ও মানছেন। তারাও আর লুকিয়ে রাখতে পারেনি, ধরা পড়ে গেছে। এসব অপকর্মে রাজনীতির কোনো আদর্শ তারা বাকি রাখেননি, এটিও সুস্পষ্ট হয় উপস্থিত স্বদলীয় বক্তার কথাতে। গোটা জাতি জানে, হাসিনা সমানেই বিরোধী পক্ষকে অকথ্য গালাগাল করেন, কিন্তু বিরোধী নেতার কোনো মন্ত্রী বা নেতা অশ্লীলতার আক্রমণে এমন সব অভিযোগে সব দিনই কাঁচা। ওই পাঠশালাতে তারা প্রশিক্ষিত নন। রাজনীতির রাজচোর গলাবাজি করে কখনোই প্রতিষ্ঠা পেতে পারে না। ওপরে বর্ণিত তথ্যাবলিতে প্রমাণিত, যেখানে তার নিজ দলের নেতারা হাসিনাকে বেঈমানিতে ও পাতানো নির্বাচনের দায় দিচ্ছে, সেখানে এ নেত্রী কত নিচের স্তরে নেমেছেন সেটি খুব সহজে অনুমেয়। হাসিনার অবস্থা এমন পর্যায়ে গেছে যে, তিনি সমানেই রাস্তার বখাটের মতো গলাবাজিতে খালেদাকে পাকিস্তানে পাঠাতে ইচ্ছুক যদিও তার পাকিস্তান যাওয়ার কোনো উল্লেখযোগ্য কারণ পাওয়া যায় না, বরং ভারতে হাসিনার চলে যাওয়াই উচিত যেখানে এটিও প্রমাণিত যে এদেশের ৫ শতাংশ মানুষও তাকে চায় না। ভারতের নুন খাওয়ার দায় শুধু জয়ের একারই নয়, হাসিনা ও এরশাদ ওই শিকলে বন্দি। শুধু নির্বাচন কমিশন ও তার কিছু সংকীর্ণ দলদাস ছাড়া চড়াগলাতে সারা দেশের সচেতন বিশেষজ্ঞসহ বিদেশের আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও একই সত্যতা প্রকাশ পেয়েছে। ওই খেদ ঢাকতেই বারে বারেই ইদানীং ছলবাজ নিরুপায় অবৈধ সরকারকে ওই পাকিস্তানের খিস্তি টানতে হয়। বস্তুত মূল কথাটি হচ্ছে, ওই আপসহীন নেত্রী খালেদা জিয়ার কারণেই তার যত ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে। তারপরও তিনি জোর করে জবরদখলদার সাজতে চাচ্ছেন। এরশাদের মতো সর্বনাশী স্বৈরশাসকও সময়ে নুয়ে পড়ে কারণ উভয় রাজচোরই জানে একে অপরের অনেক খানাখন্দকের চোরাগলির খবর। কিন্তু বিরোধী নেতৃকে কোনো টোপ দিয়েই বাগানো যায় না। তাই ওই কষ্টের ভারে তার মুখ থেকে এসব অবাক্য-কুবাক্য বের হয়। মুখরা বক্তা একদিকে ব্যক্তিগত কপট লোভে ভারতকে সাহায্য করতে উত্সাহী, আবার

বাকশালের মতো সাবেক পাকিস্তানের শাসকবর্গের পলিসি রপ্ত করতে দক্ষতা দেখিয়ে চলেছেন। তার মানে ভেতরে-বাইরে তিনিই ভারত-পাকিস্তান উভয় রাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ অনুসরণীয় অনুকরণীয় দালাল হয়ে চিহ্নিত হয়ে আছেন। এটি তার দলের অনুসারীরাও অস্বীকার করবে না। আগাগোড়া সব আলামত জাতি এর মাঝে হাতেনাতে স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছে। অতীতে ‘র’ চেয়েছে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের ভেতরে বিভক্তি আনতে কিন্তু ব্যর্থ হয়, পারেনি। ভারতীয় নাগরিক বাংলাদেশের বায়িং হাউসের ব্যবসায় জড়িত আছেন। গার্মেন্টকে ঘিরে কত ধরনের খেল হচ্ছে, তাও দেশবাসী কম-বেশি দেখছে। হাউস ও গার্মেন্ট কারখানা মিলে অবৈধ ভারতীয় নাগরিকের সংখ্যা ২০ হাজারেরও বেশি হবে। তাদের বেতন ৪০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত। কাজের বৈধতা থাকায় সরকারও রাজস্ব থেকে বঞ্চিত থাকছে। বাংলাদেশে বায়িং হাউসের সংখ্যা প্রায় এক হাজার। এর ৮০ থেকে ৯০ ভাগ ভারতীয় নিয়ন্ত্রণে। তারা ভ্রমণ ভিসাতে এসে থেকে যান, আর যান না। সংখ্যালঘুরা আওয়ামী ক্রিমের ভাগও পায় আবার কিলের ভাগও পায়, এটি আর কারও অজানা নয়। বাংলাদেশের সাধারণ বা অন্য সব দলই সংখ্যালঘুকে মানুষের মূল্য দেয়। এখানে তাদের অবহেলা কেউ করে না। দরকারে সরকারই তাদের ব্যবহার করে তাদের নিজ স্বার্থে। এটি ভারতও ভালো করেই জানে। সম্প্রতি কলকাতার ‘কলম’-এর প্রতিবেদনেও তা উঠে এসেছে যে, আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতারাই সংখ্যালঘুবিরোধী মিছিলে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ও উত্তেজক বক্তব্য রাখছেন। কারণ বাস্তবতা হচ্ছে, অন্যরা নির্বাচনেও নেই, অস্তিত্ব রক্ষাতেই সময় পার করছেন। তা ছাড়া বাংলাদেশে ইতিহাসে এমন ধারার অনাচারের প্রমাণ অতীতেও প্রমাণিত হয়নি, বরং ওই আওয়ামী ঘরানার সাজানো ছল হিসেবেই বিদেশি লিন্টাররা অতীতেও ধরা পড়েন। আবার কিছু দলদাসরা সময় সময় ভারতে গিয়ে এসব মিথ্যাচারে ভরা কল্পকথা প্রকাশ করতে গর্ববোধ করেন। তারা এসব মিথ্যাচারের অনেক খবর সেখানের মিডিয়াতে ছাপাতে একটু বেশি মাত্রায় উত্সাহী। তাদের কিছুজনের নামও সম্প্রতি মিডিয়ায় এসেছে। তাদের উদাহরণ হচ্ছেন শাহরিয়ার কবির ও মুনতাসির মামুন। তারা প্রকৃতই কোন দেশের দালাল, সেটি জাতি চিহ্নিত করতে পারবেন ভালো। আপনারা জাতির সচেতনরাই দেশের প্রকৃত পাহারাদার। কিছু ছলবাজ কী বলল আর লিন্টাররা কি করল, তা পরিষ্কার করার দায়ও আপনাদের। প্রতিটি বিষয়ে এসব পরিষ্কার না করলে তারা বারেবারেই ঘোলা জলে মাছ শিকারে তত্পর থাকবে। আপনাদের মাথাতে তারা কাঁঠাল ভেঙে খাবে। বেশ ক বছর আগে মার্টিন লিন্টার ব্রিটেনের চ্যানেল ফোর-এর সাংবাদিক ছিলেন কারও ভাড়া করা সংখ্যালঘুর নির্যাতনের আরেক পাতানো খেলোয়ার। মনে পড়ে ওই সময়কার সম্পাদক শফিক রেহমানের ‘যায়যায়দিন’-এ সম্পর্কের আরও অনেক পাট উন্মোচন করে দেখায়। অনেক যুক্তিতে পাওয়া যায় বিরোধীর ওপর দায় চাপাতে ২০০৪-এর ২১ আগস্টে নিজেদের র্যালিতে তারা নিজেরাই গ্রেনেড অ্যাটাক করে। সেদিন ২৩ জন মারা যায়। তাদের মাঝে নিজেদের কাছের গণ্ডিতে থাকা একজন মাত্র জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমান মারা যান। সবাই স্টেজে আর তিনি ভাগ্যের ফেরে ছিলেন মাটিতে ফ্লোরে। অনেক লেখাতে পড়েছি যদি সেটি কাকাতালীয় হতো তবে অনেক আইভি রহমানকেই মরতে হতো। পিলখানায় হাসিনারও আক্রান্ত হওয়ার কথা ছিল, যদিও তিনি কৌশলে সরে পড়েন। এটিও জানা যায়, ওই বোমা বিস্ফোরণের পর বিদেশি পর্যবেক্ষকরা এলে হাসিনার গাড়িটি পর্যন্ত চেক করতে দেয়া হয়নি, কিন্তু কেন? ধারণা হয়, সেখানে অনেক রসদ লুকিয়ে ছিল বলেই তা তল্লাশি করতে দেয়া হয়নি। এসব অনেক ঢেকে রাখা খবরই ওপেন হওয়া খবর সচেতনরা পড়েছেন, জেনেছেন। কিবরিয়া হত্যার কোনো কূল-কিনারা হয় না কেন? ওই সময় এ খবরও চাউর হয়েছিল, পত্রিকার পাতাকেও এসেছিল যে, কিবরিয়া কোনো কারণে ওই দিন ঘটনাস্থলে যেতে চাননি, কিন্তু তাকে খুব কৌশলে সরকারপ্রধান জোর করেই তার ঘটনাস্থলে পাঠায়। তার না যাওয়ার ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে পাঠানোর খবরেও ওই সময় কম-বেশি চাউর হয়েছিল। এসব সূত্র উল্লেখ করছি কারণ সরকারের অতীত সব কর্মকাণ্ডই ১৯৯৪ সালের হরতালের দিন খালেদা জিয়ার পতন ঘটাতে। সেক্রেটারিয়েটের সেই দিগম্বর করার ঘটনাও ছিল হাসিনার নির্দেশিত এক আদেশ, যা তার গুণ্ডারা পালন করেছিল এভাবে গোটা জাতিকে অন্ধকারে রেখে। সেদিন তার ছাত্রলীগ নেতাদের প্রতি নির্দেশ ছিল—‘তোমরা সচিবদের কাপড়চোপড় খুলে ন্যাংটা করে ফেলবে।’ আজ খোলা পাতাতে উগলে বের হয়ে যাওয়া সব খবরই জাতি জানছে। ছিহ! একটি জাতি কতদূর পচে গেলে এমন পর্যায় পার করে, তা বিশেষজ্ঞরা ভেবে দেখতে পারেন। এটি বর্তমান সরকারের মাথার পচন রোগ, এ রোগ থেকে মুক্তি ব্যতিরেকে জাতির সামনে কোনো কল্যাণ নেই। মনে হতে পারে এসব বলছি একটি স্বাধীন দেশের কল্পকাহিনী। সংবিধানেও ৭ মার্চের ভাষণ ঢোকানো হয়েছে। বক্তৃতা কখনও সংবিধানের অংশ হতে পারে না। কিন্তু অবাক বিস্ময়ের কথা, হাসিনার মতো অপকর্মীর হাতে পড়ে সব হতে পেরেছে। সংবিধানের ১৫ সংশোধনী এক উল্টানীতির গোজামিলে একটি সংবিধান, যা দুনিয়াতে আর কোনো জাতি এমন কাজ করেনি। পিয়াস করিম বলেন, এটি সংবিধানের ৪৩-এর অনুচ্ছেদের আইনের লঙ্ঘন। সবাই যুক্তি দেখায়, মাহমুদুর রহমানের সত্য উন্মোচনে সরকার এমন ক্ষেপে উঠে মাহমুদুর রহমানকে জেলে পুরে, কিন্তু হাসিনা সরকার বহুগুণ বেশি অপরাধেও নিজে সাধু সাজার স্বপ্নে বিড়াল তপস্বী সেজে বসে আছে। বিরোধী নেত্রীকে ওপেন করতে যাওয়ার ষড়যন্ত্রে জাতির কাছে বারে বারে ধরা খেলেও তিনি মুক্ত স্বাধীন। এর একমাত্র কারণ জেলের চাবি ও ক্ষমতার সুতানাতা বেশিরভাগ সময় তার দাপুটে হাতের তলানিতে থাকছে। নির্বাচন কমিশন গোলাম সরকারের অধীনস্থ গোলামিতে বহাল আছে। বিচার বিভাগও ধমকির মাঝে মাথা নিচু করেই জুলুমের সময় পার করছে। ’৭১-এর বাংলামায়ের মুক্তিযোদ্ধা ছেলেদের রক্তে রঞ্জিত দেশটি আজ ফের ’৭১-পূর্ব অবস্থানে ফিরে গেলেও এ কষ্টের ভার সামাল দিতে আগত প্রজন্ম কী ভাববে? আজ কীভাবে তিনি একমাত্র মুক্তিযোদ্ধার পক্ষের দল? তার মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ শক্তির লুটেরা ভাইয়েরা সেদিন কেন যুদ্ধে যায়নি। পরবর্তী হরিলুটে তো ঠিকই অংশ নিয়েছিল। এর নামই বুঝি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি। জাতিকে নিজ উদ্যোগে জানতে হবে প্রকৃত স্বাধীনতার ইতিহাস। জানতে হবে কারা যুদ্ধ করেছে আর কারা প্রকৃত দেশপ্রেমিক আর কারা প্রকৃত সুবিধাভোগী মুক্তিযুদ্ধ বিক্রি করে খাচ্ছে। দেশের ভেতরে থেকেও অনেকে মুক্তিযোদ্ধার ভূমিকা রেখেছে। আজ প্রকৃত যুদ্ধ ছিনিয়ে নেয়ার অধ্যায় চলছে বহুযুগ থেকে। স্বাধীনতার পরদিন থেকেই মনে হচ্ছে এটি শুরু হয়ে যায়। তাই আজ ৪২ বছরেও যুদ্ধ শেষ হচ্ছে না। ’৭১-পরবর্তী তরুণের মগজকে কবজা করা হয়েছে কৌশলের মিথ্যাচার দিয়ে। আজকের তরুণকে জাগতে হবে ফিরতে হবে অতীতের প্রকৃত সত্যে। বাঁচতে হলে ওই মিথ্যার খোলস থেকে বেরিয়ে আসতেই হবে। বাংলাদেশেই তৈরি করতে হবে বাংলাদেশের প্রকৃত দালাল। হাসিনা বলেন, এই মাটিতে পাকিস্তানের দালালদের ঠাঁই হবে না। তার মানে, তিনি এর মাঝে সাহস হারিয়ে বসে আছেন। ওই সাহসের অভাবে আসল কথাটি গলাতেই আটকে যাচ্ছে। না হলে আজকের এমন জটিল পরিস্থিতিতে তার বলা উচিত ছিল এ মাটিতে ভারত-পাকিস্তান কোনো দালালেরই ঠাঁই হবে না। তার মানে কাঁপা কাঁপা গলাতে তিনি বলতে চাচ্ছেন, এ মাটি শুধু আমার মতো কিছু ভারতের দালালের জন্যই আমি লাঙল দিচ্ছি ও চাষের উপযোগী করে তুলছি। সচেতন জনতারা সেটি বুঝে নেবেন, বুঝে নিয়েছেনও এর মাঝে। তাই তো তার ভাগে আজ ৫ শতাংশেরও কম ভোট জমেছে। গুণ্ডামি জালভোট ছলবাজি করেও এ পর্যন্ত, ভোট বাড়ানো যায়নি। বাংলাদেশ-পাকিস্তানের দূরত্ব এমন বড় মাপে যে পাকিস্তান কোনো সময়ই স্বাধীন বাংলাদেশের জন্য শঙ্কার বিষয় নয়। কিন্তু গাঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকা ভারত দণ্ড ঘোরাচ্ছে আর সমানেই বর্ডারে মানুষ নিধন করছে। বলা চলে রসিয়ে রসিয়ে দেশটিকে চিবিয়ে চিবিয়ে খাচ্ছে, প্রতিবাদের ভাষা হারিয়ে বসে আছে বর্তমানের দাস সরকার। বিদেশেও আমাদের ভারতের বন্ধুরা বলছেন, সেখানে ভারতেও একই খবর মিডিয়াতে পত্রিকাতে সর্বত্র চাউর হচ্ছে যে, দূর থেকে পাকিস্তান তার নিজের দেশ রেখে বাংলাদেশ কন্ট্রোল করছে। এসব হচ্ছে সব দিনই ভারতীয় রাজনীতির অংশ। বাংলাদেশে বাস করা প্রধানমন্ত্রীর একই ভারতীয় সুরে কথা বলা তার স্বভাব হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই আজ খালেদার সঙ্গে পাকিস্তানের দাসত্ব না থাকলেও ভারতের দাস সরকারকে আজ এসব অনাচারী কথা অবৈধ সরকারের অস্বিত্ব রক্ষার খাতিরে ছলবাজি করে ব্যবহার করতে হচ্ছে। তার কথার ব্যারোমিটার দিয়েই সরকারের দাসখত কত সক্রিয় ও তত্পর, তা পরিমাপ করা খুব সহজ। বর্তমান সময়ে বাংলাদেশে হত্যা ধড়পাকড় ছাড়া আর ভালো কোনো খবর নেই। একদিকে নিজ দেশের মানুষকে হত্যা করছে প্রতিবন্ধি সরকার, আবার সীমান্তেও দেশবাসী লাশ হচ্ছে প্রতিবেশীর হাতে। সাম্প্রতিক সাতক্ষীরার জনগণ সরকারের উদাহরণীয় খুনের শিকার, এখানে প্রতিবাদ করার কে থাকবে? নিরস্ত্র মানুষকে রাতের অন্ধকারে সরকারি ছত্রছায়ায় বিনাবিচারে হত্যা, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট বুলডোজারে যৌথবাহিনীর গুঁড়িয়ে দেয়ার এমন প্রবণতার সঙ্গে একমাত্র ফিলিস্তিনিদের জটিল জীবনেরই মিল পাওয়া যায়। মন্ত্রীরা আজ টেলিফোনে বিচারপতিকে তদবির করেন, এ ধারায় মন্ত্রীরা আদালত অবমাননা করেন। যেখানে সরকারই বিতর্কিত, সেখানে সময়ে সময়ে আদালতও এভাবে প্রশ্নবিদ্ধ। দেশ আজ ঘোর দুর্বিপাকে। গোটা দেশে নির্লজ্জ ভারতীয় ভরের বিষবাষ্প ছড়াচ্ছে চারদিকে, সরকার তার অপকর্ম দিয়ে মানুষকে ভারত সম্বন্ধে আরও বেশি সন্দিহান করে তুলছে। এ হচ্ছে ওই ধ্বংসস্তূপের মাঝে পড়া বাংলাদেশ নামের ক্ষুদ্র মানচিত্রের দেশটির প্রকৃত নির্মম সত্যকথন।

You Might Also Like