যুদ্ধাপরাধের বিচার প্রক্রিয়া সমর্থন করে ইইউ

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়ায় ইউরোপিয় ইউনিয়নের (ইইউ) সমর্থন রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নব নিযুক্ত ইইউর রাষ্ট্রদূত পিয়েরে মায়োডন।

বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক বৈঠকে সাম্প্রতিক সময়ে যুদ্ধাপরাধের বিচার পরবর্তীতে ইইউ পার্লামেন্টের রেজল্যুশন প্রসঙ্গে ইইউ রাষ্ট্রদূত এ কথা বলেন।

বৈঠকে পররাষ্ট্র মন্ত্রী কিছুদিন আগে বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধের বিচার কার্যক্রম ও রায়ের ঠিক পরবর্তীতে ইইউর বিবৃতির প্রসঙ্গ তুলে বলেন, ‘বৈশ্বিকভাবে মৃত্যুদন্ডের ব্যাপারে ইইউর একটা বিশেষ অবস্থান রয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধের বিচারের রায় প্রকাশের পরবর্তী সময় অবশ্যই এ ধরনের বিবৃতি প্রদান করা সমুচিত হয়নি।

তিনি বলেন, ভবিষ্যতে ইইউ আরও সচেতনভাবে তাদের মতামত প্রকাশ করবে যাতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের পক্ষে ইইউ পার্লামেন্টের রেজল্যুশনের আলোকে তাদের সমর্থন সুস্পষ্টভাবে প্রকাশ পায় । তাদের এ ধরনের বিবৃতি বা মতামত দেওয়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায় এবং যুদ্ধাপরাধের পক্ষে ইইউর অবস্থান সম্পর্কে জনমনে ভ্রান্ত ধারনা সৃষ্টি হতে পারে।

এ প্রসঙ্গে ইইউ রাষ্ট্রদূতও একমত পোষন করেন। তিনি সাম্প্রতিক সময়ের যুদ্ধাপরাধের বিচার পরবর্তীতে ইইউ পার্লামেন্টের রেজল্যুশনের বিষয় টেনে বলেন, ইইউ বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া সমর্থন করে।’

সাক্ষাৎকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে পিয়েরে মায়োডন বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকারের বাণিজ্য বহুমুখীকরণের প্রচেষ্টা বিশেষ করে জাহাজ নির্মাণ, ঔষধ শিল্প ও তথ্য প্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশে অবস্থিত ইইউ মিশন সহায়তা প্রদান করবে।

এ ছাড়া জলবায়ু পরিবর্তন, জৈব-নিরাপত্তা, শান্তিরক্ষা, মানব নিরাপত্তাসহ অন্যান্য বিষয়েও বাংলাদেশ এবং ইইউ’র মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারকরণের ব্যাপারে আশ্বাস দেন রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, ইইউর এ সমস্ত উদ্যোগ বাংলাদেশকে ২০২১ সালের মধ্যে একটি মধ্য আয়ের দেশে পরিণত করতে সহায়তা করবে।’

বৈঠকে রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের জন্য ইইউর আগামী সাত বছরের উন্নয়ন কর্মসূচী সম্পর্কে পররাষ্ট্র মন্ত্রীকে অবহিত করেন।

তিনি বলেন, ‘এ সহায়তা পূর্বের চেয়ে শতকরা প্রায় ৭০ ভাগ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এ কর্মসূচি বাংলাদেশ সরকারের ভিশন ২০২১ ও ছয় বছর মেয়াদী জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন, পুষ্টি ও স্বাস্থ্যখাত এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান তৈরী এ তিনটি বিষয়ের উপর গুরুত্বারোপ করবে।’

পররাষ্ট্র মন্ত্রী বাংলাদেশে রাষ্ট্রদূত মায়োডনকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ‘বাংলাদেশ ও ইইউর মধ্যকার সম্প্রসারমান, সুদৃঢ় ও আন্তরিক সম্পর্ক বিদ্যমান রয়েছে।’

বাংলাদেশের উন্নয়নে ইইউ সহযোগিতার বিষয়ে রাষ্ট্রদুত মায়োডনের চিন্তাভাবনাকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ইইউর অন্তর্ভূক্ত দেশগুলোর সমৃদ্ধিতে বাংলাদেশ অবদান রাখছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।

You Might Also Like