আন্দোলনে সহসাই সফলতা দেখছেন না ফখরুল

গত ৫ জানুয়ারি ‘ভোটারবিহীন নির্বাচনে গঠিত আওয়ামী লীগ সরকার’ হঠাতে বার বার আন্দোলনের হুমকি দিচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। অথচ দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সরকার বিরোধী আন্দোলনে সহসাই কোনো সফলতার আশা দেখছেন না। এ আন্দোলনে সফল হতে সময় লাগবে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। সংবাদ সূত্র : বিবিসি।

বিবিসি (ব্রিটিশ ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশন) বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শনিবার রাতে এই মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
সাক্ষাৎকারে মির্জা ফখরুল দুই স্বৈরশাসক আইয়ুব খান ও হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের উদাহরণ টেনে বলেছেন, ‘পাকিস্তান আমলে আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে আন্দোলনে ১২ বছর লেগেছে। এরপর এরশাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে নয় বছর লেগেছে।’

আর বর্তমান সরকারের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আজকে একটি তথাকথিত গণতান্ত্রিক দল স্বৈরশাসকে পরিণত হয়েছে। তারা অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে আছে। সুতরাং তাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে সফল হতে কিছুটা সময় লাগতেই পারে।’

তবে, ‘কিছুটা সময়’ বলতে সুনির্দিষ্ট কোনো সময় উল্লেখ করেন নি মির্জা ফখরুল। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ বাধা-ধরা কোনো সময় তো বলা যাবে না।’

বিএনপির পক্ষ থেকে প্রতি বছর ৭ নভেম্বরকে ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি’ দিবস হিসেবে পালন করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করার অনুমতি চেয়েছিল দলটি। কিন্তু ঢাকা মহানগর পুলিশের অনুমোদন না পাওয়ায় ৯ নভেম্বর দেশব্যাপী বিক্ষোভ প্রতিবাদের কর্মসূচি দেয় বিএনপি। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বিবিসি’র সঙ্গে কথা বলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বিবিসি’কে দেওয়া মির্জা ফখরুল ইসলামের সাক্ষাৎকার :
এটা (সমাবেশ করা) তো আমার ডেমোক্রেটিক রাইট (অধিকার)। আমি তো আইন মেনে চলার চেষ্টা করি। সেই আইন যত বাজে আইনই হোক না কেন, সেটা আমরা মেনে চলার চেষ্টা করি। এ জন্যই (সমাবেশের) অনুমতিটা চেয়েছিলাম। পুলিশের দায়িত্ব হচ্ছে হয় আমাদের সেখানে (সমাবেশের) অনুমতি দেবে, অথবা দেবে না, সেটা বলে দেওয়া।

অথচ তারা একটা কৌশল নিয়ে আমাদের কর্মসূচির আগের রাতে আটটা কিংবা দশটায় জানাতো। কিন্তু এবার আমাদের সমাবেশের তিন দিন আগেই আনঅফিসিয়ালি জানিয়ে দিয়েছে ‘আপনাদেরকে বাইরে সমাবেশের আয়োজন করতে দেওয়া হবে না। হলের ভেতর (সমাবেশ) করতে পারেন।’ ভেতরে করার জন্য তো সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুমতি চাই নি।
আপনারা আন্দোলন সংগ্রামে আছেন। প্রায়ই এই ধরনের ঘটনা ঘটে, সমাবেশ করতে দেওয়া হয় না, আপনারা পিছিয়ে আসেন, পরে আপনারা বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। এভাবে ঠিক আপনাদের আন্দোলনটা ৃ

আপনারা যেভাবে ব্যাপরটাকে ব্যখ্যা করেন আসলে বিষয়টা তো সেটা না। আপনারা দেখছেন যে, বিশেষ করে ঢাকা মহানগর পুলিশের যে আচরণ সেটা শুধু অগণতান্ত্রিক নয়, একটা স্বৈরতান্ত্রিক আচরণ। তারা গুলি করে, গ্রেফতার করে। আমাদের অফিসের সামনে প্রায় প্রতিদিনই পুলিশ বসে থাকে। প্রায়ই ধরপাকড় করে। এটা হচ্ছে দেশের বর্তমান চিত্র।
একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল তাদের স্বাভাবিক রাজনৈতিক কার্যক্রম চালাতে পারছে না, কারণ এখন দেশে কোনো গণতন্ত্র নেই। এখন যে সরকার আছে তারা আসলে বিরোধী দল, মত থাকুক এটা চায় না। এ কারণেই সাংবিধানিক অধিকার বলে যে সব কার্যক্রমের অধিকার আমাদের আছে সেগুলোও তারা করতে দিচ্ছে না।
তাহলে উপায়টা কী?

আমরা আন্দোলন করছি। জনগণকে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করছি। আমরা একটি লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি। আমরা তো অন্য কোনো উপায় জানি না। আমরা একটা উপায়ই জানি আন্দোলন, হরতাল, জনগণকে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে সরকারকে বাধ্য করা দাবিগুলো মেনে নেওয়ার জন্য।

কাজ কি কিছু হচ্ছে? সরকার মানছে কোনো দাবি?

না, সরকার মানছে না। তবে সরকারকে মানতে হবে। যেমন, একটা সরকার যখন অনির্বাচিত হয়, অবৈধ হয়, অগণতান্ত্রিক হয়, স্বৈরতান্ত্রিক হয় তখন তো তারা ফোর্স করেই কাজ করতে চায়।

আপনারা যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেন তারা অতীতের স্বৈরতান্ত্রিক সরকারগুলোকে একটা সময়ে এসে দাবি মানতে বাধ্য হতে দেখেছেন। প্রথমদিকে তারা মানতে চায় নি। কিন্তু একটা সময়ে এসে জনগণের অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ঠিকই মানতে হয়েছে।

এই সময়টা
বাধা-ধরা কোনো সময় তো বলা যাবে না। আপনার নিশ্চয় মনে আছে পাকিস্তান আমলে আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে আন্দোলনে ১২ বছর লেগেছে। এরশাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে নয় বছর লেগেছে। আজকে একটি তথাকথিত গণতান্ত্রিক দল স্বৈরশাসকে পরিণত হয়েছে। তারা অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে আছে। সুতরাং তাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে সফল হতে কিছুটা সময় লাগতেই পারে।

You Might Also Like