গোলাম আযম যুদ্ধাপরাধী নন, ইতিহাস এটা প্রমাণ করবে : আমান আযমী

গোলাম আযমের ছেলে আব্দুল্লাহিল আমান আযমী বলেন, আমি কোনো রাজনীতি করি না। এজন্য রাজনীতি বক্তব্য দিতে চাই না। তবে আমাদের দেশের রাজনীতির পরিস্থিতি ভাল নেই। আমার স্ট্যাটাস নিয়ে অনেক মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ভুল বোঝাবুঝির অবসনের জন্য আগামীকাল (শুক্রবার) আরেকটা স্ট্যাটাস দেবো। এই স্ট্যাটাসের পেছনে আমার কোনো উদ্দেশ্য ছিল না। গোলাম আযমের মতো নেতা মারা গেলে সরকারের পক্ষ থেকে শোক জানালে সরকার ছোট হতো না বরং বড়ই হতো। সেই হিসেবে বিএনপির শোক জানানো উচিত ছিল।

বৃহস্পতিবার রাতে একাত্তর টেলিভিশনে ‘একাত্তর জার্নাল’ টকশোতে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, গোলাম আযম খারাপ লোক ছিলেন না। তার জানাজায় সবচেয়ে বেশি মানুষ অংশগ্রহণ করেছেন। তিনি যদি খারাপ মানুষ হতেন তাহলে এত মানুষ জানাজায় আসতো না। এদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জানাজা।

আব্দুল্লাহিল আমান আযমী বলেন, আমি কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মী বা মুখ্যপাত্র নই। আমি নিরপেক্ষ সচেতন নাগরিক হিসেবে যা মনে করেছি তাই স্ট্যাটাসে দিয়েছি। এই স্ট্যাটাস যদি কাউকে আহত করে সেজন্য অত্যন্ত দুঃখিত। কোনো গোষ্ঠী বা দলকে অসম্মান করার জন্য এটা করিনি। আমি একজন অরাজনৈতিক ব্যক্তি, আমার এই বক্তব্য জোটের মধ্যে কিছুটা প্রতিক্রিয়া ফেলতে পারে, তবে বড় কোনো প্রভাব ফেলবে না।

অধ্যাপক গোলাম আযমের প্রশাংসা করে তিনি বলেন, গোলাম আযম বিশ্ব বিখ্যাত বরেণ্য নেতা ছিলেন। তার জানাজায় লাখ লাখ মানুষ উপস্থিত হয়েছেন। বিএনপির বড় শরীক দলের নেতা মারা যাওয়ার পরে নীরবতা পালন করেছে এটা অস্বাভাবিক। এই অস্বাভাবিক ঘটনার কারণে সাধারণ মানুষ হিসেবে আমার বক্তব্য প্রকাশ করেছি। এটা কোনো দলের বক্তব্য নয়, সম্পন্ন আমার ব্যক্তিগত বক্তব্য।

গোলাম আযমের ছেলে বলেন, এদেশকে আমি ভালোবাসি। ৩০ বছর দেশের জন্য কাজ করেছি। ভবিষ্যতেও দেশ সেবার জন্য কাজ করতে চাই। তবে, বর্তমানে অপসাংস্কৃতি ও অসুস্থ্য রাজনীতি দেশের গুণগত পরিবর্তন ঘটবে না। এছাড়াও শিক্ষা সমস্যা রয়েছে। সুশিক্ষার মাধ্যমে সমস্যা সমাধান করা সম্ভব।

আমান আযমী বলেন, গোলাম আযমের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ উঠেছে তা মিথ্যাচার। রাজাকার-আলবদর সরকারি বাহিনী ছিল। তিনি (গোলাম আযম) সরকারের কোনো ব্যক্তি ছিলেন না। এমনকি শান্তি কমিটির বড় নেতা ছিলেন না। শান্তি কমিটির ৩৯ জন সদস্যের মধ্যে তিনি একজন ছিলেন।

তিনি বলেন, ’৯১ সালে আওয়ামী লীগ যেমন জামায়াতের সমর্থন চেয়েছে বিএনপিও চেয়েছে। তখন কারো মনে হয়নি গোলাম আযম যুদ্ধাপরাধী। এমনকি জামায়াতের সমর্থন পাওয়ার জন্য আ.লীগ দু’টা মন্ত্রীত্ব ও সাতটি মহিলা এমপির পদ দিতে চেয়েছে। তখনো মনে হয়নি গোলাম আযম যুদ্ধাপরাধী। স্বৈরচারি শাসন এরশাদকে ক্ষমতাচ্যুত করার সময়ও মনে হয়নি তিনি যুদ্ধাপরাধী। কিন্তু ২০১০ সালে হঠাৎ করে গোলাম আযমকে যুদ্ধাপরাধী বলার কারণ কী?

আব্দুল্লাহিল আমান আযমী বলেন, গোলাম আযম ’৯৪ সালে সুপ্রিম কোর্টের সর্বোচ্চ পাঁচ জন জর্জের রায়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব ফিরে পেয়েছেন। তার বিরুদ্ধে সমস্ত অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। আবেগ দিয়ে আইন চলে না।

আমান আযমী আরো বলেন, যুদ্ধাপরাধীর বিচার করতে হলে ট্রাইব্যুনাল আন্তর্জাতিক মানসম্মত, গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ হতে হবে। আন্তর্জাতিক ভাবে এটা প্রশ্নবিদ্য। ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান নিজেই বলেছেন- গোলাম আযম অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন সরাসরিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অধিকাংশ মানুষ মনে করেন বিএনপি-জামায়াতের জোট ভাঙার  জন্য যুদ্ধাপরাধীর ইস্যু নিয়ে আসা হয়েছে।

 

[youtube]DtSEncPrtMw[/youtube]

 

You Might Also Like