হ্রদের নীচে টাকার পাহাড়

ভারতের হিমাচল প্রদেশের মান্ডি জেলায় রয়েছে এক রহস্যময় হ্রদ। যার অতলে রয়েছে কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি।

নাচন বিধানসভা ক্ষেত্রের প্রাচীন কমরুনাগ মন্দির লাগোয়া এই হ্রদ। সমুদ্রতল থেকে ৯ হাজার ফুট উঁচুতে এই হ্রদের অবস্থান। না, সোনা, বা হীরার খনি নয়, হাজার হাজার বছর ধরে মানুষের দানেই এই হ্রদে জমা হয়েছে এসব সম্পত্তি। তবে এত সম্পদ থাকলেও এই হ্রদের চারপাশে কোন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই।

কিন্তু তারপরও কোটি কোটি টাকার এসব সম্পদ বহাল তবিয়তেই রয়েছে। কারণ স্বয়ং এক যক্ষই নাকি পাহারা দিয়ে রাখেন এসব সম্পদ। তাও যে সে যক্ষ নয় একেবারে রত্নযক্ষ।

বেশ কয়েকবার হ্রদে চুরির চেষ্টা করেও, চোরেরা সফল হয়নি। কোনও কোনও ভাবে বাধা পেয়েছে তারা। সাধারণ লোকেদের বিশ্বাস, কমরুনাগ রত্নযক্ষ নিজে এসব সম্পদ রক্ষা করেন। তবে ঠিক কত টাকার সম্পত্তি রয়েছে হ্রদে, তার হিসেব পাওয়া যায়নি।

কেবল চোরেরাই নয়, বৃটিশ শাসনামলেও এই হ্রদের সম্পদ নিয়ে যাবার চেষ্টা করেও সফল হতে পারেনি তারা। ১৯১১ সালে সিসি গারওয়েট কমরুনাগ মন্দিরের কথা শোনার পর সেখানে যান। ওই হ্রদে পড়ে থাকা এত ধন-সম্পদ দেখে তা তুলে নিয়ে রাজকোষে রাখার পরিকল্পনা করেন।

তৎকালীন মান্ডির রাজা তার প্রস্তাবে রাজি হলেও, মন্দিরের পুরোহিত এবং ভক্তরা বেঁকে বসেন। কিন্তু সেই কথা কানে তোলেননি গারওয়েট। কর্মীদের সঙ্গে হ্রদের উদ্দেশে রওনা হন তিনি। কিন্তু প্রবল বর্ষণের জেরে মাঝপথেই আটকে যান। এরপর সেখানে ফল খেয়ে অসুস্থ হয়ে অজানা কারণে ইংল্যান্ড ফিরে যান গারওয়েট।

কিন্তু কে এই কমরুনাগ? মহাভারত থেকে জানা যায়, কৃষ্ণ রত্নযক্ষ নামে যোদ্ধাকে মেরে তার শরীর যুদ্ধক্ষেত্রে নিজের রথের পতাকার সঙ্গে ঝুলিয়ে দেন। যাতে তিনি মহাভারতের যুদ্ধ দেখতে পারেন। কিন্তু যে দিকেই রত্নযক্ষের মাথা ঘুরত, তার হুঙ্কার শুনে কৌরব এবং পাণ্ডব সেনা পালিয়ে যেত।

এর পর কৃষ্ণ তাকে তটস্থ থাকার আবেদন জানান, যাতে পাণ্ডব যুদ্ধে জয়লাভ করে। যুদ্ধে জয়ের পর রত্নযক্ষের শরীরে একটি বাক্সে বন্দি করে হিমালয়ের দিকে নিয়ে যান পাণ্ডবরা। মান্ডির নলসরে পৌঁছানোর পর গন্দর্ভ ধ্বনির কারণে তিনি পাণ্ডবদের নির্জন স্থানে নিয়ে যেতে বলেন। শেষে তাকে কমরুঘাটীতে নিয়ে যাওয়া হয়।

এরপর সেখানে এক রাখালের সরল জীবনযাপনে মুগ্ধ হয়ে রত্নযক্ষ সেখানেই থাকার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। রত্নযক্ষ পাণ্ডব এবং ওই রাখালকে জানান যে, ত্রেতা যুগে তিনি এই প্রদেশেই এক নাগভক্ত নারীর গর্ভ থেকে ৯ পুত্রের সঙ্গে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার মা তাদের একটি বাক্সে বন্দি করে রাখতেন।

একবার এক অতিথি মহিলা ওই বাক্সটি হাতে তোলেন। তবে তাতে সাপ রয়েছে ভেবে ভয়ে তার হাত থেকে সেই বাক্স পড়ে যায়। প্রাণ বাঁচানোর জন্য রত্নযক্ষ হ্রদের পাশে কুওর ঘাসে লুকিয়ে পড়েন। পরে তার মা তাকে সেখান থেকে খুঁজে বার করেন এবং নাম কুওরুনাগ রেখে দেন। কুওরুনাগই রত্নযক্ষ রাজা হিসেবে জন্ম গ্রহণ করেন।

এখনও আষাঢ় মাসের প্রথম দিনে কমরুনাগ মন্দিরে সরানাহুলি মেলা হয়। সেখানে দূর-দূরান্ত থেকে ভক্তরা জড়ো হন। মনোকামনা পূরণ হলে ওই হ্রদে টাকা পয়সা থেকে শুরু করে দান করেন মূল্যবান সোনা-রুপাও।

You Might Also Like