উট কিনলে ছাগল ফ্রি দুম্বা কিনলে ফ্রিজ

উট কিনলে ছাগল আর দুম্বা কিনলে ফ্রিজ ফ্রি। কোরবানির পশুর হাটে ফ্রি আর উপহারের ছড়াছড়ি। পাহাড়ি গয়াল কিনলে মোবাইল ফোন সেট ফ্রি। ১২ লাখ টাকা দামের গরু কিনলে ৩০ হাজার টাকা দামের গরু ফ্রি। পাশাপাশি দুম্বা কিনলে ডিপ ফ্রিজ ফ্রি। এমনি আকর্ষণীয় অফার চলছে রাজধানীর পশুর হাটগুলোয়। গাবতলী, রহমতগঞ্জ ও বারিধারা জে ব্লক হাট ঘুরে পাওয়া গেছে এসব তথ্য। গতকাল ভোর থেকে কোরবানির পশুর হাটে বেচাকেনা জমে উঠেছে।

এবারও হাটে পশুর সরবরাহ বেশি। ফলে দাম সহনীয় থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গতকালও অনেকে হাটে গিয়ে বাজারদর যাচাই করেছেন। অভিজাত এলাকা বারিধারার বাসিন্দা কামাল হোসেন ১ লাখ ৮০ হাজার টাকায় বিশালদেহী পাহাড়ি গয়াল কিনেছেন। তিনি গয়াল কেনার কারণে একটি মোবাইল ফোন সেট ফ্রি পেয়েছেন।

যারা গাবতলী হাটে গেছেন, তারা বাজার যাচাই শুরুর আগেই আটকে যান মূল হাটে ঢোকার প্রবেশপথে। সেখানে শামিয়ানার নিচে রাখা বিশালাকৃতির কয়েকটি গরু তাদের বেশ আকৃষ্ট করেছে। হাটে ঢুকতেই চোখে পড়বে বিশালদেহী একটি সিন্ধি গরু। দাম হাঁকা হয়েছে ১২ লাখ টাকা। সিন্ধির পাশেই লাল রংয়ের তাগড়া আরেকটি গরু, দাম হাঁকা হয়েছে ১৩ লাখ টাকা। একই জায়গায় ১০-১২ লাখ টাকা দামের অন্তত এক ডজন গরু রয়েছে।

ওই গরুগুলোর বিক্রেতা কামাল ও দেলোয়ার জানান, তারা কুষ্টিয়া থেকে গরুগুলো এনেছেন। একেকটি গরুর ওজন ৩২ থেকে ৩৫ মন হবে বলে দাবি করেন তারা। হাটে ছোট-বড় সব ধরনের গরুই পাওয়া যাচ্ছে। ছোট আকৃতির ষাঁড় ২৫ থেকে ৩৫ হাজার টাকায় আর মাঝারি আকারের ৩৫ থেকে ৫০ হাজার টাকায় কেনা যায়। হাটে মাঝারি আকারের গরুর সংখ্যাই বেশি।

এ আকৃতির গরুর চাহিদাও বেশি বলে জানান বিক্রেতারা।হাটে আসা লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবারও দেশি গরুর চাহিদা সবচেয়ে বেশি। তবে গরু কেনার গ্রাহকরাও হাটে ঢুকে আটকে যাচ্ছেন উটের সারিতে। ভিড় ঠেলে সবাই একনজর হলেও দেখছেন উট। উট বিক্রেতা আবদুল জব্বার বড় একটি উটের দাম হেঁকেছেন ১২ লাখ টাকা। এ উটের সঙ্গে ২৫ হাজার টাকার বড় ছাগল ফ্রি দেওয়া হবে বলে লাল শালু কাপড়ে লেখা রয়েছে।

এ ছাড়া ৮ থেকে ১০ লাখ টাকার কয়েকটি উট আছে এবারের হাটে। রয়েছে ছোট আকৃতির উটও। ছোট হলেও পুরুষ উটের কদর বেশি। ফলে ছোট পুরুষ উট বেশি দামে বিক্রি করা যায়।

এ হাটে কুষ্টিয়ার গরুর বেপারি খোরশেদ আলম বলেন, আজ (গতকাল) ভোর থেকে মূল কেনাবেচা শুরু হয়েছে। তবে একটু আগেভাগে যারা গরু কিনছেন তারাই সস্তায় পাচ্ছেন। রহমতগঞ্জ মাঠের গরুর পাইকাররা জানান, কোরবানির জন্য গরুর পর খাসির চাহিদা বেশি। এ হাটে উঠেছে লাখ টাকা দামের বেশ কয়েকটি খাসি।

এ হাটের আরেক বেপারি আবুল হোসেন তার দুটি খাসির দাম হেঁকেছেন ৩ লাখ টাকা। একেকটি খাসিতে প্রায় দুই মন মাংস হবে। হাটে পর্যাপ্ত মহিষও রয়েছে। ছাগলের মতো মহিষেরও বেশ চাহিদা। মাঝারি আকারের মহিষ পাওয়া যাচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকায়। অপেক্ষাকৃত ছোট মহিষ আরেকটু কম দামে বিক্রি হচ্ছে। তবে বিশালাকৃতির মহিষ হাটে দেখা যায়নি। দুম্বা ও ভেড়াও পাওয়া যাচ্ছে হাটে।

তবে এসব পশুর চাহিদা তুলনামূলক কম। গতকাল রাজধানীর বারিধারা জে ব্লক হাটে গিয়ে দেখা গেছে পশুর সরবরাহ চাহিদার তুলনায় বেশি। এসব হাট সীমানা ছাড়িয়ে বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। এ হাটে বিল্লাল হোসেন নামে এক বিক্রেতা তার গরুর দাম হেঁকেছেন ৮ লাখ টাকা। গরুটি কিনলে একটি ২০ ইঞ্চি রঙিন টেলিভিশন ফ্রি দেবেন। আফতাবনগর হাটের ইজারাদার জানিয়েছেন, সেখানে ইতিমধ্যে ৩০ হাজারের বেশি গরু তোলা হয়েছে।

এ হাটে ১ লাখ ২০ হাজার টাকার দুম্বার সঙ্গে একটি ৩২ হজার টাকা দামের ডিপ ফ্রিজ ফ্রির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া রাজধানীর উত্তরার দুটি হাট, খিলক্ষেত ও বারিধারা হাট মিলিয়ে চার হাটে ১ লাখের বেশি গরু রয়েছে। তবে গাবতলীসহ রাজধানীর ১৬টি অস্থায়ী হাটে গরুর সংখ্যার সঠিক তথ্য জানা যায়নি। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, ইতিমধ্যে সব হাট মিলিয়ে বিক্রির জন্য ৫ থেকে ৬ লাখ গরু আনা হয়েছে।

You Might Also Like