সংঘর্ষের জেরে ইবি বন্ধ, হল ত্যাগের নির্দেশ

পুলিশের সঙ্গে ছাত্রলীগের সংঘর্ষের জের ধরে কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীকে সোমবার দুপুর ১২টার মধ্যে হল ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

রোববার রাতে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল হাকিম সরকার, উপ উপাচার্য অধ্যাপক ড. শাহিনুর রহমান, রেজিস্ট্রার ড. মোসলেম উদ্দিন, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান, ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেনসহ সিন্ডিকেটের কয়েকজন সদস্য।

বৈঠক শেষে উপাচার্য আব্দুল হাকিম সরকার বলেন, ‘উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে রাতে জরুরি সিন্ডিকেটের সভা বসে। সভা সর্বসম্মতক্রমে ২৫ আগস্ট থেকে ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল প্রকার একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ রাখার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়। এ সময়ের মধ্যে সব পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। পরবর্তীতে পরীক্ষার নতুন তারিখ জানানো হবে। শিক্ষার্থীদের সোমবার দুপুর ১২টার মধ্যে হল ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

সিন্ডিকেটের একটি সূত্র রাইজিংবিডিকে জানান, রোববারের ঘটনা তদন্তে সিন্ডিকেটের সভায় উপাচার্য আব্দুল হাকিম সরকারকে আহ্বায়ক করে একটি কমিটি গঠন করার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়েছে। কমিটির সদস্য কতজন হবে তা নির্ধারণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে উপাচার্যকে। বিশ্ববিদ্যালয় খোলার পর কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন সিন্ডিকেটে দাখিল করতে বলা হয়েছে।

রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ছাত্রশিবিরের মিছিলকে কেন্দ্র করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. আবদুল হাকিম সরকারের গাড়িতে ছাত্রলীগের কর্মীরা হামলা চালালে পুলিশ বাধা দেয়। এতে পুলিশের ওপর চড়াও হন ছাত্রলীগ কর্মীরা। এ সময় ছাত্রলীগ প্রশাসন ভবনের সামনে গাড়ি ভাঙচুর শুরু করলে ছাত্রলীগ কর্মীদের লক্ষ্য করে পাঁচ রাউন্ড গুলি ছোঁড়ে পুলিশ। এতে চার ছাত্রলীগ কর্মী গুলিবিদ্ধ হন। এ সময় কমপক্ষে ২৫ ছাত্রলীগ নেতা-কর্মী আহত হন।

পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় ক্যাম্পাসে সোমবার থেকে লাগাতার ধর্মঘটের ডাক দেয় ইবি শাখা ছাত্রলীগ।

রোববার সন্ধ্যায় ইবি শাখা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক শামীম আহাম্মেদ খান ধর্মঘটের ডাক দিয়ে বলেন, ‘পুলিশ অন্যায়ভাবে ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। এ ঘটনার তদন্ত ও বিচার না হওয়া পর্যন্ত সোমবার থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে লাগাতার ছাত্র ধর্মঘট পালন করা হবে।’

এরই প্রেক্ষিতে ক্যাম্পাসে যেন আর কোন অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেজন্য রোববার রাতে সিন্ডিকেটের জরুরি সভায় বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণার সিদ্ধান্ত হয়।

You Might Also Like