তালুকদার রাসেল

প্রকাশিত: ১৭ আগষ্ট ২০২৬ , ০২:০৪ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

১৮০ দিনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বিগত ছয় মাস বা ১৮০ দিনে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে ‘বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশন, ২০২৫’-এর প্রতিবেদন সংক্রান্ত সুপারিশ প্রণয়ন কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সরকার কতটা সন্তুষ্ট-এটি জনগণই মূল্যায়ন করবে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে নিশ্চিতভাবে বলা যায়, গত ছয় মাসে পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে। জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে আরও সুসংহত করতে কিছুটা সময় প্রয়োজন।

তিনি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর সরকারের মাত্র ছয় মাস পূর্ণ হয়েছে। এই সময়ের মধ্যেই বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কার কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন উদ্যোগও ইতিবাচক ফল বয়ে এনেছে। গত ১৮০ দিনে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন কর্মসূচি ও উদ্যোগ জনগণের মধ্যে প্রশংসিত হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত রূপরেখা অনুসরণ করে সরকারের প্রথম ১৮০ দিনে একাধিক জনকল্যাণমুখী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। দায়িত্ব নেওয়ার পর বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ নানা সংকটের মুখোমুখি হলেও সরকার সেগুলো দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করেছে।

ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও গ্যাস সংকট তৈরি হলেও সরকার তাৎক্ষণিকভাবে দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায়নি বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বোরো মৌসুমে কৃষকদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে প্রায় এক মাস জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় স্থগিত রাখা হয়েছিল। পরে আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় সহনীয় পর্যায়ে দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ওই সময়ে বিশ্ববাজারসহ প্রতিবেশী দেশগুলোতে জ্বালানির দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

দীর্ঘদিনের গ্যাস ও জ্বালানি সংকট রাতারাতি সমাধান করা সম্ভব নয় জানিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এ সমস্যা মোকাবিলায় সরকার দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। দেশে বিনিয়োগ বাড়ানো, ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণ এবং উৎপাদন কার্যক্রম সচল রাখতে পর্যাপ্ত প্রাথমিক জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি।

এ লক্ষ্যে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর পরিদর্শনের পর সেখানে একটি স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে সামিট ও এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে গ্যাস সরবরাহে যে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়, তা কমাতে একাধিক এফএসআরইউ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব টার্মিনালের সম্ভাব্য স্থান নির্ধারণে বর্তমানে জরিপ চলছে।

দেশের গ্যাসের আমদানিনির্ভরতা কমাতে অভ্যন্তরীণ, অফশোর ও অনশোর এলাকায় নতুন করে গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রমও শুরু হয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তার আশা, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে গ্যাস সংকটের একটি টেকসই সমাধান পাওয়া সম্ভব হবে।

সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা ও জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং তা বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

এ ছাড়া ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড দেওয়ার কার্যক্রম চলছে। বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনদের মাসিক সম্মানী দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

দেশের ক্রীড়াবিদ ও সংস্কৃতিবিদদের সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদা বৃদ্ধি এবং তাদের কল্যাণে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে জাতীয় প্রকিউরমেন্ট কমিটির কার্যক্রমের কথা তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সরকারের সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত ও সঠিক নীতির কারণে দেশে খাদ্যের একটি শক্তিশালী ও নিরাপদ মজুদ গড়ে তোলা সম্ভব হয়েছে।

তিনি জানান, সরকারের প্রথম ১৮০ দিনে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের কার্যক্রমে কী ধরনের অগ্রগতি হয়েছে, তার একটি সমন্বিত চিত্র শিগগিরই প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং অথবা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমের সামনে প্রকাশ করা হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের কার্যক্রমের মূল্যায়নে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, বিভিন্ন সংস্কার উদ্যোগ, জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা এবং সামাজিক সুরক্ষার বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। আগামী দিনগুলোতে এসব কার্যক্রম আরও সুসংহত করার মাধ্যমে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকার কাজ করবে।