ঢাকা অফিস • প্রকাশিত: ২৯ অক্টোবার ২০২৫, ১২:২৫ এ এম • অনলাইন সংস্করণ

‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ বাস্তবায়নে সুপারিশ দিল ঐকমত্য কমিশন

‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ বাস্তবায়নে সুপারিশ দিল ঐকমত্য কমিশন

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের উপায়সংক্রান্ত সুপারিশ হস্তান্তর করেছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে গিয়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের হাতে এই সুপারিশপত্র তুলে দেন।  

ড. মুহাম্মদ ইউনূস নিজেও জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এ সময় কমিশনের সদস্য বিচারপতি মো. এমদাদুল হক, ইফতেখারুজ্জামান, বদিউল আলম মজুমদার, সফর রাজ হোসেন, মো. আইয়ুব মিয়া এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার উপস্থিত ছিলেন।  

সুপারিশে ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’-এর একটি খসড়া অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পটভূমি, অন্তর্বর্তী সরকারের গঠন ও সংস্কার প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতা তুলে ধরা হয়েছে।  

*জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশের মূল বিষয়সমূহ*

প্রস্তাবিত আদেশে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র, শ্রমিক ও সাধারণ জনগণের অংশগ্রহণে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতা প্রকাশ পায়। ওই অভ্যুত্থানের ফলেই ৫ আগস্ট কর্তৃত্ববাদী সরকারের পতন, ৬ আগস্ট সংসদ ভাঙা এবং ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতিষ্ঠা ঘটে।  

এর ধারাবাহিকতায় অন্তর্বর্তী সরকার রাষ্ট্রীয় কাঠামোর পুনর্গঠনের লক্ষ্যে সংবিধান, নির্বাচন ব্যবস্থা, জনপ্রশাসন, বিচার বিভাগ, পুলিশ প্রশাসন ও দুর্নীতি দমন সংক্রান্ত ছয়টি সংস্কার কমিশন গঠন করে। এসব কমিশনের প্রতিবেদন ভিত্তিতে গঠিত হয় জাতীয় ঐকমত্য কমিশন, যা ৩০টি রাজনৈতিক দল ও জোটের সঙ্গে আলোচনা করে ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ প্রণয়ন করে।  

সনদে সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়নের জন্য জনগণের অনুমোদন নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এজন্য গণভোট আয়োজন, সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন এবং সেই পরিষদের মাধ্যমে সংবিধান সংস্কার সম্পন্ন করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।  

*প্রস্তাবিত আদেশের কাঠামো*

‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’-এ ১৬টি অনুচ্ছেদ রাখা হয়েছে।  

এর মধ্যে প্রধান বিষয়গুলো হলো—  

- গণভোটের মাধ্যমে জনগণের মতামত গ্রহণ করে সনদের অনুমোদন নিশ্চিত করা।  

- গণভোটে ইতিবাচক ফলাফল এলে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করা।  

- পরিষদ ২৭০ দিনের মধ্যে সংবিধান সংস্কারের কাজ সম্পন্ন করবে।  

- সংবিধান সংস্কার শেষ হলে সেটি সরকারিভাবে গেজেটে প্রকাশ করা হবে।  

- সংসদে নিম্নকক্ষের পাশাপাশি ভোটের অনুপাতে একটি উচ্চকক্ষ গঠনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।  

- পরিষদের সদস্যদের জন্য সংসদ সদস্যদের মতোই বিশেষ অধিকার ও দায়মুক্তি থাকবে।  

প্রস্তাবনায় আরও বলা হয়েছে, সংবিধান সংস্কার পরিষদের গৃহীত প্রস্তাবই হবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত—এ বিষয়ে অন্য কোনো অনুমোদনের প্রয়োজন হবে না।  

*বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া*

গণভোটে সনদ অনুমোদিত হলে সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদগুলো পর্যায়ক্রমে কার্যকর হবে। সরকার প্রয়োজনে বাস্তবায়ন নির্দেশনা জারি করতে পারবে এবং নির্বাচন কমিশন গণভোটের আয়োজনের দায়িত্বে থাকবে।  

অন্তর্বর্তী সরকারের মতে, এই সনদ বাস্তবায়নের মাধ্যমে গণতন্ত্র, সুশাসন, সামাজিক ন্যায়বিচার ও ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণের ভিত্তি মজবুত হবে এবং কর্তৃত্ববাদী শাসনের পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব হবে।  

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ঐকমত্য কমিশনের সদস্যদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “এই সনদ গণতান্ত্রিক সংস্কার প্রক্রিয়ার রূপরেখা হিসেবে নতুন অধ্যায় সূচনা করবে।”