ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম (চরমোনাই পীর) বলেছেন, বাংলাদেশ আজ এক ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। আমরা বারবার ক্ষমতার পরিবর্তন দেখেছি, কিন্তু জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন দেখিনি। তাই এখন আর আমেরিকা বা ভারতের ইনসাফ নয়, দেশের মানুষ মদিনার সনদে ইসলামের ইনসাফ দেখতে চায়।
গত রবিবার বিকেলে ভোলার চরফ্যাশন টি.বি স্কুল মাঠে ভোলা-৪ আসনের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী কামাল উদ্দিনের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এরপর তিনি লালমোহন ও ভোলা সদরে পৃথক দুটি জনসভায় অংশ নিয়ে নেতা-কর্মীদের উজ্জীবিত করেন।
বক্তব্যে চরমোনাই পীর এক সময়ের ‘ইসলামী সাইনবোর্ড’ ব্যবহারকারী একটি রাজনৈতিক দলের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, যখন আমরা ইসলামের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক দিয়েছিলাম, তখন একটি দল নিজেদের স্বার্থে ও ক্ষমতার লোভে আমেরিকা ও ভারতের সাথে গোপনে বৈঠক করেছে। তারা ইসলামের কথা বলে দুর্নীতিবাজদের সাথে জোট বেঁধেছে। দেশ যখন দুর্নীতিতে পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল, তখন তারাও সেই পাপের ভাগীদার ছিল। তাদের বাহ্যিক রূপ সুন্দর হলেও ভেতরটা মূলত মাকাল ফলের মতো।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমানে যারা শরীয়াহ শাসন বাদ দিয়ে প্রচলিত আইনে দেশ চালানোর কথা বলছেন, তারা মূলত ইসলামের মূল আদর্শ থেকে বিচ্যুত। ইসলাম মানেই শরীয়াহ—যেখানে নামাজ, রোজা, হজ ও জাকাতসহ মানুষের পূর্ণাঙ্গ অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। গত ৫৪ বছরে কোনো সরকারই জনগণের ভোটের সঠিক প্রতিফলন ঘটাতে পারেনি। তাই দুর্নীতি ও দুঃশাসন থেকে মুক্তির একমাত্র পথ হলো কালজয়ী আদর্শ ইসলামের ছায়াতলে আসা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চরমোনাই পীরের এই কড়া বক্তব্য মূলত আসন্ন নির্বাচনে ইসলামী ঘরানার ভোটারদের মেরুকরণের একটি চেষ্টা। একইসাথে ‘আমেরিকা ও ভারত’ প্রসঙ্গের অবতারণা করে তিনি জনগণের জাতীয়তাবাদী ও ধর্মীয় আবেগকে স্পর্শ করতে চেয়েছেন। অন্য একটি ইসলামী রাজনৈতিক দলকে ইঙ্গিত করে তাঁর সমালোচনা মূলত মাঠ পর্যায়ে নেতৃত্বের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের লড়াই হিসেবেই দেখা হচ্ছে। ভোলায় তাঁর এই ঝটিকা সফর এবং তিনটি পৃথক জনসভা প্রমাণ করে যে, উপকূলীয় অঞ্চলের এই আসনগুলোতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নিজেদের শক্ত অবস্থান জানান দিতে মরিয়া।