এখন সময় ডেস্ক • প্রকাশিত: ০৬ নভেম্বার ২০২৫, ১০:০২ পিএম • অনলাইন সংস্করণ

৭ নভেম্বরের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান তারেক রহমানের

৭ নভেম্বরের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান তারেক রহমানের

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান মহান জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি সকলের সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বলেছেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের সিপাহী-জনতার বিপ্লব শুধু ইতিহাসের মোড় ঘুরিয়ে দেয়নি, এটি ছিল আধিপত্যবিরোধী জাতীয়তাবাদী রাজনীতির উত্থানের সূচনা।

বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক বাণীতে তারেক রহমান বলেন, স্বাধীনতার পর দেশ পরিচালনাকারী গোষ্ঠী নিজস্ব স্বার্থে দেশকে বিদেশি আধিপত্যের কাছে সমর্পণ করেছিল। ক্ষমতা ধরে রাখার উদ্দেশ্যে তারা একদলীয় শাসনব্যবস্থা গঠন করে গণতন্ত্রকে হত্যা করেছিল। ওই সময় ফ্যাসিবাদী শাসনের মাধ্যমে মানুষের মৌলিক অধিকার হরণ করা হয়।

তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানকে ক্যান্টনমেন্টে বন্দী করা হয়েছিল। কিন্তু ৭ নভেম্বর সৈনিক ও জনতার ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে এক ঐতিহাসিক সংহতি সৃষ্টি হয় এবং সেই বিপ্লবের মধ্য দিয়েই জিয়াউর রহমান মুক্ত হন।

তারেক রহমান বলেন, জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে দেশে নতুন প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি হয় এবং বাকস্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়। তবে দেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রবিরোধী শক্তি তাঁর জনপ্রিয়তা সহ্য করতে না পেরে ১৯৮১ সালে তাঁকে নৃশংসভাবে হত্যা করে।

তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান সময়ে আওয়ামী শাসনব্যবস্থা সেই স্বৈরাচারী ধারার পুনরাবৃত্তি ঘটিয়েছে। প্রায় ১৬ বছর ধরে তারা ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছে। নতজানু নীতির কারণে দেশের সার্বভৌমত্ব দুর্বল হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, আওয়ামী সরকার গুম, খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও দুর্নীতির রাজত্ব কায়েম করেছে এবং গণতন্ত্রের প্রতীক বেগম খালেদা জিয়াকে বছরের পর বছর বন্দী রেখেছে।

তারেক রহমান সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের উল্লেখ করে বলেন, ৫ আগস্ট ছাত্র ও সাধারণ মানুষের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশ এক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে। এ ঘটনাকে তিনি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সূচনা হিসেবে দেখেন। তাঁর মতে, এখন দেশের জন্য সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন, মানবাধিকার নিশ্চিত করা এবং সমাজে ন্যায়বিচার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা।

বাণীর শেষাংশে তিনি ৭ নভেম্বরের চেতনায় সব জাতীয়তাবাদী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, জাতীয় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে শক্তিশালী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ে তোলাই এখন সময়ের দাবি।