ঢাকা অফিস • প্রকাশিত: ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৭:৪০ এ এম • অনলাইন সংস্করণ

৬ সিটিতে প্রশাসক নিয়োগ: ‘জনআকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী’ বলে জামায়াতের ক্ষোভ

৬ সিটিতে প্রশাসক নিয়োগ: ‘জনআকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী’ বলে জামায়াতের ক্ষোভ

দেশের ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ সিটি করপোরেশনে সরকারি দলের ব্যক্তিদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্তকে ‘জনআকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী’ ও ‘জনগণের সাথে প্রতারণা’ বলে অভিহিত করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় দলের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতিতে এই তীব্র প্রতিবাদ জানান।

জামায়াতের দাবি, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সদ্য গঠিত সরকার তার যাত্রার শুরুতেই জনগণের গণতান্ত্রিক প্রত্যাশাকে চরমভাবে আঘাত করেছে।

বিবৃতিতে যা বলা হয়েছে

গত ২২ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সরকার বিভাগ এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ, খুলনা, সিলেট, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ দেয়। এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় পেশাদার বা নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের বদলে রাজনৈতিক পরিচয়ধারীদের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে জামায়াতে ইসলামী।

বিবৃতিতে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, "জুলাই আন্দোলনের পর দেশবাসী একটি বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার স্বপ্ন দেখছিল। যেখানে প্রতিটি স্তরে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা দায়িত্ব পালন করবেন। কিন্তু নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের বদলে দলীয় ব্যক্তিদের বসিয়ে সরকার জনমতকে উপেক্ষা করেছে।"

নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তার আশঙ্কা

জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল অভিযোগ করেন যে, এই প্রশাসক নিয়োগের ফলে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আরও পিছিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন:

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের পর স্থানীয় সরকারেও দ্রুত নির্বাচন হবে—এমনটাই ছিল জনগণের প্রত্যাশা।

নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছিল।

এই অবস্থায় দলীয় পদধারীদের প্রশাসক নিয়োগ করা নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।

জামায়াতের দাবি ও হুঁশিয়ারি

বিবৃতিতে জামায়াতে ইসলামী অবিলম্বে এই প্রশাসক নিয়োগের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের জোর দাবি জানিয়েছে। একইসঙ্গে সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় সরকারের সকল স্তরে দ্রুত নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আহ্বান জানানো হয়।

মিয়া গোলাম পরওয়ার সতর্ক করে বলেন, "জনগণকে নির্বাচনের বাইরে রেখে দলীয় শাসন দীর্ঘায়িত করার চেষ্টা কখনোই শুভ ফল বয়ে আনবে না। সরকারকে অতি দ্রুত নির্বাচনী রোডম্যাপ স্পষ্ট করতে হবে।"

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নতুন সরকারের এই সিদ্ধান্ত বিরোধী দলগুলোর মধ্যে একটি নেতিবাচক বার্তা দিয়েছে। বিশেষ করে জুলাই বিপ্লব পরবর্তী সময়ে যেখানে সংস্কার ও স্বচ্ছতার দাবি তুঙ্গে, সেখানে দলীয় ভিত্তিতে প্রশাসক নিয়োগ রাজনৈতিক মেরুকরণকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।