ঢাকা অফিস • প্রকাশিত: ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০:৪৭ পিএম • অনলাইন সংস্করণ

২৯৭ নবনির্বাচিত এমপির গেজেট প্রকাশ

২৯৭ নবনির্বাচিত এমপির গেজেট প্রকাশ

দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক স্পর্শ করে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী ২৯৭ জন সংসদ সদস্যের নাম গেজেট আকারে প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বে কমিশনের অনুমোদনের পর এই আনুষ্ঠানিক গেজেট প্রকাশিত হয়। এর মাধ্যমে নতুন সরকার গঠনের পথে আইনি প্রক্রিয়া আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল।

ইসি সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, গেজেট প্রকাশের পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। সংসদ সচিবালয় ইতিমধ্যে শপথ অনুষ্ঠানের যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। প্রটোকল, নিরাপত্তা এবং আপ্যায়নের বিষয়গুলো কঠোর নজরদারিতে রাখা হয়েছে। উল্লেখ্য, এবার ২৯৯ আসনে নির্বাচন ও সংবিধান সংস্কার নিয়ে গণভোট অনুষ্ঠিত হলেও আদালতের নির্দেশে চট্টগ্রামের দুটি আসনের ফলাফল স্থগিত থাকায় এবং শেরপুর-৩ আসনে প্রার্থীর মৃত্যুজনিত কারণে মোট ২৯৭ জনের গেজেট প্রকাশিত হয়েছে।

এবারের নির্বাচনে অংশগ্রহণের দিক থেকে রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। ২০০৮ সালে নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর এই প্রথম সর্বোচ্চ ৫১টি রাজনৈতিক দল নির্বাচনী লড়াইয়ে অংশ নেয়। ২ হাজার ২৯ জন প্রার্থীর মধ্যে ৮০ জন নারী প্রার্থী লড়েছেন এবং মোট ১১৯টি প্রতীক বরাদ্দ দিয়েছিল কমিশন। ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, ২৯৭ আসনে সংসদ নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৫৯.৪৪ শতাংশ এবং জাতীয় গণভোটে কাস্টিং ভোটের হার ৬০.২৬ শতাংশ।

নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল অনুযায়ী, বিএনপি ২১২টি আসনে জয় পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। দ্বিতীয় বৃহত্তম দল হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ৭৭টি আসনে জয়ী হয়েছে এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) পেয়েছে ৭টি আসন। স্বতন্ত্র ও অন্যান্য প্রার্থীরা বাকি আসনগুলোতে জয়ী হয়েছেন।

তবে উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন শেষ হলেও পর্দার আড়ালে কিছু অস্বস্তিকর তথ্য উঠে আসছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, বিজয়ী ও পরাজিত প্রার্থীদের সমর্থকদের মধ্যে বিচ্ছিন্ন সংঘাতের খবর পাওয়া যাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, গেজেট প্রকাশের পর এই উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে। এছাড়া কিছু আসনে ভোট গণনায় কারচুপির অভিযোগ তুলে আইনি লড়াইয়ের ঘোষণা দিয়েছেন পরাজিত প্রার্থীরা। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় নির্বাচন কমিশন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এখন আরও বেশি সতর্ক থাকতে হবে। বিশেষ করে শপথের পূর্ব পর্যন্ত রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সহনশীলতা বজায় রাখা এবং কোনো প্রকার সংঘাত প্রতিরোধ করাই হবে প্রধান চ্যালেঞ্জ।