ঢাকা অফিস • প্রকাশিত: ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০১:৩১ এ এম • অনলাইন সংস্করণ

২০ বছর পর বিএনপির রাজকীয় প্রত্যাবর্তন

২০ বছর পর বিএনপির রাজকীয় প্রত্যাবর্তন

দীর্ঘ দুই দশকের অপেক্ষা আর রাজনৈতিক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। ২৯৭ আসনের ঘোষিত ফলাফলে ২০৯টি আসনে একক জয় নিশ্চিত করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে দলটি। মিত্রদের পাওয়া ৩টি আসনসহ বিএনপি জোটের মোট আসন সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১২-তে। এর ফলে কোনো জোট ছাড়াই এককভাবে সরকার গঠনের সাংবিধানিক বৈধতা অর্জন করল শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত এই দলটি।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে বড় চমক দেখিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। ৬৮টি আসনে জয় পেয়ে তারা প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আবির্ভূত হতে যাচ্ছে। এছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টি ৬টি (মিত্রসহ ৯টি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ১টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৭টি আসনে জয়লাভ করেছেন।

দলের এই ঐতিহাসিক বিজয়ে উচ্ছ্বসিত তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা। বিশেষ করে দলের বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রথমবারের মতো নির্বাচনে অংশ নিয়েই ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬ আসনে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন। দলের পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী, তিনিই হতে যাচ্ছেন বাংলাদেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী। দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে গত বছরের ২৫ নভেম্বর দেশে ফেরার পর থেকেই রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তন আসতে শুরু করে।

বিএনপির এই জয়কে অনেকে দলটির পুনর্জন্ম হিসেবে দেখছেন। ২০০১ সালে সর্বশেষ নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছিল তারা। এরপর দীর্ঘ ১৭ বছর আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন এবং গত ৩০ ডিসেম্বর দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণের পর এটিই ছিল দলটির জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তবে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান থেকে পূর্ণাঙ্গ চেয়ারম্যান হওয়ার পর তারেক রহমানের নেতৃত্বে এই বিজয় দলটিকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেল।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এই ফলাফল বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক নতুন মেরুকরণ সৃষ্টি করেছে। একদিকে ২০ বছর পর বিএনপির ক্ষমতায় ফেরা, অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রধান বিরোধী দল হিসেবে উত্থান—সব মিলিয়ে আগামীর সংসদীয় রাজনীতি বেশ উত্তপ্ত ও প্রাণবন্ত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এখন কেবল আনুষ্ঠানিক গেজেট প্রকাশ এবং নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের অপেক্ষা। দেশের সাধারণ মানুষ আশা করছেন, নতুন এই সরকার স্থিতিশীলতা বজায় রেখে অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবে এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পুনর্জাগরণ ঘটাবে।