ঢাকা অফিস • প্রকাশিত: ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৭:২৬ এ এম • অনলাইন সংস্করণ

১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের পর দ্রুত ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রস্তুতি, দিনক্ষণ জানালো সরকার

১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের পর দ্রুত ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রস্তুতি, দিনক্ষণ জানালো সরকার

নির্বাচন-পরবর্তী ক্ষমতা হস্তান্তর নিয়ে সব ধরনের ধোঁয়াশা পরিষ্কার করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনের পর সর্বোচ্চ তিন দিনের মধ্যে নির্বাচিত সরকারের কাছে দায়িত্বভার তুলে দেওয়ার প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। সে হিসেবে আগামী ১৭ থেকে ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই নতুন সরকার দেশ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। এর আগে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে শফিকুল আলম জানান, নির্বাচনের পরপরই নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণ করবেন এবং এর সঙ্গে সঙ্গেই ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হবে। তিনি বলেন, “আমরা সর্বোচ্চ দ্রুততার সাথে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে চাই। সবকিছু ঠিক থাকলে ১৫ থেকে ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই নতুন সরকারের যাত্রা শুরু হবে।”

একই সংবাদ সম্মেলনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদের বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মহলে ছড়ানো গুঞ্জন নিয়ে কথা বলেন ডেপুটি প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ। বর্তমান সরকার ১৮০ কার্যদিবস ক্ষমতায় থাকতে চায়—এমন দাবিকে ‘সম্পূর্ণ অপপ্রচার ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে আখ্যা দেন তিনি।

আজাদ স্পষ্ট করেন যে, ১৮০ কার্যদিবসের সময়সীমাটি মূলত নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের জন্য নির্ধারিত, যা তারা ‘গণপরিষদ’ সদস্য হিসেবে ব্যয় করবেন। বিশেষ করে ‘জুলাই চার্টার’ ও রাষ্ট্রের প্রয়োজনীয় সংস্কারগুলোর আইনি ভাষা চূড়ান্ত করার জন্য এই সময়টি প্রয়োজন হতে পারে। এই আইনি প্রক্রিয়ায় বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কোনো প্রত্যক্ষ ভূমিকা থাকবে না। সরকার কেবল একটি সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া দলের হাতে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব তুলে দিয়ে বিদায় নেবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, প্রেস সচিবের এই বক্তব্যের মাধ্যমে নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা অনেকাংশেই দূরীভূত হয়েছে। সাধারণত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ক্ষমতা হস্তান্তরের সময়কাল নিয়ে এক ধরনের ধোঁয়াশা থাকে, তবে এবার সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণ ঘোষণা সরকারের স্বচ্ছতা ও দ্রুত গণতান্ত্রিক উত্তরণের সদিচ্ছাকেই ফুটিয়ে তুলছে। তবে নির্বাচনের ঠিক আগে এই ধরনের সুনির্দিষ্ট রূপরেখা ভোটারদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোকে দ্রুত সরকার গঠনের প্রস্তুতি নিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। একই সাথে সংস্কার কার্যক্রম নিয়ে সংসদ সদস্যদের বাড়তি দায়িত্ব প্রদানের বিষয়টি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করতে পারে।