ঢাকা অফিস • প্রকাশিত: ১৭ ডিসেম্বার ২০২৫, ১১:৪৩ পিএম • অনলাইন সংস্করণ

সীমান্ত ও সার্বভৌমত্ব ইস্যুতে কড়া বার্তা হেমন্ত বিশ্ব শর্মার

সীমান্ত ও সার্বভৌমত্ব ইস্যুতে কড়া বার্তা হেমন্ত বিশ্ব শর্মার

ভারতের মূল ভূখণ্ড থেকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে বিচ্ছিন্ন করার হুমকি অব্যাহত থাকলে নয়া দিল্লি বেশিদিন চুপ থাকবে না বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত বিশ্ব শর্মা। মঙ্গলবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি ভারতের নর্থ-ইস্ট নিয়ে বাংলাদেশের একাংশের বিভিন্ন বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেন।

হেমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, ভারত থেকে বিচ্ছিন্ন করে উত্তর-পূর্বাঞ্চল দখলের বারবার আহ্বান বাংলাদেশের হীন মানসিকতার প্রতিফলন। গত এক বছর ধরে বাংলাদেশ থেকে ভারতের এই অঞ্চলকে একীভূত করার যে আহ্বান শোনা যাচ্ছে, তাকে বাংলাদেশের জন্য এক ভয়াবহ ভুল কল্পনা হিসেবে অভিহিত করেন তিনি। ভারতকে একটি বিশাল দেশ, পারমাণবিক শক্তিধর এবং বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ভারতের বিরুদ্ধে এমন আচরণ করা হলে দেশবাসী চুপ থাকবে না।

বাংলাদেশের জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহর সাম্প্রতিক মন্তব্যের প্রেক্ষাপটে আসামের মুখ্যমন্ত্রীর এই তীব্র প্রতিক্রিয়া এসেছে। হাসনাত আব্দুল্লাহ সম্প্রতি এক সমাবেশে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করলে ভারতের সেভেন সিস্টার্সকে আলাদা করে দেওয়া হবে। এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসও ভারতের ল্যান্ডলকড পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর জন্য বাংলাদেশের ভৌগোলিক গুরুত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছিলেন।

ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে যুক্ত রাখা সরু শিলিগুড়ি করিডর বা চিকেনস নেক নিয়ে আলোচনার জবাবে হেমন্ত বিশ্ব শর্মা পাল্টা যুক্তি দেখান। তিনি বলেন, যারা এই করিডর নিয়ে ভারতকে হুমকি দিচ্ছেন, তাদের মনে রাখা উচিত বাংলাদেশের ভূখণ্ডেও এমন দুটি কৌশলগত ঝুঁকিপূর্ণ পথ রয়েছে।

শর্মার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, প্রথম পথটি পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ দিনাজপুর থেকে মেঘালয়ের দক্ষিণ-পশ্চিম গারো হিলস পর্যন্ত বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ। দ্বিতীয়টি দক্ষিণ ত্রিপুরা থেকে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত মাত্র ২৮ কিলোমিটার দীর্ঘ চট্টগ্রাম করিডর। আসামের মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্য দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে বর্তমান উত্তেজনাকর কূটনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও স্পষ্ট করে তুলছে।

সূত্র: দ্য হিন্দু