সিলেটের ঐতিহাসিক সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে এক বিশাল জনসভার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণার সূচনা করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার দুপুরে আয়োজিত এই প্রথম নির্বাচনী সভায় তিনি একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, ওই দলটি নির্বাচনের আগেই নানা বিভ্রান্তিকর ও অবাস্তব প্রতিশ্রুতি দিয়ে দেশের মানুষকে ঠকাচ্ছে। তিনি মন্তব্য করেন, যে সব বিষয়ের মালিক একমাত্র সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ, সেই সব বিষয়েও মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারা সাধারণ মানুষকে শিরকের মতো পাপের দিকে ধাবিত করছে। তার মতে, নির্বাচনের আগেই যারা সাধারণ মানুষের সাথে এমন প্রতারণা করছে, নির্বাচনে জয়লাভ করে তারা যদি ক্ষমতায় যেতে পারে তবে জনগণকে আরও কঠিনভাবে ঠকাবে।
দীর্ঘ দেড় দশকের নির্বাচনী ব্যবস্থার চিত্র তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, গত ১৫-১৬ বছর ধরে বাংলাদেশের মানুষ দেখেছে কীভাবে একের পর এক নির্বাচনে ব্যালট বক্স ছিনতাই হয়েছে এবং আমি-ডামি ও নিশিরাতের নির্বাচনের মহড়া চলেছে। এই তথাকথিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জনগণের ভোটের অধিকার ও রাজনৈতিক স্বাধীনতা পুরোপুরি কেড়ে নেওয়া হয়েছে। তিনি এই হঠকারিতা ও মিথ্যার বিরুদ্ধে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশকে স্বৈরাচারী শাসন থেকে মুক্ত করার পর এখন মানুষের মৌলিক অধিকার ও কথা বলার স্বাধীনতা সুসংহত করার সময় এসেছে। শুধু ভোট বা কথা বলার অধিকার নয়, বরং মানুষকে স্বাবলম্বী করে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।
বিএনপির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে চেয়ারম্যান উল্লেখ করেন, তারা দেশের প্রতিটি মানুষকে স্বাবলম্বী হিসেবে গড়ে তুলতে চান। টেক ব্যাক বাংলাদেশ কর্মসূচির মূল লক্ষ্যই হলো সাধারণ মানুষের জীবনমানের প্রকৃত উন্নয়ন ঘটানো। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের পাশে দাঁড়াবে এবং ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে প্রতিটি পরিবারের নারী-পুরুষের আর্থিক সচ্ছলতা নিশ্চিত করবে। দেশের বেকার যুবকদের জন্য বিশেষ কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে তাদের দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করার অঙ্গীকারও করেন তিনি। তার ভাষ্যমতে, প্রতিটি নাগরিক যেন দুবেলা ভালোভাবে খেয়ে-পরে এবং রাজপথে নিরাপদে চলাচল করতে পারে, সেটাই তাদের আসল লক্ষ্য।
মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান ১৯৭১ সালে একটি নির্দিষ্ট পক্ষের প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, স্বাধীনতার সময় অনেকের ভূমিকা দেশবাসী দেখেছে, যাদের কারণে লক্ষ লক্ষ মানুষকে জীবন দিতে হয়েছে এবং মা-বোনদের সম্মানহানি হয়েছে। তিনি স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেন যে, বাংলাদেশের রাজনীতি কোনো বিদেশি শক্তির ইশারায় চলবে না। যেমন দিল্লি নয়, তেমন পিন্ডিও নয়, বরং সবার আগে বাংলাদেশ—এই নীতিতেই পরিচালিত হবে আগামীর রাষ্ট্রব্যবস্থা। সিলেটের জনসভা শেষে তিনি সড়কপথে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করেন এবং পথে মৌলভীবাজারের শেরপুর ও হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জসহ ছয়টি নির্ধারিত স্থানে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য রাখার কথা রয়েছে তার।