সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সুখবর আসছে। নতুন বেতন কাঠামোতে ৯০ থেকে ৯৭ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ করেছে জাতীয় বেতন কমিশন। কমিশন ইতোমধ্যে খসড়া প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে, যা আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই কার্যকর হতে পারে বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে। তার আগেই কার্যকর হতে পারে নতুন বেতন স্কেল। সেই হিসাবে ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকেই সরকারি চাকরিজীবীরা নতুন স্কেলে বেতন-ভাতা পাবেন।
গত ২৭ জুলাই গঠিত জাতীয় বেতন কমিশন আগামী ডিসেম্বরে তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিতে চায়। তবে এ প্রস্তাব বাস্তবায়ন করতে গিয়ে সরকারের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অর্থ বিভাগ জানিয়েছে, নতুন কাঠামো বাস্তবায়নে সরকারের ব্যয় যেমন বাড়বে, তেমনি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আয়ও বৃদ্ধি পাবে, যা রাজস্ব আদায়ে সহায়ক হতে পারে।
অর্থ বিভাগের মতে, ২০১৫ সালের পর থেকে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা বাড়ানো হয়নি। ফলে বর্তমান বেতন কাঠামো পুনর্বিন্যাস এখন সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই বাড়তি অর্থ সংস্থান নিশ্চিত করতে কাজ চলছে।
দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রভাব বিবেচনায় সরকার গত জুলাইয়ে নতুন পে-কমিশন গঠন করে। তবে অর্থের জোগান নিয়ে কমিশন কিছুটা উদ্বেগে আছে।
সংশ্লিষ্টদের ধারণা, মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় বেতন বৃদ্ধির হার শতভাগ পর্যন্ত হতে পারে। কারণ ২০১৫ সালের পর আর কোনো পে-কমিশন গঠিত হয়নি। যদিও প্রতি বছর চাকরিজীবীরা ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট পেতেন, কিন্তু জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় নিম্নবেতনভোগীরা এখন কঠিন অবস্থায় আছেন। তবে বেতন দ্বিগুণ হলে সরকারের ব্যয়ও প্রায় দ্বিগুণ হবে, যা অর্থনীতিতে বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে।
অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ সম্প্রতি জানিয়েছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদের মধ্যেই নতুন বেতন কাঠামো গ্যাজেটের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হবে। এজন্য পরবর্তী সরকারের জন্য অপেক্ষা করা হবে না। তিনি জানান, চলতি (২০২৫-২৬) অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটেই নতুন পে-স্কেলের জন্য বরাদ্দ রাখা হবে।
তিনি আরও বলেন, “যদি আগামী বছরের মার্চ বা এপ্রিলে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করতে হয়, তাহলে চলতি অর্থবছরের বাজেটেই এর অর্থ বরাদ্দ দিতে হবে। বাজেট সংশোধন শুরু হবে ডিসেম্বরে, তখনই নতুন স্কেল যুক্ত করা হবে।”
অর্থ বিভাগ জানিয়েছে, বাড়তি ব্যয়ের সংস্থান দুটি উৎস থেকে পূরণ করা যেতে পারে—চাকরিজীবীদের বাড়িভাড়া ও আয়কর থেকে। বর্তমানে সর্বনিম্ন বেতন স্কেল ৮ হাজার ২৫০ টাকা, যা নতুন কাঠামোয় বেড়ে ১৬ হাজার টাকারও বেশি হতে পারে। এতে নিম্নবেতনভোগীরাও আয়করের আওতায় আসবেন, যা সরকারের রাজস্ব বাড়াতে সহায়ক হবে।
এছাড়া সরকারি আবাসনে থাকা চাকরিজীবীদের ভাড়াও সমন্বয় করা হবে। বেতন কাঠামো পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সরকারি বাসাভাড়ার হার বাড়লে সেখান থেকেও রাজস্ব আদায় বাড়বে বলে আশা করছে অর্থ বিভাগ।
নতুন এই কাঠামো বাস্তবায়িত হলে প্রায় এক দশক পর আবারও বড় পরিসরে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন সমন্বয় হতে যাচ্ছে। যা দেশের অর্থনীতি, ভোক্তা খাত ও রাজস্ব ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন।