ঢাকা অফিস • প্রকাশিত: ১৪ ডিসেম্বার ২০২৫, ০৮:৫৭ এ এম • অনলাইন সংস্করণ

সন্ত্রাসী হামলায় সুদানে ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী নিহত, আহত ৮

সন্ত্রাসী হামলায় সুদানে ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী নিহত, আহত ৮

সুদানের আবেই এলাকায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের ঘাঁটিতে সন্ত্রাসী হামলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ছয়জন শান্তিরক্ষী নিহত এবং আটজন আহত হয়েছেন। বাংলাদেশের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) আজ শনিবার খুদে বার্তায় এই হতাহতের খবর নিশ্চিত করে জানায়, সন্ত্রাসীদের সঙ্গে যুদ্ধ চলমান রয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টা ও তারেক রহমানের শোক

সুদানের বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের হতাহতের ঘটনায় গভীর শোক ও উদ্বেগ জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। আজ রাতে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, "শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার মহান দায়িত্ব পালনের সময় আমাদের ছয়জন বীর শান্তিরক্ষীর শাহাদাতবরণ এবং আরও আটজনের আহত হওয়ার সংবাদে আমি গভীরভাবে মর্মাহত।" তিনি নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন। প্রধান উপদেষ্টা জানান, আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে জরুরি ভিত্তিতে জাতিসংঘের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে এবং সরকার শান্তিরক্ষীদের পরিবারগুলোর পাশে থাকবে।

অন্যদিকে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও এই ঘটনায় শোক জানিয়েছেন। শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, "জাতিসংঘের পতাকা তলে বিশ্বশান্তি রক্ষার মহান দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে জীবন উৎসর্গকারী আমাদের বীর সেনাসদস্যরা জাতির গর্ব।" তিনি নিহতদের রুহের মাগফিরাত কামনা এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। তারেক রহমান চলমান পরিস্থিতিতে শান্তিরক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও কার্যকর ভূমিকা জরুরি বলে মনে করেন।

ড্রোন হামলা, আরএসএফকে দায়ী করছে সুদান সরকার

বার্তা সংস্থা এএফপি হাসপাতাল সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, সুদানের কোরদোফানের কাদুগলি এলাকায় জাতিসংঘের ভবনে এই হামলা হয়েছে। হামলায় ছয়জন নিহত হয়েছেন। সুদানের সেনা-সমর্থিত সরকার এই হামলার জন্য সরকারবিরোধী আধা সামরিক র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসকে (আরএসএফ) দায়ী করেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে এএফপির খবরে বলা হয়েছে, ড্রোন ব্যবহার করে জাতিসংঘের ওই ভবনে হামলা চালানো হয়েছে। সেনাপ্রধান জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহানের নেতৃত্বাধীন সার্বভৌম পরিষদ এই হামলাকে ‘বিপজ্জনক উত্তেজনা বৃদ্ধি’ বলে উল্লেখ করেছে। প্রায় দেড় বছর ধরে আরএসএফের অবরুদ্ধ কাদুগলি শহরে গত নভেম্বরের শুরুতে দুর্ভিক্ষ ঘোষণা করা হয়। সরবরাহ লাইন বজায় রাখা ও সেনা স্থানান্তরের জন্য কাদুগলির অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে আধা সামরিক আরএসএফ দেশটির সেনাবাহিনীর সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, খার্তুম পুনর্দখলের পথ তৈরির লক্ষ্যেই আরএসএফ সেনাবাহিনীর প্রতিরক্ষা ভেদ করার চেষ্টা করছে।

আরএসএফের ইতিহাস ও বিতর্ক

বিবিসি জানিয়েছে, আরএসএফ ২০১৩ সালে গঠিত হয়। মূলত জানজাওয়িদ মিলিশিয়ারা এই বাহিনী গঠন করে, যাদের বিরুদ্ধে দারফুরে গণহত্যা ও জাতিগত নিধনের অভিযোগ রয়েছে। জেনারেল হামদান দাগালো (হেমেদতি নামে পরিচিত) আরএসএফের নেতৃত্ব দেন। এই আরএসএফ ইয়েমেন ও লিবিয়ায় সংঘাতে হস্তক্ষেপ করেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

জেনারেল দাগালো সুদানের কিছু স্বর্ণখনিও নিয়ন্ত্রণ করেন এবং অভিযোগ আছে যে তিনি এই ধাতু সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) পাচার করেন। সুদানের সেনাবাহিনীর অভিযোগ, আমিরাত আরএসএফকে সমর্থন দেয় এবং ড্রোন হামলায় সহায়তা করে, যদিও আমিরাত এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এছাড়া, সেনাবাহিনীর অভিযোগ, পূর্ব লিবিয়ার শক্তিশালী নেতা জেনারেল খলিফা হাফতারও আরএসএফকে সমর্থন দিয়েছেন এবং অস্ত্র ও যোদ্ধা পাচারে সাহায্য করেছেন।