ঢাকার রাজপথ আজ এক শোকাতুর জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা লাখো মানুষের ঢলে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ। আজ বুধবার দুপুর ২টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা সংলগ্ন এলাকায় তাঁর নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেরেবাংলা নগরে স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে তাঁকে সমাহিত করা হবে।
মঙ্গলবার ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনবারের সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মৃত্যুতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে এবং আজ বুধবার সারা দেশে সাধারণ ছুটি বলবৎ রয়েছে। জানাজা পড়াবেন বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আবদুল মালেক।
আজ সকাল ১১টা ৪৮ মিনিটে বেগম খালেদা জিয়ার মরদেহবাহী লাল-সবুজ পতাকায় মোড়ানো ফ্রিজার ভ্যানটি কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় পৌঁছায়। এর আগে সকালে এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে তাঁর মরদেহ গুলশানে ছেলে তারেক রহমানের বাসভবনে নেওয়া হয়, যেখানে আত্মীয়-স্বজন ও দলীয় নেতাকর্মীরা তাঁর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সেখান থেকে সেনাসদস্যদের তৈরি করা হিউম্যান চেইন ও রাষ্ট্রীয় প্রোটোকল মেনে মরদেহ সংসদ ভবন এলাকায় আনা হয়।
জননন্দিত এই নেত্রীর শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে অংশ নিতে আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকেও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা ইতিমধ্যে ঢাকায় পৌঁছেছেন। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং পাকিস্তানের পার্লামেন্টের স্পিকার সরদার আইয়াজ সাদিকসহ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা জানাজায় অংশ নিচ্ছেন। ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ভারতের কোনো মন্ত্রীর এটিই প্রথম ঢাকা সফর।
রাজধানীর নিরাপত্তা নিশ্চিতে এবং জানাজা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সংসদ ভবন, এভারকেয়ার হাসপাতাল ও জিয়া উদ্যান এলাকায় ২৭ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের চোখে মুখে প্রিয় নেত্রীকে হারানোর গভীর শোক থাকলেও শৃঙ্খলার সঙ্গে সবাই অপেক্ষা করছেন জানাজা ও দাফন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য।